前 200 行。
বাংলায় “লাইফ অফ পাই” মুভি সাবটাইটেল আপনাদের জন্য নিয়ে এলাম আমি নিটোল, ঢাকা থেকে
সাবটাইটেলটি কেমন লাগল তা জানাতে পারেন ইমেইলে বা ফেসবুকে:
তো আপনি বড় হয়েছেন একটি চিড়িয়াখানায়?
জন্মেছি এবং বড় হয়েছি।
পন্ডিচেরিতে, যেটাকে ভারতের ফ্রেঞ্চ অংশ বলা যায়।
আমার বাবা ছিলেন ঐ চিড়িয়াখানার মালিক।
একেবারেই তাৎক্ষণিকভাবে একজন সরিসৃপবিদের হাতে আমার জন্ম হয় . . .
যিনি আমাদের চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন একটি বেঙ্গল মনিটর গিরিগিটি পরীক্ষা করে দেখতে।
মা এবং আমি দু’জনেই সুস্থ ছিলাম...
কিন্তু বেচারা গিরগিটি পালানোর চেষ্টা চালাল...
এবং একটি ভীত কেশোয়ারির পায়ের নিচে পড়ে পিষ্ট হল।
কর্মফল, তাই না?
ঈশ্বরের কাজের ধারা।
বেশ মজার গল্প।
আপনার নাম শুনে আমি ধরে নিচ্ছি
আপনার বাবা ছিলেন একজন গণিতবিদ।
মোটেও না। বরং আমার নাম রাখা হয় একটি সুইমিং পুলের নামে।
"পাই" নামে কোন সুইমিং পুল আছে?
হয়েছে কি, আমার মামা ফ্রান্সিসের যখন জন্ম হয়
তখন তার ফুসফুসে অনেক পানি ছিল।
সবাই বলে ডাক্তাররা নাকি মামার গোড়ালি ধরে
উল্টো করে ঝুলিয়ে ঘুরিয়েছিলেন, যেন তার ভেতর থেকে সমস্ত পানি বের হয়ে যায়...
ফলে তার বুক হয়ে যায় বিশাল চওড়া আর পা দু’টো হয়ে পড়ে একেবারে চর্মসার...
এতে তিনি হয়ে ওঠেন এক দারুন সাঁতারু।
ফ্রান্সিস কি আসলেই আপনার মামা হন?
তিনি তো বলেছেন, তিনি আপনার বাবার বন্ধু।
তার সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক। আমি তাকে ডাকি মামাজী।
আমার বাবার সবচেয়ে ভাল বন্ধু। আমার সাঁতারের গুরু।
সপ্তাহে তিনবার আমি তার কাছে সাঁতার শিখতে আশ্রমে যেতাম।
তার শেখানো এই সাঁতারই শেষ পর্যন্ত আমার জীবন বাঁচিয়েছিল।
মুখভর্তি পানি তোমার কোন ক্ষতি করবে না, ক্ষতি যা করার করবে তোমার ভয়।
এখন আবার শ্বাস নিতে ভুলে যেও না, নিঃশ্বাস বন্ধ করে রেখ না।
লক্ষী ছেলে।
আশা করি আপনি নিরামিষ অপছন্দ করেন না।
না, না। একেবারেই না।
- আর, আপনার নাম? - হ্যাঁ?
আপনার নামটি কোথা থেকে এল সে সম্পর্কে আপনি বোধহয় কিছু বলছিলেন আমাকে।
ও, হ্যাঁ. মামাজী একবার আমার বাবাকে একটা কথা বলেছিলেন। সেখান থেকেই আমার নামের উৎপত্তি।
আপনি দেখবেন, অধিকাংশ পর্যটকরাই ভ্রমণের সময়
সংগ্রহ করে থাকেন পোষ্টকার্ড বা চায়ের কাপ . . .
কিন্তু মামাজী এর ব্যতিক্রম।
মামাজী সংগ্রহ করতেন সুইমিং পুল।
তার যাত্রাপথে যে পুলটিই পড়ত না কেন, তার প্রত্যেকটিতেই তিনি সাঁতার কাটতেন।
একদিন মামাজী আমার বাবাকে বললেন যে,
বিশ্বের সমস্ত সুইমিং পুলের মধ্যে...
সবচেয়ে সুন্দর পুলটি হচ্ছে প্যারিসের একটি পাবলিক পুল।
সেটার পানি এতটাই স্বচ্ছ যে,
আপনি ওটা দিয়ে আপনার জন্য সকালের কফি পর্যন্ত তৈরি করতে পারবেন।
সেখানে একবার মাত্র সাঁতার কেটেই নাকি তার জীবনটা পুরো পাল্টে গিয়েছিল।
আমার জন্মের আগেই তিনি বলেছিলেন...
"যদি তুমি চাও তোমার ছেলের আত্মা শুচি থাকুক...
তাহলে তোমার অবশ্যই উচিত তাকে একদিন পিসিন মলিটর-এ সাঁতার কাটতে নিয়ে যাওয়া।"
আমি আজও বুঝি না, কেন এই কথাটা আমার বাবার কাছে এতটা হৃদয়গ্রাহী হয়েছিল।
কিন্তু ঠিক সেটাই ঘটল এবং আমার নাম রাখা হল "পিসিন মলিটর প্যাটেল"।
ভাবুন তো, কীভাবে আমি ঐ নামের অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করেছি।
শেষমেষ ১১ বছর বয়সে আমি এই কাজে সক্ষম হলাম, কিন্তু তখন . . .
এই, পিসিন!
তুমি কি এখন পিসিং(প্রস্রাব) করছ?
ওকে দেখ, ও সত্যিই পিসিং করছে!
এই একটা শব্দের জন্য আমরা নামটা অভিজাত ফ্রেঞ্চ সুইমিং পুল থেকে পরিণত হল...
দুর্গন্ধযুক্ত ভারতীয় প্রস্রাবখানায়।
সবখানেই আমি ছিলাম "পিসিং"।
স্কুল প্রাঙ্গনে কোন পিসিং চলবে না!
এমনকি শিক্ষকরাও এমনটা করতে শুরু করলেন।
অবশ্যই ইচ্ছাকৃতভাবে নয়।
তো আমরা যদি খুব দ্রুত গ্যাসটা ছেড়ে দিই তাহলে কী ঘটবে?
পিসিং?
উনি "পিসিং" বলেছেন।
যথেষ্ট হয়েছে! শান্ত হও! শান্ত হও!
পরের বছর যখন স্কুলের প্রথম দিনে আবার ক্লাসে ফিরে এলাম,
আমি ছিলাম পুরোপুরি প্রস্তুত।
উপস্থিত, স্যার।
পিসিন প্যাটেল।
শুভ সকাল। আমি পিসিন মলিটর প্যাটেল।
সবার কাছে আমি পরিচিত...
"পাই" নামে, যা গ্রিক বর্ণমালার ষোড়শ বর্ণ...
যা গণিতেও ব্যবহৃত হয় কোন বৃত্তের ব্যাস থেকে পরিধির...
অনুপাত প্রকাশ করার জন্য।
একটি অসীম দৈর্ঘ্যের অমূলদ সংখ্যা,
যা সাধারণত তিনটি সংখ্যা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হয়...
আর তা হল ৩.১৪।
পাই।
খুবই মনোমুগ্ধকর, পাই। এখন বস গিয়ে।
তারপর থেকেই আপনার নাম হয়ে গেল "পাই"?
না, পুরোপুরি না।
ভালই চেষ্টা করেছ, পিসিং।
কিন্তু পুরো দিনটা আমার সামনে পড়ে ছিল।
এরপর ছিল ফ্রেঞ্চ ক্লাস।
আমার নাম পিসিন মলিটর প্যাটেল।
ওরফে পাই।
তারপর ভূগোল ক্লাস।
এগুলো হল দশমিকের পর পাই-এর প্রথম ২০টি সূচক স্থান।
দিনের শেষ ক্লাসটি ছিল গণিত।
ধীরে, ধীরে, ধীরে।
তিন, সাত, পাঁচ, আট, নয়,
আট, পাঁচ, আট, নয়।
একদম সঠিক। ও সত্যিই ঠিকমত লিখছে।
পাই! পাই! পাই!
দিনের শেষে আমি হয়ে গেলাম পাই প্যাটেল, স্কুলের কিংবদন্তী।
মামাজী বলেছেন আপনি নাকি নাবিকদের মধ্যেও একজন কিংবদন্তী।
জনমানবহীন সমুদ্রে, একেবারে একাকী।
আরে, আমি তো নৌকাই চালাতে পারি না।
আর আমি তো ওখানে একা ছিলাম না. রিচার্ড পার্কার আমার সাথে ছিল।
রিচার্ড পার্কার?
মামাজী আমাকে সব কিছু বলেন নি।
তিনি শুধু বলেছেন মন্ট্রিলে গিয়ে আপনার সাথে আমার দেখা করা উচিত।
তো পন্ডিচেরিতে আপনি কী করছিলেন?
একটি উপন্যাস লিখছিলাম।
ও হ্যাঁ, আপনার প্রথম বইটি আমি খুব উপভোগ করেছি।
তো এই নতুন উপন্যাসটির কাহিনী ভারতকে ঘিরে?
না, আসলে কাহিনীটি পর্তুগাল নিয়ে। কিন্তু ভারতে বাস করাটা তুলনামূলক সাশ্রয়ী।
বেশ, আমি উপন্যাসটা পড়ার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।
পারবেন না।
আমি ওটা বাদ দিয়েছি।
দুই বছর ধরে আমি এই জিনিসটাতে প্রাণ সঞ্চারের চেষ্টা চালিয়ে গেছি...
এবং তারপর এক দিন, ওটা খানিক গোঙ্গাল, কাশল এবং মারা গেল।
ওহ, আমি দুঃখিত।
এক বিকেলে আমি পন্ডিচেরির একটা কফি হাউসে বসে ছিলাম,
আমার অমূল্য ক্ষতির কথা ভেবে শোক প্রকাশ করছিলাম...
আর ঠিক তখনই পাশের টেবিলের এক বৃদ্ধ ব্যক্তি আমার সাথে কথা বলতে শুরু করলেন।
হ্যাঁ, মামাজীর স্বভাবটাই এমন।
যখন আমি তাকে আমার পরিত্যক্ত বইটা সম্পর্কে বললাম, তিনি আমাকে বললেন...
"তার মানে একজন কানাডিয়ান গল্পের খোঁজে
চলে এসেছেন ফ্রেঞ্চ ইন্ডিয়ায়।"
"বেশ, বন্ধু আমার, আমি একজন ইন্ডিয়ানের খোঁজ জানি, যে ফ্রেঞ্চ কানাডায় বাস করে...
এবং তার কাছে বলার মত সবচেয়ে বিস্ময়কর এক গল্প রয়েছে।"
"তোমাদের দু’জনের দেখা হওয়াটা বোধহয় নিয়তিতেই লেখা ছিল।"
আসলে অনেক বছর হয়ে গেছে আমি রিচার্ড পার্কার সম্পর্কে কোন কথা বলি নি।
তো মামাজী আপনাকে ইতোমধ্যে কী কী বলেছেন?
তিনি বলেছেন, আপনার কাছে এমন একটি গল্প আছে যা আমাকে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করাবে।
তিনি যে কোন চমৎকার খাবার সম্পর্কেও এ ধরনের কথাই বলবেন।
ঈশ্বরের কথাই যদি বলেন, আমি আপনাকে কেবল আমার গল্পটা শোনাতে পারি।
আপনিই সিদ্ধান্ত নেবেন কতটুকু আপনি বিশ্বাস করতে চান।
বেশ।
আচ্ছা, দেখা যাবে। তো, কোথা থেকে শুরু করা যায়?
পন্ডিচেরি হচ্ছে ভারতের একটি ফ্রেঞ্চ অধ্যুষিত উপকূল।
মহাসাগরের কাছ ঘেঁষে যে রাস্তাগুলো রয়েছে,
সেগুলোতে এসে দাঁড়ালে আপনি ভাববেন বোধহয় দক্ষিণ ফ্রান্সের কোন অঞ্চলে এসে পড়েছেন।
মূল ভূখণ্ডের দিকে কয়েক ব্লক এগোলেই চোখে পড়বে একটি খাল।
ওটা পেরোলেই আপনি পা দেবেন পন্ডিচেরির ভারতীয় অংশে।
ঠিক তার পশ্চিম দিকে রয়েছে মুসলমানদের এলাকা।
১৯৫৪ খ্রীষ্টাব্দে ফরাসিরা যখন আমাদের হাতে পন্ডিচেরি ফিরিয়ে দেয়...
তখন শহরটাকে ঢেলে সাজানোর কথা চিন্তা করা হয়।
আমার বাবা ছিলেন একজন বুদ্ধিমান ব্যবসায়ী, আর তিনি একটি দারুন ব্যবসা শুরু করেন।
তিনি একটি হোটেল চালাতেন। আর তিনি স্থানীয় বোট্যানিক্যাল গার্ডেনটির জায়গায়...
একটি চিড়িয়াখানা তৈরি করার চিন্তা করেন।
সেই সময় ঐ বোট্যানিক্যাল গার্ডেনে আমার মা কাজ করতেন উদ্ভিদবিদ হিসেবে।
সেখানে তাদের দেখা হল, বিয়ে হল এবং এক বছর পরেই আমার ভাই রবির জন্ম হল।
এর দুই বছর পর আমার জন্ম হয়।
রূপকথার মত শোনাচ্ছে। আপনি বড় হয়েছেন কি না একটা...
আমেন।
হ্যাঁ, আসুন খাওয়া শুরু করি।
আমি জানতাম না যে, হিন্দুরা "আমেন" বলে।
ক্যাথলিক হিন্দুরা বলে।
ক্যাথলিক হিন্দু?
আমরা একজন না, শত শত দেবতার কাছে নিজেদের পাপ স্বীকার করি।
কিন্তু প্রথমত আপনি তো একজন হিন্দু?
কেউ পরিচয় করিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আমরা কখনোই ঈশ্বরকে জানতে পারি না।
হিন্দু ধর্মের মধ্য দিয়ে আমি প্রথম ঈশ্বরের পরিচয় পাই।
হিন্দু ধর্মে ৩৩ কোটি দেব-দেবী আছে।
তাদের মধ্যে মাত্র কয়েকজনকে আমি কেন জানতে পারব না?
প্রথমে আমি পরিচিত হই কৃষ্ণের সাথে।
যশোদা একবার শিশু কৃষ্ণকে মাটি খাওয়ার জন্য বকাবকি করছিলেন।
"ছি, ছি। দুষ্টু ছেলে, তোমার মোটেও এটা করা উচিত নয়।"
কিন্তু কৃষ্ণ ও কাজ করেন নি!
সেটা তিনি তাঁর মাকে বললেন।
"আমি মাটি খাই নি।"
যশোদা বললেন, "তাই না? ঠিক আছে..."
"তাহলে তোমার মুখটা খুলে দেখাও।"
তখন কৃষ্ণ তাঁর মুখ খুললেন।
যশোদা সেখানে কী দেখলেন বল তো?
কী?
তিনি কৃষ্ণের মুখে সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড দেখেছিলেন।
ছোটবেলায় দেবতারা ছিলেন আমার সুপার হিরো।
বানর দেবতা হনুমান....
তাঁর বন্ধু লক্ষণকে বাঁচাতে আস্ত একটা পর্বত তুলে নিয়ে এসেছিলেন।
হাতির মাথাওয়ালা গণেশ...
তাঁর মা পার্বতীর সম্মান রক্ষা করার জন্য নিজের জীবন বিপণ্ন করেছিলেন।
বিষ্ণু হলেন সর্বোচ্চ আত্মা, সবকিছুর উৎস।
বিষ্ণু অকূল মহাজাগতিক সমুদ্রের উপর ভাসমান অবস্থায় ঘুমোচ্ছেন...
আর আমরা হচ্ছি তাঁর স্বপ্নের মধ্যকার সমস্ত চরিত্র।
দেখার মত দৃশ্য বটে!
এই সব গল্প আর সুন্দর আলোকসজ্জার চক্করে পড়ে নিজেকে বোকা বনতে দিও না, বাছারা।
ধর্ম হল অন্ধকারাচ্ছন্নতা।
আমার প্রিয় বাবা নিজেকে নতুন ভারতের অংশ বলে বিম্বাস করতেন।
ছোটবেলায় তার পোলিও হয়েছিল।
বিছানায় শুয়ে ব্যথায় কোঁকাতে কোঁকাতে তিনি ভাবতেন, ঈশ্বর কোথায়।
শেষ পর্যন্ত ঈশ্বর তাকে বাঁচান নি, বাঁচিয়েছে পশ্চিমাদের ওষুধ।
আমরা মা কলেজে পড়তে শুরু করার পর ভেবেছিলেন
তার বাবা-মাও বোধহয় নতুন ভারতের অংশ...
যে পর্যন্ত না তারা তার সাথে যোগাযোগ ছিন্ন করে দেন...
কারণ তারা ভেবেছিলেন মা তার চাইতে নিচু বংশের কাউকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন।
ধর্মই ছিল তার অতীত জীবনের সাথে একমাত্র যোগসূত্র।
১২ বছর বয়সে পার্বত্য অঞ্চলে গিয়ে আমি খ্রীষ্টের দেখা পাই।
মুনার-এর চা-বাগানে আমাদের আত্মীয়দের কাছে বেড়াতে গিয়েছিলাম।
তৃতীয় দিনে রবি আর আমি দু’জনেই মারাত্মক বিরক্ত হয়ে উঠলাম।
চ্যালেঞ্জ। আমি তোকে দুই রুপী দেব।
দৌড়ে ঐ গীর্জার মধ্যে যা এবং পবিত্র পানি পান কর গিয়ে।
তুমি নিশ্চয়ই তৃষ্ণার্ত।
এই নাও।
No comments yet. Be the first to leave one.