200 บรรทัดแรก
=== সাবটাইটেল অনুবাদক === মোঃ কামরুল হাসান শিমুল
=== সাবটাইটেল অনুবাদক === মোঃ কামরুল হাসান শিমুল
=== সাবটাইটেল অনুবাদক === মোঃ কামরুল হাসান শিমুল
=== সাবটাইটেল অনুবাদক === মোঃ কামরুল হাসান শিমুল
=== সাবটাইটেল অনুবাদক === মোঃ কামরুল হাসান শিমুল
ইকিরু
=== প্রযোজনা === সোজিরো মোতোগি
=== চিত্রনাট্য === আকিরা কুরোসাওয়া, শিনোবু হাশিমোতো, হিদিও অগুনি
=== চিত্রগ্রহণ === আসাকাজু নাকাই
=== সঙ্গীত === ফুমিও হায়াসাকা
=== অভিনয় ===
তাকাশি শিমুরা
=== পরিচালনা === আকিরা কুরোসাওয়া
পাকস্থলীটি আমাদের গল্পের নায়কের।
এই মুহূর্তে আমাদের নায়ক জানে না তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত......
আমার ছেলের ত্বক সংবেদনশীল...
ওই পানিতে বাচ্চাদের ভয়াবহ ফুসকুড়ি উঠেছে।
আর মশার বংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
কিছুই করতে পারবেন না? নর্দমাটি ভরাট করলে বাচ্চারা খেলাধুলা করতে পারবে।
একটু দাঁড়ান।
স্যার, উনারা একটি নর্দমা নিয়ে অভিযোগ করতে এসেছেন।
- প্রকৌশল বিভাগে যান। - হ্যাঁ।
এই হচ্ছে আমাদের গল্পের নায়ক।
উনার সাথে দেখা করাটা বিরক্তিকর।
কেনোনা...
জীবন-যাপনের চেয়ে সময় অতিবাহিত করতেই বেশি ভালোবাসেন।
সত্যি বলতে কী, উনি জীবিত থেকেও মৃত।
ওদাগিরি...
সাহস কতো, কাজের সময় আপনি হাসাহাসি করছেন?
কৌতুকটি খুব মজার ছিলো।
মজা? কী মজা?
“মিথ্যুকের ক্লাব” কৌতুকটি পড়ে দেখুন।
পড়ে শোনাও।
“শুনেছি, নগর-মিলনায়তনে তুমি ছুটি নাওনি...
... তারমানে কি তাঁরা তোমাকে ছাড়া চলতে পারে না?”
“না, তাঁরা বুঝতে পারলো যে আমাকে তাঁদের দরকারই নেই!”
নাহ, এভাবে কাজ হবে না।
মৃতদেহ হয়ে তবেই বের হবে।
অবশ্য তিনি ২০ বছর আগে থেকেই মুমূর্ষু হয়ে আছেন।
তার আগে তাঁকে একটু হলেও জীবিত মনে হতো।
তখন একটু হলেও কাজের চেষ্টা করতেন।
কিন্তু এখনো তাঁর মান্দাতা আমলের প্রিয় একটি চিহ্ন রয়ে গেছে।
এখনো আবদ্ধ আছেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়...
... আর অর্থহীন কাজ-কর্মে।
ব্যস্ততা... সবসময়ই ব্যস্ততা।
আদতে তিনি কোনো কাজই করেন না।
নিজের পদ বাঁচানো ছাড়া।
তেমন কিছু না করেই কোনোমতে নিজের পদ টিকিয়ে রেখেছেন।
এটাই কি জীবন?
জীবন কি এমন হতে পারে?
এইযে তিনি এতো ঔষধ সেবন করছেন...
... পাকস্থলী তো আরও খারাপ হচ্ছে...
... এবং আরও সময় নষ্ট করছেন।
পার্ক তৈরির যে প্রস্তাব দিলেন...
... সেটা পার্ক বিভাগের কাজ।
যেহেতু স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপার জড়িত...
... আপনাদেরকে স্বাস্থ্য বিভাগে যেতে হবে।
স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিভাগে গিয়ে দেখুন।
পরিবেশ বিভাগে খোঁজ নিয়ে দেখুন।
সংরক্ষণ বিভাগে যান।
সংক্রামক রোগ...
অনেক বেশি মশা?
কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ বিভাগে যান।
যেহেতু পরিবেশ নোংরা হচ্ছে...
এটি নগর-মিলনায়তনের নর্দমা বিভাগের কাজ।
মুলত, সেখানে নর্দমার পাশে সড়ক আছে।
তারমানে সড়ক বিভাগের কাজ।
এটিকে আমরা নগর পরিকল্পনা হিসেবে রেখেছি।
স্থানীয় কতৃপক্ষের কাছে যান।
অগ্নি-নির্বাপক বিভাগ জায়গাটি মলকুণ্ড হিসেবে রাখতে চায়।
ওই এলাকায় পানির খুব অভাব।
ফাজলামি নাকি? আমাদের পানি সরবরাহ প্রয়োজন।
মশার বংশবৃদ্ধি বা ফুসকুড়ি হলে আমাদের কিছু করার নেই।
তাছাড়া, বাড়ি-ঘরের আবর্জনা যাবে কোনদিক দিয়ে?
তাই, শীঘ্রই একটি ছোটো নালা করবো সেখানে।
শিক্ষা বিভাগে যান। নিশ্চয়ই সেখানে শিশু কল্যাণ পরিষদ আছে।
সমস্যাটি কেবল শিশুদেরই ক্ষতি করছে না।
আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকলেরই ক্ষতি করছে।
তাছাড়া, জন প্রতিনিধিদেরও গাফিলতি আছে প্রচুর।
আপনাদেরকে সহকারি নগরপালের কাছে যেতে হবে।
আমার পরিচয় দিলে নিশ্চয়ই তিনি দেখা দেবেন।
আপনারা বসুন।
কষ্ট করে আসার জন্য ধন্যবাদ।
আপনাদের কর্মোদ্যোগ দেখে সত্যিই অভিভূত।
আপনাদের মতো মানুষ...
... সরাসরি অভিযোগ নিয়ে এসেছেন।
কাজটি আমাদের জনসংযোগ বিভাগের কাজ।
আপনাদের অভিযোগ জানাতে কার্পণ্য করবেন না।
শোনো, উনাদেরকে জনসংযোগ বিভাগে পাঠিয়ে দাও।
আপনাদেরকে প্রকৌশলী বিভাগে যেতে হবে। ৮ নং টেবিলে যান।
কী পেয়েছেন? রং-তামাশা করতে বসেছেন?
পোস্টার ঝুলিয়ে রেখেছেন কেনো? ফাজলামি করার জন্য?
কোনো কাম-কাজ নাই?
বসে বসে ডিম পাড়েন নাকি?
প্রকৌশলী, নর্দমা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা বিভাগ বুঝি না।
আজকের মধ্যেই ওই নর্দমা পরিষ্কার চাই।
আপনাদের আর বিরক্ত করবো না।
নির্বাচনের সময় হুজুর হুজুর, নির্বাচন শেষে মুগুর মুগুর।
চলো যাই।
এই যে, শুনুন...
দুর্ভাগ্যবশত, বিভাগীয় প্রধান আজ ছুটি নিয়েছেন।
আপনারা যদি লিখিত অভিযোগ দিতেন তাহলে ভালো হতো।
ব্যাপার কী?
বিভাগীয় প্রধান তো কখনোই ছুটি নেননি।
হ্যাঁ, দীর্ঘ চাকরি জীবনে কখনোই ছুটি নিতে দেখিনি।
উনার সময়ানুবর্তীতা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
সামান্য কোনো সমসায় তো উনার ছুটি নেয়ার কথা নয়।
উনার স্বাক্ষর ছাড়া তো একটি ফাইলও অনুমোদন পায় না।
হ্যাঁ, তা ঠিক।
ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে...
আর এক মাস পরেই...
৩০ বছরের চাকরি জীবন শেষ করতে যাচ্ছেন একটি দিনও কামাই ছাড়া।
কিছু মানুষ তাঁর চলে যাওয়াতেই খুশি।
উনার সহকারিই এখন দায়িত্ব নিতে মুখিয়ে আছেন।
উনি কীসের ঔষধ সেবন করেন?
পাকস্থলীর ঔষধ। সবসময় নুডলস স্যুপ গবগব করে খান।
মনে হয় নুডলস ছাড়া কোনো খাবারই নেই।
তাও সিদ্ধ করা নুডলস। এই চাকরি জীবনে অন্য কিছু খেতে দেখিনি।
উনি মারা গেলে, উনার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন?
তাড়াহুড়ো কীসের? আপনার পালা আসতে অনেক বাকি।
- হিরাওকা সান... - আছি।
পেটে সমস্যা?
আমারও পাকস্থলীতে সমস্যা। দুরারোগ্য ব্যাধি।
ইদানিং পেটে ব্যাথা না হলে মনেই হয় না যে বেঁচে আছি।
- জনাব সুজুকি... - আসছি।
যে লোকটি গেলো...
ডাক্তার বলেছে তাঁর পেটে ক্ষত হয়েছে।
কিন্তু আমি জানি, তাঁর পাকস্থলীতে ক্যান্সার হয়েছে।
এক কথায় বলতে গেলে...
... পাকস্থলীতে ক্যান্সার হলো মরণ ব্যাধি।
ডাক্তার বলেছে হালকা ক্ষত হয়েছে...
... অস্ত্রোপচারের দরকার নেই।
সহজে হজম হয় এমন যেকোনো কিছু খেতে পারবেন।
যদি এমন বলে থাকে, বড়জোর বছরখানেক বাঁচবেন।
যদি মারাত্মক লক্ষণ দেখা দেয়, এক বছরও টিকবেন না।
প্রথমত, ব্যাথা যদি দীর্ঘকাল ধরে হয়।
দ্বিতীয়ত, যদি ঢেঁকুর খুব ঘন ঘন হয়।
গলা সবসময় শুষ্ক লাগবে।
চা-পানি খেতে পারবেন না।
ঘন ঘন ডায়রিয়া হবে।
যদি ডায়রিয়া না হয়, তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য হবে।
নাড়িভুঁড়ি কালো হয়ে যাবে।
তাছাড়া...
মাছ-মাংস ছুঁতেও পারবেন না।
যা খাবেন, আধা-ঘণ্টার মধ্যেই বমি হয়ে যাবে।
এমনটি আগের সপ্তাহের খাবারও...
... বমির সাথে বেরিয়ে আসবে।
বুঝতে হবে সময় শেষ, হয়তো বড়জোর আর তিন মাস।
জনাব ওয়াতানাবে, জনাব ওয়াতানাবে...
জনাব ওয়াতানাবে...
আসছি।
বসুন।
অন্ত্রে সামান্য ক্ষত ধরা পড়েছে।
ডাঃ সাহেব...
সত্যি কথা বলুন...
... সত্যি বলুন।
পাকস্থলীর ক্যান্সার হয়েছে।
বললাম তো, সামান্য ক্ষত।
অস্ত্রোপচার করলে? পারবেন না?
না, অস্ত্রোপচারের দরকার নেই। এমনিতেই সেরে যাবে।
আর খাওয়া-দাওয়া?
সাধারণত যে খাবারগুলো খান, সহজে হজম হয়, এমন খাবার।
যা ইচ্ছা খেতে পারেন।
লোকটি বছর খানেক বাঁচবে?
না, বড়জোর ছয় মাস।
- ছয় মাস? - হ্যাঁ।
তুমিও যদি জেনে যাও, আর মাত্র ছয় মাস বাঁচবে, কী করবে তখন?
আইহারা, তুমি কী করবে?
ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ঘুমাবো।
বিদ্যুৎ চলে গেছে?
রাস্তা আর আশেপাশের বাতি তো জ্বলছে।
আব্বু কী এখনো বাহিরে।
চাবি কোথায়?
হাতব্যাগে আছে।
কাজের বুয়া কি দরজা আটকাতে ভুলে গেছে?
ছুটা বুয়ারা এমনই হয়।
মাসিক ভিত্তিতে রাখলে যদি জিনিসপত্র নিয়ে পালায়।
আব্বুর মতো ছোটোখাটো আমলারা তো এমনই।
কী ঠাণ্ডা!
বাহিরের মতোই ঠাণ্ডা।
জাপানি বাড়িগুলো ভালো লাগে না।
বাহিরে যেতে-আসতে সমস্যা হয়। আধুনিক একটি বাড়ি দরকার।
- সোনা... - বলো।
৫,০০,০০ ইয়েন হলেই তো নিজেদের একটি বাড়ি হয়, তাই না?
বাবার অবসার ভাতা পেলেই তো হয় যায়।
ভাতা তো ৬ বা ৭ লাখের বেশি পাবে না।
মাসিক উত্তরবেতন পাবে ১২ কি ১৩ হাজার।
সঞ্চয়ে আছে ১,০০,০০ ইয়েন।
আব্বু কি রাজি হবেন?
রাজি না হলে বলবো আমরা চলে যাবো, তাহলেই রাজি হবেন।
তাছাড়া, টাকা-পয়সা তো আর কবরে নিয়ে যাবেন না।
কিছু হয়েছে, আব্বু?
কিছু না, কিছু হয়নি।
আজব!
ওগো, শোনো...
অস্বস্তি লাগছে।
কী?
সবকথা তিনি শুনে ফেলেছেন।
এসব ঠিক নয়।
No comments yet. Be the first to leave one.