The first 200 lines.
অনুবাদ ও সম্পাদনা জিতু বিশ্বাস
মাফ করবেন, চেয়ারটা নিতে পারি?
হ্যাঁ।
অবশ্যই।
- অনেক ধন্যবাদ। - স্বাগত।
অ্যাগনেস, সোনা, আমরা যাচ্ছি।
ওকে শোবার আগে অ্যাপল জুস দিও না কিন্তু।
- অ্যাপল জুস, হ্যাঁ। আগের রাতের মত। - হ্যাঁ, তবে অ্যাপল জুস দিও না।
- প্রচুর সুগার থাকে ওটায়। - আচ্ছা, ঠিক আছে।
বাই।
ডেরেক আর হানার রান্নার ক্লাসের গল্প শুনতে তর সইছে না।
আজকে আমরা রাভিওলি বানিয়েছি...
সম্ভবত ওর ভিতরে খানিকটা সসেজ ছিল।
তোমরা কালকে চলো না আমাদের সাথে রান্নার ক্লাসে...
কারণ কালকে ওরা নিওক্কি রান্না করবে।
যে রাভিওলিটা রান্না করতে শেখাচ্ছিল। ওহ, ঠিক।
এই চমৎকার ডিনারের মধ্যে বিরক্ত করার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।
দুটো কথা বলতে চাচ্ছিলাম। আশা করি আপনাদের রাতের ঘুম নষ্ট করিনি।
কারণ গত রাতে দরজায় যে আওয়াজটা শুনেছিলেন, ওটা আমিই করেছিলাম।
রাস্তা খুঁজে না পাওয়ায়, এখানে আসতে বেশ দেরি হয়ে গিয়েছিল, সেজন্য দু:খিত।
একে অপরের সাথে আপরা পরিচিত নই। ছুটি কাটাতে এলে এমনটাই হয়।
তবে আপনাদের সাথে পরিচিত হতে চাই, কারণ সবাইকে অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে।
আমি টোস্ট করতে চাই, আপনাদের উদ্দেশ্যে, ইতালির উদ্দেশ্যে।
খাবারের উদ্দেশ্যে, এবং অবশ্যই ভালোবাসার উদ্দেশ্যে।
- ভালোবাসার উদ্দেশ্যে! - স্যালুট!
- পর্যটকদের জন্য মনে হচ্ছে। - আমরাও তো পর্যটক।
বাবা...
- তাহলে এখানেই ঢোকা যাক। - হ্যাঁ, নাকি অন্য কোথাও যাবে?
- বাবা। - অ্যাগনেস, চিৎকার কোরো না।
- কী হয়েছে? - নিনুসকে খুঁজে পাচ্ছি না।
- ধ্যাঁত! খরগোশটার খেয়াল রাখতে পারো না? - আহ, এভাবে বোলো না তো।
ধ্যাত!
খরগোশের মত।
বাচ্চাদের পুতুল।
আচ্ছা, আসি।
- এটা উপর-নিচ হতেই থাকে। - অনেক গরম, কিন্তু আপনারা...
- দেখো, কাকে নিয়ে এসেছি। - ধন্যবাদ।
- আমার স্বামী, বিয়োর্ন। - প্যাট্রিক, দেখা হয়ে ভালো লাগলো।
- ভিলায় দেখা হয়েছিল আমাদের। - ঠিক।
- হাই, বিয়োর্ন। - হাই, কারিন।
সর্যি, নিজের পরিচয় দিতেই ভুকে গেলাম। আমি লুইস, এইযে আমার মেয়ে অ্যাগনেস।
আর তোমার নাম কী?
অ্যাবেলের কথা বলতে সমস্যা হয়।
চাপ অনুভব করলে, ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।
- না, না, কোনো চাপ নেই। - আর এটা কে?
- খরগোশটার নাম বলো। - নিনুস।
অ্যাগনেস এটা হারিয়ে ফেলেছিল। তাই, বিয়োর্ন খুঁজতে বের হয়েছিল।
- আপনি খরগোশটা খুঁজতে গেছিলেন? - হ্যাঁ।
বীরের মত কাজ করেছেন।
- ধন্যবাদ - না, না, সিরিয়াসলি বলছি। সম্মানের যোগ্য।
- বেশ, ধন্যবাদ। - স্বাগত।
তো, আপনারা লাঞ্চ করেছেন?
- আপনারা কোথায় থাকেন? - হল্যান্ড(নেদারল্যান্ডস), দক্ষিণাঞ্চলে।
- গ্রামাঞ্চলে, এলাকাটা সুন্দর। - আমিও শহরের বাইরে সময় কাটাতে ইচ্ছুক।
- প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকতে চাই। - আপনাদের আমাদের বাড়িতে আসা উচিত।
দারুণ হবে ব্যাপারটা।
নিরামিষ? বেশ, ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ।
আপনি নিরামিষভোজী?
হ্যাঁ, যদিও মাছ খাই তবে নিরামিষভোজী।
বেশ ভালো তো। আপনার কাছ থেকে শেখা উচিত আমাদের।
- পরিবেশের জন্য অনেক ভালো। - ধন্যবাদ।
অনেক ধন্যবাদ।
খুব ক্ষিধে পেয়েছে।
- সুস্বাদু মনে হচ্ছে। - হ্যাঁ, দারুণ মনে হচ্ছে। বাহ!
আমার মনে হয় ডাচ আর ড্যানিশরা অনেকটা একরকমের।
হ্যাঁ, তাহলে আমরা একই।
অনেকদিক থেকে আমার সেরকমই মনে হয়।
একইরকমের রসবোধ। একই সংস্কৃতি।
সুইডিশদের থেকে হল্যান্ডের লোকদের সাথেই আমাদের মিল বেশি।
- শুনে অনেক খুশি হলাম। - সত্যি?
সত্যি, Médecins Sans Frontières এ কাজ করার সময় আমার এক সুইডিশ সহকর্মী ছিল।
- আপনি ডাক্তার? - হ্যাঁ।
আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে বোরিং আর রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব ছিলেন উনি।
একটা কথা আছে, "আটকা পড়ে গেছি!"
গ্রীসে থাকতে একবার, আমি সবার সাথে তাল মেলাচ্ছিলাম।
- বলছিলাম, " সুপ্রভাত!" - সুপ্রভাত।
ব্রাশ করে শোবার কাপড় পরে নাও। বেশ রাত হয়ে গেছে, নাকি?
- আমাকে কি বাটনটা চাপতে হবে? - না, না, আমাকে করতে দাও।
অ্যাগনেস, এমন করলে তুমি কিন্তু পিজ্জা খেতে পাবে না।
- ক্লান্ত হয়ে পড়েছো? - হ্যাঁ।
- ঘুমানোর আগে গল্প শুনতে চায় কে? - বাবা, তিনটা গল্প শোনাবে আজকে।
পাঁতিহাসটা ঠোট দিয়ে তার চুল ধরে তাকে পুকুরে এনে ফেললো।
আর সে ডুবে গেলো।
বাচ্চারা খুশিমনে বাড়ি ফিরে গেলো। যেহেতু তারা মারা যায় নি,
হয়তো তারা জীবিত রয়েছে।
কী গল্প! ভালো করে ঘুমিও।
- লাইটটা জ্বালিয়ে রাখতে পারবে? - হ্যাঁ, অবশ্যই। ঘুমাও তাহলে।
- ভালোবাসি তোমায়। - তোমাকেও।
দেখো, কী পেয়েছি, সোনা।
আচ্ছা।
ওটা ওল্টাও।
প্রিয় লুইস, বিয়োর্ন এবং অ্যাগনেস। কেমন আছো তোমরা?
আমরা সেদিনই গল্প করছিলাম...
তোমাদের সাথে গ্রীষ্মে কাটানো দিনগুলো কতই না সুন্দর ছিল!
যদিও বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেছে,
তবুও আমরা তোমাদের ঘুরতে আসার নিমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
কী বলো তোমরা?
ডাচ গ্রামাঞ্চলে সপ্তাহান্ত কাটানো।
ভোজন, ওয়াইন আর রাস্তা দিয়ে হাঁটা।
ওহ, আর অ্যাবেলের অ্যাগনেসের কথা অনেক মনে পড়ে।
বেশ মজার। সে তাকে অনেক মিস করে।
অ্যাবেল, প্যাট্রিক আর কারিনের তরফ থেকে তোমাদের জন্য শুভকামনা।
- বেশ ভালো লাগলো এটা। - অনেক ভালো লাগলো।
মজার হবে না ব্যাপারটা?
অপরিচিত কারো সাথে একটা সপ্তাহান্ত কাটানো একটু বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে।
অ্যাগনেসের জন্য নতুন জুতো কিনতে হবে। এগুলো কেমন হবে?
হ্যাঁ।
ঠান্ডা পড়ার আগে ওর জন্য একটা জ্যাকেটও কিনতে হবে।
শুরু করো। হাত দিয়েই খাও।
ন্যাপকিন আছে বাসায়। হাতে সময়ও আছে।
সুস্বাদু মনে হচ্ছে।
টুসক্যানিতে(ইতালির একটা জায়গার নাম) পরিচয় হওয়া কয়েকজনের থেকে একটা নিমন্ত্রণ পত্র পেয়েছি।
- বেড়াতে যেতে বলেছে। - ওহ!
- বেশ, তারা কারা? ভালো লোক? - হ্যাঁ, অনেক মিষ্টি লোকজন।
হ্যাঁ, অনেক ভালো। তাছাড়া লোকটা একজন ডাক্তার।
- জানিনা যাওয়া উচিত হবে কি-না। - এবছর ইতোমধ্যে দু'বার প্লেনে চড়া হয়েছে।
- তারা কোথাকার বাসিন্দা? - হল্যান্ডের।
- তবে তো গাড়িতে করেই যেতে পারবে। - কতক্ষণ লাগবে?
- আট ঘন্টা মত। - তুমি বোধহয় সাত ঘন্টায়ই গিয়েছিলে।
- হ্যাঁ, মনে হয় সাত ঘন্টা লেগেছিল। - সেটা ব্যাপার না।
- তুমি সহজেই করতে পারবে এটা। - হ্যাঁ, আমরা নাহয় রাতে রওয়ানা দিলাম।
বিদেশে বন্ধুবান্ধব থাকলে মন্দ হয় না।
তাছাড়া না গেলে কেমন দেখায়।
হোটেলে বেশ মজা করেছি আমরা আর তাদের অ্যাগনেসের বয়সী একটা ছেলেও আছে।
- দারুণ শোনাচ্ছে। - হ্যাঁ, সেটাই মনে হচ্ছে...
- সবচেয়ে খারাপ কি-ই বা হতে পারে। - সেটাই।
মনে হয় এসে পড়েছি।
এসে পড়েছি, মামণি।
হ্যাঁ, তোমরা আসতে পেরেছো!
- শেষমেশ, হ্যাঁ। - হ্যাঁ, হ্যাঁ।
- হেই। - হাই।
- আবার দেখা হয়ে খুব ভালো লাগছে। - হেই, ভাই।
- কী সুন্দর জায়গা! ধন্যবাদ।
ওহ না, চাইলে ওটা পড়ে থাকতে পারো। বা চাইলে খুলেও ফেলতে পারো।
- যেটা ভালো লাগে। - ধন্যবাদ।
- কোটটা দাও। - ধন্যবাদ।
- অগোছালোর জন্য দু:খিত। - কোনো ব্যাপার না।
আরও অগোছালো হবে। চলে এসো!
- ভিতরে আসো। - ওহ, খুব আরামদায়ক।
- আমাদের এমনই ভালো লাগে। - ছোট্ট তওফা নিয়ে এসেছি।
- ডেনমার্কের স্মারক। - লুইস কিনেছে এটা।
ধন্যবাদ!
- অ্যাবেল কোথায়। - নিচে সম্ভবত।
ও সারাদিন ধরে রান্নায় ব্যাস্ত। জংলি শূকর রান্না করছে।
বাহ।
- এসো, এটা তোমাদের রুম। - বাহ।
দারুণ তো।
- বিয়োর্ন, বিয়ার পান করতে চাও? হ্যাঁ।
- তোমাকে আমার পুল দেখাতে চাই। - পুলও আছে?
- অ্যাবেলকে হ্যালো বলবে না? - হাই, অ্যাবেল।
- ওর আমার কথা মনে নেই। - অবশ্যই আছে, স্রেফ লজ্জা পাচ্ছে।
দেখো, অ্যাগনেস। তোমার জন্য বিছানা প্রস্তুত করেছি।
- পছন্দ হয়েছে? - হ্যাঁ, ওর পছন্দ হয়েছে।
পরে সামলে নেওয়া যাবে, সোনা।
উপহারের কথা ভুলেই গেছিলাম। দু:খিত।
সমস্যা নেই।
বাহ, কফি কাপ। খুব সুন্দর।
- হ্যাঁ? - হ্যাঁ।
আর...জলপরী?
হ্যাঁ, এটা ডেনমার্কের প্রতিনিধিত্ব করে।
এটা সেই ছোট্ট জলপরী! আমি জানি এর ব্যাপারে।
শুনেছি এটা অনেক ছোট আর হতাশাজনক।
আসলে এটার ব্যাপারে অনেক কাহিনি আছে যা সত্যিই সুন্দর।
আর কী সুন্দর জানো? লুইস।
- এটা আপনার জন্য। - না, না, ঠিক আছে।
আপনাকে খেতে হবে... খেতেই হবে।
- না, থাক... - এটা আমার রোস্টের প্রিয় অংশ।
এটা সুস্বাদু। একইসাথে মচমচে এবং নরম।
যদি...
হ্যাঁ!
অল্প একটু নাও, সোনা।
- সুস্বাদু না? - অনেক।
ওহ, হাই, অ্যাবেল।
ভাগ্য ভালো যে সাথে জিপিএস ছিল, নাহলে কমপক্ষে ২০ বার রাস্তা হারাতাম।
- আমি সামলে নিয়েছিলাম। - না, জিপিএস সামলে নিয়েছিল।
আমি নিয়েছিলাম।
গাড়িতেও একটা মানচিত্র ছিল আমাদের।
এটা হতাশাজনক যে কিভাবে আমরা জীবনে চলার পথে পথ হারিয়ে ফেলি...
কারণ আমরা সব দ্বায়িত্ব প্রযুক্তির হাতে ন্যাস্ত করে দিই।
একদম সত্য কথা।
মানে, আজকাল কেউ মানচিত্র পড়তে পারে না।
এটা মানতে হবে যে গাড়িতে চড়ার সময়...
জিপিএস আর সব মডার্ণ জিনিস ব্যাবহার করা...
আমি মাঝেমধ্যে এটা বন্ধ করে দিতে চাই।
- যেটা তুমি বলছিলে, প্যাট্রিক... - ও ঠিক আছে তো?
ও ঠিক আছে। ঠিক আছে।
এক মিনিটের মধ্যে ঘুমিয়ে যাবে।
মাঝেমধ্যে এমন করে। ওর রোগের জন্য এমন হয়।
আচ্ছা, রোগটা কী?
অ্যাবেলের "কনজেনিটাল অ্যাগ্লোসিয়া" আছে।
মানে ও অনেকটা জিহ্বা ছাড়াই জন্মেছে...
বা বলা যায় ওর জিহ্বা আমার আর আপনারটার থেকে বেশ ছোট।
- ওর কী ব্যাথা লাগে? - না, না, ব্যাথা লাগে না।
অন্যদেরকে মনের কথা বোঝাতে মাঝেমধ্যে সমস্যা হয়, ব্যাস।
তবে ও যা বলে সবটাই আমি বুঝি।
- ও ঘুমিয়েছিল? - না।
- বাবা, লাইটটা জ্বালিয়ে রাখতে পারবে? - না, এখন আমাদের ঘুমাতে হবে।
মা-বাবার সাথেই তো ঘুমাচ্ছো। ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
আমাদের খানিকটা মানিয়ে নিতে হবে, বুঝলে মামণি?
No comments yet. Be the first to leave one.