200 บรรทัดแรก
C
Cr
Cre
Crea
Creat
Create
Created
Created b
Created by
Created by K
Created by KU
Created by KUS
Created by KUSH
Created by KUSH
Created by KUSHA
Created by KUSHAL
Created by KUSHAL
আমি...
...হলাম এই জঙ্গলের দৃষ্টি।
সকল অতীত আমার জানা...
দেখতে পাই ভবিষ্যৎও।
আমার নাম- "কা"!
আমি দেখেছি এই জঙ্গলে মানুষের আনাগোনা...
আর জঙ্গল...
চেষ্টা করেছে প্রতিরোধের!
আমি দেখেছি বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য!
আর জঙ্গল জুড়ে ঘনিয়ে আসা কালো অন্ধকার!
আহ!
আমি দেখেছি সেই হিংস্র বাঘ -শের খানকে,
নৃশংসভাবে মানুষ মারতে!
আর জঙ্গলের সব চাইতে প্রাচীন আইন ভাঙতে।
আর তারপর,
এক দৈবাধীন রাতে,
জঙ্গল তার সম্পূর্ণ আশা ভরসা সঁপে দিল...
এক ছোট শিশুর...
কচি দুই হাতে!
যা দেখেছি আমি...
এমন ঘটনা আর দেখিনি কোনদিন।
হুম?
ও এখানে আসলো কিভাবে?
আমি জানি না তো।
আঘাত পেয়েছে নাকি?
গায়ে তো কোন ক্ষত নেই।
ওর কেউ নেই।
এর আগে কখনো মানুষের বাচ্চা দেখিনি।
এটাতো...
খুবই ছোট।
ও আমাদেরকে ভয়ও পাচ্ছে না।
একে নিয়ে এখন কী করা যায়?
শুভ সন্ধ্যা, নিশা।
ভিহান।
- আজকের রাতটা দারুন, তাই না? - এখানে কী মনে করে এলে, তাবাকি?
কিসের গন্ধ যেন লাগছে নাকে? একেবারে টাটকা?
যদি কোন হাড্ডির খোঁজে এসে থাকো, তাহলে অন্যখানে যাও।
এখানে আমাদেরই ক্ষুধার্থ মুখের অভাব নেই।
আমি তো কোনো খারাপ নিয়তে আসিনি, নিশা।
ওহ!
তোমার ওস্তাদ ডাকছে।
জলদি জলদি যাওয়াটাই ভালো হবে।
মনে হচ্ছে খুব রেগে আছে আজ।
তা ঠিক, তা ঠিক।
আর তার কারণও আছে বৈকি।
মানুষের বাচ্চা খুঁজে পেয়েছি! আমি মানুষের বাচ্চা খুঁজে পেয়েছি!
তার গা পরিষ্কার করে ফেলো।
- নিশা। - তাকে পরিষ্কার করো!
- তুমি কোথায় যাচ্ছ? - আকিলার কাছে।
সভায় সিদ্ধান্ত হলেই কেবল তাকে আমরা রাখতে পারব।
- তাকে রাখবে মানে? - তাকে তোমার চোখের আড়াল করো না।
তাকে আমরা রাখতে পারব না।
নিশা, খুব তড়িঘড়ি করে সভা ডেকেছো। তা এত জরুরি তলবের মানে কী?
আমরা একটা মানুষের বাচ্চা খুঁজে পেয়েছি।
- এটাতো কোনো নেকড়ে না। - ও এখানে থাকতে পারবেনা। মানুষের বাচ্চা! সাংঘাতিক জিনিস!
যাই হোক,
ব্যাপারটা বেশ অস্বাভাবিকই বটে।
নিশা,
তুমি কি তাকে নিজের সন্তানের মত লালন করতে চাও?
জ্বি হ্যা।
আর ভিহান? তুমিও?
জ্বি।
এ তো একটা মানুষের বাচ্চা!
তুমি জঙ্গলের আইন জানো।
এই বাচ্চার জন্ম আমাদের এখানে হয়নি।
তো এই বাচ্চার পক্ষ কে নিতে চায়?
আমি এই বাচ্চার পক্ষে বলছি।
আইন বলে, এই বাচ্চার প্রাণ...
একটি নির্দিষ্ট মূল্যে...
পরিশোধ করা যেতে পারে।
সেই মূল্য আমি পরিশোধ করলাম।
আমরা একজনকে পেয়েছি।
এ বাচ্চার পক্ষে আর কে কথা বলবে?
ভালুও পক্ষে আছে।
ভালু?
- বাঘিরা... - সে তো কোন নেকড়ে না। তাঁর বলার কিছু নেই।
সে তোমাদের বাচ্চাদের শিক্ষক। এ কারণে সে তোমাদের দলেরও একজন।
আমার কিছু বলার ইচ্ছে নেই...
তাও আবার মানুষের বাচ্চার পক্ষে।
বাঘিরা, তোমার মাথা কি খারাপ হয়েছে? একটা মানুষের বাচ্চা জঙ্গলে বাস করবে?
আকিলা,
তাকে খুঁজতে তার বাবা-মা ফিরে আসবে।
তার বাবা মা মারা গিয়েছে।
আমি নিজে খুন করেছি তাদের।
তার খোঁজে এখানে আসার মত কেউ নেই।
এসব নিয়ে তোমার মাথা না ঘামালেও চলবে, শের খান।
এই বাচ্চা আমার।
এখনো তার মায়ের রক্তের স্বাদ আমার মুখে লেগে আছে।
তার উপর একমাত্র অধিকার আমার।
কোন আইনে তার উপর অধিকার ফলাচ্ছো তুমি?
ভালো চাইলে চলে যাও এখান থেকে।
সাবধান, আকিলা।
আমার সাথে পাঙ্গা নিও না।
এই বাচ্চা এখন...
আমাদের দলের জিম্মায় রয়েছে।
আমার সাথে লাগতে এলে,
পুরো দলের সাথে লাগতে হবে তোমার।
আমাদের সবার সাথে।
সর্দার হিসেবে আমি যতদিন আছি,
ততদিন জঙ্গলের এই এলাকা তোমার জন্য নিষিদ্ধ।
সারা জীবন তো আর সর্দার থাকবে না।
যেদিন তুমি শিকারে ব্যর্থ হবে,
সেদিনই এই বাচ্চার রক্ত....
আমার থুতনি গড়িয়ে পড়বে।
সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে গেছে।
সে এখন আমাদেরই একজন।
নিজেদের বাচ্চার মতোই তোমরা তাকে শিক্ষা দিবে।
যতদিন আমি বেঁচে আছি,
বাচ্চাটি এই দলের সুরক্ষায় থাকবে।
ওয়াহ!
শিকার হচ্ছে একটি আরাধনা, ছোট ভাই।
ন্যায্যত এটা আমাদের অধিকার।
কিন্তু একে আমরা কখনোই খেলা হিসেবে নেই না।
শ শ...
থামো, অপেক্ষা করো।
শিকারের চোখে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতে হয়...
যাতে তার আত্মা...
নি:সঙ্গে প্রস্থান না করে।
বাঘিরা...
জঙ্গলটা কতটা পুরনো, বাঘিরা?
জঙ্গলটা তোমার জন্মের আগেও এরকম ছিল।
আর তোমার মৃত্যুর পরেও...
এমনই থাকবে।
এই জঙ্গল চির শাশ্বত।
বাঘিরা...
অন্য নেকড়েদের থেকে আমি ভিন্ন কেন বলতো?
তুমি ভিন্ন নও তো।
ছোট ভাই।
বরং তুমি অনন্য।
তুমি আসলেই অসাধারণ
আর সেজন্যই তোমার বিশেষ প্রশিক্ষণ দরকার।
তোমার আসল সমস্যা কী জানো?
মনোযোগের অভাব।
ভালু,
তোমার মুখে কতগুলো পিঁপড়ে রাখতে পার বলতো?
পিঁপড়ে তো অনেক ছোট,
আর তোমার মুখ কত বিশাল!
- আমি নিশ্চিত... - মোগলি, মনোযোগ দিতে বলছি না?
একদম...
নড়বে না!
এসব করার কী মানে আছে?
আমি যা বলেছি, তা করতেই হবে।
এখন জঙ্গলের তিনটে নীতি শোনাও।
"মানুষের সাথে নেকড়েদের কোন যোগাযোগ থাকতে পারবে না"।
- পরেরটা। - ভালু...
- তোমার লেজ নেই কেন? - পরেরটা বলো!
"কোন নেকড়ে মানুষের কোন গবাদি পশু শিকার করবে না"।
"বিশেষ করে গরু যা তাদের কাছে পবিত্র"!
ওইটা খসে পড়ে গেছে নাকি? এজন্যই কোন লেজ নেই তোমার?
কী? তোমার লেজ নেই কেন?
তা আমি কি জানি। এসব নিয়ে আমি ভাবিনি কখনো।
তৃতীয় নীতি।
বল এক্ষুনি।
"কোন নেকড়ে জঙ্গলে মানুষ মারতে পারবে না। কারণ তা জঙ্গলে বিপদ ডেকে আনবে।"
যাক, শেষ পর্যন্ত নীতিগুলো শিখতে পেরেছ।
এখন শুধু তোমাকে অন্য নেকড়েদের মত দ্রুত ছুটতে শেখাতে হবে।
ওই!
কখনোই নিজের সুরক্ষার কথা ভুলবে না।
আচ্ছা তাহলে, আজকের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট, মোগলি।
একদম সোজা গুহায় যাবে। কোন ঘুরাঘুরি নেই। আর নেকড়ের মতো ছুটবে, শুনেছো আমার কথা?
কিচ্ছু শুনতে পাচ্ছি না আমি!
মোগলি!
হেই, মোগলি।
- ভুত! - কী করছো তুমি?
- কিছুই না। - লুকোচুরি খেলবে?
- পেয়ে গেছি! - - - ওহ!
আরেকটু হলেই হত।
তুমি লুকোতে বেশ ওস্তাদ।
মা আমাকে লুকোতে শিখিয়েছে। সাথে অনেক কৌশলও শিখিয়েছে।
যাতে আমি নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারি।
মা বলে -যারা কিছুটা ভিন্ন...
তাদেরকে সবাই দুর্বল ভাবে।
একারনে প্রায়ই তারা আমাকে নিয়ে মজা করে।
হুম।
আমার সাথেও এমনটা হয়।
চলো, দৌড়ে বাড়ী যাওয়া যাক।
আমি বলা মাত্র...
দৌড়াও!
হেই।
হেই, ভাইয়া।
ভালু আজ তোমাকে কী শেখালো?
আমার ওপর একটা কাকড়া বিছে রেখে আমার ধৈর্য পরীক্ষা করেছে।
সে বলেছে আমার মনোযোগের নাকি অভাব রয়েছে।
No comments yet. Be the first to leave one.