The first 200 lines.
টেইলরঃ প্রতিবেশীরা স্বামী- স্ত্রীকে চেঁচামেচি করতে শুনেছিলো। ঘন্টাদুয়েক যাবত।
এরপর বন্দুকের শব্দ হয়।
দ্বি- ব্যারেল।
রাগের বশে খুন।
হুম...
ঐ দেখো, সব রাগ ওই দেয়ালে ছড়িয়ে আছে।
টেইলরঃ হ্যাঁ । তবে দেখার তেমন কিছু নেই । শুধু কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি।
এদের বাচ্চাটা কি কিছু দেখেছে?
টেইলরঃ কী?
বাচ্চাটা...।
এ কেমন বালের প্রশ্ন তোমার?
বুঝলে সমারসেট, তোমার অবসরে আমরা সত্যিই খুব আনন্দিত হব।
সবসময় এমন ফালতু প্রশ্নই করো তুমি। বাচ্চাটা দেখেছে কিনা? ধুর।
এত ভাবার আছেটা কী? লোকটাকে মেরেছে তার বউ।
আমাদের আর কিছু করার নেই।
আপনি গোয়েন্দা সমারসেট?
আমি গোয়েন্দা মিলস।
মিলসঃ লেফটেন্যান্ট, তদন্তের মাঝে বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত।
...আমি মাত্র বিশ মিনিট আগে শহরে এসেছি। ওরা আমাকে এখানে নামিয়ে দিল।
দেখো, অ্যাঁ...
মিলস...?
আমি ভেবেছিলাম, আমরা প্রথমে কোথাও বসে একটু কথাবার্তা বলব...
আমি খুনের জায়গাটা দেখতে চাচ্ছিলাম।
তুমি তো জানোই, এখন ওসবের সময় নেই।
আমরা যখন ফোনে কথা বলেছিলাম, আমি কিছু জানতে চেয়েছিলাম।
হ্যাঁ।
এখানে আসার কারণ?
মানে?
অর্থাৎ, আমার এতদিনের পরিশ্রমের ফল শূণ্য।
এই প্রশ্নটাই আমার মনে সবার আগে এসেছিল।
আমারও অনুমান সেটা।
অথবা, তোমার অবসর নেবার কারণও সেটাই। তাই না?
সদ্যপরিচিতকে এসব কিভাবে বলো!
হয়তো আমি তোমার প্রশ্নগুলো বুঝতেই পারছি না।
আমি সোজাসুজিই বলছি।
তুমি আমার জায়গাটা নেবার জন্য রীতিমত যুদ্ধ করে এসেছো।
আমি এমনটা কাউকে করতে দেখিনি।
দেখো, আমি ভেবেছিলাম, হয়তো আমি এখানে ভালো কিছু করব।
ভালো হয়, যদি আমরা পরস্পরকে এভাবে খোঁচানোটা বন্ধ করি।
- লেফটেন্যান্ট, তুমি তাহলে সব দায়িত্ব নিজের হাতেই রেখে দেবে? - হ্যাঁ ।
তুমি যা- ই করো, আমার কথা মেনে চলবে । ঠিক আছে?
আমি তোমার কাজের জায়গা দখল করে রাখিনি।
- আমি খুন নিয়ে পাঁচ বছর কাজ করেছি। - কিন্তু এখানে করোনি।
জানি।
যাই হোক, পরবর্তী সাত দিন এই ব্যাপারটা মাথায় রেখো, ঠিক আছে গোয়েন্দা সাহেব?
আরে আরে, আমি তো প্রায় মরতে বসেছিলাম!
হ্যালো? হুম।
আচ্ছা।
আবার বলো।
ট্রেসিঃ আমি ভেবেছিলাম, এখানে এসে এসব দৌড়ঝাঁপ থামবে।
তোমার গোয়েন্দাকে যেতে হবে গো।
হুম। কিন্তু চোখের পিঁচুটি পরিষ্কার করো!
এই চোখে, গোয়েন্দা সাহেব।
- যাই তবে? - আচ্ছা।
লক্ষী মেয়ে।
কফি? খাবে না?
ডেভিসঃ কোনো কিছুই ছুঁই নি। যেভাবে ছিল ঠিক সেভাবেই আছে।
সমারসেটঃ খুনটা কখন হয়েছিল?
ডেভিসঃ আমি তো বললামই যে...
...আমি কিছু ছুঁই নি।
ডেভিসঃ লাশের মুখটা গত পঁয়তাল্লিশ মিনিট ধরে স্পেগেত্তির প্লেটে উপুড় হয়ে আছে।
এক মিনিট। সত্যিই মরেছে কি না, পরখ করতে পারতেন তো।
ডেভিসঃ সোজা কথা বোঝেন না?
এই লোকের শ্বাস- প্রশ্বাস অনেক আগেই থেমে গেছে।
মিলসঃ কাজের কি ধারা! ডেভিসঃ দেখুন, গোয়েন্দা...
...লাশটা তাঁর নিজের পেশাব-পায়খানার গাদার উপর বসে আছে।
কাজেই যদি বেঁচেই থাকতো, এতক্ষণে উঠে দাঁড়াত।
- ঠিক আছে। ধন্যবাদ অফিসার। - আচ্ছা।
ধন্যবাদ।
অবাক হচ্ছি।
এইসব কথাবার্তা দিয়ে আসলে কি বোঝাতে চাচ্ছিলে?
মিলসঃ জানি না।
মৃতদেহ মানেই যে সে মৃত, তার নিশ্চয়তা কী?
বাদ দাও।
উফ!
কেউ গিনেজ বুকের কাছে ফোন করো। এখানে একটা বিশাল রেকর্ড সৃষ্টি হয়ে গেছে!
ধূর, এর থেকে বাসায় বসে থাক ভাল।
উফ!
কিভাবে বুঝলে এটা খুন?
বোঝার কিছু নেই।
এই লোকের হৃদপিণ্ড আকারে বেশ বড় হওয়ার কথা।
এটা যদি বড়সড় না হয়...হা হা... আমি জানি না।
উপস!
ওটার সম্পর্কে কী বলবে?
আমি আগে এরকম একটা কেস পেয়েছিলাম।
লোকটা মরে পড়ে ছিল।
পিঠে চাকু গাঁথা ছিল।
তাহলে এটা খুন, নাকি?
বাল!
হয়ত অনেক টাকার একটা ইনস্যুরেন্স এই ঘটনার পিছে আছে।
অর্থাৎ, সে ধারালো কিছুর দিয়ে নিজেকে আঘাত করেছে, যেটা তার ঘাড়ে আটকে আছে।
সে নিশ্চয়ই মদ খেয়েছিল। কারণ, পিছনে অমন আরো অনেকগুলো আঘাত আছে।
তুমি দয়া করে চুপ করবে?
মিলসঃ এক মিনিট!
কী?
এখানে একটা বালতি আছে।
কি আছে ওটাতে?
ছিঃ!
হায় খোদা!
বমি দিয়ে ভর্তি এটা। ধূর বাল!
দেখো তো, ওটাতে রক্ত-টক্ত কিছু আছে কি না?
আমি কিছু দেখিনি। ইচ্ছে হলে নিজে দেখ।
বিষ দিয়ে খুন, সেরকম ভাবছো?
ও'নীলঃ ওরে শালা! ভয়ানক অবস্থা।
সমারসেট, বিষজাতীয় কিছু ভাবছ?
ফরেনসিক ডাক্তাররা বাইরে বসে আছে। ওরাই বের করুক সেটা।
- সবাই এখানে একসাথে ঢোকা যাবে না। - এখানে জায়গা আছে। সমস্যা আলো নিয়ে।
- আরে, কি খবর? - এইতো।
গোয়েন্দা মিলস, আপনি কি প্রতিবেশীদের জেরা করার ব্যাপারে অফিসারদের সাহায্য করবেন?
- কী? - বের হওয়ার সময় ফরেনসিকদের ভেতরে পাঠিও।
সে নিশ্চিতভাবেই মৃত।
ধন্যবাদ।
তুমি আমার ফাইল দেখেছ, তাই না? তুমি দেখে নিয়েছ আমার অতীত রেকর্ড।
না।
আমি নানান জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি এবং মারপিট করে বেড়িয়েছি।
এইসব কুকাজ বহুদিন করে বেড়িয়েছি আমি।
আর?
আমার বেল্টের ব্যাজে লেখা "গোয়েন্দা"। তোমারটাতেও তা- ই।
আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সবকিছু ভেবেচিন্তেই কাজ করব আমি।
তুমি কোথায় কি করেছ তা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যাথা নেই।
শোনো...
...আমাকে নিয়ে এত টানাহেঁচড়া কোরো না। এটাই আমার চাওয়া।
ডা. সান্টিয়াগোঃ সে অনেকক্ষণ যাবত মৃত।
এবং আমি বলে দিতে পারি, এটা কোনো বিষের কাজ নয়।
মিলসঃ ধেত্তেরি!
কিভাবে কেউ এমনটা করতে পারে?
লাশটা এখানে নিয়ে আসতে চারজন লেগেছে।
এই মোটকু হারামিকে দরজা দিয়ে বের করল কেমনে?
প্লিজ, মরা মানুষকে অসম্মান করতে নেই।
এই যে, এটা দেখো।
পাকস্থলীটা বেশ বড়।
এবং বিস্ময়কর হচ্ছে, এটা রাবারের মত বাড়তে পারত।
কার্ডিয়াক অরিফাইস এর দিকে লক্ষ্য করো। যেখানে খাবার...
দাঁড়াও, তুমি কি বোঝাতে চাইছ তা বুঝেছি। কিন্তু এটার তেমন গুরুত্ব আমার কাছে নেই।
ঠিক আছে। ক্ষুদ্রান্তের ওখানে কিছু স্ফীত দাগ আছে।
এবং এর ভিতরের দেয়ালটা চিরে ফেটে গেছে।
মানে, এ লোক পেট ফেটে যাওয়ার আগ পর্যন্ত খেয়েই গেছে?
উঁহু, ওভাবে বলা যাবে না আসলে।
এটার ভিতরে রক্তপাত হচ্ছিলো।
এবং মলদ্বার আর ট্রান্সভার্স অ্যাবডোমিনাল পেশীতে রক্ত ছিল।
তাহলে সে অবশ্যই বেশি খাওয়ার ফলেই মরেছে।
হ্যাঁ, এবং, না।
এখানকার এই কালশিটে ক্ষতগুলো কিসের?
আসলে, ওদিকটা এখনো পরীক্ষা করিনি।
মাথায় গুলি চালানো হয়েছিল?
অবশ্যই, খুব কাছ থেকে আঘাত করেছে।
শালার... হুম।
সামনের দিকটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। মাংসে পিস্তলের মাজলের দাগ।
অতএব, এটি একটি হত্যা।
সমারসেটঃ খুনী প্রথমে লোকটার নিচে একটা বালতি রেখেছে, এবং তারপর তাকে খাইয়েই যাচ্ছিলো।
যথেষ্ট সময় পেয়েছে এসব করার।
ময়নাতদন্তকারী বলছে, এই ঘটনা প্রায় বারো ঘন্টা আগের।
লাশের গলা ফুলে গিয়েছিল, সম্ভবত ধ্বস্তাধস্তির কারণে।
কিন্তু ঠিক কোন মুহূর্তটায় এবং কোন কারণে সে মারা গেছে, তার নিশ্চয়ই কোনো ব্যাখ্যা আছে।
হ্যাঁ। যখন খুনী তাকে লাথি দিয়েছে, তখনই তার পাকস্থলী ফেটে গেছে।
উফ! খুনীটা আসলেই হারামজাদা, তাই না?
কাউকে খুন করতে চাইলে, তার কাছে যেয়ে গুলি করলেই হয়ে যায়।
...সেখানে এত কিছু কেন করবে সে?
- নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। - কী মুশকিল!
দেখো, খুনীর হয়তো মোটা মানুষের প্রতি আলাদা ক্ষোভ আছে। তাই এত অত্যাচার করেছে।
অনেক সোজা ব্যাখ্যা।
বাজারের ব্যাগে আমরা দুটো রশিদ পেয়েছি।
তার মানে, খুনী কাজের মাঝপথে তাঁর কাজ বন্ধ রেখেছিল...
...এবং দ্বিতীয়বারের মত বাজারে গিয়েছিল।
তো?
ভাইরে, এটা তার ব্যাপার। আমি তো সারাটা দিন বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছি।
এটা খুনের সূচনা।
আমরা একটাই লাশ পেয়েছি। তিনটা না।
কোনো মোটিভ নেই।
তোমার ঐ সুদক্ষ মগজ দিয়ে এসব ভাবতে হবে না, ঠিক আছে?
প্লিজ, আমি কাজটায় পুনঃনিয়োগ পেতে চাই।
- কী?! - কী?!
- কী? - কী বলো এসব!
এটা আমার শেষ কাজ হতে পারে না।
এরকম খুন চলতেই থাকবে, চলতেই থাকবে...
কিন্তু তুমি অবসর নিচ্ছ।
আর মাত্র ছয়টা দিন বাকি অবসরের, অথচ বহুদূর ভেবে ফেলেছ।
দেখো, এটা তো তোমার একমাত্র অসমাপ্ত কেস নয়...
ওই অসমাপ্ত কেসগুলোও যতদূর সম্ভব, আমি সমাধান করেছিলাম।
আমি একটা কথা বলি?
ক্যাপ্টেনঃ বলো, অসুবিধা নেই। আমরা সবাই এখানে বন্ধুর মত।
- ওকে প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে এ কেসটা দিও না। - হুহ!! আমি জানতাম তুমি এটা বলবে।
এটা আমার প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট নয়, বুঝলে হে?
শুরুতেই এরকম কেস, ওর জন্য একটু কঠিন হয়ে যাবে।
আমি তো এখানেই আছি। কি বাল বলবে সরাসরি আমাকেই বলো না কেন?
- ক্যাপ্টেন... - তোমার জন্য এটা অনেক কঠিন হবে।
ক্যাপ্টেন, আমরা কি একটু আলাদাভাবে কথা বলতে পারি?
এভাবে কাজ হবে না।
- হয়তো... - দাঁড়াও, মিলস।
তুমি খুব ভাল করেই জানো, এটার দায়িত্ব দেবার মত আর কেউ নেই আমার হাতে।
তবু এই শহরটা ছোট নয়। ওর বদলে আর কাউকে পেয়ে যাব।
এটা আমাকেই দিতে হবে।
- কি বললে? - হ্যাঁ, ও এটা চায় না, তবুও। যত্তসব বাল।
দুঃখিত, কিন্তু পরে দেখা হবে। ভালো থাকো।
- এটা আমাকে দাও। - না, আমি তোমাকে অন্য কোনো কেস দেব।
চলে যাও, মিলস।
যাও...!
আমি দুঃখিত, বৃদ্ধ বন্ধু।
কিন্তু মনে হচ্ছে, মোটা লোকটাকে পরিষ্কার করতে করতে হাঁপিয়ে গেছ।
No comments yet. Be the first to leave one.