The first 200 lines.
:: Alauddin Rasel Presents ::
দোইয়্যুনকে শেষবার যেখানে দেখেছিলে তার একটা ছবি এঁকে দিতে পারবে?
:: অনুবাদ ও সম্পাদনা - আলাউদ্দীন রাসেল ::
হেজিন!
তুমি এই মহিলাটাকে চেনো?
এটা কোথায়? তুমি ওখানে গিয়েছিলে?
স্যার, হেজিনের বিশ্রাম নেয়া দরকার।
একটু সময় দিন, প্লিজ!
হেজিন, ছবিটা আমি নিয়ে যেতে পারি?
অনেক ধন্যবাদ তোমাকে!
আমি নিশ্চিত যে, আমার ছেলে বেঁচে আছে।
এই ছবিটা তার প্রমাণ? আমি পুরোপুরি নিশ্চিত তো?
অগ্নিকাণ্ডটা এবছর গ্রীষ্মে ঘটে!
এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, গাছের পাতা মাটিতে পড়ে আছে।
এটা গতবছরের শরৎ এরও তো হতে পারে।
মাত্র কয়েকমাস আগে ওদের পরিচয় হয়েছিল।
ও হয়তো নিজের কল্পনায় যা এসেছে তাই এঁকেছে...
...কিংবা যা দেখেছে সেটা বুঝতে ওর ভুলও হতে পারে।
না, হেজিন একদম সেটাই এঁকেছে যেটা সে দেখেছে।
ওর মেধাশক্তি অনন্য!
ও 'ফটোগ্রাফিক মেমোরি'র অধিকারী...
...মানে, কোনকিছু দেখার পর মনে রাখার এবং...
...সেটা একদম নিখুঁতভাবে আঁকার ক্ষমতা রয়েছে ওর।
ড. কোহ...
হেজিনকে খুঁজে পেতে সাহায্য করায় আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ।
আপনাকে সন্দেহভাজন মনে করার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী, কিন্তু...
আপনাকে আমার ছেলের মামলাটা পুনরায় চালু করতে হবে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দোইয়্যুনের লাশ উদ্ধার করেছিলো...
...আর আপনি তার শেষকৃত্যও সম্পন্ন করেছিলেন।
আমরা এমন কোন নিখোঁজ ব্যক্তির মামলা পুনরায় চালু করতে পারবো না...
...যে কিনা ইতোমধ্যেই মারা গেছে।
কিন্তু হেজিনকে খুঁজে পাওয়ার জন্য করা ব্রেইন সিংকও কিন্তু অনুমোদিত ছিল না।
আমি বারবার নিয়ম ভঙ্গ করবো না।
ঠিক আছে তাহলে!
আপনার ছেলেকে খুঁজে পেতে চাইলে...
...আগে নিজের নিরাপত্তার ব্যাপারে ভাবা উচিত আপনার।
আমাদেরকে মূল সন্দেহভাজনের পিছু নিতে হবে।
প্লিজ কাজটা একা একা করতে যাবেন না।
আসুন, আপনাকে বাসায় পৌঁছে দেবো।
গাড়িটা দেখতে পাচ্ছেন?
ওরা আমার সহকর্মী...
..।আর ওদেরকে ওখানে আপনার সুরক্ষার জন্য দেয়া হয়েছে।
মানে আমার উপর নজর রাখার জন্য!?
হ্যাঁ, সেটাই!
আপনার সম্পর্কে আমার ধারণা যাই হোক না কেন...
...অফিসিয়ালি, আপনি এখনও জুমকি লিম মার্ডার কেসের প্রধান সন্দেহভাজন।
আশা করি ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছেন।
আচ্ছা, ড. হং-কে খুঁজে পেতে আমাকে সাহায্য করবেন, প্লিজ?
যেদিন আমাকে মার্কেটে দেখতে পেয়েছিলেন সেদিন তার সাথে আমার দেখা করার কথা ছিল।
আমি পুরোপুরি নিশ্চিত না...
...তবে এতে কোনোভাবে ড. হং এর জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এমনটা হয়ে থাকলে...
...পলাতক লোকটার ব্যাপারে হয়তো তার কাছে কোন তথ্য থাকতে পারে।
কিন্তু আমি তার সাথে যোগাযোগই করতে পারছি না।
আচ্ছা! আমি ব্যাপারটা দেখবো।
ধন্যবাদ!
খুবই হতাশাজনক!
মেয়েটা বেঁচে আছে...
...আর ড. কোহ ঝামেলা করেই যাচ্ছে।
সবচেয়ে বিরক্তিকর ব্যাপার হচ্ছে...
...ড. হং-এর কোন খোঁজই নেই!
বুঝেছি! অনেককিছু করতে হবে! দ্রুতই সব কাজ সেরে নেবো।
একজন আসে কিন্তু বের হয় তিনজন?
হ্যাঁ, তারা আলাদা আলাদা আসে কিন্তু যাওয়ার সময় একসাথে বের হয়।
- ক'টার সময়? - সম্ভবত, রাত ১০টা ২০ এর দিকে!
ধন্যবাদ!
সম্ভবত লোকগুলো সিঁড়ির পরিবর্তে লিফট ব্যবহার করেছিলো...
...কারণ তারা বেসমেন্টের পার্কিং লটের দিকে যাচ্ছিলো।
অথবা তারা হয়তো কারও সামনে পড়তে চাচ্ছিলো না।
আচ্ছা, এটা দেখো!
সন্দেহভাজনকে শেষবার ক্যামেরাতে দেখা যায় এখানে।
সে যদি গাড়ি করে আসতো, তাহলে তার সেই গাড়িতে করেই যাওয়ার কথা, তাই না?
কোথায় কোথায় ক্যামেরা আছে সেটাও নিশ্চয়ই তার জানার কথা।
তাহলে সে সরুগলি আর ফুটপাত ব্যবহার করেছে।
সবকিছু তার জানা ছিলো! কারো জবানবন্দি নেয়া হয়েছে?
কর্মচারীদের সাথে কথা হয়েছে!
পার্কিং লটের গাড়িগুলোর লাইসেন্স প্লেটও করে নেবো।
ড. হং এর ব্যাপারটা কী করবো?
- এখনও তার হদিস পাওয়া যায়নি? - না!
বিসি রিসার্চ সেন্টারে গিয়ে দেখো...
...কিছু পাওয়া যায় কিনা!
তারপর ফুটেজটা পরীক্ষার জন্য পাঠাবে।
দাঁড়াও...
আগে লাইসেন্স প্লেটগুলো দেখবো নাকি বিসি রিসার্চ সেন্টারে যাবো?
দুটোই!
জেয়ি!
দোইয়্যুন বেঁচে আছে!
এই ছবির ছেলেটা ও-ই!
এই মুহূর্তে কী করব বুঝতে পারছি না।
তোমার প্রতি ভালবাসার জন্য নাকি ওর প্রতি ভালবাসার জন্য...
...তোমার হাতটা ধরে আছি বুঝতে পারছি না।
জুনকিও কী এমনটাই ভাবতো?
আমি খুব দিশেহারা হয়ে আছি!
তুমি কীভাবে এতটা নিশ্চিত ছিলে যে, দোইয়্যুন বেঁচে আছে?
আমার মনে হয় না, তোমার স্ত্রী এর উত্তর দিতে পারবে!
ইদানীং কেমন যেনো হয়ে গেছো! এমনটা তোমার সাথে যায় না!
দোইয়্যুনকে কীভাবে খুঁজব বুঝতে পারছি না।
সব তদন্তের ক্ষেত্রেই এরকম মূহুর্ত আসে!
কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে সবকিছু উলটপালট হয়ে যায়।
আর তখনই নতুন করে আবার শুরু করতে হয়।
তাই...
...আমাদের কাছে এখন কী কী তথ্য আছে?
তোমার ছেলেকে শেষবার কোথায় জীবিত দেখেছিলে?
মানে আমার সেই বাড়িটাতে ফিরে যাওয়া উচিত?
এছাড়া আর কোন আইডিয়া আছে?
পুলিশ বাড়ির বাইরে থেকে আমার উপর নজর রাখছে।
তাহলে হয়তো তুমি কিছুই করতে পারবে না।
তোমার এখন বসে বসে কিছু সময় নষ্ট করতে হবে।
- কেউ একজন আসছে! - কে?
- এটা নার্স মনে হয়! - হ্যাঁ, তাই তো!
- হ্যালো, ম্যাডাম! - হ্যালো!
ডাক্তার সাহেব আপনাদেরকে এগুলো দিতে বলেছেন! অনেক খাটনি হচ্ছে আপনাদের।
ধন্যবাদ! এসবের প্রয়োজন ছিল না!
আপনাদের কারণে আমরা বেশ নির্বিঘ্নে থাকতে পারছি।
- কি যে বলেন! - আমরা শুধু আমাদের দায়িত্ব পালন করছি।
- আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি! - খুব ভালো লাগলো!
- নিন, কয়েকটা কমলা নিন! - অবশ্যই! অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
ধন্যবাদ!
- ওরে, ড. কোহ! আমাদের যেতে হবে! - যেহেতু আপনারা এখানেই থাকছেন...
- মাফ করবেন! - আপনারা খাবার খান কোথায়?
জলদি করো! উনার পিছু নাও!
বলো? কোহ'র বাসায় কিছু হয়েছে নাকি?
সে হঠাৎ গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যায়।
আমরা তার পিছু নিয়েছি!
সেটাই করতে থাকো! দেখো সে কী করে!
কোন সমস্যা হলে তাকে রক্ষা করবে। কিছু চোখে পড়লে আমাকে জানাবে।
ঠিক আছে!
আঁকা শেষ হলেই আমার কাছে পাঠিয়ে দেবে।
সাথে সব পুলিশ স্টেশনেও পাঠাবে।
ব্যাটার সমস্যা কী?
ওরে, ওরে! এসব কী?
বাল রে!
গত দুইদিন ধরে ড. হং এখানে আসেনি এবং কোন ফোনও করেনি।
সে এমনটা আগে কখনও করেনি।
সে কখনও দায়িত্বে অবহেলা করে না।
আমরাও তাকে নিয়ে চিন্তিত!
শেষ কবে তাকে দেখেছিলেন?
সম্ভবত সোমবার রাত ৯টায়! যখন সে বাসায় ফিরে যাচ্ছিলো।
তার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করেছিলেন?
সবকিছু প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিকই ছিলো! আমরা একে অপরকে শুভ রাত্রি বলেছিলাম।
যদি কিছু মনে না করেন, তার স্টাফ ফাইলটা দেখতে পারি?
হয়তো তার সাথে যোগাযোগ থাকা কাউকে পেয়েও যেতে পারি।
তার মায়ের সাথেই তার বেশি কথা হতো...
...কিন্তু এই কয়দিনে তিনিও তাকে দেখেন নি।
তাহলে, তার মায়ের সাথে কথা হয়েছে আপনার?
কোনভাবেই তার কোন খোঁজ পাচ্ছিলাম না তাই!
বুঝতে পেরেছি!
বাড়িটার পাশে একটা লেকও আছে।
তাই?
ওহ!
আসলে, আমি যেতে পারবো না।
তোমার যাওয়ার কথা শুনে দোইয়্যুন খুব খুশি হয়েছিল।
আমিও!
আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ল্যাবে একটা সমীক্ষা পর্যালোচনা রয়েছে।
বুঝি না আমি!
সারাক্ষণ শুধু কাজ নিয়ে পড়ে থাকো কেন?
তুমি সবকিছুর আগে এটাকে রাখো কেন?
বুঝতে পারছো না কেন?
একসময় তুমিও সারাক্ষণ তোমার গবেষণা নিয়ে পড়ে থাকতে।
হ্যাঁ, ঠিক বলেছো! পড়ে থাকতাম!
আমি এখনও সেই সময়টার কথা ভাবি...
...এবং জীবনের সেই সময়টাকে খুবই মিস করি।
কিন্তু তোমার আর দোইয়্যুনের জন্য সেটাকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তুমিও আমাদের জন্য এমনটা করতে পারবে না?
নিজের কাজকে ত্যাগ করলেই আমি একজন ভালো বাবা হয়ে যাবো না।
আমি তোমাকে কাজ ছেড়ে দিতে বলছি না।
আমি শুধু জানতে চাচ্ছি, আমাদেরকে কবে একটু সময় দেবে?
খুব শীঘ্রই! কথা দিলাম!
কিন্তু এখন পারবো না!
তোমরা দু'জন আমাকে ছাড়াই যাবে।
ওই যে দোইয়্যুন!
হেই!
- স্যরি, দেরি করে ফেললাম! - ব্যাপার না!
- তুমি নিশ্চয়ই ক্লান্ত! - আমি ঠিক আছি!
ধাক্কা দেবো?
জায়গাটা খুব সুন্দর!
আমাদেরকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ।
কষ্ট করে এতটা পথ আসার জন্য ধন্যবাদ তোমাদেরকে।
আমার মনে হয়, হেজিন এখানে আসায় দোইয়্যুন খুব খুশি হয়েছে।
মা-বাবা চলে গেলো!
- ধন্যবাদ! - আস্তে!
- আমি ধরে ফেলেছি! - ভালই দেখাচ্ছে!
- তোমরা স্ন্যাকস খাবে? - খুব মজার!
- তোমার ভাল লাগছে? - খুব ভাল লাগছে!
- হেজিন আসায় খুশি হয়েছো? - হ্যাঁ!
ড. কোহ কিছু মনে করবেন না তো?
মানে?
এই যে, আমি আর হেজিন...
...তোমাদের সাথে এখানে থাকছি।
আরে এটা কোন ব্যাপার না!
তোমরা এখানে আছো যে তা নিয়ে ভাবার মতো সময় ওর নেই।
হিংসে কীভাবে করে ও সেটাই জানে না।
মাঝেমাঝে আমি এটা ভাবি যে...
...আসলেই কী ওর মধ্যে কোন আবেগ-অনুভূতি আছে কিনা!
সে যদি একটিবারের জন্য আমাকে বুঝার চেষ্টা করতো...
...কিংবা আমার অনুভূতি নিয়ে ভাবতো।
কী দেখতে পেলে?
আমাকে ছাড়া...
...ওদেরকে একদম আদর্শ পরিবার মনে হচ্ছিলো।
এসব দ্বিধাগুলোই...
No comments yet. Be the first to leave one.