The first 200 lines.
অনুবাদ ও সম্পাদনা মোহাম্মদ ইউসুফ
সিনেমাগুলোতে ড্রাকুলারা ভারী আলখেল্লা পরে...
এবং কিছু ইংরেজ লোক সবসময় শেষ মুহূর্তে তাদেরকে বধ করে...
ক্রুশ এবং পবিত্র জলের সাহায্যে।
তবে, সবাই জানে এই সিনেমাগুলো ফালতুর ফালতু।
সত্যটা হচ্ছে, ঝটকাটা শুরু হয় ব্লেডকে দিয়ে, শেষও হয় তার দ্বারাই।
আমরা বাকিরা শুধু যাত্রাপথে ওর সঙ্গী হই।
মুরগীর মতো দেখতে এই স্ক্র্যাচগুলো কিসের?
এটা কিউনিফর্ম (দেয়াললিপি)
৪০০০ বছরের পুরনো।
- তো, এখানে কেন? - কারণ, সভ্যতার ঊষালগ্ন এখান থেকেই শুরু হয়।
এখানে নিশ্চয়ই বেশ আরাম আয়েশে আছে সে!
জানি না, ড্যান। মনে হচ্ছে না এখানে আদৌ কিছু পাওয়া যাবে।
- আমাদের নিচে কিছু একটা আছে। - ঘড়ি পেয়েছ নাকি?
এটা কি কোন বডি নাকি?
সাথিরা?
পালাও!
এসব কী হচ্ছে? ওরে শালা!
আজ ড. অ্যাডগার ভেন্স, ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিস্ট...
...নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে বেস্ট সেলার বই...
"Human Health: The Whole Being Breakthrough."-এর লেখক।
সেই সাথে আমাদের সাথে আরো আছেন মার্টিন ভ্রিড, পুলিশ প্রধান।
তারা এখন আপনাদের মুখোমুখি আছেন, আপনারা চাইলে ফোনেও তাদের সাথে কথা বলতে পারবেন...
...বেন্টলির এই শোতে!
ওকে, ড. ভেন্স, আপনি একজন সাইকিয়াট্রিস্ট এবং একজন বায়োকেমিস্ট...
...ঠিক বলেছি?
হ্যাঁ, বেন্টলি। আমি দুটোই।
এর পেছনে একটা কারণ আছে। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, সুস্বাস্থ্য অর্জন সম্ভব হতে পারে...
...যদি আমরা আমাদের দেহ এবং মন দুটোরই যত্ন নেই।
এবং, সেজন্যই আমাদেরকে অনেক পুরনো ধ্যানধারণা থেকে মুক্ত হতে হবে।
আচ্ছা, তো ভ্যাম্পায়ারের ক্ষেত্রেও কি মতবাদটা খাটবে?
ভ্যাম্পায়ারের ক্ষেত্রে আমি বলব, আমাদের নিষিদ্ধ চিন্তাভাবনার ধারক বাহক হচ্ছে এই জীবগুলো।
- ঠিক আছে - ভয়ংকর ক্রোধ!
- হুম। - যৌন বিষণ্ণতা!
- যৌন? - যৌন বিষণ্ণতা!
এগুলো প্রত্যেকটা মানুষের জন্যই আতংকের বিষয় কারণ এগুলো আমাদের হৃদয়েই বাস করে।
তার মানে, আপনি বলতে চাচ্ছেন আমরা প্রত্যেকে স্বভাবগতভাবেই পশুর মতো!?
- হ্যাঁ, তা বলতে পারেন। - আর, ভ্যাম্পায়ারেরা?
বেশ, প্রথমেই বলি রক্তের একটা রোগ আছে যেটা বংশগত...
আমি আমার বইতেও এটা নিয়ে আলোচনা করেছি, যার নাম পোরফিরিয়া।
এবং, এই রোগটার লক্ষণগুলো ভ্যাম্পায়ারদের বৈশিষ্টগুলোর সাথে কিন্তু বেশ মিলে যায়।
এই রোগে আক্রান্ত রোগীরা রক্তস্বল্পতায় ভোগে।
তারা সূর্যের আলো সহ্য করতে পারে না। রসুনও তারা হজম করতে পারে না।
রসুন? চিফ ভ্রিড, ওকে! ভ্যাম্পায়ারদের সম্পর্কে এসব প্রচলিত...
...গুজব নিয়ে আপনার কী মত? ভ্যাম্পায়ার, ভ্যাম্পায়ার, কী?
আমি সেই ভ্যাম্পায়ারটাকে বিশেষভাবে চিন্তিত যে বার এক্সাম দিচ্ছে!
সিরিয়াসলি, আপনার কি মনে হয় না ভ্যাম্পায়াদের অস্তিত্ব থাকলে এতদিনে আমরা তাদেরকে খুঁজে পেতাম?
সত্যটা হচ্ছে, আমাদের চলার পথ কখনোই নিরাপদ ছিল না।
হত্যা, রাহাজানি, নৃশংসতা চলছে পুরো দেশজুড়ে।
মানুষের বরং সাবধান হওয়া উচিৎ...
...তাদের উচিৎ ব্লেড নামক বদমাশটার ব্যাপারে সতর্ক হওয়া।
এই লোকটা সম্পর্কেই জানতে চাই আমি।
এই ব্লেড লোকটাকে নিয়ে আলোচনা করতে চাই। কেমন লোক সে?
আমাদের সবার মতে সে একজন সোশিওপ্যাথ।
ব্লেড মানসিকভাবে অসুস্থ একজন মানুষ।
আমি জানি, ভ্যাম্পায়ারদের নিয়ে যেসব উড়ো কথা শোনা যায় সেগুলোর মূলে রয়েছে এই ব্যক্তি।
এরকম অসংলগ্ন মনমানসিকতা যে কঠিন বিশ্বাসে আবদ্ধ সেটার ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিপাত করা দরকার।
তার একটা ভ্রান্ত ধারণা হচ্ছে, সে পিশাচদের দমন করছে।
কিন্তু, আসলে সে নিজের সম্পর্কে মানুষের বদ্ধমূল ধারণাকে দমনে কাজ করছে।
আমি স্টোনব্রিজ ওভারপাসের উপরে।
বুঝেছি, ওয়েস্টবাউন্ডের দিকে যাচ্ছি। তোমার ঠিক নিচেই আছি আমি।
লাফ দাও!
আয়!
ওকে ধরেছি, বের কর!
তুই ঠিক আছিস তো ভাই?
তার হাতে পিস্তল!
হে খোদা!
সিলভারের গুলি মেরেছি তোকে।
ছাই হলি না কেন?
আরেকটু বুদ্ধিমান হ!
আমি কোন ভ্যাম্পায়ার নই, ছাগলের বাচ্চা!
সরি বলার ইচ্ছে থাকলে বলে ফেল!
বাল।
ওহ, ব্লেড!
আজ রাতে কী ঘটলো এটা?
আমি কী করে বলব?
সে মানুষ ছিল।
তুমি বেশ বেপরোয়া হয়ে গেছ, ব্লেড। ভ্যাম্পায়ারদের মারলে ভয়ের কিছু নেই।
তারা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কোন প্রমাণ থাকে না।
মানুষদের মারলেই ঝামেলার শুরু হয়।
প্রার্থনা করো যেন কেউ তোমাকে ধরতে না পারে।
অসাধারণ কাজ করেছে এটা!
- কী এটা? - সিরাম সেবনের নতুন একটা পন্থা।
এটা একটা ইনহেলার।
মাথার দিকে হালকা একটা কামড় দেবে।
সাথে সাথে সিরাম বের হবে।
আমার কয়েকজন বন্ধু বানিয়েছে এটা।
বন্ধু?
হ্যাঁ, মনে পড়ে ওদের?
খুবই ভয়ংকর দৃশ্য ছিল। একটা গাড়ি উল্টে পড়ল...
...তারপর কোটপরা লোকটা অন্য লোকটাকে গুলি করল।
- রক্তে ভেজা ছিল জায়গাটা। - ধন্যবাদ আপনাকে।
গত রাতের গোলাগুলিতে এই পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।.
হঠাত করে একজন অজ্ঞাত নাগরিক পুরো ঘটনাটা ভিডিও করে ফেলে।
হেই, রে! একটা সূত্র অবশেষে পাওয়া গেছে!
এবার প্ল্যান করা যাক, উইলসন!
এসব ছুঁচোগুলোকে এবার উচিৎ শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে!
সেটার ব্যাপারে তো আমি বলছিলাম!
ও কী করছে?
চুদছে সবগুলোকে! রক্ত পান করছে!
এই নিয়ে পাঁচ জন হবে!
আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট মনে হয়?
ওকে ধরিনি আমরা। সেই আমাদের সাথে এসেছে।
বুঝলে? আমি ভেতরে যাচ্ছি।
আমাকে জাগানোটা তোমাদের উচিৎ হয়নি।
এছাড়া আর উপায় ছিল না।
আপনার রক্ত, আপনার দিকনির্দেশনাই এখন কেবলমাত্র আমাদের বাঁচাতে পারে।
কেন তোমার মনে হলো এতে আমার কিছু আসে যায়?
আপনাকে এখন আপনার লোকেদের প্রয়োজন।
আমার লোক?
তোমরা ছায়ায় লুকিয়ে থাকা আরশোলা ছাড়া আর কিছুই নও।
দেখো, তোমাদের কী হাল হয়েছে!
আপনার অন্তর্ধানের পর থেকেই দুনিয়া বদলে গেছে।
মানুষেরা এখন নতুন শিকারী পেয়ে গেছে।
ব্লেড।
তোমরা এখন চাও তাকে আমি হত্যা করি, এই তো?
হ্যাঁ।
এটাতে আছে?
নতুন শখ নাকি এটা?
সেরকম কিছু না।
লোকটা পশ্চিম দিকে যাচ্ছে।
পেয়েছি।
অভিনন্দন। বিখ্যাত হয়ে গেছ।
কেউ আমাদের বোকা বানিয়েছে।
সবগুলো পত্রিকা আর টিভিতে শুধু তোমাকে দেখাচ্ছে।
মিডিয়াগুলো গিলছে রীতিমত!
- আমি মনে হয় এসব কেয়ার করি? - করা উচিত।
মানুষ খুন করে ফেলার মতো ঘটনা দুনিয়া সহজে মেনে নেয় না...
...তুমি এখন জনসাধারণের চোখে এক নাম্বার শত্রু।
এটা যে জনপ্রিয়তা মাপার কন্টেস্ট তুমি না বললে জানতাম না।
ব্লেড, ওরা কী করছে দেখছ না?
তারা তোমার বিরুদ্ধে মানুষকে লেলিয়ে দিয়েছে।
এখন আমাদের শুধু ভ্যাম্পায়ার নিয়েই নয়...
...বাকি দুনিয়াকে কীভাবে সামলাবো সেটা নিয়েও চিন্তা করা উচিৎ।
তুমি একটু বেশীই টেনশন করো, বুড়ো।
সেজন্যই বাল আমরা এখনও বহাল তবিয়তে আছি!
তুমি জন্মাবার সময় থেকেই এই ইঁদুর বেড়াল খেলা খেলছি আমি।
তুমি আমার ছেলের মতো।
সরি, তোমার চোখে আমি একটা বুড়ো ভাম ছাড়া এখন কিছুই নই।
তোমাকে শত্রু দ্বারা আচ্ছাদিত অবস্থায় দেখেছি।
সেটাই আমার মনে ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে।
এই যুদ্ধ আমরা একা লড়ে জিততে পারবো না।
দেখ, লোকটা আমার দিকে রাগ রাগ চোখে তাকিয়েছে! ওই ছোকরাটাকে দেখ?
- ধুর বাল! - অনেক হয়েছে!
বড্ড খিদে পেয়েছে আর কাউকে খেতে চাই আমি।
- একে খেলে কেমন হয়? - চর্বির বস্তা! গুয়ের মতো স্বাদ!
জানি না। ভাল লেগেছিল ওটাকে দেখে।
আচ্ছা, একে খেলে কেমন? ধূসর চুলের মোটা ভল্লুক!
ওটাও চর্বির বস্তা!
আরে, শালার পুতেরা! যে কোন একটাকে ধরে খাওয়া শুরু করে দে!
পেয়েছি রে! পেয়েছি!
কচি খুকি!
এতক্ষণে সরেস একটা মাল পেয়েছি!
আমি চিনি গো, চিনি গো তোমারে!
ওরে ওরে চল!
ডিনারটা এবার সেরে ফেলা যাক!
আরে, আরে সুন্দরী কমলা!
না! না!
না!
যত চিৎকার করার কর!
"মারা খা"?
রসুন!
আরে!
যত চিৎকার করার কর!
এটা কী?
যেটা নিয়ে তুমি চিন্তিত ছিলে।
চলো, চলো!
দেখামাত্র গুলি করবে!
একটা আঙুল নড়ালেও মরবি তুই!
নড়ালাম, তারপর?
তার হাতে কিছু একটা আছে!
পালাও, ব্লেড!
ধ্যাত্তেরিকা!
হচ্ছেটা কী ওখানে?
কেউ কিছু বলো আমাকে!
একদম ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকবে!
কেউ গুলি করো না! কেউ গুলি করো না!
ঘুম থেকে উঠো, ভাইয়া!
স্পেশাল এজেন্ট রে কাম্বারল্যান্ড। উইলসন হেল, এফবিআই।
তোমাকে অনেকদিন ধরেই নজরদারীতে রেখেছিলাম আমরা।
হুইস্টলার।
মরে গেছে।
তোমার অন্যান্য শিকারগুলোর মতোই।
এই পর্যন্ত কতজন মানুষকে মেরেছ, ব্লেড?
ত্রিশ? চল্লিশ? পঞ্চাশ?
১১৮২
কিন্তু, তারা বিশ্বাসঘাতক বেঈমান।
ওরা ওদের হয়ে কাজ করত।
"ওদের" বলতে ভ্যাম্পায়ারদের বোঝাচ্ছ, ঠিক?
এসব রক্তচোষাদের কীভাবে মারো তুমি?
হয়তো আমাদেরকে কিছু দিকনির্দেশনা দিতে পারবে।
- ওদেরকে মাটিতে পুঁতে ফেলো? - সূর্যের আলোর সাহায্য নাও?
- সূর্যের আলোতে ওদের কিছু হয় না, না? - ক্রুশ দিয়ে মারো? কাজ হয় এটা দিয়ে?
- এই সময়ে? - জানি না, রে।
ভ্যাম্পায়াররা যদি ইহুদিদের পছন্দ করে তবে?
ভাল কথা বলেছ!
রসুনের ব্যাবহার করো? হিন্দূ ভ্যাম্পায়ারদের উপর এটা কাজ করে?
নাকি জাফরানের গুঁড়ো কিংবা এই জাতীয় কোনো বালছালের সাহায্য নাও?
- অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন! - ধন্যবাদ!
তুমি ধান ভানতে শিবের গীত গাইতে পারো, ব্লেড।
No comments yet. Be the first to leave one.