前 200 行。
জিরো তানিগুচি ও বাকু ইউমেমাকুরার মাঙ্গা অবলম্বনে
হাঁটা।
পর্বতারোহণ।
আরও ওপরে।
সবসময় উঁচুতে।
আর কেন?
অনুবাদ ও সম্পাদনায় ~জাহিদ হাসান~
আমার নাম ফুকামাচি মাসাকোতো।
আমি ম্যাগাজিনের জন্য ছবি তুলি।
সেবার আমি একটি জাপানি অভিযাত্রী দলের সঙ্গে এভারেস্টের দক্ষিণ-পশ্চিম মুখ ধরে যাচ্ছিলাম।
বেস ক্যাম্প থেকে বলছি। শুনতে পাচ্ছো?
আমি তানাকা। শুনছি।
একটা বড় ঝড় আসছে। ফিরে এসো।
আমরা একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছি, এখন আর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়।
তোমাদের দেরী হয়ে গেছে, ঝড় তোমাদের আগেই পৌঁছে যাবে।
ঝুঁকি নিয়েই এগোবো।
ভীষণ ঝুঁকি আছে। তোমরা অনেক পিছিয়ে আছ।
শুনতে পাচ্ছো? তানাকা?
এবারও চূড়ায় ওঠা হলো না। সময়ের অপচয়।
- কি বললে? - তারা ৮,০০০ মিটারের ওপরে যেতে পারেনি।
অক্সিজেন নিয়েও না?
তাদের প্রস্তুতি ছিল না। এভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম মুখ জয় হয় না।
- শেষ পর্যন্ত কতদূর উঠেছিলো? -৫ নং ক্যাম্প পার হয়ে কিছুটা এগিয়েছিল।
তানাকা আর গোতো ভালো করেছিল, কিন্তু সময় ধরে রাখতে পারেনি।
চূড়ার কাছে আবহাওয়া খারাপ ছিলো। ফিরে আসতেই হলো।
ডাবল পেজের জন্য যথেষ্ট ছবি আছে?
-এই শেষবারের মতো করছি এটা। - এত নালিশ করো না।
প্রকৃতির মাঝে ঘুরে বেড়াচ্ছো, দুনিয়া দেখছো।
আসলে সময় নষ্ট করছি। আমার ছবি কোন কাজেই লাগছে না।
-সোমবার নিউজরুমে দেখা হবে। -ঠিক আছে। বাই।
ফুকামাচি, তোমার বিয়ার গরম হয়ে যাচ্ছে।
-আসছি। -তুমি এক রাউন্ড পিছিয়ে আছো।
ঠিক আছে, আসছি।
হাই!
হ্যালো।
সাংবাদিক?
হ্যাঁ।
ম্যাগাজিনের জন্য স্কুপ খুঁজছেন বুঝি?
ম্যালোরির ক্যামেরা কেমন হবে?
দেখুন।
ম্যালোরির ক্যামেরা বলছি। দেখুন তো।
একদম খাঁটি মাল। উপরে পাহাড় থেকে নামানো।
গল্পটা জানেন তো?
এটাই তো আসল স্কুপ, তাই না?
কম দামেই ছেড়ে দেবো,
কি বলছেন এসব?
মাত্র ১০,০০০ রুপি, ২০০ ডলার। একেবারে সস্তায়!
যান এখান থেকে!
বেচারা।
সোনার খনি পায়ে ঠেলে দিচ্ছেন! পরে পস্তাবেন!
-হ্যালো— - নেপাল এয়ারলাইন্সে থেকে বলছি,
সব লাইন এখন ব্যস্ত। অনুগ্রহ করে পরে কল করুন।
সব সময় যে সোনার খনি মিলবে, তা তো নয়।
এটাই স্বাভাবিক।
তবুও ভাবছিলাম, আমি এখানে কেন?
-আমি তা করিনি! -ওটা নিয়ে কী করেছিস?
রাগ করছো কেন?
আমি খুলে বলছি!
থামো!
-এই! -ফিরিয়ে দে ওটা।
আচ্ছা, একটু দাঁড়াও।
এই নাও।
অসম্ভব...
এই, দাঁড়ান!
হাবু।
চলো!
১৯৫৩ সালে এভারেস্টের চূড়া প্রথম জয় করা হয়।
কিন্তু সেটাই প্রথম চেষ্টা ছিল না।
১৯২৪ সালে,
৮ জুন, দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে,
ইংরেজ জর্জ ম্যালোরি ও তাঁর সঙ্গীকে শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল
উত্তর দিকের ঢালে, প্রায় চূড়ায়।
তারা আর ফিরে আসেনি। কেউ জানে না, তারা সফল হয়েছিল কি না।
কিন্তু এটা জানা যায়, জয়ের প্রমাণ নিয়ে ফেরার জন্য তাদের কাছে একটা ক্যামেরা ছিলো।
একটা ভেস্ট পকেট অটোগ্রাফিক ক্যামেরা।
যদি কেউ ওই ক্যামেরা খুঁজে পায় আর ফিল্মটা তৈরি করতে পারে,
তাহলে বছরের পর বছর ধরে চলা প্রশ্নটার উত্তর পাওয়া যাবে।
ম্যালোরিই কি প্রথম ব্যক্তি, যিনি এভারেস্ট জয় করেছিলেন?
কিন্তু…
একটা সমস্যা ছিলো।
ইউ পাবলিশিং কোম্পানি
আমি পুরো এলাকাটা খুঁজেছি, দোকানদারদেরও জিজ্ঞেস করেছি। কিছুই মেলেনি।
লোকটা যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।
তবু আমি নিশ্চিত, ও-ই ছিল।
হাবু জোজি?
-সেই হাবু জোজি? -আর কেউ আছে নাকি?
যে লোকটা বহু বছর ধরে নিখোঁজ, সে হঠাৎ করে ম্যালোরির ক্যামেরা নিয়ে হাজির?
সোজা তোমার নাকের ডগায়?
সে ছিলো দারুণ একজন পর্বতারোহী।
হয়তো সত্যিই সে চূড়ার কাছাকাছি ম্যালোরির মৃতদেহ পেয়েছে আর ক্যামেরাটা নিয়ে নিয়েছে।
৭০ বছর ধরে মানুষ ম্যালোরিকে খোঁজার চেষ্টা করছে।
যদি সত্যিই কিছু পাওয়া যেতো, আমরা জানতাম। আর তুমি নিশ্চিত না, ও হাবু-ই ছিল।
-তবে এটা দেখো? -আঙুল হারানো বহু লোক এখানে আছে।
ওটা দিয়ে ক্যামেরার ব্যাপারে কিছুই প্রমাণ হয় না।
ভেস্ট পকেট ক্যামেরা খুবই সাধারণ।
তুমি তো জানোই।
তাহলে হাবু কেন ওই লোকটার সঙ্গে মারামারি করছিলো?
তুমি ওকে কিছু জিজ্ঞেস করোনি কেন?
আমি সব জায়গায় খুঁজেছি, কিন্তু তুমি তো জানোই কাঠমান্ডু কেমন।
ঠিক আছে, এর মধ্যে—
আমি কভার ফটোর জন্য এটা নিচ্ছি।
এটাও খারাপ নয়, কিন্তু একটু রিফ্রেম করতে হবে।
ম্যালোরি যদি সত্যিই উঠতে পেরে থাকে, তাহলে এটা পর্বতারোহণের ইতিহাস বদলে দেবে।
প্রথম মানুষ, যিনি এভারেস্ট জয় করেছেন।
আমরা এটাকে ছেড়ে দিতে পারি না।
আমার হাবুকে খুঁজতেই হবে।
এখানকার লোকেরা ওকে চিনতো, তারা সাহায্য করতে পারে।
শোনো, ক্যামেরাটা বরফে চাপা ম্যালোরির সঙ্গেই রয়ে গেছে।
আর হাবুকেও কেউ মনে রাখেনি।
এসব বাদ দাও!
আমি যদি ওদের খুঁজে পাই, তাহলে ম্যালোরির ছবির এক্সক্লুসিভ ফিচার আমি লেখবো!
সাথে কপিরাইটের রয়্যালটির একটা ভাগ?
ওকে।
হাবুকে খুঁজে বের করা কঠিনই হবে।
জাপানে ওর আর কোনো ঠিকানা, পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নেই।
-হ্যালো? -হ্যাঁ, বলুন?
হ্যাঁ, আমার নাম ফুকামাচি মাকোতো। আমি একজন সাংবাদিক।
-হাবু জোজিকে নিয়ে কিছু কথা বলতে চাচ্ছিলাম। -কে?
হাবু জোজি।
তবে ষাটের দশকে, তার একটা আলাদা পরিচিতি ছিল।
গতির আর ইউনিক স্টাইলের জন্য, ওকে একপ্রকার বিস্ময়বালক ধরা হতো।
সে কিছু 'প্রথম অর্জনের' রেকর্ড করেছিল, শীতকালীন আরোহন, গতির রেকর্ড।
পর্বতারোহণের জগতে, তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল বলেই মনে হতো।
অনেকে বলত, সে তার প্রজন্মের সেরাদের একজন।
তারপর হঠাৎ একদিন, সে উধাও হয়ে যায়। হুট করে, যেন আকাশে মিশে গেল।
একেবারে গায়েব। তার কী হয়েছিল?
-ব্যাগটা আমাকে দাও। -না, থাক। আমি নিতে পারব। ধন্যবাদ।
-ক্যারাবিনওয়ালা ব্যাগটা কোথায়? -সিটের নিচে।
দড়িটা কে গুটিয়ে রেখেছিল?
-তোমার ব্যাগটা আমি নিয়ে দিই? -আর কিছু লাগবে?
না, ঠিক আছে।
এই, চলো আমার সঙ্গে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যাপার। দারুণ কিছু রুট আছে এবার।
পারব না হাবু। আমরা তো সবে ফিরলাম।
নতুন চাকরি, খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখনই ছুটি নেওয়া যাবে না।
তোমার বসের সঙ্গে আমি কথা বলি? বলবো, পর্বতারোহণের পর তোমার কাজের গতি আরো বেড়ে যায়!
-আহ, ধুর! -শনিবার বোলিং খেলবে?
-হ্যাঁ। -দারুণ আইডিয়া।
আমি কিন্তু তোমাদের হারিয়ে দেবো।
বন্ধুরা, শনিবার বোলিং খেলতে যাবে?
নিশ্চয়ই। আমি তো 'স্ট্রাইক কিং'!
কিন্তু শনিবার আমরা দৌড়াতে যাওয়ার কথা বলিনি? ভুলে যাওনি তো?
না, একদমই না।
দুঃখিত, ও ঠিকই বলেছে। শনিবার পারবো না।
অনেক আগে থেকেই প্ল্যান করা ছিল।
হেই, একটা গুড নিউজ আছে!
তোশিরোকে বের করে দিয়েছে?
-আমরা কি নতুন ট্রাক পাচ্ছি? -তার চেয়েও ভালো। আমরা নেপাল যাচ্ছি।
অন্নপূর্ণা অভিযানের জন্য স্পনসর পেয়েছি।
তবে ওরা অর্ধেক খরচ দেবে। বাকিটা আমাদেরই বহন করতে হবে।
-ঠিক আছে। -চলবে।
আমি জানি, সবার পক্ষে যাওয়া সম্ভব না।
যদি সফল হই,
তাহলে পরের অভিযানে ভালো ফান্ডিং মিলবে।
ভিসার ব্যাপারে পরের মাসের মধ্যে আবেদন করো।
অনেক সরঞ্জাম কিনতে হবে। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই কিনব।
-তোশিরো, হিসাবপত্রটা দেখো। -হ্যাঁ, হয়ে যাবে।
আমি পারমিটের ফর্মগুলো দিয়ে দিচ্ছি।
সবকিছুতে সময় লাগে, তাই দেরি কোরো না—
ওদের স্কিল আমাদের মতো না।
ওরা ঠিকমতো ট্রেনিং করে না, শুধু পার্টি করে।
সারা বছরে ৫০ দিনও চড়ে না।
এটা ঠিক না, এই অভিযানে আমাদেরই যাওয়া উচিত।
শুধু টাকা আছে বলেই ওরা যাচ্ছে।
তোমার কি মনে হয় এটা ঠিক?
ওটা ছুঁড়ে ফেলো!
এই জন্যই উচ্চতায় শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
টাকা, স্পনসর…
আমরাও যদি বিখ্যাত হতাম, স্পনসর পেতাম।
আমরাও নাম করে ফেলবো। এমন কিছু করবো, যা আগে কেউ করেনি।
-তুমি আসছো? -বলো, কী প্ল্যান?
ডেমন ওয়াল।
শীতে? পাগল নাকি? অসম্ভব! কেউ করে না এসব।
এজন্যই তো করবো!
তুমি এখনো এখানে? শুধু তুমিই বাকি আছো?
ডেমন ওয়ালে প্রথম শীতকালীন আরোহণ। সেই সময়ের তুলনায় খারাপ না।
হ্যাঁ। ইনভেস্টিগেশন এগিয়েছে? কোনো সূত্র পেলে?
এম্ব্যাসিতে ফোন করেছিলাম।
হাবু আট বছর আগে নেপালে আসে, কিন্তু ওর ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে।
ও লুকিয়ে আছে। আমি চিনে ফেলাতে পালিয়েছে।
-এর সাথে ক্যামেরার কী সম্পর্ক? -ওটা আমি খুঁজে বের করব।
ঠিক আছে।
চালিয়ে যাও!
অন্নপূর্ণায় যারা গিয়েছিলো, তারা ব্যর্থ হয়েছিলো।
সবাই নিরাপদে ফিরে এলেও, কেউ চূড়ায় পৌঁছাতে পারেনি।
ইনোয়ে আর হাবুর নামে..
-হ্যাঁ, ধন্যবাদ। চিয়ার্স। -বাহ্।
হাবু নিজের বদলা নিয়ে নিয়েছে।
সাবাশ ছেলেরা।
তোমরা না থাকলে ক্লাবের বদনাম হয়ে যেতো!
সবাই একটু শিক্ষা নিক।
-আমরা সাবধানে চলেছি। সেফটি আগে। -হ্যাঁ, প্রফেশনালের কাজই এটা।
তবু, ডেমন ওয়াল! অবিশ্বাস্য!! তাও সেই মধ্য শীতে!!!
ওরা শুধু ভাগ্যবান ছিল।
না!
আমরা ক্যাম্প বানিয়ে সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করেছিলাম।
একটা ঝকঝকে দিন দরকার ছিল। রোদে বরফ গলে রাস্তা পরিষ্কার হয়।
রাতে ঠান্ডা জমে বরফ শক্ত হয়,
তাহলে ওপর থেকে পড়ে না। তখনই যেতে হয়।
কিন্তু আমরা উঠতে গিয়ে ঝড়ে পড়ে গেলাম।
নরম বরফ ছিল সবচেয়ে বিরক্তিকর।
No comments yet. Be the first to leave one.