Mistari 185 ya kwanza.
কারণ....
তারা সাহসী যুবক
তারা আমাদের কুমিরের হাত থেকে রক্ষা করেছে।
তোমাদের ধন্যবাদ, সারমান!
তোমাদের সবাইকে ধন্যবাদ!
সারমান
এটা তোর শক্তি শত গুণ বৃদ্ধি করবে!
বীমা!
বারেবারে তুই কেন?
গ্রামে কি আর কোনো মানুষ নাই?
কোনো কিছু হইলেই; সব কিছু তোর কেনো দেখতে হবে?
- তুমি চুপ থাকো! - ও কাজ করতে করতে ক্লান্ত!
নদী কখন তার প্রবাহ বদলাবে,
ড্রেন থেকে ধান ক্ষেতে পানি সরবরাহ করা;
চারা রোপন করা, ফসল কখন কাটবে;
কখন বৃষ্টি হবে?
মনে হয় সারমানকে জিঙ্গাসা না করে আমরি'তে চাঁদ সূর্যও উঠে না।
তুমি পারোও, যারে তোমার অভিনন্দন দেয়া দরকার, তারে তুমি বকাঝকা করতেছো।
কাকিমা, আমি যদি সাহায্য করতে পারি তাহলে কেনো চুপ করে থাকবো?
আজকেতো আমার জীবনই চলে যাইতেছিলো
তোর আর ঐ রাক্ষসের কথা চিন্তা কইরা.....
আমার চিন্তা ছাড়তো কাকি!
কাকিমা, তুই সব সময় গুনগুন করে এটা কি গান গাইতে থাকিস।
এটাতো আমাদের আমরীর কোনো গান না।
কাকিমা, তুই কি কখনো এক শিংওয়ালা প্রাণী দেখেছিস
হরিণের মত? মাথার উপর লম্বা একটা শিং?
তুই এইসব কি কারনে জিঙ্গাস করতেছিস?
আমার স্বপ্নে আইছিলো।
স্বপ্নই ছিলো! এখন যা.....
তোর চাচা ক্ষেত্রের মধ্যে হয়ত অপেক্ষা করছে।
এই বার নীল চাষের ফলন অনেক কম হয়েছে, সারমান।
সিন্ধু নদীর প্রবাহদিক পরিবর্তন হইয়া গেছে।
ফলে আমাদের গ্রামের নদীও আমাদের থেকে মুখ তুলে নিছে।
এই মাটির মধ্যে ফসবে জন্মাইবে কেমনে।
কাকা, একটা প্রশ্ন করমু?
মহেঞ্জো দারো?
গতকাল থেকে সবাই যাইতেছে।
এইবার আমারে বাজারে যাইতে দে।
তিন বছর ধরে একই কথা কইতাছিস।
আমি শুনতে শুনতে ক্লান্ত হইয়া গেছি, তুই কি বারে বারে বলেও ক্লান্ত হচ্ছিস না?
যতক্ষণ পর্যন্ত তুই হ্যাঁ না কবি, আমি কইতেই থাকমু।
কাকা, আমার দূরে ভ্রমণে যাইতে মন চায়।
সূর্য কোথায় উঠে?
সূর্য কোথায় ডুবে?
'সিন্ধু নদীর পানি কোথা থেকে আসে?'
এইসব দেখতে মন চায়, কাকা।
পখির বাচ্চা সময়ের আগে বাসা ছেড়ে দিলে
বেশি দিন বাঁচে না, সারমান।
সারমান, খাবিনা?
কি হইছে?
আবারো মহেঞ্জো দারো যেতে জিদ করতাছে।
আমি না করলাম তো রেগে চলে গেল।
ও রাগ বেশিক্ষণ থাকবে না।
কিন্তু..
আমরা কত দিন ওরে রুখতে পারমু?
যতদিন পারি।
ও একটা প্রাণী সম্পর্কে জিঙ্গাসা করতেছিলো আমারে।
আমি বুঝতে পারছি না,
মহেঞ্জো দারোতে এমন কি আছে; যা কাকারে এতোটা ভীত করে তোলে?
ভয় পায়, তুই ওইখানে গিয়া না চিরকাল থেকে যাস।
হোজো, তোর দেখতে মন চায় না?
কি?
আমরি'র(অঞ্চলের নাম) বাইরের পৃথিবীটা কেমন?
মানুষেরা কেমন?
মেয়েগুলো কেমন?
আজ পর্যন্ত আমরি'র কোনো মেয়েতো তোর পছন্দ হয় নাই।
মহেঞ্জো দারোর মেয়েরা কি মণি দিয়ে জড়ানো নাকি।
আমি কেমনে কমু।
কিন্তু আমার মন কইতাছে যে আমার জীবন সঙ্গিনী হবে
এই সিন্ধুতে তার থেকে সুন্দরী দ্বিতীয় কেউ হবে না।
তাইলেতো তোর সঙ্গী তুই এই জীবনে পাইতেছিস না।
প্রতি বছর বাজারের আগে তুই এই একই কাজ করিস।
কাকা চায় না তুই সেখানে যা সারমান,
এই চিন্তা ছাইড়া দে।
কিন্তু আমার মহেঞ্জো দারো যেতেই হবে।
তো তুই কি পাখির মত উড়ে মহেঞ্জো দারো যাবি?
কি হইছে, কি হইছে? কোনো সমস্যা?
সূর্য উঠবে বলে।
- আমাদের যেতে হবে! - যেতে হবে মানে? কই যাবি?
মহেঞ্জো দারো।
মহেঞ্জো দারো? তুই কি পাগল?
কাকা, আর মা বাবা যদি জানতে পারে তো?
চল, চল.....
মহেঞ্জো দারো যাওয়া এতো সোজা না, সারমান......
আমি যা বলতেছি সেটা মনযোগ দিয়ে শুন।
বল, কাকা...
যাই হোক, পণ্যের মূল্য কমাবি না।
মহেঞ্জো দারোর পরিবেশ আমাদের থেকে ভিন্ন।
ওখানে মানুষ না, লোভ লালশা বাস করে।
দেখে শুনে ভরসা করবি,
আর কোনো অচেনাকে বন্ধু ভাববি না।
তুই চিন্তা করিস না, কাকা।
আমি সব সময় সারমান ভাইয়ের সাথেই থাকমু।
কুলজি...
আজ পর্যন্ত তুই আমার জন্য কেনাবেচা করেছিস।
এইবার সারমান যাইবো, আমি ওরে আর আটকাইতে পারলাম না।
- ওরে দেইখা রাখিস। - ঠিক আছে।
খাবারগুলো নিয়ে যা।
নিজের খেয়াল রাখিস!
ঐ চলোরে, চলো!
এটা তোর কাছে রাখ।
যদি কোনোদিন জীবন মরনের প্রশ্ন আসে তাহলেই এটা খুলবি,
আমারে কথা দে!
- হোজো। - হ্যাঁ।
মহেঞ্জো দারো!
আর এই হলো আমাদের পবিত্র নদী সিন্ধু মা।
এই প্রবেশদ্বার শুধুমাত্র বিদেশী বিক্রেতাদের জন্য।
আর সবাই বেচাকেনার পর
দক্ষিণ পার্শ্বের গেট দিয়ে বের হবেন।
পূর্ব এবং উত্তর পার্শ্বের গেট
শুধু মাত্র মহেঞ্জো দারো বাসীদের জন্য।
এটা কেমনে বানাইলো কাকা বাবু?
ওটা কিসের চিহ্ন, কাকা?
এটা সভ্যতার চিহ্ন!
এটা সিন্ধু এলাকার অধিবাসীদের চিহ্ন বেটা।
প্রত্যেক পশু একেক এলাকার প্রতীক।
ঐ এক শিংওয়ালা পশুটা কি পশু, কাকা?
ওটা একটা হরিণ, সারমান।
সিন্ধু এলাকার সবচেয়ে পবিত্র পশু।
মহেঞ্জো দারোর প্রতীক!
বিক্রেতারা, আপনারা ভেতরে গিয়ে আপনাদের পণ্যকার্ড নিয়ে নিন
- কিছু গম। - এগুলো এখানে রাখো।
আমাদের পণ্যের ট্যাক্স কোথায় যায়?
এই নাও!
ধন্যবাদ।
তুই? তুই এখানে কেন এসেছিস?
- শোন.. - বাড়ি ফিরে যা!
আমার কথা শোন।
এটা লোভীদের এলাকা।
এটা শয়তানের এলাকা।
তোর জীবন বাঁচা! অন্যথায়, ধ্বংস হয়ে যাবি।
- চলে যা! - এই জাকিরো!
এখান থেক সর! ব্যবসায়ীদের যেতে দে।
- তাদের বিরক্ত করিস না। যা! - চলে যা!
চলে যা!
চলে যা!
যা! চলে যা।!
- যা! - এখান থেকে চলে যা।
আমি বলছি এখান থেকে চলে যা!
সে কে?
নাম জাকিরো।
ওরে দেখে বড়ই দুঃখ হয়, সবাই তাকে পাগল বলে!
কিন্তু এই পাগলের পূর্বপুরষই এই মহাশহর প্রথম তৈরি করেছিলো।
আর সেও এক সময় রাজ সভার প্রতিনিধিত্ব করতো!
সারমান! ঘরের উপরেও ঘর!
আমি এইসব আগেও দেখছি। কিন্তু কিছুই বুজতে পারছি না।
কিন্তু এটা সত্য যে
আমি যেটা ভেবেছিলাম, দেখতে হুবুহু সেই রকমই।
আমারো এই রকম মনে হইতাছি সারমান!
যেনো আমার এখানে আসার জন্যই জন্ম হয়েছে! দেখ দোস্ত, ওই যে.....
আমরা এখানে বেচাকেনা করতে এসেছি! ভুলে যাস না।
আমিওতো তাই করতেছি।
মন বিক্রি!
তুই মর!
নিয়ে নাও নিয়ে নাও..... চিত্রাভ রংয়ের পাখি!
সুন্দর শিং!
নিজেদের বিক্রির জন্য একটা জায়গা খুঁজেনে। নাইলে সারাক্ষণ দাঁড়াইয়া-ই থাকতে হবে।
চলো চলো..
হেই হেই, হেই দাঁড়া দাঁড়া.. হেই হেই হেই!
হেই!
তাড়াতাড়ি!
বাজার এতো প্রাণবন্ত শুধু বিদেশী ব্যাপারীদের কারনে।
বিদেশী ব্যাপারী? কোথায়?
ঐ, ঐযে টুপিওয়ালা।
তিনি এখানের মালামাল কিনে নিয়ে দূরদূরান্তে বেচাকেনা করে।
ওরা মাক্কনবাসী। তাদের জাহাজ এতো বড় যে
এক সাথে শত শত মানুষ আরামসে নদী পার হতে পারে।
আর বিশ দিন লাগে এদের মাক্কন পৌঁছাতে।
বিশ দিন? নদীতে এদের জাহাজ ডুবে যায় না?
সেটা তাদের ব্যাপার তারাই জানে।
আর সে এসেছে বোখারা থেকে
দূর উত্তর অঞ্চল থেকে যেখানে প্রতিনিয়তই শীতকাল থাকে।
কিন্তু সে কোন পশু নিয়ে এসেছে?
এটা কি দুধ দেয়?
না, দুধ দেয় না। এটা খুব দ্রুত দৌঁড়ায়। আমাদের এখানে সেখানে নিয়ে চলে।
- এটার নাম কি? - ঘো..............ড়া।!
ঘো.....ড়া?
সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি.......!
এটা দিয়ে কাপড়ে রং করতে পারবেন।
বাড়ির দেয়াল রং করতে পারবেন।
নিন!
আমরা আট গুনি গমের বদলে তিন গুনি নীল নিমু।
না, না, দশ গুনি গমের কমে নিতে পারবো না!
না না, দশ না, আট গুনি!
আরে আগেতো দেখেন।
No comments yet. Be the first to leave one.