The first 200 lines.
::.অনুবাদক: আশিকুর রহমান.:: সহযোগিতায়: মোহাম্মদ সায়েম।
কয়েক বছর পর,
যখন এই ফটো দেখবেন,
তখন আপনার চেহারায় এই সূর্যের অনুভূতি ...
....চুলে দোল খাওয়া বাতাস
এবং এই হৈ হুল্লোড় শুনছেন।
সব গায়েব হয়ে যাবে, চিরদিনের জন্য।
ফটো তুলছ?
উপরে ওখানকার একটা সন্তান আমার।
মানে?
তোমার ছেলের তাহলে প্রতিভা আছে!
ছেলে না। আমার দুইটা মেয়ে।
ওখানে, মাঝখানে।
আমার বড় মেয়ে, মিলোনি।
সত্যি?
যে মুকুট পরে আছে?
হ্যা।
সে সিএ ফাউন্ডেশন পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে।
এখন সিএ ইন্টারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আমার ছেলেও সিএ শেষ করেছে।
কিন্তু এখন সে আমেরিকা যাবে এমবিএ পড়তে।
হুমম।
না, এটা না।
তোমাকে মানাচ্ছে না।
এক মিনিট।
পিংকটা দেখ।
দেখ, মিলোনি!
তোমাকে বেশ মানাচ্ছে।
আহ।
মায়ের পছন্দ সবসমই সেরা!
এজন্যই সবসময় তার সাথে শপিংয়ে যাই।
পিংকটা অনেক মানিয়েছে।
হুমম?
তো... পিংক'ই নিবে?
হ্যা।
ওকে।
ওকে, ফজলু ভাই। পিংক'ই নেব।
দাম কিন্তু ঠিকঠাক বলবে।
আগাম টাকা দিব না।
ডেলিভারির সময় টাকা দিব। আমরা বোকা না।
হেই। এক্সকিউজ মি।
ফটো তুলবেন, ম্যাডাম?
গেটের সামনে বা তাজমহলের সামনে, ম্যাডাম।
তাৎক্ষণিক দেব।
কয়েক বছর পর, যখন এই ফটো দেখবেন,
তখন আপনার চেহারায় এই সূর্যের অনুভূতি,
চুলে দোল খাওয়া বাতাস
এবং এই হৈ হুল্লোড় শুনছেন।
সব গায়েব হয়ে যাবে।
চিরদিনের জন্য।
৫০ রুপি।
আপনার জন্য, ৩০।
ঠিক আছে।
খানিকটা ডানে।
আর একটু ।
ম্যাডাম, একটা হাসি দিন, প্লিজ।
ব্যাস একটা।
এই নিন, আজকের দিনের ফটো।
দাঁড়ান খামে ভরে দিচ্ছি।
মিলোনি!
এই, মিলোনি!
মিলোনি!
রাফি ভাই!
রাফি ভাই!
দোকান কেমন চলছে?
একটা মেয়ে আমার থেকে ফটো তুলেছে,
যেই ফটোটা খামে ভরতে গেছি অমনি পালিয়ে গেছে।
- পালিয়ে গেছে? - পালিয়ে গেছে।
আপনাকে বোকা বানিয়েছে।
সে এতক্ষণে দাদার পৌঁছে গেছে।
রাফি ভাই,
গতকাল বাড়িতে কল দিয়েছিলাম।
আপনার দাদী আপনার জন্য আমাদের গ্রামে মেয়ের খোঁজ করছিল।
আমার মাসীর চার মেয়ে।
সেই গোঁফওয়ালা মাসী না?
হ্যা, কিন্তু তার মেয়েরা খুবই সুশ্রী।
- তাহলে, তুই বিয়ে কর। - না, আমি করব না!
আপনার শরীর রাগে জড়ো হয়ে আছে।
দাদী এজন্যই চিন্তা করছে।
সে বলেছে টাকা থাকলে যৌতুক দিয়ে রাফির বিয়ে দিতাম।
আপনি কী বলেন?
আমি আর কী বলব?
বিয়ে করলে অন্তত
রাতে গরম বিছানায় ঘুমাতে পারবেন।
বাচ্চাদের সাথে চিড়িয়াখানায় যেতে পারবেন,
বিকেলে ভাবীর সাথে ঘুরতে পারবেন...
হ্যা, ঠিক।
বউ বাচ্চা গ্রামে পড়ে থাকবে
এবং তাদের জন্য আমি এখানে আঁটকে থাকব।
- তুই নিজেও এটা করবি না। - কেন?
তাহলে সফটি হয়ে যাবি, জাকির ভাইয়ের মতো।
সফটি?
- সফটি কী? - কখনো খাওনি?
সফটি অনেকটা আইসক্রিমের মতো।
মানে কুলফি, কিন্তু শক্ত না।
এতটাই নরম, যে মুখে পুরতেই গলে যায়।
সফটি।
যদি গলে যায়, তাহলে খাওয়ার কী মানে, ম্যাডাম?
এটাই তো বুঝাচ্ছি!
এইমাসে গ্রামে কত ছাড়তে চাও, রাফি ভাই?
সব, ম্যাডাম।
এই নিন৷ এটাও।
নিজের জন্য কিছু রাখো, রাফি মিয়া।
কুলফি খাবি?
মাসের শেষেই কেন সবসময় কুলফি খান?
- আমার বাবা, যখন জীবিত ছিল... - আরে, রাফি মিয়া!
এটা আমি কী শুনলাম?
তোমার দাদী নাকি ঔষধ খাওয়া বন্ধ করে দিছে?
কারন সে নাকি তোমার জন্য মেয়ে খুঁজতে খুঁজতে অস্থির?
কোথা থেকে শুনলেন, কাকা?
তার দাদী আমার শ্বশুরবাড়িতেও খোঁজ করেছে।
কেমন মেয়ে পছন্দ? আমাকে তো কোনদিন বলনি।
আরে, আমাকেও বল!
দেখো কান্ড।
ভালো মানুষের কোন কদর নেই...
দুইটা কুলফি দাও।
রাফি মিয়া, সত্যিই তোমার দাদী ঔষধ খাওয়া বন্ধ করেছে?
বিয়ে করার সময় হয়ে গেছে।
রাফি মিয়া?
তোমার দাদীর ব্যাপারে যা শুনেছি ওটা কী সত্য?
আর তারপর রাফি ভাই কুলফি সোজা
মুখের উপর ছুড়ে মারল।
এবং বললো,
"শুনেছি তুই মিষ্টি পছন্দ করিস,
সালা!"
রাফি ভাই,
নৈাকা যদি ঠিক সময়ে কিনারায় না লাগাও,
তাহলে ডুবে যায়।
একদম, রাফি। ১০০%, তুমি ঢুববে!
- সে তোমাকে ডুবাবে! - একটা গল্প শোন।
তিওয়ারির সম্পর্কে কী বলেছিলাম মনে আছে?
জাকির ভাই, এই গল্প আর শুনতে চাই না।
আরেকবার শোন।
পুরনো রেকর্ড আর চালু কর না।
আপনি অনেক আবেগপ্রবণ হয়ে যান।
বলেন।
তো হয়েছিল এটাই, রাফি মিয়া:
জোরে পেশাবের চাপের কারনে একদিন ভোরে ঘুম ভেঙে যায়,
কিন্তু প্রচুর গরম লাগছিলো।
তাই ভাবলাম, " সালা এতো গরম কেন লাগে?"
তারপর উপরে তাকালাম,
দেখলাম পাখা বন্ধ হয়ে আছে,
কিন্তু তিওয়ারি পাক খাচ্ছে। সে ঝুলে ছিল।
এটা দেখে জাকির ভাই জায়গাতেই পেশাব করে ফেলে।
রাফি মিয়া, ভেবে দেখঃ
লোকটা কিছু না বলেই চলে গেছে।
একটা চিঠি পর্যন্ত লিখেনি।
চিঠি পর্যন্ত লিখেনি।
কার জন্য লিখবে, বল?
তার পর থেকে,
তার গরগরানি শুনতে পাই....
এই ফ্যান থেকে।
কসম করে বলছি সে এখনো রাতে এই রুমে ঘোরাঘুরি করে!
ব্যাস জাকির ভাই, তুমি একটা পার্টিতে আছো।
রাফি মিয়া, গোমরা মুখ করা বন্ধ কর।
দাদির ব্যাপারে চিন্তা করার দরকার নেই।
আমার মা,
সবসময় কল দিয়ে বকবক করতো।
অবস্থা এতটাই খারাপ ছিলো যে রিক্সা চালাতে পারতাম না।
খাবার দারুণ বানিয়েছ, রামপিয়ারি।
ধন্যবাদ, দিদি।
বেটা? ভালোমতো খাও।
সবটা শেষ করতে হবে কিন্তু।
সে খেতে চায় না, সালোনি।
শুধু খাবারই না, বাবা।
পড়াশোনাও করতে চায় না।
পড়াশোনা না করলে, বড় হয়ে কী হবে?
নায়ক হবো!
জানো, স্কুলে থাকতে মিলোনিও নায়িকা হতে চেয়েছিল।
সত্যি?
তার স্কুলের শিক্ষকরাও ছিলো!
নাটক করার জন্য তারা ট্রফির পর ট্রফি দিত।
তুমি ট্রফি জিতেছিলে?
শেষমেশ বলে কয়ে ট্রফি দেওয়া বন্ধ করেছিলাম।
সে যদি সবসময় অভিনয় করে,
তাহলে পড়াশোনা শেষ করবে কখন?
- রামপিয়ারি? - জি, ম্যাডাম?
- মিষ্টি আনো তো! - ওকে, ম্যাডাম।
তিওয়ারির ভুত,
আমি তোকে ভয় পাই না।
প্রিয় দাদি, আসসালামু আলাইকুম।
শুনেছি ঔষধ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছ।
এবার তাহলে সোজাসাপ্টা বলছি।
আসলে হয়েছে কী, দাদি,
এখানে একটা মেয়ের সাথে পরিচয় হয়েছে।
তাকে দেখার পর,
মনে হয়েছে তুমিই তাকে খুঁজে খুঁজে পছন্দ করেছ।
তার চোখে হাজারো হাজারো প্রশ্ন এবং ওই চোখেই সব উত্তর।
তার মৃদু হাসিতে...সকল কষ্ট দূর হয়ে যায়।
আর তার হাসি... মনে আছে জমিতে প্রথম বৃষ্টির ফোটা পড়ার কথা?
তার নামটাও অনেক সুন্দর।
তার নাম হলো...
নুরী।
তার ছবি পাঠাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ পছন্দ হবে।
তোমার বাধ্য নাতী, রাফিউল্লাহ।
আর কিছু দেব, দিদি?
- শুভ রাত্রী, দিদি। - শুভ রাত্রী।
.......
......
......
No comments yet. Be the first to leave one.