প্রথম 200টি লাইন।
অনুবাদ ও সম্পাদনা আরমান আল মাহমুদ
১৯৮৮ সাল।
সময়টা ছিল হতাশাজনক, কিন্তু আমাদের হৃদয় ছিল আবেগপূর্ণ,
আমাদের কাছে বেশিকিছু ছিল না, কিন্তু সবাই ছিলাম আন্তরিক।
অবশ্যই, এই যুগের সাথে তুলনা করলে,
সেটা নিঃসন্দেহে এনালগের যুগ ছিল, প্রস্তরযুগের চেয়ে খুব একটা ভিন্ন ছিল না।
তবুও আমরা ১৮ বছরের সেই বয়সে সবচেয়ে ডিজিটাল জীবন যাপন করেছিলাম।
ইতিহাসে প্রথমবার আমরা ফিতা ছাড়া জুতো পরেছিলাম,
আর প্রচুর জিন্সও।
ওয়াকম্যানে শিন হে-ছলের গান শুনেছিলাম।
ছেলেরা পাগল ছিল জেইমি সমার্স, জোয়ি ওং,
সোফি মার্সাও, আর জিমেনা ম্যাডামের জন্য।
আর আমরা মেয়েরা পিয়ার্স ব্রোসনান,
টম ক্রুজ, রিচার্ড গিয়ার,
আর "নিউ কিডস অন দ্য ব্লক" এর জন্য।
তবে ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে,
একটা সিনেমা আমাদের প্রজন্মের সব ছেলে-মেয়ে ভালোবেসেছিল।
আর সেটা ছিল...
আমার মেয়ে নাকি সুন্দর দেখতে।
আমার চোখ পেয়েছে।
দেখলে বুঝতে পারবো।
বাবুর সাথে কথা বলতে পারি?
সেপ্টেম্বর, ১৯৮৮ সাংমুন, দবং, সউল
ওর নামটাও রাখলে না।
কিট,
তোমার বাচ্চার নাম রাখতে বলছে।
স্যরি।
এই ছেলের নাম রিউ দং-রিওং।
হাবার মতো দেখতে হলেও, ও এই ব্লকের পরামর্শদাতা।
শালা পাগল, পরে খাওয়া যায় না?
আমাদের উপরতলার কিম জুং-হোয়ান।
ওকে "কুত্তা" ডাকি।
এখনো ঠিক মানুষ হয়নি।
তেক, এই রুমের মালিক, গো-খেলায় ওস্তাদ।
কিন্তু, কী লাভ? সবচেয়ে গাধা ও।
একটা ত্যানা আন তো।
রান্নাঘর থেকে কয়েকটা ভাপা কেক আনিস। ওহ, দুধও!
নিজে আন! ও অনেকদিন পর বাড়ি ফিরেছে।
ও সুন-ঊ।
এই ব্লকের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ও সবচেয়ে স্বাভাবিক।
কী বলেছে শুনতে পাইনি!
আমার সাথে কেন চিল্লাছিস?
জানি না! সব তোর দোষ।
উমম...
এটা... আমি।
আমার ছোট করে কাটা এমন ঢেউ খেলানো চুল ছিল,
যার মধ্য দিয়ে সার্ফ করা যেত।
আর শার্টটা ঠিক পিংক না, চোখের লাগার মতো বেগুনি কালারের ছিল।
সময়টা দারুণ ছিল।
বাচ্চার নাম কী?
আমরাও শুনতে পাইনি!
সং ঊ-ইয়ন।
- কীভাবে জানলি? - সাবটাইটেল পড়েছি।
কিম জুং-হোয়ান! খেতে আয়!
কিম জুং-হোয়ান!
খেতে আয়!
কিম জুং-হোয়ান!
খেতে আয় বলছি!
সুন-ঊ! খেতে আয়!
দক-সুন! খেতে আয়!
যাচ্ছি।
আমিও যাচ্ছি।
যাচ্ছি রে।
যেতে হচ্ছে।
বাবা।
খেতে আয়।
ওয়েস্টার্ন সিগারেট পাওয়া যায় আজকে বন্ধ
সাংমুন, দবং, সউল।
বংহোয়াংদাং ব্লক।
এই ব্লকেই আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা।
তখন ছিল না কোনো ইন্টারনেট কিংবা স্মার্টফোন।
এখন ভেবে অবাক হই, কীভাবে তখন সময় কাটাতাম?
দক-সুন, টেবিল সাজা।
বাহ্, ঠিকমতো হয়েছে।
মজা হবে।
দক-সুন, এটা বাবার।
ওই, মরতে চাস?
বড়বোন, সুং বো-রা।
গণিত নিয়ে সউল বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে।
আমাদের পরিবারে ওর সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা, আর ব্লকের সবচেয়ে পাগলী বেটি।
ইচ্ছে করে করেছিস, তাই না? ওই!
স্যরি।
ছোট ভাই, সুং নো-উল।
দেখতে বড় মনে হলেও ওর বয়স আসলে ১৭।
ওই, কোথায় যাচ্ছিস? আমরা খেতে বসছি।
বাবাকে এগিয়ে আনতে।
হ্যালো?
খেয়ে আসবে বলেছিলে!
ঠিক আছে। জলদি আসো।
বাবা চলে আসছে, একটু অপেক্ষা কর।
ধুর।
গ্যাসের দোকান?
হ্যাঁ, বংহোয়াংদাং ব্লক। নীল গেটের বাড়িটা।
হ্যাঁ। কুকুর আছে যে বাড়িটায়।
সবসময় যেটা নিই, ২০ কিলোগ্রামেরটা। আচ্ছা।
জুং-হোয়ান!
নিচতলায় গিয়ে এক বাটি ভাত নিয়ে আয়।
আর এটা দিয়ে আসিস।
আচ্ছা।
আহ্!
ওই!
জুং-হোয়ান নাকি?
- মা এটা দিয়ে পাঠালো। - ওমা!
সালাদ বানিয়েছে?
আর এক বাটি ভাত দিতে বলেছে।
হ্যাঁ, ঠিক আছে।
শুনেছি তোমার বাবা দেরিতে ফিরবে, হয়তো তাড়াতাড়ি ফিরছে।
এইযে, হয়ে গেল।
ওহ, দাঁড়াও।
একটু মুলার কিমচি দিই। তোমার মাকে দিও।
চাচী দিয়েছে।
বাহ্, ভালোই দেখতে!
দাঁড়া।
চাচী! মা একটু তরকারি পাঠালো।
মা পাঠিয়েছে।
চাচী! এটা নিন!
ধন্যবাদ!
চাচী!
শুরু কর।
গ্যাস ডেলিভারি!
সবাই একসাথে খেলে কী হয়?
দক-সুন!
- বাবা! - হ্যাঁ।
- হ্যালো। - কোথায় যাচ্ছো?
- বাসায়। - যাও।
আসি।
ওরে আমার মা!
বড় হয়ে গেছিস। কী করছিস?
এখানে কী? মাংস? বেশি করে এনেছো?
বেশি করে এনেছি যাতে গোটা পরিবার গলা অব্ধি পারি!
বেতন পেয়েছি না!
চল, খোকা। খিদা লেগেছে নিশ্চয়ই।
কেউ এসেছে নাকি?
- গ্যাস ডেলিভারি। - গ্যাস?
ব্রাভো কোন, চলো ভালোবাসি।
চলো দেখা করি, ব্রাভো কোন।
চলো ভালোবাসি।
হৃদয় স্পন্দনের সাক্ষাৎ।
কী?
ওমা, ওমা। একটা আইসক্রিমের দাম ২০০ উয়ন কীভাবে হয়?
তবে, "ওয়ার্ল্ড কোন" ৩০০ উয়ন।
এক প্যাকেট সিগারেটের দামও ৩০০ উয়ন।
এখন ৬০০ উয়ন। কিছুদিন হলো দাম বেড়েছে।
হারামজাদা কী বলে দেখ।
তুই সিগারেট খাস, বজ্জাত? মরতে চাস?
- হারামজাদা! - না, আমি খাই না।
বড় আপু আমাকে দিয়ে কেনায়!
মাথা ঠিক আছে?
এসব কী বলছিস? সিগারেট খেলে স্বীকারও কর,
আমাকে ফাঁসাবি না! একদম মেরে ফেলবো!
দাদার হুক্কা খাওয়ার বয়স হয়ে গেছে তোর!
- তুই হুক্কা খাস? - ঠিক আছে, খেয়েছি।
হুক্কা হোক বা সিগারেট, আমিই খেয়েছি।
আমি হুক্কা খেয়েছি, আমি সিগারেট খেয়েছি!
দাঁড়া, খাওয়ার পর তোর বিচার হবে।
করছোটা কী? ধোয়া হলে, আসো!
চলে এসেছে।
খাওয়া যাক!
প্রতিবেশীদের দিয়ে এইটুকুন আছে।
- আরও লাগলে, বলবে শুধু। - দেয়ার আগে কতটুকু ছিল?
আরে জ্বালা। আমরা ছাগল না।
ঘাসের স্তূপ দিয়েছো কেন?
তাইতো বলি আমার বেতনের টাকা কোথায় যায়,
সব শাকসবজি কিনতে খরচ করো?
রাখো তো। কেউ শুনলে ভাববে অঢেল টাকা কামাও।
মানুষ ভাবে ব্যাংকের কেরানি অঢেল টাকা কামায়। আমার দুঃখ কে দেখবে?
দাও, দাও।
আরে জ্বালা, আগে খেয়ে নাও।
দেখো, এগুলো আমাদের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে বড় হয়ে যাচ্ছে।
আরে, দাও দেখি। কোথায়? পেয়েছি!
আহা, কত মোটা!
ভাবছি এই মাসে কত এসেছে?
তিন, সাত, নয়, দুই, এক।
চার, তিন, সাত, ময়।
এই।
মুখে পেপেরো পুরে পথ ধরো পাহাড়ের
পেপেরো...
বো-রা'র বাবা!
ইয়া ইয়া হো!
টাকা পুরোটা নেই।
১২০,০০০ উয়ন কম আছে!
ঠিক আছে বাবা।
বই কিনেছি কয়েকটা।
ইউং-ছলের ছেলে, সক-জিনকে তো চেনো।
হারামজাদাটা কীসের জানি জামিনদার হয়ে সব হারিয়েছে!
এখন বাঁচার তাগিদে, এটা-সেটা করে বেড়াচ্ছে,
ব্যাংকে এসেছিল বই বেচতে।
তাই আসলে এড়াতে পারিনি, পারা যায়?
অবস্থা শুধু ওর খারাপ? আমাদেরও খারাপ।
তুমি ভুল করে একজনের জামিনদার হওয়ায় আমাদের অবস্থা খারাপ।
এখন কে কাকে সাহায্য করছে?
আরে জ্বালা, তবুও,
আমরা তো চলতে পারছি।
টেনেটুনে চলছি!
এখনো নো-উল আর দক-সুনের স্কুলের বেতন দিতে পারিনি।
আর বো-রার কলেজের বেতন?
তুমি আমাকে খারাপ হতে বাধ্য করছো।
জমানোর জন্য টাকা বাঁচাতে গিয়ে কাউকে এক কাপ কফি খাওয়াতে পারি না,
আর তুমি জনসেবা করছো।
আমাকে হতে হচ্ছে খারাপ।
No comments yet. Be the first to leave one.