The first 200 lines.
প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
পুড়িয়ে ফেলো না।
- আগুন নিভিয়ে দাও। - ইতোমধ্যে দিয়েছি।
ধীরে।
দাঁড়াও।
গোলাপ জল আনো তো নাযগোল।
হয়েছে।
আর ঢেলো না, এটাই যথেষ্ট।
মা মানুষ তো বলবে শোলেহ জর্দে কোনও কালারই আসেনি।
আমাকে দাও।
লেইলাকেও নাড়াতে দাও।
- শাফরন আর লাগবে না। - গোলনাজ যাও।
গোলাপ জল ঢালো,
- কেউ নাড়াতে চায়লে, নাড়াও এসে। - আমি ঢালি, মা?
হ্যাঁ, ঢালো সোনা।
ঢালার সময় দোয়া করো।
প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এবং তার পরিবারের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
করতে থাকো।
আরও গোলাপ জল দেব, মা?
- প্রার্থনা করো। - ওহ, ইমাম হোসেন।
সবাই প্রার্থনা করো।
একটু চেখে দেখি দাঁড়াও।
চাচাজান, আপনি খেয়েই যাচ্ছেন।
স্বাদ কেমন হলো তা দেখতে তো হবে, না?
বেশি নেড়ো না।
যাও, হোসেন, যাও, প্রিয়।
- সালাম, হোসেন। - সালাম, আমির।
কেমন আছো?
আমার বন্ধুর বাসায় শোলেহ জর্দের আয়োজন করেছে, তোমার জন্য নিয়ে এসেছে ও।
ছেলেরা এখানে, চাচা।
- চাচা! - হ্যাঁ?
- সালাম। - খোদা কবুল করে নিক।
- আমার বন্ধু রেজা। - সালাম, রেজা। কেমন আছো?
আমাদের জন্য কিছু শোলেহ জর্দ নিয়ে এসেছে।
লেইলা, আমিরের বন্ধু রেজা, ও দেখো কিছু শোলেহ জর্দ এনেছে।
নার্গিসের জন্য দিয়ে দেবেন, আন্টি?
রেজা আমার অন্যতম প্রিয় বন্ধু।
স্বাগত, অনেক ধন্যবাদ। আমরাও বেশ ব্যস্ত।
রেজাকে প্রথমবার শোলেহ জর্দ
রাঁধার সময়ে দেখি আমি।
আমার ভাই হোসেনের জন্য এক বোল শোলেহ জর্দ নিয়ে এসেছিল সে।
চলো সবারটা চেখে দেখা যাক।
আমার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাই। আমার এবং তোমার বন্ধু রেজার মধ্যে কারটা সেরা?
দুটো থেকে অল্প করে নেই।
এটা থেকে আগে নেই।
রেজারটা আগে টেস্ট করে দেখি।
কোনটা বেশি স্বাদ আমির?
এটার কোনো স্বাদ নেই।
আর এটা দেখো।
মিষ্টি বিবেচনায় নিলে আমরা একধাপ এগিয়ে।
আর ডেকোরেশন এবং কালারে বিবেচনায় নিলেও।
বাদামগুলোও বেশ ভালো।
এটা একধাপ এগিয়ে, আঙ্কেল।
সেই বছরেই রেজাকে বিয়ে করি আমি।
কিছুমাস পর আমার জন্মদিনে,
আমি জানতে পারলাম আমি কখনও মা হতে পারব না।
কী এটা?
কী সুন্দর!
দেখি তো, কোথায় থেকে পেলে এটা?
- তারা তাকে বড়ো গাধা বলে ডাকে। - ওহ, রেজা!
কী কিউট দেখতে!
- এটা আমার সমান লম্বা। - দেখতেও তোমার মতোই।
কোথায় পেলে এটা?
চুলগুলো দেখো।
এটাও কি আমার? কী সুন্দর।
- দেখি, আমাকে দাও তো। - দাঁড়াও, তুমি ছিড়ে ফেলছ।
কী ভেবে হাসছ হ্যাঁ?
কী ভেবে হাসছ হ্যাঁ?
গলায় আটকে যাচ্ছে।
জানি তুমি কী নিয়ে হাসছ।
- বলবো তোমাকে? - বলো।
তুমি না বললে আমি নিজেই বলবো।
- বলো। - বলবো?
- বলবো? - বলো।
- আমি কিন্তু বলে দেব! - বলো তো।
যেদিন তোমার মায়ের বাড়িতে আমাদের নিমন্ত্রণ করলো
আমার শ্বশুরবাড়ির মানুষেরাও আমার জন্মদিনের কথা জানতেন।
তাই প্রথমে সেখানে গিয়ে পরে আমার মায়ের বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই আমরা।
- সালাম। - সালাম, কেমন আছো?
- ভেতরে এসো। - ঠিক আছো তো?
শুভ জন্মদিন।
বাবা আপনি দরজা খুললেন যে? মোহাম্মদ বাড়ি নেই?
বাবা নিজেই দরজা খুলতে চেয়েছেন।
এত দেরি কেন হলো? তোমার প্রতীক্ষায় ছিলাম।
বাবা জানেন রেজার রেডি হতেই ১ ঘন্টা লেগে যায়।
এসো।
- দেখো কী সুন্দর ফুল এনেছে তোমার জন্য। - ধন্যবাদ, লেইলা।
- সালাম। - শুভ জন্মদিন।
- সালাম, রেজা। - সালাম ভাই।
- সালাম। - কেমন আছো?
- শুভ জন্মদিন। - ধন্যবাদ।
- আমার পাশে বসো, লেইলা মা। - জি আচ্ছা।
- স্বাগত তোমাদের। - এত জঘন্যরকম জ্যাম পড়েছে আজ।
- রেজা গাড়ি চালাচ্ছিল আর... - লেইলাও তার সময় নিয়েছে।
তাহলে তোমার কত বয়স হলো এখন?
এটা কেমন প্রশ্ন করলে।
তোমার বয়সের হয়েছে।
তোমার জন্য ছোটো একটা গিফট, লেইলা।
আশা করি তোমার ভালো লাগবে।
র্যাপিং করিনি, তোমার সুন্দর আঙুলের জন্য।
বাবা! অনেক ধন্যবাদ, খুব সুন্দর।
এটার উপর "এই সাম্রাজ্য সবকিছু আল্লাহ তায়া’লার" লেখা আছে।
তোমার জন্য ছোটো একটা গিফট আছে, লেইলা।
আশা করি তোমার পছন্দ হবে।
কী বলে ধন্যবাদ জানাবো বুঝতে পারছি না, মা।
আহা মা, এটা সামান্য একটা উপহার।
আশা করি পরের বছর তোমার সুন্দর ছেলেকে সাথে নিয়ে
আমরা বিরাট আকারের একটা আয়োজন করবো সবাই মিলে।
তোমার মা ও তোমার ভাইদেরও নিমন্ত্রণ করবো।
সবাই এখানে একত্রিত হবো।
রেজার ছেলেকে দেখার জন্য কত প্রতিক্ষায় রয়েছি আমি তোমাকে বলে বুঝাতে পারব না।
- সালাম ভাই। সালাম, লেইলা। - সালাম, হোমায়রা, কেমন আছ?
- সালাম, রেজা। - সালাম, ঝাবাহের।
- অনেক ধন্যবাদ। - মাশাদ থেকে কেনা হয়েছে এটা।
- ছোটো একটা জিনিস। - ধন্যবাদ।
- এই নাও। - ধন্যবাদ, গোল মোহাম্মদ।
এবং এটা আমার তরফ হতে।
এবং বাকি সবকিছুর থেকে এটা বড়ো
এবং দামিও।
এটা বেশিই আমোদপ্রমোদ। বিশেষত রেজার জন্য।
- কী যে বলি বুঝতে পারছি না। - এসব কিছুই না, প্রিয়।
রেজা চা পান করতে পছন্দ করে।
ও সারাদিন চা পান করে।
এবং এটা তোমার জন্য।
কিন্তু তুমি মজার মজার খাবার বানিয়ে আমার ভাইটাকে মোটা বানাবে না সেই শর্তে দেব।
চিন্তা করবে না, ওর মোটা হতে বহুদিন লাগবে।
ও যদি স্বামী হিসেবে খারাপ হয় ওকে মেরে সোজা করে দেব আমরা।
ওহ না, এভাবে বলো না।
লেইলা, ফরিদা কল করেছে।
- তোমার জন্য। - ধন্যবাদ।
হ্যাঁ?
- হাই লেইলা। - হাই ফরিদা।
- শুভ জন্মদিন। - ধন্যবাদ।
তুমি যদি এখানে থাকতে।
- তোমার জন্য ছোটোখাটো একটা জিনিস নিয়েছি, পরে দেবনে তোমাকে। - এসব ঝামেলা কেন করতে গেলে?
আরে তেমন না ছোটো কিছু।
ধন্যবাদ।
তারপর বাবা কী দিলো তোমাকে?
একটা ক্রিসোপ্রেজ আংটি।
তাহলে তিনি নিশ্চয় তোমাকে ভালোবাসেন।
ওই আংটি আমার মায়ের ছিল।
- পরে দেখাবে আমাকে কেমন। - আচ্ছা ঠিক আছে।
- খোদা হাফেজ। - ধন্যবাদ প্রিয়, খোদা হাফেজ।
খোদা, আমার এত আনন্দ হচ্ছে!
মনে হচ্ছে যেন আকাশে
মেঘের চাদরে শুয়ে ভেসে বেড়াচ্ছি।
শুকরিয়া আল্লাহ।
ধন্যবাদ।
- রেজা! - হ্যাঁ?
তোমার কতগুলো সন্তান নেওয়ার ইচ্ছে?
প্রতি বছর দুটো হলেই হবে।
আমি সিরিয়াস।
জানি না, এটা কেমন প্রশ্ন বলো তো?
একশোটা অথবা দুটো।
যত বেশি ততো ভালো।
- আর যদি আমি মা না হতে পারি? - তাহলে তো আরও ভালো।
আমি মা না হতে পারলে তুমি আমাকে তালাক দেবে না তাহলে?
এই কথাটা ভালোভাবে শুনে রাখো, আমি তোমাকে শুধুমাত্র তোমার জন্য চাই
কোনো সন্তান কিংবা অন্যকিছুর চিন্তা করে নয়।
লেইলা নামের একটা প্রাণী।
এই প্রাণী চাচ্ছে মা হতে।
তাও শুধু দুই-একটা নয়,
শ'খানেক বাচ্চার।
- সালাম। - সালাম।
শুভ জন্মদিন।
- সালাম, মা। কেমন আছ? - সালাম।
এখানে দাঁড়িয়ে বরফ না হয়ে অন্যত্র যেয়ে বসি আমরা?
আমার বয়স হয়েছে এই কথা বলার সাহস কোথায় পেলে?
এই ভারি ফায়ার-পেন সরাতে আমার একঘন্টা লেগে যাচ্ছে দেখেছ?
চালিয়ে যাও হোসেন, বাজাতে থাকো।
এক মুহূর্ত প্লিজ।
ভদ্রমহিলা এবং মহোদয়গণ, খাবারের আগে আমি লেইলা'কে উপহার দিতে চাই।
দাঁড়াও।
এখানে একটা আমার তরফ হতে, লেইলা
এবং আরেকটা আমার প্রিয় স্বামীর তরফ হতে।
- তেমন বড়ো কিছু না বোন। - অনেক ধন্যবাদ।
এটা আমার দোষ না, ও পছন্দ করেছে।
- মা, তোমাকে ভালোবাসি। - লেইলা, সোনা আমার।
এখন পরবর্তী উপহারের পালা।
তোমার এবং রেজার নাম এখানে খোদাই করে লেখা রয়েছে।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
অবিশ্বাস্য।
এর চেয়ে বেশি করতে পারতে।
নাযগোলের উপহার।
প্যারিস থেকে আনা।
আর কোনো উপহার?
হ্যাঁ, তোমার প্রিয় চাচার তরফ হতে।
এক জোড়া ক্যানরি।
অনেক ধন্যবাদ।
বেশ, হোসেনের উপহার।
এবং এটা সকল কবুতর ও ক্যানারির তরফ হতে।
আমি ও রেজা পরবর্তী দিন ডাক্তার দেখাতে যাই।
তাকে বলি যে আমাদের বিয়ের অনেকদিন হয়ে গেলো
কিন্তু আমি এখনও প্রেগন্যান্ট হচ্ছি না।
তিনি বললেন
এমনটা নিতান্তই স্বাভাবিক ঘটনা, এত দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই।
মাঝেমধ্যে এটা জেনেটিক কারণে হতে পারে
এবং তেমনটা হলে সেখানে করার কিছু থাকে না।
কিন্তু যদি পুরুষের সমস্যা থেকে থাকে তাহলে একেবারেই কিছু করার থাকে না।
কিন্তু নারীর হলে বিভিন্ন উপায় রয়েছে
No comments yet. Be the first to leave one.