200 dòng đầu tiên.
বলা নেই কওয়া নেই গায়েব হয়ে গেলে! তোমার এপয়েন্টমেন্ট ছিল।
পাহাড় ডাকছিল যে!
স্যাডি, যা ঘটে গেছে তাতে দুঃখ পাওয়াটাই স্বাভাবিক।
তোমাদের পেশায় যে কারোরই যখন তখন মৃত্যু হতে পারে।
কিন্তু, ওর তো এভাবে মরার কথা ছিল না!
ওকে সেভাবে চিনতামও না, কিন্তু...
সে বলতে গেলে আমার মতোই ছিল!
একই বয়স, একই চাকরি!
এমনকি ওর বাড়িটাও আমার বাড়িটার মতো দেখতে ছিল!
দেখতে সুন্দর, তবে শূন্যতায় ভরা।
বলার মতো কিছু ছিল না একগাদা ফুলের টব বাদে যা আবার আমার নেই!
মেয়েটা একাকীই মারা গেল!
স্যাডি, অতীত নিয়ে হায়-হুতাশ করো না। জীবনে বড় কোনো বদলও আনবে না।
ওহ আচ্ছা, এইমাত্র পরিচয় হওয়া গাইডটাকে তাহলে বিয়ে করতে মানা করছ?
আগে নাহয় ঘরে কিছু ফুলভর্তি টব রাখো।
ক্ষুধা লাগলে হয়তো ফুল চাবাবো তখন।
খালি বাসায় ফ্রিজও খালি থাকে।
আমি কিছু সদাইপাতি কেনার জন্য থামব।
- কাল কথা হবে। - ঠিক আছে।
কীটনাশকের ব্যবহার হয়নি, তাই পুষ্টির খনি পাবেন। স্বাদেও বলা যায় অতুলনীয়!
খুচরা দিতে হবে!
দুঃখিত।
এই নিন আপনার খুচরো। দিনটা ভালো কাটুক আপনাদের!
তোর কিন্তু এই ট্র্যাকারগুলোর শেয়ার কেনা উচিৎ!
ট্র্যাকার ছাড়া তো একদিনও চলতে পারিস না!
তুই যে চুল ছাড়া থাকছিস, কীভাবে থাকছিস?
এটা নিয়ে কোনো তর্কে যাব না!
হেই, কোল, ঠিক আছো তুমি?
হ্যাঁ, শুনলাম তোর গফ তোর সাথে ব্রেকআপ করেছে! বীভৎস লাগছে, তাই না?
- এডনা! - বোর লাগলে তখন গসিপ করি!
- এটা জেনে রাখো, সিদ্ধান্তটা পারস্পারিক সম্মতিতে নেয়া। - বেশ!
ব্রেকআপ হলে সবাই এরকম কিছুই বলে।
কথা সত্য।
তোমার উচিৎ নিজের চাহিদা একটু সীমিত রাখা, কী বলো?
মেয়েরা আসলেই এসব পছন্দ করে না।
আমার তেমন চাহিদা নেই।
আমরা পরস্পরের জীবন থেকে সরে গেছি।
এবং, এই বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না।
একটু নেশাটেশা করবে নাকি?
ট্রাকে কিন্তু বার্গার আছে।
লাগবে না, ধন্যবাদ।
আচ্ছা, আমার স্টলটা দেখো। একটু বার্গার খেয়ে নেশা করে আসি।
তৃপ্তি করে খেয়ো।
- এদিকে আয়! - শুধু এটা নেব!
- শুধু এটা! - আমিও শুধু এটা নেব!
স্যামন মাছ নিন! একদম ফ্রেশ মাছ!
আপনাকে কোনভাবে সাহায্য করতে পারি?
জ্বি, পারেন! থ্যাংক ইউ, আমাকে এটা প্যাক করে দিন।
বেগোনিয়া, পছন্দের প্রশংসা করতে হয়!
- এটা আসলেই অতোটা প্রশংসার যোগ্য? - অবশ্যই!
দেখতে বেশ সুন্দর।
সেটাই।
আপনার পোষা প্রাণীদের এর আশেপাশে ভিড়তে দেবেন না! এগুলো কিছুটা বিষাক্ত!
দেখতে সুন্দর আবার বিষাক্তও!
আমার রুমমেটদের ইংগিত করে কিছু বললেন নাকি?
জানা ছিল না আমার সাবেক প্রেমিকারা আপনার রুমমেট!
কেমন পরিমাণ পানি দেওয়া লাগবে?
একদিন পরপর দিলেই চলবে! বেগোনিয়ার পানির সাথে সাথে অল্পস্বল্প ভালোবাসাও লাগবে!
আমি...আমি আসলে হাজার'টা কাজে ব্যস্ত থাকি।
তাই?
বুঝতে পেরেছি। কম যত্ন নেওয়া লাগবে।
একটা স্ন্যাক প্ল্যান্ট নিয়ে যান?
প্রতি দু'সপ্তাহ পরপর পানি দিলেই চলবে।
মাঝেমাঝে আমি এক কিংবা দুই মাসের জন্য বাসা থেকে গায়েব হয়ে যাই।
চমৎকার!
সরি, বাসাতেই যদি না থাকেন তাহলে এসব নিয়ে কী করবেন?
একেবারেই যে বাসায় থাকি না তাতো না! আমার শুধু...
একটু কম যত্ন নেওয়া লাগবে এরকম কিছু দিন না খুঁজে?
বাহ! সেক্ষেত্রে প্লাস্টিকের ফুল নিয়ে যান?
এভাবে কষ্ট দিলেন আমাকে!
একটা উদ্ভিদ মেরে ফেলার চেয়ে কষ্টকর তো নয়।
কিছু প্লাস্টিক ফুল দেখলে তো আসল নকল বোঝাই যায় না!
এক বিন্দু অবহেলাও ওদের প্রাণ কেড়ে নিতে পারবে না।
অবহেলা?
অত কথার দরকার নেই। আমাকে এটা প্যাক করে দিন।
- দিচ্ছি। - থ্যাংক ইউ।
দুঃখিত, এই ফুল আপনার কাছে বেচতে পারব না!
এভাবে জেনেবুঝে এতো সুন্দর উদ্ভিদের জীবন নষ্ট করতে পারব না।
উদ্ভিদের জীবন নষ্ট মানে? নিজেকে গাছের ত্রানকর্তা ভাবছেন নাকি?
আমি এমন কারো কাছে গাছের মালিকানা দিতে চাই না...
যার একটা জীবিত প্রজাতির যত্ন নিতেও...
- আলসেমি লাগে। - আলসেমি?
আপনার সকল কাস্টোমারের সাথে কি এভাবেই কথা বলেন?
যদি এভাবেই কথা বলেন তাহলে ভেবে আশ্চর্য হচ্ছি যে আপনার ধান্দা কীভাবে টিকে আছে?
তাতে কিছু আসে যায় না কারণ স্টলটা আসলে আমার না।
আমি এমন ভুল করতে চাই না যেখানে...
দোকান আপনার না, কিন্তু ফুল বেচতে আপত্তি করছেন?
- ঠিক ধরেছেন। - হেই, কোল!
- এতো হট্টগোল কিসের? - হাই?
- এগুলোর মালিক আপনি? - জ্বি।
শুনে খুশি হলাম, কারণ এই কৃষক ভাঁড় একটা ফুলও বেচবে না আমার কাছে!
- কৃষক ভাঁড়! অতীব হাস্যকর! - এটার দাম ১০ ডলার, সোনা!
এডনা...
আচ্ছা, আপনার কিছু নেওয়াই লাগবে? এই ক্যাকটাসটা নিয়ে যান।
এর শুধু খুব সামান্য ভালোবাসা দরকার।
তাতেই এর এক জীবন কেটে যাবে।
আপনার উচিৎ এই আহাম্মককে বরখাস্ত করা।
দিনটা তোমার ভালো কাটুক।
তোমার আত্মা শান্তিতে থাকুক, ছোট্ট খোকা!
- বিশ্বাস হয় তোমার? - না।
আমি তো ভেবেছিলাম তোমরা দু'জন নাম্বার শেয়ার করবে!
- কী? - হ্যাঁ!
ভেবেছিলাম, এই ঝগড়াঝাঁটি আসলে সামান্য খুনসুটি মাত্র!
- দাঁড়াও, আমরা খুনসুটি করছিলাম? - তোমার কী হয়েছে আসলে?
মাথাটাথা ঠিক আছে? এরকম সুযোগ কেউ হাতছাড়া করে?
এডনা, একটু আমার স্টলটা দেখো।
হেই, হেই, হেই, স...
- সরি, সরি, সরি! - শিট!
হাই, হ্যাঁ...আবারও বিরক্ত করতে চলে এলাম।
সরি, যা হলো...
এখানে কি গাছটাকে উদ্ধার করতে এসেছেন?
আরে ধুর, ওসব কিছু না!
আমি তো শুধু...
আমি ভাবছিলাম, আপনাকে নিয়ে...
কোথাও বেড়িয়ে আসি।
- আপনি সিরিয়াস? - হ্যাঁ!
মানে...
জানি যে একটু আগে আমাদের মধ্যে...
- ৩য় বিশ্বযুদ্ধ হচ্ছিল! - ম্মম-হুম্মম!
তারপর ভাবলাম, যুদ্ধ না করে সাদা পতাকা দেখিয়ে...
সম্প্রীতির বীজ বপন করা যায় কিনা!
তাই?
জ্বি।
ভুল করে ফেলেছি, তাই না?
আহ, বেশ দুঃখজনক যদিও...
- সরি, একটু বেশি দুঃসাহসিকতা দেখিয়ে ফেললাম! - হুম।
আমি একটু কফি গিলতে চাই!
কফি খাবেন? মানে, এখনই?
হ্যাঁ, এখনই।
গাড়িতে ঢুকুন।
হ্যাঁ...চুলোয় যাক।
- আমার নাম কোল। - সিট বেল্ট পরুন।
আমি শক্ত হয়ে বসে থাকব!
ঠিক আছে।
আমার বিল ভালো লাগে, অ্যামস্টারডেমের স্মৃতি মনে পড়ে যায়।
তো, শিল্পের আজ্ঞাবহ তুমি বেশ ঘোরাঘুরি করো?
হ্যাঁ, দুনিয়াজুড়ে ছুটোছুটির ওপর থাকি।
ঘোরাঘুরি আমার নেশা।
বিনা নোটিশে যখন তখন প্লেনে চড়ে বসি।
তারপর, জানোই তো, নতুন নতুন জায়গায় বিচরণ করি।
ওয়াও!
হায় খোদা! নিজেকে আবার এমন দেশপ্রেমিক বলে বসো না...
যে নিজের দেশের বাইরে পা রাখতে ভয় পায়!
আচ্ছা, প্রথমেই আমাকে দেশপ্রেমিক সম্ভাষণে ভূষিত করার জন্য ধন্যবাদ।
আমি কিন্তু ট্রাভেল করি! প্রচুর ট্রাভেল করি!
- সত্যি? - হ্যাঁ!
হ্যাঁ, তুমি ঘুরতে বেরিয়ে যা যা করো...
তার সাথে আমার ঘোরাঘুরির পার্থক্য আছে।
সহমত প্রকাশ করলাম।
লিংকন রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন এবং কাছাকাছি বাড়িটার সামনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
তোমাকে তো লিংকনের বেশ সমঝধার ভক্ত মনে হচ্ছে!
আসলে, ইতিহাস নিয়ে সামান্য আগ্রহ আছে।
পড়াশোনা কৃষি নিয়ে করলেও ইতিহাসের প্রতি আগ্রহটা ছিল বেশি।
- ওটাই আমার আসল ভালোবাসা। - হুহ।
জানো, আমি কিন্তু একটা বইও লিখছি!
- তাই নাকি? - হ্যাঁ!
ইতিহাস নিয়ে নাকি কৃষিকাজ নিয়ে?
না, আসলে এটা বিভিন্ন সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন...
এবং, তাতে কৃষির ভূমিকা...
হ্যাঁ, কৃষি নিয়ে লিখছি।
কতোটুকু আগালো?
এখন লেখালেখি আপাতত থেমে আছে।
বাবার বছরখানেক আগে হার্ট অ্যাটাক হয়, তাকে সাহায্য করতে আমি ছুটে আসি।
লেখালেখির জন্য আলাদা করে তাই সময় বের করতে পারছি না।
শুনে বেশ খারাপ লাগল!
আরে, ব্যাপার না! শেষ তো করবোই!
তুমি "দ্য এক্সরসিস্ট" মুভিটা দেখোনি? এটা তো ক্লাসিক একটা সিনেমা!
এটা এ যাবতকালের সবচেয়ে ভয়ের সিনেমা এবং সেটার শুটিঙও হয়েছে এখানে!
জানি না। কখনো আসলে মুভি দেখে ওরকম ভয় লাগেনি।
হ্যাঁ, কারণ এক্সরসিস্ট মুভিটাই তুমি দেখোনি।
না, কারণ তুমি ভয় না পাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছ।
ওকে। ছোট্ট একটা বাজি ধরি। সিড়ি বেঁয়ে এক ছুটে উপরে উঠা!
তোমাকে হারাতে পারলে বলতে হবে তুমি কিসে ভয় পাও।
- বাজি ধরতে ভালোই লাগে আমার। - ঠিক আছে, তোমার আত্মবিশ্বাস খাসা লেগেছে।
একটু দাঁড়াও!
ধুর! এগুলো আমার ব্যাগে রাখো।
তুমি আমার জিনিসগুলো বহন করবে?
এরকম দরদ আগে কেউ দেখায়নি?
এরকম দরদমাখা ভালোবাসাই তো সবসময় খুঁজছি!
ভাইরে ভাই!
- রেডি? - রেডি।
চলো!
দাঁড়াও, আন্দাজ করি! তুমি জিমে বেশ সময় দাও!
তুমি ঠিক আছো?
আছি।
ওহ মাই গড! মোনেটের পেইন্টিং যা ভালো লাগে আমার!
তুমি ভয় না পাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছ?
যখন আমার বয়স ছয়...
মা আর আমি দেশ ছাড়ি...
একটা ভেলায় চড়ে।
হায় ঈশ্বর! নিশ্চয়ই সে স্মৃতিটা...
তোমার ভাবনার চেয়েও বীভৎস ছিল।
রোদের তাপ, সমুদ্রের ঢেউ, হাঙরের উৎপাত, মানুষের চিল-চিৎকার, কান্নাকাটি!
সবার মতো ভয়ে আমিও আধমরা ছিলাম!
অন্যরা ফিরে যেতে চাইলেও আমার মা মানসিক শক্তিতে বলীয়ান ছিল।
মা সবাইকে পাঁচ দিন ধরে ছুটে চলার তাড়না যুগিয়েছে...
পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত।
পৌঁছানোর পর সৈকতে দাঁড়িয়ে মায়ের প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতার চাউনিটা আমি ভুলতে পারি না!
আমি সবসময় উনার মতো হতে চেয়েছি!
শক্তিশালী এবং সাহসী!
No comments yet. Be the first to leave one.