The first 200 lines.
অনুবাদ ও সম্পাদনা মোহাম্মদ ইউসুফ
'এই সিনেমার কোন চরিত্রই কোন বিশেষ ধর্ম কিংবা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করছে না।'
'উনাদের চিন্তাচেতনা তাদের চরিত্র অনুসারে উপস্থাপন করা হয়েছে।'
'এই চলচ্চিত্র সকল ধর্মের বিশ্বাসকে সম্মান করে।'
'কোন ধর্ম কিংবা সম্প্রদায়ের বিশ্বাসে আঘাত করা এই চলচ্চিত্রের উদ্দেশ্য নয়।'
- এখানে নুকতা লাগালে কী হয়? - 'খোদা'!
- আর, এখানে যদি নুকতা লাগাই তো? - 'জুদা'! (বিচ্ছিন্ন)
"সবাই এসেছে রে একই জায়গা থেকে!"
"একই পথের পথিক হওয়ার জন্য রে!"
"পথের মাঝে ভুলের চক্করে"
"কারো পথ আলাদা হয়ে যায়রে!"
"কোত্থেকে এসেছিস, কোথায় যাবি?"
"তোর জানা উচিৎ সবার আগে!"
"কোন গুরুকে খোঁজ পথের হদিশ পাওয়ার জন্য!"
"যেন তোর আত্মা পায় স্বর্গের খোঁজ!"
"ভুলে যারে সকল বিভেদ!"
"আরে, হিন্দু মুসলিম দুজনেই ভাইরে..."
"করছে রায়ট দুন্ধুমার!"
"আরে, হিন্দু মুসলিম দুজনেই ভাইরে..."
"করছে রায়ট দুন্ধুমার!"
"আরে, ধ্যানী, ধনী, গরীব লোকে..."
"লোভের সাগরে ডুবছে রে!"
"সবাই লোভের সাগরে ডুবছে রে!"
"কোত্থেকে এসেছিস তুই, কোথায় যাবি দিনশেষে?"
"এটাই তোর যে জানা দরকার সবকিছুকে পেছনে ফেলে!"
"কোন গুরুকে খোঁজ পথের হদিশ পাওয়ার জন্য!"
"যেন তোর আত্মা পায় স্বর্গের খোঁজ!"
"ভুলে যারে সকল বিভেদ!"
আসুন আসুন! সুলভ মূল্যে কাপড় কিনুন!
এই সকল লোক মুসলিম হওয়ার কারণে অনেকের চোখে অপরাধী, শহীদ মিয়া!
আফসোস, ওরা কেউ অপরাধী নয়!
শরীরের উপরে পাঞ্জাবি আর শরীরের নিচে পাঞ্জাবি পরা...
মাথায় ১২ রুপির টুপি পরা...
প্রত্যেক জুম্মাহবারে নামাজে ভিড়ের মধ্যে রাস্তায় নামাজ পড়লেই..
কেউ মুসলমান হয়ে যায় না।
মা বাবা তাদের বাচ্চাদের কোরানের আরবি সূরা মুখস্ত করায়।
অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন মনে করে না।
যদি বুঝিয়ে দিতো...
আজ মুসলমানদের এই হাল হতো না।
আমরা যার যার জায়গা থেকে লড়াই করে যাচ্ছি...
এবং, লড়াই করে যাবো।
আল্লাহর ইচ্ছায় একদিন আমাদের লক্ষ্য পূরণ করবো।
আল্লাহর ইচ্ছায়।
'বলো হরি...'
'হরি বোল'
'বলো হরি...'
'হরি বোল'
'বলো হরি...'
'হরি বোল'
'বলো হরি...'
'হরি বোল'
'বলো হরি...'
'হরি বোল'
'বলো হরি...'
'হরি বোল'
'বলো হরি...'
'হরি বোল'
'অই মোটু, থাম!"
'শুভ সকাল, বারানসি!"
'আমি আপনাদের আদরের আরজে প্রেমা!"
'তো, শুনুন আজকের শোয়ের প্রথম গানটি!"
সারাটারাত ধরে বাইকে করে এখানে ওখানে ঘুরিস আজকাল।
এসব বন্ধ করে চুপচাপ দোকানে বসে দোকানদারী কর, নয়তো বের হয়ে যা বাড়ি থেকে।
আমি "পান" বেচতে পারবো না।
পান বেচবি নাতো কি সোনা বেচবি?
বাপ সারাদিন খেটে হাড্ডি ক্ষয় করে ফেলছে...
আর, ছেলে সারাদিন টইটই করে এখানে ওখানে ঘুরে বেড়ায়!
এখানে কী করছেন, শংকর বাবু?
ভারতের মাটি আবর্জনামুক্ত করছি।
- চুপ! - আম্মাকে কিন্তু বলে দেবো যে আমাকে মারছেন আপনি!
আরে, যাই করিস তোর মাকে বলিস না!
আরে, শংকর!
তুমি তো দিনদিন তোমার ছেলের চেয়েও জোয়ান হয়ে যাচ্ছো!
তোমার চেহারাও দিনদিন সুদর্শন হয়ে যাচ্ছে, লালন বাবু!
আজ দেরি করে দোকান খুলছো?
আরে, উকিল সাহেবও দেখছি চলে এসেছে!
- অই ছোটকান, আমি এসেছি! - রাম রাম!
কানহাইয়া সাহেব, রাম রাম!
- স্লামালাইকুম! - ওয়ালাইকুম আসসালাম!
- তোমার গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ নিয়ে এসেছি আজকে! - আচ্ছা!
শুনো কী করতে হবে। দিনে চারবার চারটা ট্যাবলেট খাবে।
- বুঝেছো? - চারবার।
এই যে নেন, চা।
জি।
১০০ রুপি বাজি ধরবে নাকি?
কিসের জন্য?
অস্ট্রেলিয়া কাল ভারতকে হারাবে।
ভারত হারতেই পারে না!
- উকিল সাহেব! - আসুন, চৌবে সাহেব!
এই লালনের সাথে কখনও বাজী ধরবেন না।
এই ব্যাটা কখনোই বাজীতে হারে না!
- স্লামালাইকুম! - কে রে ভাই?
আরে, সকাল সকাল এত রুটি নিয়ে আসলে, ফরহাদ!
- সন্ধ্যায় খাওয়ার জন্য? - আসলে...
পান মুখ থেকে ফেলো আগে!
- সে বলছে, চাচীর নাকি লাগবে! - পান খাও ভালো করে!
সন্ধ্যার নাশতার জন্য পরে আরো গরম গরম রুটি আনবো আমি!
আয়াত?
আয়াত?
- রাশীদ? - রান্নাঘরে রুটিগুলো রাখো।
জি জি!
- আরে, রাশীদ? - হুম?
রুটি রাখার আগে পত্রিকার কাগজ বিছিয়ে নাও।
- একটা কথা বলি? - বলো?
যখন নাচো তখন তোমাকে কেমন যেন চেনা যায় না!
আচ্ছা? তোমার কোনটা ভালো লাগে? আমাকে নাকি আমার নাচকে?
আমি তো তোমার প্রতিবেশী তারান্নুমকেও পছন্দ করি!
- একটা কথা বলি? - আয়াত!
চাচা চলে এসেছে! আসি এবার!
জন্মদিনে তোমাকে যে গোলাপি ড্রেসটা দিয়েছিলাম সেটা পরো!
- তোমাকে ওই পোশাকে অনেক সুন্দর লাগে দেখতে! - আয়াত!
- রাশীদ! - সালাম, চাচী!
- তোর মাকে বলিস সন্ধ্যায় বড় ডেকচিটা নিয়ে আসতে! - জি, বলবো!
আয়াত, তোর মা কোথায়?
নিচে আসার জন্যও কি তাকে এখন দাওয়াত দেওয়া লাগবে?
- এসেছেন আপনি! - হুম, এসেছি!
- ঘড়ি দেখেছেন? - কেন?
নামাজ পড়ে তো সোজা চলে আসলাম!
নিশ্চয়ই রাস্তার মাঝখানে কানহাইয়ার দোকানে আয়েশ করে চা খেয়েছেন আর গল্পগুজব করে এসেছেন?
- ওহ! - স্লামালাইকুম!
সেলিম মিয়া, জলদি করো না?
কয়েকজন বন্ধু মিলে একটু চা খাই আর সুখ দুঃখের গল্প করি?
ওটা বুঝি তোমার সহ্য হয় না?
যদি সহ্য করতে না পারতাম...
আপনার জীবন এতদিনে জাহান্নাম বানিয়ে ফেলতাম।
এভাবে বলো না, তাবাসসুম বিবি!
নয়তো, আবারও তোমায় বিয়ে করে ফেলবো!
বয়স ৬৫ হয়েছে!
- আর, এখন বিয়ে করতে চাচ্ছেন? - তো, কী হয়েছে?
- ছোট তাবাসসুম! - আসছি ভাবী
পাখিকে খাওয়ানো ছাড়া তোমার কোন কাজ নেই?
সন্ধ্যায় খানাদানার বন্দোবস্ত করার জন্য কতকিছু করতে হবে!
এত গোশত কেনার পয়সা কোত্থেকে আসবে?
আরে, পয়সার চিন্তা করো না!
মানে?
যখন পকেটে পয়সাই নেই...
তখন চিন্তা করবো কোন দুঃখে?
আসছি, ভাবীজান!
আমি বাজারের ফর্দ বানাচ্ছিলাম!
শহীদ কোথায়? বাত্তি তো লাগাতে হবে!
ও তো সারারাত শংকর ভাইয়ার টিভি মেরামত করছিল!
জানি না ও কোথায়!
- আচ্ছা, কতজন মেহমান আসবে? - ৭২।
৭২ জন!
আরে, এত লোক তো আমাদের বিয়ের সময়েও আসেনি!
আসসালামু আলাইকুম, ভাবীজান!
- ওয়ালাইকুম! - দেখো দেখো! পেঁয়াজ কত মোটা করে কেটেছে!
পেঁয়াজ তুমি কেটেছ?
ভাবী, কত কেজি মাংস লাগবে?
ওকে বলো, ৩০ কেজি আনতে।
বাচ্চাদের তো গুনিনি। মাংস কম যেন না হয়!
যখনই রান্না করি, সবসময়ই কম পড়ে যায়!
৪০ কেজি আনলে মনে হয় ভালো হবে।
৩০ কেজি!
খাবার নষ্ট করে তো লাভ নেই, না?
- ৩০ কেজিতেই হয়ে যাওয়া উচিৎ! - আচ্ছা, ৩০ কেজিই আনছি।
৩০ কেজিই আনবো।
এটা রাখো।
- আরে, নাহ! - ধার হিসেবে নাও, পরে নাহয় দিয়ে দিও!
- স্লামালাইকুম! - ওয়ালাইকুম আসসালাম!
আফতাব ভাইয়ের কল এসেছিল রাতে।
বললো, সকাল সকাল এয়ারপোর্ট চলে যেতে।
- আরতী ভাবী নাকি আসছে লন্ডন থেকে আমাদের সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য? - আরতী?
- আরতী! - দেখো কে এসেছে!
- স্লামালাইকুম, কেমন আছেন আপনি? - আল্লাহ তোমার ভালো করুক!
- আরে! - বেঁচে থাকো, মা!
- আফতাব কোথায়? - আফতাব তো জার্মানিতে।
আমি একাই এসেছি!
- আমাদের ফোন করলেই তো পারতে! - ভালোই সারপ্রাইজ দিয়েছ আমাদেরকে!
- সারপ্রাইজ কেমন লাগলো? - আরে, যখন তোমায় দেখলাম..
আমাদেরকে না জানিয়ে আসার জন্য এতগুলো বকা দিতে ইচ্ছে করছিল...
কিন্তু, সামনা সামনি তোমাকে দেখে দিলটা খোশ হয়ে গেল! খুব খুশি হয়েছি!
- আসো, আমার কাছে আসো! - বাহ!
আপনার বয়স ৬৫ হয়েছে এখন!
রাগ কীভাবে করতে পারেন আপনি? আপনার জন্য উপহার এনেছি!
আমার জন্য কী এনেছ?
আপনার জন্য পারফিউম এনেছি!
সন্ধ্যায় কিন্তু লাগাবেন গায়ে!
- স্লামালাইকুম! - ওয়ালাইকুম আসসালাম!
আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে ওজন কমিয়েছেন!
আরে, ওজন তো আমারও কমেছে!
হুম, আপনার তো চুলও পরে গেছে!
দেখো কী বলে!
যা, চা নিয়ে আয়।
তিন কাপ চা আনো।
কী? মাংস কেন আনবে?
- মেহমান কী এসে মুড়ি খাবে? - সেটাও তো কথা!
- যাও যাও! - ৪০ কেজি আনবো, তাই না?
৩০!
- জি, ৩০! - কানে মনে হয় কম শোনে!
৩০!
বিলাল চাচা!
হ্যাঁ, আসো আসো!
বিলাল চাচা!
- আমাদেরকে রাস্তার মোড়ে নিয়ে যাও না? স্কুলে যাবো! - উঠে পড়ো!
পড়াশোনা করো না, স্কুলে গিয়ে করবেটা কী?
গুণতে থাকো, চাচা!
এই দোকানও বন্ধ হবে!
পয়সা কামাই করার রাস্তা আশা করি পেয়ে যাবে, বিলাল!
এত ওজন কমিয়েছ, এখন আমারও ওজন কমিয়ে ছাড়বে নাকি?
No comments yet. Be the first to leave one.