200 บรรทัดแรก
এর হয়ে থাকে তাহলে সাবটাইটেলটি -10s সিন্ক্রোনাইজ করে নিবেন]
তোমার কাছে "ঘর" শব্দটার অর্থ কী ?
ঘর?
একটা নিরাপদ জায়গা।
এমন কোথাও...
যেখানে তুমি স্থায়ী ভাবে থাকতে পারো
অন্য কোথাও তোমাকে চলে যেতে হয় না।
একটু উপরে উঠো, একদম সামান্য।
আরেকটু নিচে। এই তো। একদম ঠিক।
আমাকে এটাও করতে হবে।
-তোমার চোখ বন্ধ করো... -হ্যাঁ।
আর লম্বা করে একটা শ্বাস নাও। একদম রিল্যাক্স থাকো।
তুমি এর আগে কখনো তোমার গল্প বলেছো?
আমার সাথে তাহলে শেয়ার করতে পারবে?
হ্যাঁ।
আমার মনে হয় যে...
তোমাকে এখনই বলতে হবে না। শুধু তোমার একদম প্রথম স্মৃতির কথা ভাবো।
তোমার মনে থাকা সবচেয়ে আগের ঘটনাটা কী?
আমার বয়স তখন তিন বা চার বছর।
এই! সাবধানে!
-তুমি কোথায়? - আমি আফগানিস্তানের কাবুলে।
তুমি নিজেকে কেমনভাবে বর্ণনা করবে?
আমার মনে হয় আমার সবসময় একটা ঝোঁক ছিল...
একটু আলাদা হওয়ার। চলো, এভাবেই বলা যাক।
আমার বোনের জামাকাপড় পরতে আমার ভয় লাগত না...
আমার ছোট বোনের রাতের পোশাক।
চাইতাম সবাই আমাকে দেখুক।
কাবুলের কোথায় তুমি?
যে বাড়িতে আমার জন্ম।
-তোমার বাবা-মা কোথায়? -আমার মা ভেতরে আছে।
আমি শুধু জানি সে আছে।
এই নাও, সোনা। এটা হলেই হবে।
রাতে, আমি তার কোলে মাথা রাখি, আর সে আমার চুলে হাত বুলিয়ে দেয়।
তার মতো কেউ পারে না।
যখন আমি আমার মায়ের দিকে তাকাই,
আমার ইচ্ছে করে দেখতে কেমন লাগতো তাকে যখন সে ছোট ছিল।
আমি তার কালো চুলের ছবি দেখেছি,
কিন্তু আমার শুধু তার ধূসর চুলই মনে আছে।
যাও, গিয়ে খেলা করো। এক ঘণ্টার মধ্যে ডিনার তৈরি হয়ে যাবে।
বাবা আমার হাত ধরে ছিল, আমরা একসাথে এয়ারস্ট্রিপে হেঁটেছিলাম।
আমাকে তুলে ককপিটে বসিয়েছিল।
ওটাতে কোনো স্টিয়ারিং হুইল ছিল না।
ওটা ছিল একটা জয়স্টিকের মতো, চারপাশে বোতাম।
আমার বোন আমাদের বাবার গল্প বলছে।
তারপর আমরা উড়ে গেলাম! সে বলেছিল:
"মনে রেখো, কোনো বোতামে যেন হাত না লাগে।"
"যদি ভুল বোতামে চাপ দাও, তাহলে ধুম করে ফেটে যাবে!"
তারপর আমরা উড়ে গেলাম, মেঘের মধ্যে...
আমরা পৃথিবীর শেষ পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছিলাম!
এটা অসাধারণ ছিল!
এর অনেক কিছুই সত্যি, কিন্তু সে অনেক বানিয়েও বলে।
আমার ভাই আর আমি তার কথা মুগ্ধ হয়ে শুনতাম।
বাবা বলেছিল যতক্ষণ সে আছে, আমার কিছুই হবে না।
আমার মনে আছে আমার হিংসা হচ্ছিল।
তোমার কেন হিংসা হচ্ছিল?
কারণ সে আমাদের এইসব জিনিসের কথা বলছে
যা আমার ভাই আর আমি কখনো অভিজ্ঞতা করিনি...
আমাদের বাবার সাথে একসাথে থাকা।
তোমার বাবা কোথায়?
-আমরা কি একটু বিরতি নিতে পারি? -হ্যাঁ, অবশ্যই।
কিছু কথা বলা কঠিন। এটা এখনও কষ্টের,
কিন্তু আমাকে এর সাথে মানিয়ে নিতে হবে।
এটা আমার অতীত, আমি এর থেকে পালাতে পারব না, আর আমি চাইও না।
হয়তো আমি ছয় মাস, এক বছরের মধ্যে প্রস্তুত হবো।
অবশ্যই। আমরা তোমার গতিতেই চলব।
আমি শুধু খুশি যে তুমি অবশেষে তোমার গল্প বলতে রাজি হয়েছো।
আমার মনে আছে হাই স্কুলে, আমার কোনো ধারণাই ছিল না।
তখন অনেক গল্প ঘুরে বেড়াত, যেমন:
"শুনেছো সে নাকি পুরো আফগানিস্তান হেঁটে এসেছে?"
-বাহ! -আমি বুঝতে পারছিলাম না কোনটা বিশ্বাস করব।
এরকম অনেক গল্প ছিল।
ওয়াও!
আমার মনে আছে প্রথমবার তোমাকে দেখার কথা।
তখন বেশি অভিবাসী ছিল না।
তুমি একটা কালো আর সাদা চেকের টি-শার্ট পরেছিলে।মনে আছে?
হ্যাঁ, আমার মনে আছে।
-আর বাফেলো শু। -ওটা আমিই ছিলাম।
-আমার মনে হয়েছিল, "ছেলেটা তো কুল।" - নির্ভীক।
তুমি সোজা তাকিয়ে ছিলে, যেন তুমি মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাইছিলে না।
আমার মনে হয় তুমি আমাকে খেয়ালই করোনি।
আমি অবাক হয়েছিলাম যখন আমরা একই স্টপে নেমেছিলাম।
-দেখো, মনে হচ্ছে এটা আমাদের জুনিয়র ইয়ারের? -হ্যাঁ, এটা জুনিয়র প্রম।
ওই ফেন্সি জুতো গুলো দেখো! সবকিছু একদম টিপ টপ ছিল।
এই যে এটা।
এখান থেকেই আমার গল্প শুরু।
ডেনমার্কে পৌঁছে আমি সব লিখে রেখেছিলাম।
তুমি কি এটা পড়ার চেষ্টা করবে?
কঠিন হবে। আমি এখন দারি পড়তে তেমন ভালো পারি না। [দারি হলো আফগানিস্তানের অন্যতম সরকারি ভাষা এবং এটি ফার্সি ভাষার একটি প্রকারভেদ। একে আফগান ফার্সিও বলা হয়]
আমি তো নিজের হাতের লেখাও পড়তে পারছি না।
মুজাহিদিনের পর...
আফগানিস্তানে মুজাহিদিন ক্ষমতা দখল করার পর...
তারা আমার বোনকে অপহরণ করেছিল আমার মা, বাবা আর ভাইকে মেরে ফেলেছিল
যদি আমি থেকে যেতাম, সম্ভবত তারা আমাকেও মেরে ফেলত।
ব্যাপারটা বেশ ভয়াবহ ছিল।
তুমি কি ক্যাস্পারকে এই গল্পগুলোর কিছু বলেছো?
ক্যাস্পার, আমি ভিডিও করা শুরু করছি।
দেখো তো নুন লাগবে কিনা।
তোমরা বিয়ে করছো কবে?
যখন আমরা থাকার মতো একটা জায়গা খুঁজে পাবো।
প্রথমত, আমি চাই তুমি বাড়ি ফিরে এসো।
দ্বিতীয়ত, আমি এমন একটা জায়গা চাই যেখানে আমরা একটা পার্টি করতে পারি।
যদি পার্টি করার মতো পরিস্থিতি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে অনেক সময় লাগবে।
হয়তো তুমি বাইরে থাকতেই আমি আমাদের জন্য একটা বাড়ি কিনে ফেলব।
তখন তোমাকে ওটা নিয়েই মানিয়ে নিতে হবে।
-কাল কখন যাচ্ছো? - আমাকে দশটায় এয়ারপোর্টে থাকতে হবে।
-এবার কতদিনের জন্য? -জুন মাস পর্যন্ত।
আমি কয়েক মাসের জন্য ফিরে আসব তারপর আবার চলে যাব।
-তুমি আবার যাচ্ছো? -আমার তো তাই মনে হচ্ছে।
ক্যাসপারের কোনো ধারণাই নেই।
- তুমি কোথায় যাচ্ছো? -আমেরিকায় ফিরে যাচ্ছি।
তুমি কি প্রিন্সটনের তোমার অধ্যাপকের কাছ থেকে কোনো ইমেল পেয়েছো?
না, একটা চিঠি। তিনি চান আমি একটা পোস্ট-ডক করি।
-তোমার গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার জন্য? _হ্যাঁ।
ক্যাসপার এ ব্যাপারে কী বলছে?
আমরা আসলে এ নিয়ে তেমন কথা বলিনি।
শেষবার যখন আমাদের কথা হয়েছিল, তখন আমরা তোমার বাবার কথা বলেছিলাম।
তুমি কি ওটা নিয়ে আরও কথা বলতে পারবে?
হ্যাঁ, শুধু খারাপ লাগছে।
যদি আমরা তোমার ছোটবেলার কাবুলে ফিরে যাই,
তাহলে তোমার বাবা কোথায়?
আমরা জানি না।
-তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। -কেন?
জাগ্রত হও, নিপীড়িত মানুষেরা!
জাগ্রত হও, অভাবী বন্দীরা!
কারণ আফগান সরকার তাকে কমিউনিস্ট শাসনের জন্য হুমকি মনে করত,
সত্তরের দশকের শেষের দিকে রাজতন্ত্র উৎখাতের পর...
১৯৭৯ সালে।
১৯৭৯ সালে।
তারা প্রায় ৩০০০ লোককে ধরেছিল, যার মধ্যে আমার বাবাও ছিল।
আমার মা আমাকে সেই দিনের কথা বলেছিল যেদিন তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেছিল যে বাবা এটা আশা করেছিলেন।
-আখতার নাওয়াবি? - হ্যাঁ?
আপনাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের কাছে নির্দেশ আছে।
এখানে অপেক্ষা করুন। আমি আমার কোটটা নিয়ে আসছি।
ঠিক আছে, তবে তাড়াতাড়ি করুন!
ওরা আমাকে নিতে এসেছে।
এটা রাখো..
যদি দরকার হয়।
আমি কারও জন্য কোনো হুমকি নই। আমি শীঘ্রই ফিরে আসব।
তারপর তাকে জেলে রাখা হয়েছিল।
আমার মা আমাকে বলেছিল পরিবারের লোকেরা তার সাথে মাঝে মধ্যে দেখা করতে পারবে।
কিন্তু তিন মাস পর, সে উধাও হয়ে গেল...
ঠিক এই ভাবে।
আমিন, শোনো। এটাকে উঁচুতে ধরো আর খেয়াল রেখো সুতো যেন টানটান থাকে।
আমি আমার ভাইয়ের সাথে অনেক সময় কাটাই।
ও একদম ছেলেমানুষ, হাতে ময়লা লেগেই থাকে। ও আমাদের ছাদে পায়রা পোষে।
জোরে ধরো! সাবধানে, আমিন! আমাকে দাও! আমাকে দাও!
দুঃখিত।
- আমার ৬৯টা কার্ড আছে। তোমার কয়টা আছে? - ৫২টা।
কেমন হয় যদি আমি তোমাকে বিবেক মুশরানের বদলে অনিল কাপুর দিই?
- না। -প্লিজ, সাবিয়া।
- আমি না বলেছি। আমার আগ্রহ নেই। -কিন্তু তোমার তো দুটো অনিল কাপুর আছে!
আমি তোমাকে বিবেক মুশরান আর মামিক সিং দেবো তার জন্য।
আমার ওদের দুজনের কাউকেই দরকার নেই, একটা বাড়তি অনিল থাকা সবসময়ই ভালো।
ওকে দেখো! ও কত হ্যান্ডসাম।
উফ! জ্বালাস না তো!
তুমি এভাবে চাচ্ছ কেনো? আমার কিছু যায় আসে না।
যা তো, আমার এখন এর মুড নেই।
তুমি প্রথম কখন বুঝতে পেরেছিলে তুমি সমকামী?
আমার বয়স তখন খুব বেশি ছিল না।
আমার মনে হয় পাঁচ-ছয় বছর বয়স থেকেই পুরুষদের নিয়ে আমার ফ্যান্টাসি ছিল।
তাদের মধ্যে একজন আমার স্পষ্ট মনে আছে।
আমি জঁ-ক্লদ ভ্যান ড্যামের প্রতি মুগ্ধ ছিলাম।
সিরিয়াসলি। আমি তাকে নিয়ে ফ্যান্টাসাইজ করতাম।
আমারও জঁ-ক্লদ ভ্যান ড্যামকে ভালো লাগত, তবে অন্য কারণে।
হ্যাঁ, আমি বেশ নিশ্চিত আমি যেভাবে তাকে "ভালো"বাসতাম সেটা আলাদা ছিল।
হ্যাঁ, আসলে, আমি...
আমি আসলে বরাবরই জানতাম আমি পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট,
যদিও আসলে জানতাম না এর মানে কী।
আফগানিস্তানে, সমকামীদের কোনো অস্তিত্ব ছিল না।
তাদের জন্য কোনো শব্দও ছিল না।
তারা পরিবারের জন্য লজ্জা বয়ে আনত,
তাই সমকামী হওয়াটা মেনে নেওয়া কঠিন ছিল।
আমরা প্রতিদিন ভলিবল খেলি।
উঠে এসো!
আমার ভাই আর আমি বেশ ভালো একটা টিম।
আমার ভাই খুব লম্বা আর স্পাইকিংয়ে দারুণ।
ফোকাস করো!
আজকাল, সন্ত্রাসবাদীরা
মার্কিন সরকার থেকে একদম নতুন, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে।
আফগানিস্তানে ইউএসএসআর-এর জন্য ভিয়েতনাম যুদ্ধ চায় যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু আমি আপনাদের বলছি
সন্ত্রাসীদের ধ্বংস করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাহায্য সরবরাহ করে,
মূলত আফগানিস্তানকে ধ্বংস করার জন্য,
আফগানিস্তান সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দ্বিতীয় ভিয়েতনাম হয়ে উঠতে পারে!
আমার বাবাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পরই গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তারা মুজাহিদিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল।
যুদ্ধটা ঠিক কাবুলের ভেতরে হচ্ছে না,
তাই আমরা খুব বেশি টের পাই না।
টের পাওয়ার একমাত্র কারণ আমার ভাই।
ও বড় হচ্ছে, টিনেজ ছেলে।
ও সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চায় না, কিন্তু ওকে যেতে হবে।
সাইফ!
-পুলিশ আসছে! -থামো!
দৌড়াও!
সাইফ!
সাইফ!
সাইফ!
মা, ওরা এখানে। ওরা ওকে ধরে ফেলেছে!
তুমি এখানে থাকতে পারবে না। তোমার লুকাতে হবে। দৌড়ে চাচা মাহদির কাছে যাও! যাও!
অন্ধকার হলে ফিরে এসো। সাবধানে থেকো!
আমার ভাই সবসময় পালিয়ে বেড়ায়। শুধু ও একাই নয়।
No comments yet. Be the first to leave one.