The first 200 lines.
অনুবাদ ও সম্পাদনায় ❝ শান্ত কুমার দাস ❞
🧸 ⭐ ⭐ এটি আমার ❝১২০তম❞ পূর্ণাঙ্গ বাংলা সাবটাইটেল ⭐ ⭐ 🧸
THE TEACHER
সুপ্রভাত!
সুপ্রভাত, সুজিত।
আমাকে ডাকলেই তো পারতে।
একদম মরার মতো ঘুমিয়ে ছিলাম।
আরে ঠিক আছে।
গত চারদিন ধরে অনেক ব্যস্ততা গেছ তোমার, তাই না?
আর তুমি বলেছিলে ব্যস্ততা কাটার পর তোমার একটা ভালো ঘুম চাই।
ঘুমের ঘোরে কী সব বকছিলে বলো তো?
কী?
আসলে, কিছুই বুঝিনি সেসব।
তোমাকে যখন চাপড় দিলাম তখন চুপ হয়ে গিয়েছিলে।
"বিবেকানন্দ উচ্চ বিদ্যালয় এবারের...
বিভাগীয় স্কুল অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন।"
দেখো, একটা ছবিও ছেপেছে।
তোমার কানের দুল কোথায়?
এখন পর্যন্ত এই নিয়ে ক'টা হারালে বলোতো?
হেই!
এবছর, আমাকে কোট্টানকুলাঙ্গারা মন্দিরে...
চামায়া ভিলাক্কু পুজো দিতে হবে।
ওই মন্দিরে চামায়া ভিলাক্কু পুজো দিলে আমাদের ইচ্ছা পুরণ হবে।
আমার কাজিন অনেকদিন ধরে বিয়ের জন্য যোগ্য পাত্রী খুঁজে পাচ্ছিলো না।
ওই পুজোটা দেয়ার পর এক মাসের মধ্যে ওর বিয়ে হয়ে গেছে।
আর এক বছরের মধ্যে বাচ্চার বাপও হলো।
অলৌকিক, তাই না!
- খুঁজে পেলে? - না।
বাহ!
দেবী মা!
ওই পুজোতে আমি মেয়েদের সাজপোশাক পরলে, তোমার থেকে আমাকে বেশি সুন্দর লাগবে।
আমাকে ছাড়ো, সুজিত।
- আমি এখনও স্নান করিনি। - ওহ!
কে ফোন দিলো?
হ্যাঁ, কেভিন।
হ্যাঁ, আমি বাসা থেকে বের হয়েছি।
হেই! এক মিনিট।
আজ যাবে?
হ্যাঁ।
তোমার হয়ে গেলে আমাকে বোলো। আমি এসে তোমাকে নিয়ে যাবো।
কেমন?
হ্যাঁ, আমি বাড়ি থেকে বের হয়েছি।
অপেক্ষা করো।
বাড়িভাড়া আমি ওখানে রেখেছি।
- বাবু আসলে দিয়ে দিও। - আচ্ছা।
ওহ, না! আমার চাবি!
ঠিক আছে! বাই।
বাই।
যাও!
ভাই…
আমার এক বন্ধু মালনদার একজন ইউনানী চিকিৎসকের ব্যাপারে বলেছে।
তুই যাবি?
ভাইরে, ওরা সবকটা ভন্ড।
না, ভাই। যারাই ওখানে গেছে, ফল পেয়েছে।
এটা আসল।
ডাক্তার কী বলেছে জানিস?
কোনো জটিলতা নেই। আমাদের শুধু অপেক্ষা করতে হবে।
বাহ!
তাও অপেক্ষার প্রহর যেন আবার চিরকালে না গড়ায়।
চার বছর হলো তোর বিয়ে হয়েছে। কবে তুই--
থাম তো, কেভিন।
একই কথা শুনতে আর ভালো লাগছে না।
হ্যালো, রামিয়া। কোথায় যাচ্ছো?
- দুর্ঘটনা বিভাগে। - আচ্ছা।
- কে ওটা? - নতুন ভর্তি হয়েছে।
সে কোত্থেকে এসেছে?
কোট্টায়াম থেকে।
এখনো সিঙ্গেল।
- হেই! - স্যার?
নিতু নামের একজন এখানে ভর্তি হয়েছে, তাই না? সে এখন কোথায়?
- নিতু… - তার ব্যাপারে আরো কিছু তথ্য দিতে পারেন, স্যার?
চাথান্নুর কেসের ভিক্টিম।
ওই! সে সি-ব্লকে আছে, স্যার।
সেটা কোথায়?
- তাদেরকে দেখিয়ে দে। - আচ্ছা।
সে তিন তলার সি-ব্লকের আই.সি.উ'র পাশের রুমটাতে আছে।
ঠিক আছে।
স্যার…
আপনারা সবাই, রুমের বাইরে চলে যান।
বোন, বাইরে গিয়ে দাঁড়ান।
আচ্ছা, স্যার।
মা…
সব কিছু ঠিক আছে তো?
ঠিক না থাকলে, বহুত জটিল হয়ে যাবে মামলা।
এজাহারটা পড়ো।
স্যার?
পড়ো!
চাথান্নুর, কোল্লামের জ্যোতি অ্যাপার্টমেন্টের সপ্তম তলা,
ফ্ল্যাট নং ৭০২ এর বাসিন্দা, রামচন্দ্র ও পদ্মার...
১০ বছর বয়সী কন্যা নিতুর অভিযোগ...
চাথান্নুর, আকাথেক্কারায় পাদিনজারেথারা, সিথারের বাসিন্দা...
৫৫ বছর বয়সী মাধবন আইয়ারের বিরুদ্ধে,
যে অত্র বিল্ডিংয়ের সুপারভাইজার।
পহেলা মার্চ, ২০২২, বিকেল ৪টা নাগাদ, অভিযুক্ত নিতুকে…
জেনারেটর রুমে নিয়ে যায় ও তার ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করে।
মেয়েটির পরনে একটি নীল রংয়ের ফ্রক ছিলো।
অভিযুক্ত একটি ইজি চেয়ারে বসে মেয়েটিকে তার কোলে বসতে জোর করে…
এবং মেয়েটির কাপড়ের মধ্যে তার হাত ঢুকিয়ে দেয়।
অভিযুক্ত মেয়েটির গোপনাঙ্গ স্পর্শ করে।
মেয়েটি সেই মুহুর্তে তাকে কোনো বাধা দেয় না।
স্যার, প্লিজ থামুন।
এরপর, অভিযুক্ত মেয়েটিকে দিয়ে তার প্যান্টের চেইন খোলায়…
- এবং তারপর-- - স্যার, প্লিজ!
এটাই আমি বলতে চেয়েছি।
যদি এটা কেস হয়,
আপনাদের মেয়ের জীবন নষ্ট হবে।
আদালতের শুনানি,
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ,
আর, তার উপর লোকজনের নানান প্রশ্ন!
শান্তিতে এবং সম্মানের সাথে আপনারা বাঁচতে পারবেন না।
কী বলেন?
না।
ও তো আমাদের মেয়ে, তাই না?
স্যারের কথাই শুনি।
তাহলে, কী করছেন?
অভিযোগ তুলে নিচ্ছেন, তাই তো?
হ্যাঁ।
- সদাশিব! - ইয়েস, স্যার।
লিখিত বিবৃতিতে তাদের স্বাক্ষর নাও।
স্যার।
তুমি ছোট বাচ্চা না, মা?
বড় হলে সব ভুলে যাবে।
আঙ্কেল তোমাকে ক্ষতিপুরন এনে দেবে, কেমন?
কেমন?
আমার সাথে আসো।
স্যার… স্যার…
আমি কিছু শুনি নি।
তাহলে তো ভালো!
দাদা, ব্যান্ডমিন্টন কোর্টের চাবি দিতে পারেন?
জি, ম্যাডাম।
কাল ওটা বন্ধ না করেই চলে গিয়েছিলেন।
আমি বন্ধ করে দিয়েছিলাম।
কাল কী হয়েছিলো? আপনাকে কেমন যেন দেখাচ্ছিলো।
আমাকে দেখেছিলেন?
আমিই তো আপনাকে গেট খুলে দিয়েছিলাম।
ঠিক আছে।
দেবিকা!
বাহ!
তুমি না প্রতিযোগিতার চারটা দিন অক্লান্তভাবে কাজ করে গেলে?
তা সত্ত্বেও আজ ঘুম থেকে উঠে চলে এসেছো!
তোমাকে লাল সেলাম, দেবিকা!
আজ ছুটি নিয়ে ঘরে থাকতে পারতে।
আমি তোমার জায়গায় থাকলে, হয়তো এক সপ্তাহ আসতামই না।
তোমার তো চাঁদকপাল!
এবার স্টেট পর্যায়ে তোমার ১২ জন স্টুডেন্টই নির্বাচিত হয়েছে, তাই না?
সব তোমার পরিশ্রমের কারণে।
এবছরের সেরা শিক্ষকের পুরষ্কারটা নিঃসন্দেহ তোমার হাতে যাবে।
চেয়েছিলাম ওটা আমার হোক।
কিন্তু আমার কপালই যে পোড়া।
চুপচাপ কেন আছো তুমি?
আমার ভালো লাগছে না।
তাহলে আজ আসতে গেলে কেন?
তোমার দায়িত্বের কারণে?
দৌড়, ব্যাডমিন্টন, উচ্চ লাফ, দীর্ঘ লাফ…
তোমার দায়িত্ব নিয়েই পড়ে থাকো।
আমি পরশু আমার পরিবার নিয়ে বেড়াতে যাচ্ছি…
জটায়ু ন্যাচার পার্কে।
তুমি যাবে?
না, আমরা দ্বীপে যাবো।
ওহ! অবাক হইনি মোটেও!
তুমি পাহাড়ের সৌন্দর্যে আচ্ছন্ন একটা মেয়ে ছিলে।
এখন তুমি শুধু ধুলো, জল…
আর সেই দ্বীপের সৌন্দর্য চাও যা যেকোনো মুহুর্তে তলিয়ে যেতে পারে!
থাকো তুমি তোমার কল্যাণী দ্বীপ নিয়ে।
বিয়ের আগে আমিও ওসবে ভয় পেতাম।
কিন্তু কল্যাণী আর মুনরো দ্বীপ আমাকে একত্রে এক অন্য অনুভুতি দিয়েছে।
যখন ওখানে যাবে তখন বুঝতে পারবে।
না, থাক!
তোমার স্বামী এসে পড়েছে!
মিস গীতা যে, সব ঠিকঠাক তো?
একদম।
সুজিত, তোমাকে বেশ হ্যান্ডসাম দেখাচ্ছে!
ওর সমান সমান হতে হবে তো, তাই না?
তা তো বটেই। কতদিন ছুটি নিলে?
দুদিনের ছুটি পেয়েছি।
আবেদন এক সপ্তাহের করেছিলাম। নিয়ন্ত্রক যদি একটু দয়া দেখাতেন।
ঠিক আছে।
- বিজয় না তোমাকে নিতে আসবে? - তেমনটাই তো বলেছে।
হায়, ঈশ্বর! আমাদের আবার তোমার জন্য দাঁড়াতে বোলো না।
দ্বীপে একটা বিপ্লব হচ্ছে। আমরা পৌঁছাতে না পারলে ভালো হবে না বিষয়টা।
- ওহ, মিস. কল্যাণীর বিপ্লব! - হ্যাঁ!
যাও তাহলে!
বাই, গীতা।
আমার প্রিয় এলাকাবাসী,
দ্বীপ সংরক্ষণ কমিটির পক্ষে আমাদের বিপ্লব...
আজ এক গুরুত্বপুর্ণ দশায় রূপ নিচ্ছে।
যারা যারা এই আন্দোলনে যোগ দিতে এসেছেন তাদের সবাইকে....
আমার বিপ্লবী সালাম।
এটা কোনো সাধারণ আন্দোলন নয়।
এটা বাঁচার জন্য লড়াই।
আমাদের আজকের প্রধান বক্তা…
এমন একজন যে এই বিপ্লবের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন,
কমরেড পাট্টোন কল্যানী।
১৯৮০ সালে,
যখন পুলিশ এই দ্বীপে অপরাধী তল্লাশিতে নামে,
মিস. কল্যানী সামরিক ট্যাংকের মতো দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছি অমর শহীদ পেরিঙ্গালান রাঘবের পত্নী...
এবং আমাদের সকল বিপ্লবের শক্তি কল্যাণী দেবীকে।
আমার প্রিয় জনগণ…
আমি আপনাদের সাথে কথা বলছি, এক বিশাল বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।
No comments yet. Be the first to leave one.