200 บรรทัดแรก
বাংলা সাবটাইটেল করেছেনঃ কামরুল হাসান শিমুল
বাংলা সাবটাইটেল করেছেনঃ কামরুল হাসান শিমুল
বাংলা সাবটাইটেল করেছেনঃ কামরুল হাসান শিমুল
বাংলা সাবটাইটেল করেছেনঃ কামরুল হাসান শিমুল
বাংলা সাবটাইটেল করেছেনঃ কামরুল হাসান শিমুল
শিচিনিন নো সামুরাই
=== প্রযোজনা === সোজিরো মোটোকি
=== চিত্রনাট্য ===
আকিরা কুরোসাওয়া, শিনোবু হাশিমোটো, হিডিও অগুনি
=== সিনেমাটোগ্রাফি === আসাকাযু নাকাই
=== সংগীত === ফুমিও হায়াসাকা
=== অভিনয় ===
তোশিরো মিফুনে
তাকাশি শিমুরা
কিকো সুশিমা
ইউকিকো শিমাজাকি
কামাতারি ফুজিওয়ারা দাইসুক কাতো
ইসাও কিমুরা, মিনোরু চিয়াকি, সিজু মিয়াগুচি
বকুজেন হিদারি, ইয়োশিও ইনাবা, ইয়োশিও সুচিয়া
=== পরিচালনা === আকিরা কুরোসাওয়া
গৃহযুদ্ধের সময়...
সশস্ত্র ডাকাতদল দেশব্যাপী ডাকাতি ও রাহজানি চালিয়েছে।
শান্তিপ্রিয় গ্রামবাসীরা ডাকাতদের আস্তানার নিকটেই বসবাস করতো...
এই গ্রামও লুট করবো?
লুট করবো! ছিনিয়ে নেবো!
এখন নয়!
গত মৌসুমে তাঁদের ধান-চাল লুট করেছি।
তাঁদের এখন কিছুই নেই।
বেশ...
যবের ফলন উঠলেই আসবো!
সৃষ্টিকর্তা কি আমাদের দেখে না?
জমির খাজনা, জোরপূর্বক শ্রম, যুদ্ধ, খরা...
... এখন আবার ডাকাতি!
বিধাতা কি আমাদের মেরে ফেলবে!
ঠিক তাই! মরে যাওয়াই ভালো!
হচ্ছে কী? কেঁদে কোনো লাভ নেই।
কর সংগ্রহ ছাড়াও ম্যাজিস্ট্রেটের কাজ আছে।
তাঁর কাছে সাহায্য চাইবো।
তাঁকে ভালো করেই চিনি!
ডাকাতি হলে তিনি সান্ত্বনা দিতে আসবেন, আমাদের সাহায্য করতে নয়।
ঠিক বলেছে, তিনি কিছুই করবেন না।
তবে কি আমরা ধান-চাল আর যব ডাকাতদের হাতে তুলে দেবো?
তারপর গলায় দড়ি দেবো?
তবুও ম্যাজিস্ট্রেটের টনক নড়বে না!
ওই ডাকাতদের আমরা খুন করবো।
সব কয়টাকে পিষে মারবো।
আর নয়! খুন করে ফেলবো!
আমি নাই!
আমি পারবো না...
পাগলের প্রলাপ!
পরাজিত সামুরাইদের পারলে, ডাকাতদের কেনো নয়?
থামো! নিজেদের মাঝে ঝগড়া করার এখন সময় নয়।
ডাকাতদের সাথে আমরা পারবো না। পরিণতি কী হবে?
সবাইকে নির্যাতন করবে। মাতৃগর্ভের শিশুটিকেও হত্যা করবে।
অনেক সহ্য করেছি! এবার লড়াই করতে হবে...
... হয় বাঁচবো না হয় মরবো!
রিকিচি!
কৃষকদের জন্মই হয়েছে দুঃখ কষ্টের জন্য।
ক্ষমতাবানদের বিরোধিতা করতে নয়।
ডাকাতরা আসলে তাঁদেরকে নম্রভাবে অভ্যর্থনা জানাবো।
ভদ্রভাবে সকল ফসল হাতে তুলে দেবো।
খেয়ে বাঁচার জন্য কিছু বার্লি চেয়ে নেবো।
দরকার হলে হাঁটু গেড়ে করজোড়ে ভিক্ষে চাইবো।
ডাকাতদের সব দিয়ে দেবো?
আমরা কি পেটে পাথর বেঁধে বাঁচবো?
চলো সবাই মুরুব্বীর কাছে যাই।
দেখি উনি কী বলেন।
নেকড়ের সাথে লেনদেন করবো?
নেকড়েকে একবার যদি পা চাটতে দাও, সে হাত খেতে চাইবে।
আর একবার যদি কামড় দিতে পারে, পুরো শরীরই দাবি করে বসবে।
- তাহলে কী করবো? - নির্যাতিত হয়েই যাবো!
যব ছাড়া আমরা না খেয়ে মরবো!
আমরা লড়াই করবো।
মুরুব্বী, এটা পাগলামি।
আমরা তো কৃষক, লড়াই করবো কিভাবে?
ভাড়াটে সামুরাই আনবো।
কৃষক হয়ে সামুরাই ভাড়া করবো?
নিজের চোখে আমি দেখেছি...
যে গ্রামে তোমরা জন্মেছিলে সেই গ্রামে তাঁরা অগ্নিসংযোগ করেছিলো।
পালিয়ে আসার সময় স্বচক্ষে দেখেছি...
একটি গ্রামে তাঁরা আগুন দেয়নি, যে গ্রামে সামুরাই ভাড়া করেছিলো।
কিন্তু মুরুব্বী, বিভিন্ন গ্রামে বিভিন্ন ধরণের মানুষ বাস করে।
সামুরাইদের কী খেতে দেবো? আমরা তো সাদা ভাত খেয়ে বেঁচে থাকি।
লতা-পাতা খেয়ে বেঁচে থাকবো!
কোনো সামুরাইই পেটে-ভাতে লড়াই করতে আসবে না!
তাঁদের চাহিদা অনেক বেশি।
দেখো।
ক্ষুধার্ত সামুরাই খুঁজতে হবে।
ক্ষুধা পেলে পাহাড়ি ভালুকও মাটিতে নেমে আসে।
তোর সাহস কতো?
কৃষক হয়ে সামুরাই ভাড়া করতে এসেছিস!
না খেয়ে থাকি নাকি!
ফকিন্নি!
কী বলেছিলাম?
দেখো, বার্লি পেকেছে...
গ্রাম ছেড়েছি আজ ১০ দিন হয় গেলো।
কী করবো আমরা?
এগুলো পূর্বকালীন বার্লি, আমাদের পাহাড়ি বার্লির মতো নয়।
আরে, ভিজে তো জবজবে হয়ে যাচ্ছি।
সস্তায় শক্তিশালী-কর্মঠ সামুরাই খুঁজতে এসেছো?
আর নেই।
এগুলো খেতে পারেন।
বোকার হদ্দ!
- হাসার কী হলো? - উনি অন্ধ।
- তোমরা খাবে? - খাবো না।
এগুলোর চেয়ে গোবর খাওয়াও ভালো।
- তাঁর কাছে যেও না। - গত রাতে জুয়া খেলে সব খুইয়ে এসেছে।
হেরে গিয়ে চাকু বের করেছিলো, তিনজন মিলে ইচ্ছেমত ধোলাই দিয়েছি।
পকেটে এক কানাকড়িও নেই।
বিরক্ত করো না, তাঁরা কেবল বজরা খায়।
তাই নাকি? এভাবে বাঁচা যায়?
পুষ্টিকর খাবার ছাড়া তো তোমরা রাতকানা হয়ে যাবে।
মাত্র চারটি বাকি আছে।
এক কাপ চালের বিনিময়ে দিয়ে দেবো।
কী বলো?
ধুর! ফকিন্নির দল!
খাবারের অপচয়...
চালগুলো থাকলে এমন ৪০ টি কিনতে পারতাম।
চুপ করো!
এটাই সত্যি।
ছাগলগুলো ঝগড়া শুরু করেছে!
মজা পাচ্ছি, চালিয়ে যাও।
এমন ঘটনা কেউ আগে শুনেছে?
তাঁকে এক বাটি ভাত এবং এক বোতল মদ দিলাম...
... আর সে কিনা আমাদেরকে মারলো?
ভালোই তো করেছে!
এই ধোঁকাবাজের মতো তো করেনি।
চলো বাড়ি যাই, সবাই বাড়ি চলে যাই।
কেমন ফুঁপিয়ে কাঁদছে।
বউকে মনে পড়েছে মনে হয়।
তোমাদের নাটক তো বিনা পয়সায় দেখা যায়।
চলো সবাই গ্রামে চলে যাই।
বাড়ি চলে যাও। সামুরাই ভাড়ার সামর্থ্য তোমাদের নেই।
আমাদের মতো কৃষকরা জানে বীজ বুনতে আর ফসল কাটতে...
... সামুরাই সামলাতে নয়।
তাছাড়া, যথেষ্ট টাকা-পয়সাও নেই...
টাকা-পয়সা ছাড়া কিছুই হয় না।
গতরাতে যদি হেরেই থাকি, ক্ষুধার্ত থাকার কারনেই হেরেছি।
মিথ্যুক! জুয়া খেলার জন্য তোর কাছে প্রচুর টাকা ছিলো।
হারামজাদা!
লড়াই করবি?
লড়াই হবে।
আরে এদিকে ব্যাটা!
ফাঁপর মারা বন্ধ কর! খারাপ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু!
চিন্তা করো না, দাদু। আমরা তোমাকে টাকা দেবো।
রিকিচি!
থামো, মাঞ্জো!
তোকে বাড়ি যেতে বলেছি, কুত্তার বাচ্চা!
বাড়ি যাবো বলেছি, ডাকাতদের সাথে আপোষ করবো না!
সামুরাই নিতে না পারলে, কী লাভ হবে?
আপোষ ছাড়া উপায় নেই!
বেশ, যা তুই গ্রামে!
একটি উত্তর দে...
যদি আমরা আপোষ করি...
... বিনিময়ে তাঁদের কী দিবি?
তোর মেয়েকে তুলে দিবি?
তোর যুবতী মেয়ে শিনো'কে!
ব্যাপার কী?
ওই ঘরে একটা চোর লুকিয়ে রয়েছে।
কয়জন চোর আছে?
একজন।
একজন?
সবাই মিলে একজন চোরের সাথে পারো না?
যেতে পারছি না, কারণ একটি শিশুকে সে আঁটকে রেখেছে।
ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলেই শিশুটিকে হত্যা করবে।
শিশুটির কান্না শুনছো?
বেচারা!
মধ্য রাতেই এসব ঘটেছে।
বেচারা শিশুটি সারাদিন ধরে চিৎকার করছে।
মুখ দিয়ে কান্নাও আসছে না।
আমাদেরই খারাপ লাগছে, না জানি ওর বাবা-মায়ের কেমন লাগছে!
যে সামুরাইয়ের মাথা ন্যাড়া করা হচ্ছে, উনি কে?
জানি না। সাহায্যের জন্য বলতেই রাজি হয়ে গেলো।
তারপর দুটো ভাতের গোলক দিতে বললো।
এক সন্ন্যাসীকে বললেন মাথা ন্যাড়া করে পোশাক ধার দিতে।
জানি না কী করবেন।
সরে যা! নইলে এই পিচ্ছিকে খুন করবো!
আমি এক সন্ন্যাসী।
সরে যা!
আমি এক নিরীহ সন্ন্যাসী, কোনো ক্ষতি করবো না।
ভেতরে আসবো না।
শিশুটির বোধ হয় ক্ষিধে পেয়েছে।
দুটি ভাতের গোলক এনেছি।
নিজেও একটি খেতে পারবেন।
খাবেন না?
শিশুটিকে খেতে দিন।
ছুঁড়ে মারো!
এই নিন।
আমার খোকা!
সামুরাইকে বলার এমন সুযোগ আর পাবে না।
জলদি বলে ফেলো, শহরে গেলে আর পারবে না।
কী চাও?
আমার নাম কাতসুশিরো ওকামোতো, আমাকে আপনার শিষ্য করে নিন!
শিষ্য?
দেখলেই তো, আমি ছন্নছাড়া। আমার নাম কাম্বেই শিমাদা।
আমার কোনো শিষ্য নেই।
ওঠে দাঁড়াও, পড়ে থেকে লাভ হবে না।
অনুরোধ করছি, শিষ্য হিসেবে নিয়ে নিন।
আগে সোজা হয়ে দাঁড়াও, হাঁটতে হাঁটতে কথা বলবো।
আমি পরাজিত...
No comments yet. Be the first to leave one.