The first 200 lines.
অভিলাষ, তুমি চাইলে এখন যেতে পারো।
মানে আমি...
আমি...
তোমার কি আরো সময় লাগবে?
না... তেমন কিছু না।
আমার জন্য এসব প্রথম।
তাই আমি একটু চিন্তিত।
চিন্তার কিছু নেই।
আমিতো আর নতুন নই।
সে কি সেখানে অজ্ঞান হয়ে গেছে নাকি?
সে এখানে আসা অবধি একটা শব্দও করেনি।
চা নিন আপনারা।
আপনারা কি নিয়ে কথা বলছিলেন?
সে আমাকে বলছিলো...
তারা চেম্বারে না বসে এখানে বসলেই পারতো।
এটা কোনো ব্যাপার না।
যেখান থেকেই পাত্রী দেখতে আসুক মেখা সবাইকেই চেম্বারে বসতে বলে।
আসলে সে পাত্রের মনস্তত্ব পরীক্ষা করার চেষ্টা করে।
ডাক্তার, আমি কি.... দুঃখিত!
মেখা, আমি কি তোমাকে বিরক্ত করছি?
কী হয়েছে?
আমি এটা ভাবছি যে, এবার আমার বাবা-মা কে কি অযুহাত দেবো।
আর...
তুমি আমাকে যে সমস্যার কথা বললে...
এখনও যে তুমি ভয় পেলে তোমার মায়ের সাথে ঘুমাও...
এটা শুধুমাত্র অন্ধকার কিংবা বজ্রপাত এর ভয় না।
এটা এমন কোনো ভয় যেটা তুমি...
ছোটবেলা থেকে নিজের অজান্তে বয়ে চলেছো।
সম্ভবত তোমার বাবা মারা যাবার পর থেকে।
এসব বড় কোনো সমস্যা না।
চিন্তার কিছু নেই।
তুমি যদি নিয়মিত সেশনে আসো তাহলে আমরা এগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবো।
ঠিকআছে?
'আমরা কাল সকালে পৌঁছে যাবো।'
'কোট্টাক্কাল মিউনিসিপালিটি'
আট... চোদ্দ... বত্রিশ...
চোদ্দ আর বত্রিশ।
সেলিম....
আর্যবৈদ্যশালার পার্সেলটা পাঠিয়েছো?
আমি পাঠিয়ে দিয়েছি।
আরেকটা সমস্যা হয়েছে।
আমাদের সবগুলো পার্সেল বোম্বে আটকে আছে।
অনেকেই ফোন করে যাচ্ছে বারবার।
কোন্নগড় এর রাস্তায় কাজ চলছে।
কাজ শেষ হতে আরো দুদিন লাগবে।
তুমি কি আগে রেলওয়েতে কাজ করতে নাকি?
আরে মিয়া...
এখন ফোনেই সব তথ্য এক মিনিটে পাওয়া যায়।
সেলিম, আমি এখন তাহলে যাচ্ছি।
আচ্ছা!
সমীর, বক্সটা দে তো।
এটা না?
হ্যাঁ!
সেলিম ভাই, তাকে এর আগে এখানে দেখিনি যে?
সে কি সবসময় নিজের এসিওয়ালা দোকানেই থাকে?
দেখিসনি কারণ তুই এখানে নতুন।
সে এই বাক্স আর কার্ডবোর্ডের গন্ধ সহ্য করতে পারেনা।
এই গন্ধে আবার কি সমস্যা?
অভিলাষ....
কতদূর আগালো?
এই, সুহারা!
তুমি চাইলে এটা নিয়ে যেতে পারো।
মেয়েদের জন্য সেরা একটা সুগন্ধি।
এই...
কথা ঘোরানোর চেষ্টা করবে না।
সেখানে কি হয়েছে শুনি? আবার ঝামেলা হয়েছে?
মালিক আর কর্মচারীর মধ্যে একটু দূরত্ব থাকাই ভালো।
এতটুকু দূরত্ব ঠিকআছে?
সত্যিটা বলো আমাকে।
তুমি শুধু এইজন্য গিয়েছো কারণ সে একজন মনোবিজ্ঞানী, তাই না?
আমার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে এখন।
সময় নষ্ট করার মতো সময় নেই।
তো আমি যে কথা বলছিলাম...
কি অবস্থা আজকালকার ছেলেপেলের!
ইদানীং একদল ছেলেদের দেখা যায়
সারাদিন ফুটবলের পেছনে পড়ে থাকে।
মেসি! মেসি! মেসি!
'নেইমার, নেইমার, নেইমার' বলে চিল্লাতে থাকে!
আমাদের কি এতে লজ্জিত হওয়া উচিত না?
উচিত নয় কি?
অবশ্যই উচিত!
আমি শুনেছি, সে খুবই ভালো মেয়ে।
কিন্তু সুহারা জানলো কিভাবে?
কী?
সে জিজ্ঞেস করলো, আমি শুধুমাত্র...
মেয়েটা মনোবিজ্ঞানী বলেই দেখা করতে গিয়েছি।
মাঝেমধ্যে অনুমান সঠিক হয়ে যায়।
আবার মাঝে মাঝে কারো পাশে সারাজীবন...
পার করে দিলেও তাদেরকে চেনা যায় না।
এটা মুখ্য বিষয় নয় যে কত সময় ধরে তারা আমাদের পাশে আছে।
কিন্তু যেসব মানুষ বুঝতে পারে...
তাদের এতো সময় লাগে না।
গর্ভবতী নারীদের চিন্তা অনুযায়ী...
মায়ের সমস্ত অপেক্ষা থাকে তার অনাগত সন্তানের জন্য।
যখন বাচ্চার জন্ম হয়...
তারপর অপেক্ষা থাকে 'মা' ডাক শোনার জন্য।
যখন বাচ্চাটা বড় হয়...
তখন শুরু হয় স্কুলে ভর্তি করানোর অপেক্ষা,
স্কুল থেকে বের হবার অপেক্ষা,
প্রথম বেতন পাবার অপেক্ষা।
কারো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ডাউনলোড কিংবা আপলোডের অপেক্ষা।
চারিদিকে শুধু অপেক্ষার প্রহর।
আপনারা এখন আছেন আমার কথা শেষ হবার অপেক্ষায়।
আমাদের সমস্ত জীবনই হলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অপেক্ষার সমষ্টি।
খলিল জিবরান অপেক্ষা সম্পর্কে কি বলেছিলো, জানেন?
'আমরা সৌন্দর্যের সন্ধানে বেঁচে থাকি। যা অপেক্ষারই এক উৎকৃষ্ট রূপ।'
'প্রিয় শেরিন!'
অনুষ্ঠানের দিন তুমি জিজ্ঞেস করেছিলে
আমার কি হয়েছে।
সত্যি বলতে, আমি নিজেও জানিনা।
আমি এ ব্যাপারে অনেক ভেবেছি।
এটা জানার পর দয়া করে রাগ কোরো না।
এই!
কি হয়েছে, মা?
এটা ঠিক করতে পারছি না।
এই, সূর্য কোন দিকে উঠেছে?
তোমার জন্য একটু চা বানালাম....
আর তুমি এমনভাবে বলছো, রাধামনি!
ধরো এটা।
কিছু একটা ঝামেলা তো আছে।
বানিয়েছিস যখন দুধ চা বানাতে পারলি না?
পাচিক্কা, পৌঁছে গেছো?
আচ্ছা!
আমি কখনোই এটা বলার সাহস পাইনি, তাও তোমাকে যে...
আমাকে শিরায় শিরায় চেনে।
আর এটা ভেবেও ভয় পেতাম যে, তুমি আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেবে।
আমি...
আমি তোমাকে ভালবাসি, শেরিন।
আমার হৃদয় পূর্ণ হয়ে আছে তোমার চিন্তায়...
আর তোমার সুগন্ধে।
যদি তুমি আমাকে পছন্দ না করো তবে রাগ কোরো না।
তোমার বাবা-মা কে ও জানিও না।
কাউকে না...
তোমার, অভিলাষ!
কখন এসেছিস তুই?
এইমাত্র এলাম।
উম! হয়েছে কি?
- একটা জিনিস ফেলে গেছিলাম। - কি?
আরে ভুলে ফেলে গেছিলাম।
মনে থাকবে কি করে?
দাঁড়াও খুঁজে দেখি, কি ফেলে গেছি।
সুগন্ধি লাগাতে ভুলে গিয়েছিলি মনেহয়, তাই না?
আরে! এটা না!
সুগন্ধি!
শোন..
শেরিন এসেছে।
তাই নাকি?
পাচু গিয়ে তাকে নিয়ে এসেছে।
তুই জানিস নাকি?
তার স্বামী মারা গেছে।
সে তার মেয়েকে নিয়ে এসেছে।
একা একা বাচ্চাকে কিভাবে সামলাবে এখন?!
কিছুক্ষণ এর জন্য ভুলেই গিয়েছিলাম, সবকিছু জানার পরেও।
তাতে কি?
জানিস না, প্রভু শিবও মনে মনে মোহিনীকে চাইতো?
এখানে অনুতপ্ত হবার কিছু নেই।
সে অন্য কাউকে ভালোবাসার পরও, তুই তাকে ভালোবাসিস।
তাকে তো আর বোনের নজরে দেখতি না, তাই না?
আর এখন!
এখন সে শুধু বিবাহিত মেয়ে নয়।
সে স্বামীহারা একজন বিধবা।
কিন্তু...
এখন কি?
তুই এখনও তাকে আগের মতোই ভালোবাসিস, তাইতো?
এটা কোনো সাধারণ ভালোবাসার গল্প না।
এসব কোনো ব্যাপারই না, এমনকি...
এই ভালোবাসার জন্য স্বার্থপর হওয়াও দোষের না।
শেরিন?
তুমি শেরিন না?
হ্যাঁ!
অভিলাষ তোমার ব্যাপারে বলেছে।
তাই নাকি?
কবে এসেছো তুমি?
দুদিন হলো।
অভিলাষ...
এটাই তাহলে তোমার দুনিয়া!
আমার একটা আতর লাগবে।
ওহ হ্যাঁ।
অভিলাষ এতে বেশ অভিজ্ঞ লোক।
অভিলাষ, তাকে আতর দেখাও।
যাও...
তার সাথে যাও। সে তোমাকে দেখাবে।
মেয়েদের জন্য বিশেষ আতর এসেছে।
আমার জন্য না, এক বান্ধবীর জন্য।
সেটা ব্যাপার না।
সে তোমার জন্য সেরাটাই খুঁজে দেবে।
না, আমি এমন একটা খুঁজছি।
এইযে এটা।
দেখো...
দুটো একই।
এটাই তো!
তুমি আমাকে এমন দশটা দিতে পারবে?
একইরকম দশটা...
একদিন পরে দিলে চলবে?
মানে, অর্ডার করে এনে দিতে হবে তাই।
সমস্যা নেই। আমি এগুলো দেশের বাইরে পাঠাবো।
সে দুবাইতে থাকে।
ওহ্, তাহলে আমাকে ঠিকানা দিয়ে দাও।
আমিই পাঠিয়ে দেবো।
আমাদের কুরিয়ার সার্ভিস থেকে পাঠিয়ে দেবো।
No comments yet. Be the first to leave one.