The first 200 lines.
🌀অনুবাদে🌀 নোমান পারভেজ জিম দীপ্ত
🌀সম্পাদনায়🌀 দীপ্ত
♥️সাবটাইটেলটি ভালো লাগলে গুড রেটিং এবং ফিডব্যাক দিতে ভূলবেন না।♥️
🙏অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন🙏
কথায় আছে না, জীবনে কিছু পাওয়ার...
...বিনিময়ে কিছু আবার হারাতেও হয় ।
ঠিক এমনই হয়েছে আমাদের প্রিয় এই তিন বন্ধুর সাথে।
ইনি হলেন রাজু । এর ভাগ্যের তালা তো খুলেছে সাথে...
...টাকা পয়সাও অনেক কামিয়েছে। কিন্তু বিনিময়ে সে তার অসুস্থ মাকে হারিয়ে ফেলেছে।
মনে আছে এই লোককে? ইনি শ্যাম।
সেও অনেক মাল কামিয়েছে ।
কিন্তু একটা দুর্ঘটনায় সে তার প্রেমিকা অনুরাধাকে হারিয়েছে ।
আর এই লোককে কে না চেনে ! ইনি বাবুরাও গানপাতরাও আপটে।
এনার উপরেও কুবেরের সুদৃষ্টি পড়েছিলো । বলতে গেলে, এনার কাছে হারানোর মত কিছুই ছিল না
এক মাত্র ধুতি ছাড়া।
তো ইনি নিজের মাথাটাই খেয়ে ফেলেছেন।
- এই ,বাবু ভাইয়া ! - এই ,বাবু ভাইয়া !
- আরে! কত টাকারে ওর কাছে । - ওসব বাদ দে। দেখ বাবু ভাইয়া চেক উড়াচ্ছে।
ধুর! চেকের টেনশন করিস না। ব্যাংকে টাকা থাকলে তো....
সব টাকা বাড়িতে।
ও লক্ষী ঠাকুর কৃপা কর রে মা!
এসব কি , বাবু ভাইয়া?
আলুর বস্তার মত মেঝেতে বসে আছো কেন?
- তো কি করব? - এখন তো আমরা আর খয়রাতি না।
তো, এই আনন্দে আমি এখন আকাশে বাতাসে ঘুরে বেড়াবো নাকি ?
না, একটু ভাব নিয়ে বসো ।
এই ! জুতা খোল রে বাবা । এই জুতা পরে বাড়ি ঘর চষে বেড়ানো যাবেনা। জুতাটা খোল।
তুমিও না বাবু ভাইয়া , যে বস্তি সেই বস্তিই থেকে গেলে।
খয়রাতিই থাকবে সারাজীবন।
ধনীরা জুতা পরে শোফার উপরে ঘুমায় ।
বাবু ভাইয়া স্টাইল মেরে বাঁচতে শেখো।
খাবার দাবারও কাঁটা চামচ দিয়ে খাও ।
কি করে খাবো? দেশি বার্গার কাঁটা চামচ দিয়ে কিভাবে খাবো ?
এইযে এসব কি ? বাসা থেকে বের হওয়ার ১৫ মিনিট হয়ে গেলাম...
...আর এখনো সেই একই কাপড় পরে আছো ? ধনী হও ধনী।
ধনী ব্যাক্তিরা ১৫ মিনিট পর পর জামাকাপড় পাল্টায়।
৩০ মিনিট পর পর বাড়িঘর বদলে ফেলে ...
...আর প্রতি ঘণ্টায় নিজের বিজনেস বদলায় ।
- আর ২ ঘণ্টা পর পর নিজের বউকে বদলে ফেলে । - এ বলদের সর্দার !
আমার তো বউ ই নেই । পাশের বাড়িরটা বদল করে নেবো নাকি ?
আচ্ছা, আচ্ছা। ওসব বাদ দাও । অন্তত টেলিফোনটা তো বদলাও এবার ।
এতগুলো টাকা খরচ করে নাম্বার তো আগেরটাই রেখেছো...
অন্তত ফোনটা তো নতুন নাও এবার ...
ফোনে হাত দিবি না । রাখ ,রাখ!
তোকে কি বদলিয়েছি আমি ? করিনি তো ,না?
অতএব , ফোন বদলানোর ব্যাপারে আর কোনো কথা হবে না ।
তোরা চাস তো তোদের নাম বদলা ,কাপড় চোপড় বদলা ...
এমন কি বাপের নামও চাইলে বদলে ফেল ...
...কিন্তু ফোন বদলানোর কথা আর বলবি না
এইযে বাড়ি ,গাড়ি , টাকা ,তোর এই জুতা ....
এমনকি এই জাঙ্গিয়া , সবকিছুই কিন্তু এই ফোন এর জন্যই ।
এটা শুধু একটা ফোন না,এটা আলাদিনের চেরাগ । ভাগ্য পরিবর্তনকারি।
হ্যালো !
কে ফোন করলো?
কাবিরা ... মুই কাবিরা কইতাছি।
ওকে বল যে, বাবুরাও মরে গেছে.. বাবুরাও সকালেই মরে গেছে।
রাজু , ওকে বল না বাবুরাও মরে গেছে ...
আমার মামা নাকি ও, যে আমার কথা শুনবে ?
কা..কা ..কাবিরা ভাই..
জয় মহারাষ্ট্র !
স্টার ফিশারিস! শয়তানের দল....
ফাজলামির জায়গা পাস নি !
অর্ধেক মাছ জলে ডুবে মরে গেছে.....
আর বাকিগুলা পিপাসায় মারা গেছে ।
আর বাবুরাওর ধুতিও খুলে গেছে।
শালা ধুতি খুলিস? আমার ধুতি খুলিস তোরা?
উঠিয়ে নে রে ভগবান, উঠিয়ে নে রে বাবা ...
এই ধনী লোকটাকে না রে। ওই খয়রাতিদুটো কে ।
ও মা গো ! হাড় কাঁপানো ঠান্ডা রে!
হায় রাম ! এই বাবু ভাইয়াকে নিয়ে যে কি করব ?
ওর হাতে সোনার বাটি ধরিয়ে দিলেও দেখা যাবে ওটা নিয়ে ভিক্ষা চাওয়া শুরু করেছে..
আরে এত বড় সুইমিং পুল আছে ..
তবুও ব্যাটা বালতিতে দড়ি বেধে স্নান করতেই থাকে।
প্রতিবেশীদের কাছে কি মান-ইজ্জতই থাকবে আর!
- কুয়া বানিয়ে রেখেছি এটা আমি? হ্যাঁ? - সহজ সরল তো ! আমি দেখছি ।
বাবু ভাইয়া , এসব কি হচ্ছে ?
যেই কাজ তুই গত ৫ বছর থেকে করিস নি,"স্নান করছি "
এইভাবে স্নান করে কেউ?
তো, কিভাবে করব?
আরে বাবু ভাইয়া, এভাবে বালতিতে দড়ি লাগিয়ে জল তোলার কি দরকার?
সিধা বালতি পুলে চোবাও, জল তোলো আর স্নান করো।
ধুর, কোনো হুদোচুদো বোধই নেই বাবু ভাইয়ার।
একটা মামুন আর একটা অফু ! আরে এটা তো সুইমিং পুল।
এভাবে, বালতিতে জল তোলার কি দরকার ?
- ডিরেক্ট নেমে পড়ো না। - আরে কিভাবে ডিরেক্ট ...
এই যে এভাবে ...
হ্যালো,কে?
আরে কোথাকার দেবীপ্রসাদ? আপনি কে ?
লাক্সমি চিট ফান্ড থেকে অনুরাধা । হ্যাঁ বলুন।
কি?
২১ দিনেই টাকা ডবল!
না , না। আমি আগ্রহী । ব্যাপক আগ্রহী।
হ্যাঁ, আমি দেবীপ্রসাদই বলছি। আপনার ঠিকানা দিন ।
সমস্যা নেই প্রেম করতে যাবো না ,অফিসের কাজেই যাবো ।
জয় আম্বে চেম্বার,২৭ ৪ লিমিটেড বাসের লাস্ট স্টপ ।
ওইটার বিপরীত বিল্ডিং ? আচ্ছা।আচ্ছা।
গাড়ি তো নষ্ট ।বাসেই যাওয়া লাগবে ।
টিকেট ! টিকেট ! টিকেট !
- নেক্সট স্টপ . - লাস্ট স্টপ
এক হাজার টাকা ! আরে ভাই , বাসের ভাড়া দিলেন ...
...না আমার মাসের বেতন দিলেন ? খুচরা দেন।
- কথা বাদ দিয়ে ভাংতি করে দেন - বললাম তো হবে না
একটু তাড়াতাড়ি দিন না ! আমার স্টপ চলে আসছে
আচ্ছা এক কাজ করুন । এই সুন্দরী আপা আর তার মেয়ের টিকিটের টাকা ওখান থেকে কেটে নিন।
- ও আমার মেয়ে না । - তাহলে উনার আর উনার স্বামীর ভাড়াটাও নিয়ে নিন।
- এ আমার স্বামী না। - আচ্ছা,এক কাজ করুন...
...আচ্ছা তাহলে আমার আর এনার ভাড়াটা কেটে নিন। ঠিকাছে ?
বাসের সবার টিকেটএর টাকাও যদি দেন ...
...তবুও একহাজার টাকা খুচরা হবেনা।
একটু দ্রুত করুন না। আপনি এক কাজ করেন ,এই যে টাকা নিন । উনার আর আমার টিকেট দিন ।
প্লীজ , আমাকে নামতে হবে ...
- কিন্তু ... - টিকেট দিন
আপনি এক কাজ করুন এটা রাখুন ...
এই যে ধন্যবাদ।ম্যাড্যাম ... আরে আমার টাকা টা তো দিন।
- নিন - হ্যাঁ
এই যে ম্যাড্যাম, আমার কথা টা তো শুনুন ।
প্লীজ ম্যাডাম দাঁড়ান একটু ।
- শুনুন শুনুন মাধুরী জী ! - আমার নাম মাধুরী না ।
- তাহলে আপনার নাম কি ? - আপনার তাতে কি ?
না মানে এমনিই শুনছিলাম। আর এমনিতেই আমার সাথে আপনার কোনো কাজ নেই...
... কিন্তু আপনি আমার টিকেট কিনে দিয়েছেন এজন্য আমি...
দেখুন আমার স্টপ চলে এসেছিলো আর আমার তাড়া ছিলো। তো এখন যেতে পারি?
আমার কথা টা তো শুনুন , হেই ! আমাকে একটা সুযোগ দিন ।
এক মিনিট , এক মিনিট আমি আপনার টাকা পরিশোধ করে দিচ্ছি ।
- লাগবে না থাক - এদিকে আসুন না একটু । প্লীজ...
প্লীজ আসুন না। এই কত এটা ?
- একটা ১০। - আচ্ছা দুইটা দে ।
- আমি খাবো না । - আরে এখানে এটা অনেক বিখ্যাত।
একবার খেয়ে দেখুন না । একবার একবার।
তাড়াতাড়ি দে না। হা করে তাকিয়ে আছি কেনো ?
এইযে নিন
এই নিন ম্যাডাম। একদম গরম গরম।
- এইযে স্যার গরম ভুট্টা। - এই নে এক হাজার টাকা।
স্যার ,একহাজার টাকা তো ভাংতি হবেনা।
এত বড় ব্যবসা খুলে বসে আছিস অথচ এই কয় টাকা ভাংতি নেই ?
কারো থেকে ভাংতি কর যা ।
এই সকাল টাইমে তো ৫০ টাকাও ভাংতি হবে না।
আরে, আছে কারো কাছে। পাখাওয়ালার কাছে দেখ।
আপনি এটা রাখুন।
আচ্ছা এখন ৩০ টাকা ধার হয়ে গেলো। ম্যাড্যাম,শুনুন । এই আমার টাকা দে ।
এটা আপনি কি করলেন , মিস নীলিমা ? এখন আপনাকে আমার ৩০ টাকা দিতে হবে।
দেখুন আমার নাম নীলিমা না ।
আর দয়া করে আমার পিছু ছাড়ুন ।
এমনি এমনি ছেড়ে দিবো কেন ? আমি আপনার টাকা দিয়েই তারপর ছাড়বো ।
আমার উপর এইভাবে দয়া করতে পারেন না আপনি।
আপনি এক কাজ করুন। এখানে একজন গোলাওয়ালা দাড়িয়ে আছে। এখান থেকে ভাংতি করে দিচ্ছি।
- কিন্তু ... - আসুন আসুন। প্লীজ বুঝুন ব্যাপারটা।
এই গোলাওয়ালা দুইটা গোলা বানাও।
আচ্ছা দিচ্ছি ।
এই যে নিন ।
এটা এখানকার বিখ্যাত...
- এই যে টাকা নে। - ভাংতি নাই তো ।
টাকা ফেরত দে শালা !
আশা করছি রাইডটা আপনি উপভোগ করছেন ।
থামুন,থামুন । ধন্যবাদ !
-সাবধানে ম্যাডাম সাবধানে। -আসুন , আসুন ।
- এই ! কত হলো ? - ৬০ টাকা ,স্যার ...
এই নিন টাকা ।
এক হাজার টাকা ? ভাংতি নাই তো স্যার ।
করছো কি তোমরা ? আপনাদের কাছে ভাংতি নেই নাকি ?
সব খয়রাতি নাকি ! যার কাছেই যাই তার কাছেই ভাংতি নেই।
কি করছেন আপনি এসব ? ৬০ টাকা !
আচ্ছা , ঠিক আছে তাহলে মোট ১১০ টাকা হলো । আচ্ছা ,এক কাজ করি ।
ওখানে একটা ঘোড়ার গাড়ি আছে। অনেক বিখ্যাত। চলুন ওখানে যাই।
যথেষ্ট হয়েছে ! আমার টাকা লাগবে না । দয়া করে আমার পিছু ছাড়ুন ।
আপনি এটা করতে পারেন না । আমি আপনার টাকা শোধ করেই ছাড়বো।
'লাক্সমি চিট ফান্ড ,মুম্বাই '
কিরে এই বিল্ডিং বানাচ্ছে না ভাঙছে?
দেখি ভিতরে গিয়ে।
কাজটা জলদি করুন ।
- হ্যালো - হ্যালো
শুভ সকাল , ম্যাড্যাম।
চিনতে পারলাম না তো ?
আমি দেবীপ্রসাদ ।
দেবীপ্রসাদ ? আমি তো উনাকে বাক্তিগতভাবে চিনি ।
- উনার বয়স তো ... - না , না । আপনি ভুল বুঝেছেন ।
- আমাকে দেবী প্রসাদ পাঠিয়েছেন। - আচ্ছা । বসুন তাহলে ।
ধন্যবাদ
আগে বলুন তো ... আপনি কি আসলেই টাকা ডবল করে দেন ?
হ্যাঁ , মাত্র ২১ দিনে । কোনো সন্দেহ ?
দেবীপ্রসাদ আপনাকে বলেন নি ?
হ্যাঁ , উনি বলেছেন । কিন্তু আপনার খয়রাতি মার্কা অফিস দেখে একটু সন্দেহ হচ্ছে ।
অফিসটা কোনো নামিদামি জায়গায় হওয়া উচিত ছিল।
যেমন মেরিন ড্রাইভ, চোপাটি এসব জায়গায় ।
মনে করিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
মি.বিজলানি, আপনাদের সমস্যা কি ?
আমি আপনাদের বাজার দরের চাইতে ১০ কোটি টাকা বেশি দিয়েছি ....
আর আপনারা এখনও আমার বিল্ডিং এভাবে রেখেছেন কেন ?
সামনের মাসে হোম মিনিস্টার আসছেন।
আমি উনাকে কোথায় বসতে দিবো ?
হয়ে যাবে শুনতে চাইনা । হয়ে গেছে শুনতে চাই। ঠিক আছে ?
একটা কথা বলুন তো ।
আমার টাকাও কি ডবল করা যাবে ?
সরি স্যার, আমাদের স্কিমটি শুধু কিছু হাতে গোণা কতিপয় লোকের জন্য ।
আমিও তো লিমিটেড দলেরই । লিমিটেড খাই,লিমিটেড মদ পান করি ।
লিমিটেড ঘুমাই । লিমিটেড লোকের সাথে বসবাস করি ।
এমনকি যে বাসে করে আসলাম সেটাও লিমিটেড ছিলো ।
আপনি হাসছেন !!
ঠিক আছে ।
- আমি আপানাকে একটা সুযোগ দিচ্ছি। - ওকে।
No comments yet. Be the first to leave one.