The first 168 lines.
অনুবাদ ও সম্পাদনা মোহাম্মদ ইউসুফ
মানুষ সাধারণত ছোটখাটো দোকানে দরদাম করে কেনাকাটা করার জন্য যায়।
আমিও গিয়েছিলাম।
যখন প্রথমবারের মতো একটা চরকা কিনি...
সেটার একটা পাখা ছিল স্থির।
আমি অনেকটা সময় কাটিয়েছিলাম গ্যারেজে...
কোন একটা গাড়ি সাড়াইয়ের কাজে।
যেন কারো কাছে ভালো দামে বিক্রি করতে পারি...
পেন্টাগনের অত্যন্ত গোপন মিসাইল লঞ্চ কোডের মূল্যের মতো চড়া দামে।
মিসাইলের আকার আকৃতি বিভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে।
আমার বৃত্তাকার মিসাইলগুলো ভাল লাগে।
এখানেই থাকো!
কিছু পাওয়া গেল?
কাউকে দেখেছ?
যতক্ষণ পর্যন্ত সুযোগ মুঠোয় পুরে নেওয়ার মতো আপনার কাছে কিছু থাকবে...
ব্রিফকেস!
উপরে!
ওইতো শালা!
ধরো ওকে!
যন্ত্রাংশের ভাগারের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে...
...যে মূল্যবান বস্তুটা আপনি পাবেন সেটা আরেকজনের ব্যবহৃত জিনিস।
কখনো কখনো সে তার জিনিসটা ফেরত চায়...
...বেশ মরিয়াভাবেই ফেরত চায়।
আমার ঝুলিতে সবসময়ই কিছু না কিছু প্ল্যান থাকে।
মাঝেমধ্যে অবশ্য পরিকল্পনাগুলো ঠিকমত কাজ করে না।
তবে, এটা অবশ্যই মনে রাখবেন তারা ঘুষি মারলে আপনার...
...মুখ বরাবরই মারবে।
আসো!
আপনার হয়তো এখন সহজে বিশ্বাস নাও হতে পারে...
একটা সময় ছিল, গাড়ির পেছনের সিটে বসে আমি অনেক মজা করতাম।
এই লোকগুলো পার্টি থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগে যে কাজটা আমি করতে চাই সেটা হচ্ছে..
ওদেরকে কুপোকাত করার একটা পথ খুঁজে বের করা।
হ্যাঁ! ম্যাকগাইভার বলছি!
নিরাপত্তাজনিত ডকুমেন্টস আছে এমন একটা ব্রিফকেস উদ্ধারের জন্য আমাকে পাঠিয়েছিলেন না?
হ্যাঁ, ওটা এখন আমার কাছে...
...সাথে ওই বদমাশগুলোকেও ধরেছি যাদের কাছে এটা ছিল।
হ্যাঁ, ওদেরকে পাকড়াও করতে চান?
ওরা আমার কব্জায় আছে।
ওই বুড়ো আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলকে...
অনেক প্রশ্নের উত্তরই দিতে হবে।
নিজের মতো করে হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা দিন দিন কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে।
সংবাদপত্র, টেলিফোন, রেডিও কোন কিছুর হাত থেকেই মুক্তি নেই...
...এমনকি মানুষের কাছ থেকেও।
বেশ কঠিন।
হয়তো অসম্ভব।
গুড মর্নিং, ম্যাকগাইভার।
বার্মায় গিয়েছিলে কখনো?
তুমি অন্ধকারে আচ্ছন্ন একটা দেশে যাবে।
যেখানে কোন সরকার কিংবা আইন নেই। আছে কেবল দুই ধরনের লোক।
আফিম ব্যবসায়ী আর লোকাল জনগণকে যাদেরকে তারা দাস বানিয়ে রেখেছে।
মনে হচ্ছে, প্রতিবেশীর বাসায় বেড়াতে পাঠাচ্ছেন আমাকে।
বিপদজনক হলেও গুরুত্বপূর্ণ।
বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
শুনেছি, জায়গাটা বেশ শুষ্ক আর গরম।
ঠান্ডা বাতাস তেমন একটা নেই।
কার্গো প্লেনটা জঙ্গলের মাঝে ভূপাতিত হয়। প্লেনের সবকিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সেখানে।
সমস্যা হচ্ছে বিষের একটা বাক্স আমরা হারিয়েছি।
যেটা ১০০০ একর জায়গা জুড়ে উদ্ভিদ, জন্তু এবং মানুষকে আক্রান্ত করার জন্য যথেষ্ট।
- আর, আপনি ওটা ফিরে পেতে চাচ্ছেন। - পারলে এনে দাও ওটা।
দরকার পড়লে ওটা ধ্বংস করে ফেলো।
তোমাকে সেখানে নামিয়ে দেওয়ার ২৪ ঘন্টা পর উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পাঠাবো।
দেরি করো না, ম্যাকগাইভার..
- ...নয়তো তুমিও ফিরে আসতে পারবে না। - ধুর!
মানে, আমার কাছে কেনাকাটা করার মতো যথেষ্ট সময় থাকছে না!
দাসত্ব।
পৌরাণিক ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত একটা শব্দ মাত্র...
যতক্ষণ পর্যন্ত তা নিজ চোখে দেখছেন।
মানুষদের সাথে কীভাবে পশুর মতো ব্যবহার করা হয় দেখতে পাবেন।
দাদু!
উনাকে ছেড়ে দিন!
কোন সমস্যা, স্যার?
তুই বলেছিলি, তোর লোকেদের খাটিয়ে আফিমের চাষ করাতে পারবি!
এ তো হাঁটতেও পারছে না!
আমি ঠিক আছি।
প্লিজ...
আসো, দাদু!
আমি হাঁটতে পারব!
দাদু!
আমি সরি!
ওদেরকে নিয়ে যাও!
দ্রুত! গ্রামে ফিরে চলো! চলো!
চুপ!
চুপ!
ঠিক আছে।
আমি তোমার পক্ষে।
এই লাল টুপিটা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করতে চাই।
আরে, কী করছ?
তোমাকে বিপদ থেকে বাঁচালাম! এভাবেই বুঝি ধন্যবাদ জানাও মানুষকে?
ভালো ব্যবহার ভালো বংশের পরিচয় দেয়।
তুমি কে?
- আমার নাম ম্যাকগাইভার। - চ্যান।
- কথা বলে ভাল লাগল। - মাফ করবেন।
ব্যাপার না।
এখন বলবে এই টুপিটা কোত্থেকে পেয়েছ?
তোমাকে দেখাব আমি।
ওই লোকটা কে যে তোমাকে তাড়া করছিল?
সে ট্রং। জেনারেল নারাইয়ের কুত্তা।
শ্রমিকদের দিয়ে ক্ষেতে পপি চাষ করানোর দায়িত্বে আছে সে?
- হ্যাঁ। - নারাই কে? তার বস?
ওরা বলে, জেনারেল নারাই কোন মানুষ নন।
উনি রক্ত পান করেন।
এখানেই এই লাল টুপিটা পেয়েছি, ম্যাকগাইভার।
বিষের বক্সটার খোঁজ পাওয়া যাবে না জানা কথা।
পেন্টাগনের হর্তাকর্তারা শুনলে মোটেও খুশি হবে না।
তুই অনেক ভাগ্যবান। এখন তোকে শাস্তি দেওয়ার মতো সময় আমার কাছে নেই।
- তোকে মেরেছে সে? - সে কে?
তোমার পরিচয় আর এখানে কী করছ সেটা বেশ ভালো করেই জানি।
তাই, মিথ্যা বলবে না!
ফ্রেঞ্চ?
ইংরেজ?
- আমেরিকান। - হুম, যা ভাবিস।
যেখান থেকেই আসিস না কেন, তোর পরিচয় জানি আমি।
- নারকোটিক্স এজেন্ট! - আমি কী?
তোর মতো লোকেরা এর আগেও এখানে এসেছে।
জেনারেল আসছে।
সবকিছু রেডি করো!
স্টোররুম! উনি আফিমের পরিমাণ দেখতে চাইবেন!
উনার বন্দুক! উনার বন্দুক যেন রেডি থাকে!
চলো!
চলো! চলো!
বহুদিন আগে আমার কাজিন অ্যালি নদী থেকে একটা কুকুরকে উদ্ধার করেছিল।
এয়ারডেল আর স্প্যানিয়েলের শংকর। বেশ কিউট ছিল, তারপরও অ্যালি কামড় খেয়েছিল।
প্রত্যেকটা কুকুরই জানে কীভাবে মরন কামড় দিতে হয়।
তারা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।
কুকুরের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে এটা বেশ ভয়াবহ।
মানুষের চেয়েও তারা ভয়ংকর হতে পারে।
যেমনটা আমি কখনোই আশা করি না।
- কে আপনি? - আমার নাম ম্যাকগাইভার।
বাজী ধরে বলতে পারি, আপনি জেনারেল নারাই।
খুব সুন্দরভাবে ল্যান্ডিং করেছেন, জেনারেল।
একটু দ্রুত তবে নিরাপদেই নেমেছেন।
সে একজন নারকোটিক্স এজেন্ট।
তাকে মুখ খুলতে বাধ্য করেছি।
পপি?
অর্ধেক উৎপাদন হয়েছে।
তুমি ভূপাতিত আমেরিকান কার্গো প্লেনের সম্পর্কে বলেছিল...
...অস্ত্রসহ নাকি পেয়েছ?
পেয়েছি!
ভাল।
খুব ভাল। .
আমার হেলিকপ্টারকে গানশিপ বানাবো।
একটা শক্তিশালী অস্ত্র।
গুলি ভরো ভেতরে।
এখানে আসার আসল হেতুটা কি জানতে পারি?
পর্যটক?
সেন্স অফ হিউমার পছন্দ করি আমি। উদ্দীপনা জোগায়।
৫ দিন পর আসবো আফিম নিতে।
উৎপাদনের কাজ শেষ করো, যদি ঠিকমত না পাই তো...
তারা অনেক ধীর প্রকৃতির! বুড়ো মানুষ আর মহিলায় ভর্তি!
বাচ্চাগুলো আলসে! কথা কানে তোলে না!
মোড়ল!
তোর লোকেরা ধীর স্থির প্রকৃতির?
উদ্ধত?
ওদেরকে বারবার বলেছি, জেনারেল! আপনি নারাজ হতে পারেন বলে সতর্কও করেছি!
তোমাদের জন্য চিন্তা করি বলে...
...নিরাপত্তা, খাবার আর আশ্রয় দিচ্ছি।
কিন্তু, মুফতে এসব দিচ্ছি বলে গায়ে চর্বি জমিয়ে ফেলো না।
আমাকে মোটেও নিরাশ করা যাবে না।
আঘাত করো আমাকে।
যদি আমি যন্ত্রণায় ভুগি...
তোমরাও ভুগবে।
আমরা প্রত্যাশিত ফসল জমা করব। কথা দিচ্ছি।
দারুণ।
আমার কাছে যে এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝানোর জন্য...
...তোমাদের সবাইকে একটা উদাহরণ দিচ্ছি।
পথের ধারে আমাদের নারকোটিক্স এজেন্টকে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখো।
কোন পানি কিংবা খাবার দেওয়া যাবে না।
প্রতিদিন সকালে কাজে যাওয়ার পূর্বে, সন্ধ্যায় কাজ শেষে ফেরার সময়...
No comments yet. Be the first to leave one.