The first 200 lines.
অনুবাদ ও সম্পাদনায় শান্তনু মুখার্জী
চলো যাই।
- টেলর। বব আর মারিয়ান টেলর। - এক সেকেন্ড অপেক্ষা করুন।
- মায়ামিতে অন্যান্য হোটেলও আছে। - মাফ করুন।
সমস্যাটা কোথায়? আমরা ছয় মাসেরও আগে রিজার্ভেশন করেছি।
- জানি, কিন্তু কোথাও দেখতে পাচ্ছি না। - লিসা কোথায়?
- লিসা প্রতিবার ব্যবস্থা করে দেয়। - ও শহরের বাইরে গেছে।
- ওর দিদিমা মারা গেছেন। - সিনথিয়া, না?
- বলুন? - সমস্যাটা কিসে বেশি হবে
যদি তুমি ওকে ফোন কর না আমি যদি কর্পোরেটে ফোন করি?
ঠিক আছে।
ধ্যুস্! এই ডালাসের ড্রাইভাররা!
তোকে কে ড্রাইভ করতে শিখিয়েছে? স্টিভি ওয়ান্ডার? (বিখ্যাত আমেরিকান অন্ধ গায়ক)
- চিন্তা নেই প্লেন ধরতে পারবেন। হাতে... - দশ মিনিট।
- লিসা রাইসার্ট। - লিসা? হাই।
কল করার জন্য সরি, কিন্তু কি করব বুঝতে পারছি না। একটা অদ্ভুত পরিস্থিতিতে পড়েছি।
- অস্থির হয়ো না। সমস্যাটা কি? - বব আর মারিয়ান টেলর।
চিনি। ওরা নিয়মিত আসেন।
হ্যাঁ, আসলে, মনে হয় ভুল করে ওনাদের রিজার্ভেশনটা মুছে ফেলেছি।
এই সিস্টেমটা আগে কেউ শেখায়নি।
বলেছি কি যে আমার রিজার্ভেশন অলরেডি কনফার্ম হয়েছে? এই আমার রসিদ।
আমি নিজেই এটা ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করেছি।
- জানি, মিসেস টেলর, শান্ত হন। - ও কথা বোলো না। না...
- শান্ত হন? - ও আমাকে শান্ত হতে বলছে।
আমাদের শান্ত হতে বলবে না। আমরা এতক্ষণ পর্যন্ত খুব শান্তই ছিলাম।
- আমি খুবই দুঃখিত। লিসা? - সিনথিয়া, বল আর এক মিনিট,
- কথা দিচ্ছ যে তুমি ব্যাবস্থা করবে। - এক মিনিট। যাতে খুশি হন তার ব্যবস্থা করছি।
- আমি কথা দিচ্ছি। - ভালো চাইলে তাই করো।
শোনো, আমার পিনটা এন্টার করো। সেটা হল 7-8-8... দাঁড়াও।
- বাবা? অপেক্ষা করো। - লিসা?
- একটু হোল্ড করতে পারবে? - অবশ্যই।
ওকে। ওটা হল 7-8-8-4-আন্ডারস্কোর-এল-রাইসার্ট।
- লিসা, কল করার জন্য সত্যিই সরি। - না, না, না, ঠিক আছে, ঠিক আছে।
- লগ ইন করেছ? - হ্যাঁ, এবার কি করব?
ক্রাইসিস ফোল্ডারে ক্লিক করো, খালি রুমের একটা তালিকা পাবে,
ওদের চতুর্থ তলায় দাও, আজ আর কাল রাতটা ফ্রী করে দিও।
ঠিক আছে, এক সেকেন্ড। আচ্ছা, সব ব্যাবস্থা হয়ে গেছে।
প্রথম দুই রাতের জন্য খরচ আমরা দেবো।
আরও কিছুর প্রয়োজন থাকলে, আমাকে জানাবেন।
জানাবো না।
এটা আমার দোষ নয়।
হে ভগবান, হালত খারাপ করে দিয়েছে। কি অভদ্র লোক সব।
কোন অতিথিই অভদ্র হয় না। শুধু বিশেষ চাহিদা থাকা অতিথি।
- এসে গেছি। - চেঞ্জটা রেখে দিন। আর কিছু?
সিম্পসনরা তাদের অনুরোধ করা ক্যালিফোর্নিয়া কিং পায়নি।
আর কি?
- হে ভগবান। - কি হল।
সিকিউরিটি সবে জানাল যে চার্লস কিফ পার্টি
বিকেলের পরিবর্তে সকাল সাড়ে পাঁচটায় পৌঁছাবে।
এটা এমন কিছু অস্বাভাবিক নয়। এটা নিরাপত্তার বিষয়।
দেখো যেন আমাদের লোকেরা প্রবেশদ্বারের দায়িত্ব নেয়, তারপর থেকে ওনার নিরাপত্তা দায়িত্ব নেবে।
মিঃ কিফ কি প্ল্যাটিনাম ক্লাব নাকি অন্য কিছু বা...?
রাজনৈতিক। আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা।
নিশ্চিত করবে যেন ওর কামরায় একটা মন্টেক্রিস্টো কিউবানের বাক্স থাকে
আর এক বোতল ক্রিস্টাল অন আইস। রুম হল ৩৮২৫.
- ঠিক আছে। বুঝেছি। যাত্রা নিরাপদ হোক। - ধন্যবাদ।
১৩৮৭ নম্বর ফ্লাইটের যাত্রীরা মনোযোগ দিন।
- লিসা রাইসার্ট। - এখনও লাইনে আছি।
বাবা, সরি।
- সমস্যা নেই, সুইটি। - কি ব্যাপার?
একটা কমেডি ম্যারাথনের জন্য সারা রাত জাগার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
হ্যাঁ, ভুলে যাবার আগে,
যে বইটা তোমাকে দিয়েছিলাম, সেটা এখনো শেষ করেছ?
প্রায়।
জানো, ও টেক্সাসের। ভাবিইনি যে ওখানেও মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা আছেন।
হ্যাঁ, আছে। তারা শুধু ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যায় আর টিভি শো শুরু করে।
- রিমডেলিং কেমন চলছে? - ভাল। ভাল।
গত কয়েক দিনে ওরা কিছুটা এগিয়েছে।
নিজের ওয়ালেটটা হারিয়েছি, তবে সেটা এখন স্বাভাবিক। দেখতে ভালোই লাগছে।
দারুণ। দেখার জন্য তর সইছে না।
তোমার দেখা উচিত। উপরের হলওয়েটা চেনাই যাচ্ছে না।
- তোমার রুমে হাত দেওয়া হয়নি। - না বাবা।
প্লিজ, যা খুশী করো, ওখানে একটা জিম বা পাটিং গ্রীন বানিয়ে ফেলো।
জানোইতো, তা আমি পারব না।
তোমার হয়ত কখনও এখানে কয়েকটা রাত কাটানোর ইচ্ছা হতেই পারে।
বুঝলে? প্রতিদিনকার রুটিন থেকে একটু রেহাই পেতে।
রুটিন কাজ, সেটাই তো আমার প্রিয়। তুমি তো সেটা জানো।
তা ঠিক।
বেশ,
- তোমার মা কেমন আছে? - যতটা ভালো আশা করা যায়।
আর তুমি? তোমার খবর কি? তুমি ঠিক আছো?
- হ্যাঁ, আমি ভালোই আছি। - ঠিক বলছ তো?
হ্যাঁ, সব ঠিক আছে, বাবা। এবার থেকে যা বলব সেটা বিশ্বাস করা শুরু করো।
দেখ, আমাকে যেতে হবে। আমাকে চেক ইন করতে হবে।
নিশ্চিত যে তোমার পিকআপের দরকার নেই?
- তুমি তো তোমার ওয়ালেট হারিয়েছ। - লিজ, এটা শুধু পাঁচ মিনিটের ব্যাপার।
আমি 'রেড আই' ফ্লাইট ধরছি। এটাই হচ্ছে শেষ ফ্লাইট।
দেরি হয়ে যাবে। তোমাকে ভালোবাসি। আমি কাল কল করবো।
- আমিও তোমাকে ভালোবাসি, সুইটি। - ঠিক আছে, বাই।
এটেনশন। একটা বাতিলের আপডেট আছে। ফ্লাইট ১১৯২ ক্যানসেল করা হয়েছে।
যারা আটলান্টার ফ্লাইটে ছিলেন যেটা বাতিল করা হয়েছে,
লাইনের সামনে আসুন যাতে আমরা আপনাকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করতে পারি।
মায়ামি'র ফ্লাইট ১০১৯...
- সরি। - ব্যাস্ত হোয়ো না।
আমি যুদ্ধের বুট পরে আছি।
- কি বললেন? - ভ্রমণ মানেই আজকাল যুদ্ধ।
হ্যাঁ।
আমি ওকে জাস্ট ভালবাসি।
বইটা কেমন? অনেক কিছু শিখছ?
আমি সত্যিই নিশ্চিত নই।
ও কত সুপুরুষ।
আমি দিনের বেলা কাজ করি তাই সবসময় ওর শো মিস করি।
ক্লিভল্যান্ড যাওয়ার ফ্লাইট ২৪৭ বিলম্বিত হয়েছে।
- এই নিন। পড়লে সব জানতে পারবেন। - ওহ না। না, না, আমি... সেটা হয় না।
শেষ করে ফেলেছি। বাবা অনেক বই দিয়েছেন, আমি একটা লাইব্রেরি খুলে ফেলতে পারি। প্লিজ।
- অনেক উপকার করলে। - আবার বলছি যে এটলান্টাগামী ফ্লাইটের
কোন যাত্রী যদি আজ রাত্রেই ডালাস ছেড়ে যেতে চান,
এখনই লাইনের সামনে আসুন।
মাফ করবেন। আপনি ওদের যেতে দিচ্ছেন,
এদিকে আমরা এক ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি? এটা কীভাবে সম্ভব?
যদি আমরা রি-বুক না করি, ওরা নিজেদের ফ্লাইট মিস করবে।
আপনি যে আমার ফ্লাইট বাতিল করে আবার রি-রুট করেছেন, তার বেলা?
- বুঝতে পারছি। - নিজের বসকে ডাকুন। সত্যিই হাস্যকর!
দেখুন ওকে এটা করতে বাধ্য করবেন না। ও যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।
মনে হয় না আপনার সাথে কথা বলছিলাম।
- বুঝতে পারছি... - আমি খালি...
প্লিজ, স্যার।
উনিই একমাত্র আমাদের যাওয়া আর বিশৃঙ্খলার মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন।
- হ্যাঁ, কিন্তু উনি আমাদের মত... - উনি ক্লান্ত, ১৮ ঘন্টা কাজ করেছেন,
আর উনিও ভাবছেন যে আমরা সবাই ওকে ততটাই ঘৃণা করি যতটা আপনি করেন।
আমরা বরং চুপ থাকি, কি বলেন? ওনাকে কাজটা করতে দেওয়া যাক
যা সম্ভবত আপনার কাজের তুলনায় অনেক বেশি প্রশংসাহীন।
এই এয়ারলাইনটা জঘন্য।
লাইনের পরের জন, প্লিজ।
সেটা আমি।
এই যে।
তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। আর তোমাকেও।
ওয়েলকাম।
হ্যাঁ। ধন্যবাদ।
আরে কিছুই না। আপনাকে একটু সমর্থন করলাম।
- আপনিই তো শুরু করেছিলেন। - হ্যাঁ।
- মনে হয় রিফ্লেক্স। - সেটা কেন?
আমি একটা হোটেলে কাজ করি। সব সময় এই ধরনের মানুষের মুখোমুখি হতে হয়।
ম্যারিয়ট? হিলটন?
- লাক্স এটলান্টিক, ওটা হচ্ছে... - মায়ামিতে।
- তাই তো। ভাল করেই চিনি। - আচ্ছা।
- তাহলে আপনিও এই... - মায়ামি যাওয়ার অতি বিলম্বিত ফ্লাইটে। হ্যাঁ।
- আপনি? - হ্যাঁ। খুব দুঃখজনকভাবে, হ্যাঁ।
কিন্তু জানেন কি? এই জন্যই ঈশ্বর টেক্স-মেক্স সৃষ্টি করেছেন।
এয়ারপোর্টের সেরা নাচোস তাও ঠিক আমাদের গেটের উলটো দিকে।
ভালো পরামর্শ। ধন্যবাদ।
একটা সিট রেখে দেবো।
হ্যাঁ, আসলে... ভাবলাম যেহেতু আমরা একই ফ্লাইটে যাচ্ছি...
আমি অবশ্য আপনার ব্যক্তিগত পরিসরে ঢুকতে চাইনি বা...
- না তা নয়। - এখানে আসতে পারেন।
- আমি একটু... কয়েকটা কল করতে হবে। - অবশ্যই। বুঝতে পারছি। আপনি যান।
- যাত্রা শুভ হোক। - ঠিক আছে। আপনারও।
ফ্লাইট ১০১৯ এর মায়ামি প্রস্থানের সময় সংক্রান্ত আপডেট
আমরা আপনাদের জানিয়ে দেবো...
- হাই। - হাই। তুমি নিশ্চয়ই রেবেকা।
- হ্যাঁ। - আচ্ছা, আমার নাম মেরি,
আর শুনলাম এই প্রথমবার তুমি একা ফ্লাই করছ।
বাহ, তার মানে তুমি খুব সাহসী।
- ঠিক করে পারবে তো? - হ্যাঁ মা।
- ভেবে দেখেছ? - হ্যাঁ, আমি পারব।
- আমি শুধু জানতে চাইছি। - আমি ১১, নয় বছরের না।
তোমরা দুজন, আমার সাথে চল।
এই নিন, স্যার। আপনার নাচোস। সাবধানে, প্লেটটা গরম।
ধন্যবাদ, স্যার।
হে ভগবান! আমি খুব সরি।
- এটা বরফ দেওয়া। চিন্তা করবেন না। - ঠিক আছে।
- দাঁড়ান ন্যাপকিন খুঁজে আনি। - না না না। দরকার নেই।
- ঠিক তো? - হ্যাঁ।
ঠিক আছে। ল্যারি,
একটু স্টারবাকসে ফিরে যেতে পারবে? আমার আরেকটা মোকা দরকার।
- ওটা ইতিমধ্যেই শেষ? - একজনের গায়ে পড়ে গেছে।
লেডিজ এন্ড জেন্টলমেন, মনোযোগ দিন।
ফ্লাইট নম্বর ১৭'র ডালাস জাতীয় বিমানবন্দরের গেট ২
থেকে ছাড়তে ২০ মিনিট বিলম্ব হবে।
একটা স্কাইক্যাপ ইলেকট্রিক কার্ট দিয়ে গেট চারে পেজ করা হচ্ছে।
একটা স্কাইক্যাপ ইলেকট্রিক কার্ট দিয়ে গেট চারে পেজ করা হচ্ছে।
- হাই। - হাই।
- এই সিটে কেউ আছে? - না, বসতে পারেন।
ধন্যবাদ।
আচ্ছা আপনার কল করা হয়েছে?
হ্যাঁ। আর কল করার নেই।
বেশ। তাহলে কী খাবেন?
- না, এটা... দরকার নেই। - আমাকে যদি অনুমান করতে দেন...
ঠিক আছে।
মনে হচ্ছে ভদকা।
নিশ্চিতভাবে মিষ্টি স্বাদের।
কসমো। বড্ড বেশি কমন।
স্ক্রু ড্রাইভার।
না। না। না। খুব বিরক্তিকর।
তার মানে হাতে রইলো হয় আঙ্গুরের সরলতা
বা আনারসের জটিলতা।
গ্রেপফ্রুট সি ব্রিজ।
- একটা বে ব্রিজ হবে? - অবশ্যই পাবেন।
ধন্যবাদ।
যদিও এটা একটা দারুণ প্রতিভা। খুব কাছাকাছি অনুমান।
- বুঝলেন না, এইভাবে কথা শুরু করা যায়। - তা ঠিক।
- তাহলে, বাড়ি যাচ্ছেন নাকি? - হ্যাঁ। চেষ্টা করছি।
হ্যাঁ। আজকাল ফ্লাইং অনেক মজার।
আমার কাছে মজা হল প্লেনটা থেকে নিরাপদে নামতে পারা।
- প্লেনে উড়তে ভয়? - হ্যাঁ। সামান্য একটু।
আপনি কি টেক্সাসে হোটেলের কাজে গিয়েছিলেন?
না। আমার দিদিমা মারা গেছেন।
ঠিক আছে। ৯১ বছর হয়েছিল।
- একানব্বই। - হ্যাঁ।
এটা সম্মানজনক। এতদিন বাঁচার রহস্যটা কি?
No comments yet. Be the first to leave one.