The first 200 lines.
আমার যতদূর মনে পড়ে, আমি সবসময়ই পালাতে চাইতাম...
সফলতার স্পর্শ নিতে
এবং মহাবিশ্বের অতলে ডুবে যেতে
যা ছিল আমার সাধ্যের বাইরে।
কিন্তু আমরা যখন খ্যাতির শিখরে পোঁছাই
মাঝেমাঝে আমরা হোঁচট খাই।
নিজেদের লক্ষ্যকে আমরা ডুবিয়ে ফেলি।
যদিও আমি একজন ভাগ্যবান মানুষ,
কারণ যখনি আমি নিজেকে অন্ধকারে আটকে যেতে দেখেছি
একজন ছিল যে আমাকে সবসময় বাঁচিয়ে দিত।
সবাইকে বলেছি যে তোমায় দেখেছি, মা। আমাকে সাহায্য করার কথাও বলেছি।
এবং নিঃসন্দেহে, পূর্বের চেয়ে ভালো দর্শক জড়ো করেছি আমরা।
- মা আমাকে মিথ্যুক বলছে। - সেটা যে উনি ভালো করেই জানে।
হ্যাঁ, কিন্তু দেখো, পত্রিকায় দেখো, মা।
"হুডিনি'র মা'য়ের কণ্ঠধ্বনি তাকে বেঁচে ফেরার রাস্তা দেখিয়েছে!"
আমি এভাবেই উল্লেখ করেছিলাম। তারমানে আমি সঠিক ছিলাম।
হ্যাঁ, যতটা সত্য ওর নাম হ্যারি হুডিনি, মা।
- আমরা ঝগড়া করছি না, মা। - ঝগড়া করছি না।
এসব শত্রুতামি তো... স্রেফ, মানুষকে দেখানোর জন্য, পাব্লিসিটি।
মানুষজন দেখতে চাই কে অধিকতর ভালো, তাই না?
এটা তো সবাই জানেই, হু?
- আহ, এটা কি ঠিক? - হ্যাঁ...
ব্রিজ থেকে কখনো লাফ দিয়েছ, ড্যাশ?
- আহ, ভালোই ধরেছ। - মনে হচ্ছে ব্রিজ লাফ এখন
পুরনো হয়ে গেছে, হ্যারি। এরপর কী হবে...
নায়াগ্রা ফল থেকে চম্পট দিবে?
দয়া করে তার সামনে এমন কিছু বলবেন না... এতে কিন্তু ওর মাথায় নতুন কিছু পেয়ে বসবে।
চিন্তা করো না, সোনা।
ও এমনিতেই ক্ষেপাচ্ছে আমাকে, হু?
আর আমি ওকে কথা দিয়েছি, আর কোনো লাফালাফি চলবে না।
ঠিক বলিনি, সোনা?
- সেটাই ভালো। - হ্যাঁ।
ঠিক মা।
আমি মরতে পারি না। শুনলে তো?
তো সান ফ্রান্সিসকো কীভাবে কাঁপাবে, হ্যারি?
'কারণ সেখানে ইতোমধ্যে ভূমিকম্প চলমান।
হু।
তুমি তো আমাকে জানোই, একটা না একটা ব্যবস্থা করেই ফেলব।
মানুষ সবসময়ই দেখতে চাইত আমি যেন মৃত্যুকে জয় করি।
কিন্তু তারা কখনোই এটা বুঝতে পারেনি যে, আমারও এটারই প্রয়োজন।
এটাকে বলে স্ট্রেট জ্যাকেট,
যা পাগলদের নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।
ঘুরাও আমাকে।
আমি চেয়েছিলাম নিজের সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে যেতে।
ঊর্ধ্বের চেয়েও ঊর্ধ্বে।
কিন্তু কেন?
আমি আসলে কী খুঁজছিলাম?
এটা আপনাকে মাথানষ্ট করে দিবে। আহ...
আহ! বেঁচে থাকার জন্য আমাকে আর
কত চেষ্টা চালানোর প্রয়োজন ছিল?
অবশ্য এতটাও কঠিন কিছু না...
কাঁধের হাড়গুলো একবার বারোটা বাজাতে পারলেই হয়ে গেলে।
যাই করি না কেন, উত্তর সবসময় একই...
এটাও পর্যাপ্ত ছিল না।
মৃত্যু থেকে পালানোর অভিনয়ে তুমি অভ্যস্ত হয়ে গেছ।
এটা ছিল একধরনের চালাকি।
কিন্তু এখন তুমি আমার সাথে চালাকি করছ।
এভাবেই তো আমি জীবিকা টানছি। এভাবেই মানুষকে আমাকে দেখতে চায়।
হ্যালো, সান ফ্রান্সিসকো।
হেই, চ্যাপলিন, তুমি এটা করতে পারবে?
আমি পালাই মৃত্যু থেকে।
সবাই কিছু না কিছু থেকে পালাতে চায়।
আমি এটা তাদের জন্যই করি।
আমি সবকিছু থেকে পালাই।
আমি অসম্ভবকে সম্ভব করি।
যখনি তারা ভাবে এই বুঝি শেষ আমি, তখনি মুক্তির দোয়ার খুলে তাদের আশ্বাস দেই
আর তারাও দেহে প্রাণ ফিরে পায়।
হ্যাঁ!
আমার কাঁধে করে আমি বয়ে বেড়াই সবার...
পাপ?
তুমি কি যিশু?
তাদের পাপকে না।
তাদের ভয়কে।
তাদের ভয়।
আমি বয়ে ভেড়াই তাদের ভয়কে।
নিজের সাথে ছলনা করো না, হ্যারি।
তুমি হয়তো মৃত্যুকে ভয় পাও না, কিন্তু বেঁচে থাকতে ঠিকই ভয় পাও।
- আহ... - বাঁচার মতো বাঁচাকে।
প্লিজ, এসব আমি পার করে এসেছি। তোমারটা তোমার কাছেই রাখো।
রসুইঘরে বসে বাসন মাজার চেয়ে বরং
মৃত্যুকে হাজারবার আলিঙ্গন করতে পছন্দ করব আমি।
এখন বলো না যে, তোমার পছন্দ ভিন্ন।
তুমি নিজেও রসুইঘর ছেড়ে খুব আরামে আছো।
- হুডিনি! - হুডিনি!
আমাকে দিয়ে কী করাতে চাও তুমি?
আমার একটা ঘর চাই। - কী যা-তা বলছ?
ব্রকলিনে তোমার এক সুবিশাল
- অঅট্টালিকা আছে। - থাকা তো হয় না কখনো।
আর যখনি থাকতে আসি, সাথে তোমার মা-ও এসে হাজির।
আমাদের জীবন স্যুটকেস আর ট্যাংকেই পার হয়ে যাচ্ছে।
তুমি নিজেই তো এতে যুক্ত হয়েছ, হানি।
আমি এসবে যুক্ত হয়নি। আমি তোমাকে চেয়েছিলাম।
হ্যারি!
মাঝেমাঝে তো মনে হয়, তুমি আমাকে প্রপোজ করেছিলে
কারণ আমি এই ট্যাংকে ঠিকঠাক ফিট হয়েছিলাম বলে।
এজন্যই কি আমরা বিয়ে করেছিলাম? কারণ আমি ট্যাংকে ঠিকঠাক ফিট হয় বলে?
আমি তো ভেবেছিলাম এসব আগেই ছেড়ে দিয়েছ।
আমিও তো ভেবেছিলাম নিজেকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়াটা আগেই ছেড়ে দিয়েছ।
তো আমি লাফ দিতে পারব না।
পানির নিচে পালাতে পারব না।
বাইরে গিয়ে নিজেকে ঝোলাতে পারব না।
করতে কী পারব আমি? হু? বলো কী করতে পারব?
- বাক্সে বন্দি করে রাখতে চাও আমায়। - বাক্সেই তো তোমার সুখ।
তারপর কোথায়, কফিনে?
ধুর, হ্যারি।
এসব নিয়ে কেন এত চিল্লাও?
জানা নেই।
আমি এক গর্দভ মেয়ে যে বিয়ে করেছিল এক ইহুদিকে।
বাবাগো বাবা!
আমার জন্য গাও। আমিই তোমার শ্রোতা।
ভাগ্য সহায় হোক।
বেস।
কোথায় ছিলে তুমি?
গীর্জায়।
গীর্জায়?
হ্যারি...
এখন থেকে...
হয় একসাথে একমনে থাকব, আর নয় আলাদা হয়ে যাব।
বুঝতে পেরেছ?
কসম করে বলছি...
বাবু, আমি আমার মা'য়ের কসম করে বলছি,
আমি আর জীবনেও নিজের জীবন বিপদে ফেলব না।
কসম বলছি।
আমি সেটা বলছি না।
আমি জানি।
আমি স্যরি, বাবু।
আমি স্যরি।
সরি।
লেডিস্ এন্ড জেন্টলম্যান, মুগ্ধতা, প্রফুল্লতা এবং রহস্যের বেড়াজালে আবদ্ধ হওয়ার জন্য
প্রস্তুত হয়ে যান।
কিন্তু প্রথমে, সুপ্রিয় সুধী,
পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি দ্যা গ্রেট হুডিনির মা এবং
দ্যা গ্রেট হুডিনির স্ত্রী'র সাথে।
তো, ওর কথামতো আমি এস্কেপ বাদ দিয়ে দেই।
পুনরায় খরগোশ গায়েবের দিকে ফিরে যাই।
আর এখন,
হাই জানান পি.টি. বারনুম এর রূপসী কন্যা
হাতিটিকে!
জেনিকে হাই জানান!
অথবা তারচেয়েও বড়সড় কিছু।
জেনি, সবাইকে হাই জানাও।
দর্শকবৃন্দ, জেনি আট ফুট লম্বা এবং
১০,০০০ পাউন্ড ওজনের।
এ এক আশ্চর্যের নাম।
অসাধারণ!
জেনি, আমায় একটা কিস দাও, দিবে তো??
আহ, লক্ষ্মী মেয়ে।
সুপ্রিয় সুধী, প্লিজ মনোযোগ সহকারে দেখুন।
আমাদের মন সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।
আজ রাতে, আমি সেই হাতিয়ারকে ব্যবহার করে
আপনাদের চোখের সামনে থেকে জেনিকে গায়েব করে দিব।
- ধন্যবাদ। - চমৎকার!
ধন্যবাদ।
বেস সবসময়ই এটা কীভাবে করেছি তা জানতে চেয়েছিল।
ধন্যবাদ।
সাথে পুরো বিশ্বও ছিল একই প্রশ্নের পেছনে।
বেশকিছু জিনিস ছিল
যা আমি বেস এর কাছে গোপন রাখতে বাধ্য ছিলাম।
হ্যালো, হ্যারি।
- হ্যালো। - দুনিয়াটা কত ছোট!
ইউরোপে আবার কবে তোমার জাদু দেখাবে?
অবচেতন মন তা জানতে চাচ্ছে।
অবচেতন মন লন্ডনে?
এবং ওয়াশিংটনেও।
আপনার ইউরোপের ভক্তবৃন্দ, আপনার ফেরার আশায় উদগ্রীব হয়ে আছে।
সম্রাটের সাথে একটা টিকেট বুক করে দিলে কেমন হবে?
জার্মান মালিকানাধীন, এবং আমাদের বলা হয়েছে
উচ্চপদস্থ এক সামরিক প্রতিনিধি জাহাজে করে ফিরে আসবে।
আর আমি যদি, আহ... প্রত্যাখ্যান করি?
তোমার ভক্তবৃন্দ তবে...
হতাশ হবে।
এক সেকেন্ড।
কেঁদো না, মা।
আমি ফিরে আসব।
ওরকমটা বলো না।
উনি ভালো থাকবে।
মা'য়ের খেয়াল রেখো, ড্যাশ।
অবশ্যই, হ্যারি। চিন্তা করিস না।
উঁচু-জাতের জার্মানদের জন্য আমি একটা শো আয়োজন করেছিলাম।
তারা ধারণা আমি জার্মান ভাষা বুঝি না।
তাই সেখানে সীমাহীন যুদ্ধ নামক কিছু নিয়ে তারা আলোচনা করছিল।
- সীমাহীন যুদ্ধ। - সীমাহীন যুদ্ধ?
হ্যাঁ, এর মানে কী?
এর মানে যুদ্ধের সময়কালে,
তাদের পূর্বানুমান অনুসারে সাবমেরিনের সাহায্যে
যাত্রীবাহী জাহাজ সহ, ব্রিটিশ জাহাজগুলো ডুবিয়ে দিবে।
যুদ্ধ তাহলে হবে?
এটা আসলে সেরকম অনুকূল কোনো পরিস্থিতি না।
যাইহোক, এখানে তো আবার ট্যুরের জন্যই এসেছ।
তাহলে হাতির জাদুটা কি আবার দেখাবে?
নাকি বিগ বেন থেকে উলটো হয়ে ঝুলবে?
আসলে, উচ্চতা নিয়ে আমার স্ত্রী'র বিদ্বেষ আছে।
লেডিস্ এন্ড জেন্টলম্যান, স্যার আর্থার এন্ড লেডি কোনান ডয়েল।
আজরাতে, আপনাদের চক্ষু দর্শনে,
ইটের এই কঠিন দেয়াল দিয়ে হাঁটার প্রস্তাব জানাচ্ছি।
এই অবকাঠামো
স্থাপন করা হয়েছে
লন্ডনের সেরা রাজমিস্ত্রি দ্বারা
অল্প কয়েকঘন্টার মধ্যে।
কী অসাধারণ কাজ করেছেন তারা।
No comments yet. Be the first to leave one.