前 200 行。
হে খোদা!
- বার্নেটকে আপনি কী করছেন? - মাফ করবেন?
জনিকে কী করছেন আপনি?
আপনার ওয়ার্ডে ফিরে যান। আপনার বন্ধুর জন্য এখন কিছুই করার নেই।
- কী বলছেন? - জন বার্নেট মারা গেছে।
না, আমি ওর চিৎকার শুনেছি।
আমি বললাম জন বার্নেট মারা গেছে!
বুঝতে পারছেন?
চলে যান, ক্র্যান্ডাল। এখান থেকে চলে যান।
এখানে আর দেখার কিছু নেই। বুঝেছেন?
আমি এখনও বুঝতে পারছি না। এর সাথে আমাদের কী সম্পর্ক?
গয়নার দোকান ডাকাতি করা একটা ফেডারেল অপরাধ।
ধন্যবাদ।
জানি না। ভায়োলেন্ট ক্রাইমস ইউনিটের এক বন্ধুর কাছ থেকে ফোন পেয়েছিলাম।
বলল এটা জরুরি।
রেজি! রেজি!
মোল্ডার! তুমি এটা করলে আমার বেশ রাগ লাগে।
ইনি স্পেশাল এজেন্ট স্কালি। রেজি পারডু।
- কেমন আছো? - ভালো। এখানে কী হয়েছে?
এক বন্দুকধারী এক সেলসগার্লকে গুলি করেছে ব্যাগ ভর্তি করার পর।
তোমরা কিছু পেয়েছ?
অল্প কিছু, শুধু...
...এটা।
তোমার মাথা ঘুরিয়ে দেবে।
কেন?
বলছি মোল্ডার, এটা তোমার... মাথা... ঘুরিয়ে দেবে।
- এটা কী? - দাঁড়াও... এক সেকেন্ড দাঁড়াও।
- বুঝলে আমি কেন তোমাকে ডেকেছি? - প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ কী?
শ্বেতাঙ্গ পুরুষ, পাঁচ ফুট এগারো থেকে ছয় ফুট, স্কি মাস্ক পরা।
- ধ্যাত্তেরি, রেজি। ওটা তো বার্নেট। - হ্যাঁ, কিন্তু এটা তো অসম্ভব।
বার্নেট কে?
ব্যুরোতে এটা আমার প্রথম কেস ছিল।
বার্নেট ডিসি জুড়ে সশস্ত্র ডাকাতি করত আর পার পেয়ে যেত।
ও সাতজনকে খুন করেছিল।
বড় একটা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। রেজি ছিল আমার এএসএসি।
আমার বয়স তখন ২৮। একাডেমি থেকে সদ্য বের হয়েছি।
কেসটা নিয়ে আমার একটা থিওরি ছিল। রেজি ভেবেছিল আমি বাজে বকছি।
আসলে ঠিকই ভাবছিল।
- থিওরিটা কী ছিল? - বার্নেটের ভেতরে যোগাযোগ ছিল।
আর্মার্ড কার কোম্পানির এক কর্মচারী ওকে খবর দিত। আমি কিছুটা ঠিক ছিলাম।
কিছুটা?
হ্যাঁ, আমরা ভুয়া চালানপত্র দিয়ে ফাঁদ পেতেছিলাম।
কিন্তু বার্নেট আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল। তখনই নোটগুলো আসা শুরু হলো।
"শেয়াল মুরগির খোপ পাহারা দিতে পারে না।"
চতুর, তাই না?
- তাহলে তোমরা ওকে কখনো ধরতে পারোনি? - না, আমরা ধরেছিলাম। আমরা ধরেছিলাম, কিন্তু...
...ঝামেলা হয়েছিল।
আমার ভুলের কারণে একজন এজেন্ট মারা যায়।
আর বার্নেটের কী হলো?
একটা টেকনিক্যাল কারণে সে মৃত্যুদণ্ড এড়াতে পেরেছিল...
...কিন্তু সে তার করা প্রতিটি কাজের জন্য শাস্তি পেয়েছিল। ধারাবাহিকভাবে ৩৪০ বছর।
বিচারক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সে কারাগারেই মরবে।
তাহলে তুমি ভাবছ ও পালিয়েছে?
না, ব্যাপারটা সেখানেই। সে মারা গেছে চার বছর আগে, জেলেই।
তুমি নিশ্চিত?
আমি খেয়াল রেখেছিলাম।
এই লোকটা কি তোমার বন্ধু?
হ্যাঁ, আমি ওর সাথে প্রতি রবিবার গলফ খেলি। তোমার কী মনে হয়?
তুমি এটা দশ মিনিট আগে এনেছো।
তুমি কাজে ঢিলেমি করছ, হেন্ডারসন।
দশ মিনিট তোমার পক্ষে যথেষ্ট হতে পারে। তবে আমার তো তেমন অভিজ্ঞতা নেই।
আচ্ছা...সত্যি করে বলো, তোমার কী মনে হয়?
প্রথম নজরে মনে হচ্ছে: কালি একেবারে টাটকা, নোটটা গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লেখা হয়েছে।
বলপয়েন্ট, এটা তুমি জানতেই।
ডানহাতি কেউ লিখেছে। দেখি...
বসে বসে লেখা। এখন আমি শুধু নিজেকে জাহির করছি।
হ্যাঁ। এটা কি বার্নেটের সাথে মেলে?
আমার মতে, হ্যাঁ—ওরই লেখা।
কিন্তু তুমি নিশ্চিত নও?
পঁচানব্বই শতাংশ নিশ্চিত।
লেখাটা অগোছালো। কিছু হরফ বেশি ভারীভাবে লেখা।
এটা কি বারনেটের পুরনো কোনো নোটের ওপর ট্রেস করা হতে পারে?
হতে পারে, তবে সেটা হলে খুব নিখুঁতভাবে করা হয়েছে।
– ধন্যবাদ, হেন্ডারসন। তোমার কাছে ঋণী রইলাম। – শুধু প্রতিশ্রুতি আর প্রতিশ্রুতি।
ঐ তো বার্নেট। আমরা একটা বিমানবন্দরের গুদামে নজরদারি করছিলাম...
...কিন্তু সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যায়
যখন বার্নেট আর্মার্ড ট্রাকের ড্রাইভারকে জিম্মি করে ফেলে।
মোল্ডার কোথায়?
ঐ তো, পেছন দিক থেকে আসছে। বার্নেট ওকে দেখেনি।
– ওর সামনে পরিষ্কার শট ছিল। – হ্যাঁ, ওর গুলি করা উচিত ছিল।
কিন্তু পারল না।
না, না, জিম্মি এত কাছে ছিল বলে না।
কারণ এটা নিয়ম অনুযায়ী নয়।
এতে একটা জীবন বাঁচানো যেত, হয়তো দুটোও।
সেই হারামজাদা বার্নেট তখনই গুলি করতে শুরু করে।
তাহলে মোল্ডার বার্নেটকে গুলি করেছিল।
দুইবার – একবার কাঁধে, একবার হাতে। কিন্তু তার আগেই বারনেট ড্রাইভারকে মেরে ফেলে...
...আর এজেন্ট স্টিভ ওয়ালেনবার্গকেও।
মোল্ডার... কখনোই নিজেকে ক্ষমা করতে পারেনি সে জন্য।
তুমি যদি বার্নেটের বিচার চলাকালে ওর সাক্ষ্য শুনতে।
সম্ভবত বার্নেট যে শাস্তি পেয়েছিল তার পেছনে এর বড় ভূমিকা ছিল।
আমি কখনোই ভুলবো না মোল্ডারের কাঠগড়া থেকে নেমে আসা...
...আর বার্নেটের ঘুরে দাঁড়িয়ে বলা যে সে মোল্ডারকে দেখে নেবে।
সত্যি কথা বলতে কী, মোল্ডার যদি তখনই গুদামে ওকে মেরে ফেলত, আমি খুশি হতাম।
– হেন্ডারসন কী বলেছে? – পঁচানব্বই শতাংশ নিশ্চিত এটা বার্নেটের হাতের লেখা।
ওটা কী?
ফেডারেল ব্যুরো অফ প্রিজনস আমাকে ওর ডেথ সার্টিফিকেটের একটি কপি পাঠিয়েছে।
মৃতের নাম: বার্নেট, জন আরভিন। মৃত্যুর কারণ: হৃদরোগে আক্রান্ত।
তারিখ: ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯।
– তাহলে ও খুবই চতুর কোনো ছদ্মবেশধারী। – চিঠিটা গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লেখা।
– কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলেছে? – না, কিছুই না।
বারনেটের কাছে যথেষ্ট সময় ছিল বাইরে থাকা কাউকে নিয়ে এই পরিকল্পনা করার।
– কবরে শুয়ে থেকেও প্রতিশোধ? বেশ অভিনব তো। – ও ঠিকই বলেছিল, ও আমাকে ছাড়বে না।
আমি এজেন্ট পারডুর সঙ্গে একটু আগে কথা বলছিলাম।
সে কি তোমাকে ভিডিও টেপটা দেখিয়েছে?
– তুমি ঠিক কাজটাই করেছিলে, মোল্ডার। – সত্যিই?
স্টিভ ওয়ালেনবার্গের স্ত্রী আর দুই সন্তান ছিল।
তাঁদের এক ছেলে এখন ফুটবল দলে সেরা খেলোয়াড়।
আমি যদি দু’সেকেন্ড আগে গুলি করতাম তাহলে ওয়ালেনবার্গ আজ তার ছেলের খেলা দেখতে যেতে পারত।
তার বদলে, এখন একটা মৃত লোক গহনার দোকান লুট করে আমাকে হাইকু পাঠাচ্ছে।
চলো যাই!
চলো, চলো, সোজা ওদিকে!
খুব ভালো!
সাবাশ, অ্যালেক।
দুই! এক! হাট!
আমি তোকে দেখে নেব, কুত্তার বাচ্চা!
আমি অনেক ভেবেছি, মোল্ডার! মনে হচ্ছে কেউ ইচ্ছা করে তোমার মাথা গুলিয়ে দিচ্ছে।
– বার্নেট বলেছিল সে আমাকে দেখে নেবে। তুমি সেখানে ছিলে। – সে কী বলেছিল তাতে আমার কিছু যায় আসে না। সে মৃত।
– বোধহয় না। – ধুর, কী বলছ!
এমন অনেক লোক আছে যারা জানে বার্নেট হুমকিটা দিয়েছিল।
এটা বার্নেট, রেজি!
– তুমি এটা বলছ কীভাবে? – জানি না। শুধু অনুভব করছি।
এখানে তারছিড়া মোল্ডারকে নিয়ে এত গসিপে আমি কখনো পাত্তা দিইনি।
ভাবতাম ওসব শুধু তোমার প্যারানয়িড আচরণ নিয়ে গুজব।
আর এখন?
মনে আছে, যেদিন তুমি কোয়ান্টিকো থেকে ভিজে ভিজে আমার অফিসে ঢুকলে?
তোমাকে দেখে রাগ উঠেছিল, কিন্তু তারপর বুঝলাম তোমার মস্তিষ্ক কত দ্রুত কাজ করে।
তুমি সবসময় তিন ধাপ এগিয়ে ছিলে। ভয়ংকর বুদ্ধিমান। সবাই সেটা বলত।
– আমি এই গল্প শুনেছি। – ভালো, হয়তো তোমার আবার শোনা উচিত!
তুমি ব্যুরোতে অনেক লোককে হতাশ করেছো। তোমাকে নিয়ে তাঁদের অনেক আশা ছিল।
অনেকেই বলছে তাড়ছিড়া মাল্ডার এখন একটা লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একটা দায়।
কী? তুমি কি বলছো ব্যুরোর কেউ এর পেছনে আছে?
হতেও পারে, নাও হতে পারে। তবে সবসময় নিজের দিকটা সামলে রাখাই ভালো।
দুঃখিত।
এটা একটু আগে ফ্যাক্স করা হয়েছে।
এটা জন বার্নেটের শেষ উইল এবং ওসিয়তের একটা কপি।
কোন জীবিত আত্মীয় নেই।
তার সামান্য যা ছিল তা অন্য এক বন্দী, জো ক্র্যান্ডালকে দিয়ে গেছে...
...এবং তার দেহ দাহ করার নির্দেশ দিয়েছে।
তার মৃত্যুর ছয় মাস পর তার উইল কার্যকর করা হয়...
এবং এতে বলা হয়েছে যে তার ছাই ডেলাওয়্যার নদীর তীরে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে...
...কারাগারের ব্যবহৃত শ্মশানের এক কর্মচারীর মাধ্যমে।
কেউ তোমার মাথা খারাপ করার চেষ্টা করছে।
শুধু আমাকে একটা নোট দেওয়ার জন্য একটা সেলসগার্লকে খুন?
এটা একটু বেশি বাড়াবাড়ি, তাই না?
এখন তার বয়স বেশি। তার ওজনও হয়তো বেড়েছে।
- কতটা বয়স্ক? - পাঁচ বছর।
সে যেকোনো ধরনের ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে।
আমাদের সেই দিনের ঘটনা বলুন।
আপনার কি মনে হয়, এজেন্ট মোল্ডার, জন বার্নেট তার অপরাধ থেকে বিকৃত আনন্দ পেত?
সে কি আপনাকে উপহাস করার জন্য নোট পাঠাতো?
হ্যাঁ, আমার মনে হয়েছে সে যেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছিল আমাদের ধরতে।
সে তার শিকারদের খুন করত যেন এটা কোনো খেলার অংশ।
দয়া করে আদালতকে বলবেন, এজেন্ট মোল্ডার...
...আপনি কীভাবে জন বার্নেটকে ধরেছিলেন।
বিমানবন্দরে আমাদের একটা কাস্টমস গুদামে নজরদারি ছিল।
আমরা জানতাম বার্নেটের হয়ে আর্মার্ড কার পরিবহনে কেউ কাজ করত...
...তাদের বড় নগদ চালানের ব্যাপারে টিপ দিচ্ছিল।
কিন্তু আমরা কখনোই ভাবিনি গাড়িটা পৌঁছানোর সময় সে ভেতরে থাকবে।
এভাবেই বার্নেট গাড়ির ড্রাইভারকে জিম্মি করতে সক্ষম হয়েছিল।
অর্থাৎ, জন বার্নেট তার নিজের সহযোগীকে জিম্মি হিসেবে ব্যবহার করেছিল?
জি, ম্যাডাম।
তারপর কী ঘটেছিল?
আমরা বার্নেটকে ঘিরে ফেললাম এবং তাকে তার জিম্মি ও অস্ত্র সমর্পণ করতে বললাম।
আপনি তখন কোথায় ছিলেন, এজেন্ট মোল্ডার?
আমি বার্নেটের ঠিক পেছনে ছিলাম।
সাসপেক্টকে স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছিলেন?
জি, ম্যাডাম।
তবু আপনি গুলি করেননি। কেন?
না। এফবিআই এর নিয়ম অনুযায়ী...
...জিম্মির জীবন অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিপন্ন করা যাবে না।
আমার মনে হয়েছিল পালানোর কোনো উপায় না থাকায়...
...বার্নেট আত্মসমর্পণ করবে।
কিন্তু তারপর কী হলো?
অভিযুক্ত, জন বার্নেট...
তার জিম্মিকে একেবারে কাছ থেকে গুলি করলো...
...তারপর স্টিভ ওয়ালেনবার্গের দিকে বন্দুক তাক করল।
তার মুখে গুলি করল।
ধন্যবাদ, এজেন্ট মোল্ডার।
এই মুহূর্তে আর কোনো প্রশ্ন নেই।
সে শুধু বিদ্বেষের বশে তাকে গুলি করে মেরেছিল।
মহামান্য, আমরা আপত্তি জানাচ্ছি!
এই মানুষটার একটা স্ত্রী ছিল, ছোট ছোট দুটো সন্তান ছিল...
আর তুমি তাকে গুলি করেছ বিনা দ্বিধায়, বিনা বিবেকবোধে...
...আর বিনা মানবিকতায়!
এই কারণেই তোর একটা পশুর মতো মৃত্যু হওয়া উচিৎ, শুয়োরের বাচ্চা!
যদি আপনি না থামেন, আপনাকে আদালত অবমাননার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হবে। শৃঙ্খলা রক্ষা করুন!
যদি শৃঙ্খলা বজায় না থাকে, তবে আমি আদালত কক্ষ খালি করতে বাধ্য হবো!
মহামান্য, এটা আসামীর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক।
- আমি অনুরোধ করছি এটি রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হোক। - ঠিক আছে, নথিভুক্ত হলো।
জুরি সদস্যরা সাক্ষীর শেষ বক্তব্যটি উপেক্ষা করবেন।
আমি... তোকে... ধরবো।
- প্রতিটি ধরনের ভ্যারিয়েশনের প্রিন্টআউট লাগবে। - ঠিক আছে।
আমি এইমাত্র কারাগার থেকে ফোন পেয়েছি।
- ওরা কী বলল? - না, আমি আসলে একটা সন্দেহে ফোন করেছিলাম।
বার্নেট হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। অন্তত তার ডেথ সার্টিফিকেটে তাই লেখা আছে।
আমি তাদেরকে তার সমস্ত মেডিকেল রেকর্ড ফ্যাক্স করতে বলেছি।
বার্নেট তার ডান হাতের সংক্রমণের জন্য কারাগারের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছিল।
সেখানে হৃদরোগ সংক্রান্ত কোনো লক্ষণ বা ডায়াগনোসিসের উল্লেখ নেই।
No comments yet. Be the first to leave one.