لومړۍ 200 کرښې.
আচ্ছালামু আলাইকুম!
বাংলা সাবটাইটেল দিয়ে মুভি দেখার জন্যে স্বাগতম!
মুভির নাম-আয়োগ্যা (২০১৯) অভিনয়ে- ভিশাল, রাশি খান্না প্রমুখ। অনুবাদকঃ এফ আর সজীব।
জীবন কাউকেই নিষ্কৃতি দেয় না!
সে সবাইকে নিজের মতো করে পরীক্ষা নেয়!
যতক্ষণ না পর্যন্ত আমাদের সাথে সেরকম কিছু ঘটবে, আমরা বুঝতে পারব না জীবনটা আসলে কি।
আর যখন বুঝতে পারবো তখন জীবনের ধর্ম, ন্যায়নীতি সবকিছুই শেষ হয়ে যায়।
আজকে ঠিক সেরকম কিছুই হয়েছে আমার জীবনে।
ঠিক পরের মিনিটে বেঁচে থাকবো কিনা সেটাও জানি না আমি।
সহজেই আমি কারোর উপর আক্রমণ করতে পারি না।
মোটের উপর আমি হচ্ছি এতিম, যে কেউই আমার উপর আক্রমণ করতে পারে।
কতটা বর্বরতার শিকার হয়েছি সেটা ব্যাপার না,
কারণ এর মধ্যেও আমি ছোট থেকে শিখেছি যে, একমাত্র টাকাই আমাকে রক্ষা করতে পারে।
চুরি করার সাহস পেলি কীভাবে!!?
আপনি আমাকে মারছেন কেন?
তুই চুরি করতে পারিস আর আমি তোকে মারতে পারবো না?
আমি চুরি করিনি!
তাহলে এসব কী? টাকা আসলো কোত্থেকে?
স্যার, আমাদের লাইসেন্স আছে!
লাইসেন্স? এর মানে?
এই এলাকার যেকোনো জায়গা থেকে
আমরা চুরি করতে পারবো, আমাদের বস বলেছেন এই কথা।
আপনি কি জানতে চান, আমরা কার হয়ে কাজ করি? জানলে আপনি শেষ!
কে তোদের বস?
রাজেন্দ্রান! বুলেট রাজেন্দ্রান!
নমষ্কার পুলিশ স্যার! ভালো আছেন আপনি?
স্কুলে পড়ুয়া বাচ্চাদের এভাবে গ্রেপ্তার করে রেখেছেন কেন?
ভয় পাস না তোরা, আমি তো এসেছি!
-এই লোকটা তোদের বস? -হুম।
এই কি? ভালো করে দেখে বল!
স্যার, একটু কাছে আসবেন স্যার?
অবশ্যই, আসতেছি স্যার।
-ওহ ভগবান! -আয়, তোকে ভালো করে একটু দেখি।
আমি ওকে কিছুই বলিনি, স্যার।
তোদের হাত সবসময় আমাদের কাছে ভিক্ষে চাইবে, নাকি আমাদের উপর হাত উঠাবি?
তুই ওকে এভাবে কথা বলার জন্যে মনে হয়, অনেক সাহস যুগিয়েছিয়াস তাই না?
-নিজেকে বস বলে পরিচয় দিস? -মারবেন না, স্যার।
-বস, তাই না? -আমি কখনোই বলিনি আমাকে বস বলে ডাকতে।
সে এক ছোট বাচ্চা! কী বলতে কী বলে ফেলেছে!
হারামজাদা কোথাকার!
যখন জিজ্ঞেস করলাম বলে নাকি তাদের লাইসেন্স আছে!
দুই সপ্তাহ পরপর লাইসেন্স নবায়ন করতে হয় সেটা জানিস তুই?
এতদিন কোথায় ছিলি? যা আছে বের কর।
দাঁড়ান স্যার দিচ্ছি, নিন স্যার।
-ওইটাতে কী আছে? -নিরাপত্তার জন্যে স্যার, আমি জানতাম আপনি জিজ্ঞেস করবেন।
-নিরাপত্তা? তোর আবার কীসের নিরাপত্তা? -এই যে।
-ওইটাতে কী আছে? -আর নাই স্যার, সব দিয়ে দিয়েছি, স্যার।
ওর থেকে নিয়ে দে!
আছে কিছু? থাকলে দিয়ে দে।
যা বলতেছি তা কর।
না হলে এই লোকটা আমাকে জেলে পুড়ে দেবে!!
এই অল্প কয়েক পয়সা স্যার! এটাও আপনিই নিন, স্যার!
নিজের মাহাত্ম্যের কথা সব সময় বলিস না ওদের।
-না, স্যার। -সাথে একটু পুলিশের ক্ষমতার ব্যাপারেও বলিস।
ঠিক আছে, স্যার!
-ওদেরকে বাইরে নিয়ে যা। -এসব নিয়ে রাখো।
-বাদ দে, ছেড়ে দে এগুলা। -এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?
চল যাই, পিচ্চি শয়তানেরা!!
তোদেরকে যা করতে মানা করি সেটাই বেশি করে করিস। সবাই যা এখান থেকে।
এই তুই উনাকে কি বলেছিস? আমাকে এতো নির্দয়ের মতো মারলো কেন?
আমি বলেছি আপনি অনেক বড় একজন বস,
কিন্তু আপনি ভয়ে উনাকে সব টাকা পয়সা দিয়ে দিলেন?
-উনাকে ভয় পেয়ে.... -আস্তে বল! উনি শুনতে পাবেন।
-যা করলো আমাদের সাথে সেটা কি যথেষ্ট হয়নি? -কেন? আপনি বিনিমিয়ে এক ঘা মারতে পারলেন না?
এতো বড় ধামড়া একটা!!
বড় হয়েছি তো কী হয়েছে? পুলিশের গায়ে হাত তুলতে বলছিস?
কি বাল ফালায় পুলিশে?
এদিক সেদিক দৌঁড়িয়ে কষ্ট করে অন্যদের থেকে চুরি করি।
আর এক ইঞ্চিও না নড়ে তারা আমাদের থেকে টাকা চুরি করে!
পার্থক্যটা কোথায়?
পুলিশের পোশাক রে! পুলিশের পোশাক।
এটা পড়লে তারা সব কিছুই করতে পারে।
আমরা করলে চুরি আর তারা করলে মামাজুড়ি!
সে মনোযোগ দিয়ে টাকা গোণা দেখতেছে, মনে হয় আবার আমাকে কোনো সমস্যায় ফেলবে।
তাহলে আমার বাকি টাকা দিয়ে দেন। আমি চলে যাবো।
কীসের বাকির কথা বলছিস তুই?
এতবড় কামানের গোলা ভেবে আপনার মতো হতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু এখন বুঝতে পারছি আপনার সাথে লেগে থাকলে আমার ভবিষ্যৎ এর কিছুই হবে না।
আমাকে কী করতে হবে সেটার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি।
কি করবি সিদ্ধান্ত নিয়েছিস?
পুলিশের পোশাক পড়বো!
পুলিশ হবো!
সব ধরণের মামাজুড়ির উপর জরিমানা করবো।
ভিশাল!
ঠিক আছে, চল।
কার উপর হাত রেখেছেন জানেন আপনি?
কার?
ভবিষ্যৎ পুলিশ এর উপর।
ওইদিন থেকেই পুলিশ হওয়ার চিন্তা আমার মাথায় চেপে বসে।
আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম চুরি করলে পুলিশ হয়েই করবো, বেশি করা যাবে।
পুলিশ হওয়ার জন্যে আমাকে পড়াশোনা করতে হতো।
আমার কোনো বাবা মা ছিলো না, যে আমাকে স্কুলে পাঠাবে।
সেজন্যে বিশেষ করে দিনের বেলা যেই কাজ পেতাম সেটাই করতাম।
আর রাতের বেলা স্কুলে যেতাম। পড়াশোনা তৈরী করে স্কুলে যাওয়াটা
ছিলো খুবই কষ্টের।
কিন্তু আমার মাথায় বারবার বেজে উঠতো, যে করেই হোক আমাকে পুলিশ হতে হবে।
আমি আমার আশেপাশের পুলিশগুলোর বিলাসবহুল জীবন যাপন লক্ষ্য করতে থাকলাম।
ভুল রাস্তায় গেলে ৫০ টাকা জরিমানা। লাইসেন্স না থাকলে ১০০ টাকা জরিমানা।
যদি কোনো দূর্ঘটনা ঘটে তবে দুইজনের থেকেই টাকা আসে।
যে দোষী তার থেকেও টাকা আসে, যে নিরপরাধ তার থেকেও টাকা আসে।
কেউ কোনো সমস্যা নিয়ে এসেছে, মানে আমার পকেটে টাকা উঠবে!
পুলিশ হবার লিপ্সায় আমি অনেক রাত-দিন নির্ঘুম কাটিয়েছি।
শুধু তাই নয়, পুলিশ অভিনীত অনেক সিনেমাও দেখতে লাগলাম।
ডায়লগও আত্মস্থ করে ফেললাম।
শুভ সকাল!
কি খবর মি. মাইনর?
তোর নাকি আমার মাথা লাগবে? এইতো আমি এখানে, নিয়ে নে।
আমি কে সেটা না জেনে আমার সাথে নোংরামি করেছিস!
সন্ত্রাসী হারামজাদা!!
-একজন পুলিশ অফিসার কে চ্যালেঞ্জ করার সাহস কোথায় পেলি? -একজন পুলিশ অফিসার কে চ্যালেঞ্জ করার সাহস কোথায় পেলি?
আমার সামনে আর একটা মিনিট দাঁড়িয়ে থাকলে তোর মাথা ফাটিয়ে দেবো।
বেরিয়ে যা, বেরিয়ে যা বলছি!
সাহস কাকে বলে জানিস?
ভয় কে জয় করতে হবে।
তোর চোখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।
আমি আস্তে আস্তে
আর ধৈর্য নিয়ে, বর্ননা করে
তোকে শিখিয়ে দেবো।
আমি শিখাতে পারদর্শী।
অনেক কষ্ট করে আমি এস এস সি পাশ করেছি।
এই মানে এই না যে স্কুলে বা রাজ্যের মধ্যে প্রথম হয়েছি,
টেনেটুনে শুধু পাশটা করেছি।
একটা সময় বুঝতে পারলাম আমার পক্ষে পড়াশোনা আর সম্ভব না।
আর পুলিশও হতে পারবো না।
কিন্তু দেশের মধ্যে ঘটে যাওয়া প্রত্যেকটা ডাকাতি আর দূর্নীতি, এসবের চিন্তা আমার ঘুম কেড়ে নেয়।
ঘটে যাওয়া ওইসব জায়গায় আমি ছিলাম না কেন, সেটা ভেবে আমার হৃদয়টা ছটফট করতো!
ভাই, ডিগ্রী পেতে হলে আমাকে আরো পাঁচ বছর পড়তে হবে।
আমি আর পড়তে পারবো না, ভাই।
তাহলে সব চিন্তা বাদ দে!
আমি অবশ্যই পুলিশ হবো। সেজন্যে কি পড়াশোনা বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ রে ভাই!
পরিষ্কার করে বলো।
পুলিশ হওয়ার জন্যে, পড়াশোনা করা বাধ্যতামূলক নাকি সাটিফিকেট বাধ্যতামূলক?
-সার্টিফিকেট! -সার্টিফিকেট হলে,
সেটা কি পড়াশোনা করেই উপার্জন করতে হবে নাকি উপার্জন করার জন্য অন্য কোনো উপায় আছে?
টাকা নিয়ে কিনতেও পারবি!
সেজন্যে, পুলিশ হতে গেলে যেসব বিষয়ে সার্টিফিকেট লাগবে সব আমি কিনে নিলাম।
তখন টাকার প্রতি আমার সম্মান আরো বেড়ে গেলো!
শুধুমাত্র শারীরিক পরিক্ষায় কোনো দূর্নীতি ছাড়াই আমি পাশ করেছিলাম।
সেটা ভাগ্যের কারণের হোক কিংবা দূ্র্ভাগ্যবশত। অবশেষে আমি পুলিশ হয়েই গেলাম!
পুলিশ ইন্সপেক্টর! কার্নান!
কি বে?
কি হলো রে? রাজ্যের কঠোর পুলিশ এখানে এসেছেন!
এই! কিছু ভাংতি টাকা থাকলে ওদেরকে দিয়ে দে!
এই নাও, মামা! এটা দিয়ে চলো!
এত সাহস তোদের....
ছাড় আমাকে!
-ছাড় আমাকে। -ধাক্কা দিবি না।
আমাদের ভাই জানতে পারলে খবর আছে তোদের।
মিনিস্টার সাহেব, নমস্কার!
নমস্কার! এই মাসের কালেকশন তো এখনো আসলো না?
সাগরে মাছ ধরা কি ভুলের কিছু?
না।
-ক্লাব চালানো কি ভুলের কিছু? -কেউ কিছু বলেছে নাকি?
মাছ ধরে তার মধ্যে হেরোইন আর কোকেইন ঢুকিয়ে ক্লাবে বিক্রি করি।
এতে দোষের কী আছে?
আপনার পুলিশ এটা স্মাগলিং বলে আমার ভাইদের গ্রেপ্তার করেছে কেন?
আমি দেখছি কি করা যায়।
ওই ইন্সপেক্টরকে মারতে আমার তিন থেকে চার মিনিট সময় লাগবে।
কিন্তু তারপর ওর জায়গায় অন্য একজন এসে দাঁড়াবে।
সেও এসে সততা আর ন্যায়নীতির নামে আমাদের ব্যাবসায় ঝামেলা করবে।
তারপর তাকেও মারতে হবে। এভাবে চলতেই থাকবে!
তো? তুমি কি পুলিশ স্টেশনই উড়িয়ে দেয়ার কথা ভাবছো?
ওই পোস্টে এরকম একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর নিয়ে আসেন যে আমার কথা শুনবে।
যে পুলিশ সততা কিংবা ন্যায়নীতির বানান টাও জানবে না।
সোজা কথায়, সে যাতে আমার থেকেও খারাপ হয়।
পুলিশ!!
একে গাড়িতে তুলো আর স্পটে নিয়ে যাও।
ব্যাগ গুলো নিয়ে পালিয়ে যা, সর্বনাশ আমার।
দৌড়ে পালিয়ে যা।
ধুর বাল! লুকানোর একটা জায়গা লাগবে।
হেই! হাত তুলো।
স্যার! স্যার!
স্যার! আমি জানতাম না যে এসব করলেও গুলি করার আদেশ জারি হয়, স্যার!
-তুই কি ওদের পক্ষে? -না স্যার, আমি সব সময় পুলিশের পক্ষে, স্যার!
তাহলে আমাকে দেখে দৌড়াচ্ছিলি কেন?
আসলে হয়েছেটা কি, পুলিশ দেখলেই আমার ভয় লাগে।
আমি ওইরকম না যে পুলিশ দের নিয়ে বিদ্রুপ করবো। কসম করে বলছি, স্যার।
আমি খুব ভালো করেই জানি যে, তুই পুলিশ দের ভয় পাস।
সে আমার কথা কীভাবে জানে?
তোমার ভয়ই আমাকে পুলিশ বানিয়ে দিয়েছে!
এই লম্বু,
-তারা পুলিশ বানানো... -বুলেট রাজেন্দ্রান।
কি বললো সে?
আমি পুলিশের পোশাক পড়বো! পুলিশ হবো!
সব ধরণের মামাজুড়ির উপর জরিমানা করবো!
কার উপর হাত রেখেছো জানো?
এই কার্নান! কেমন আছিস তুই?
ইন্সপেক্টর কার্নান!
হায় ঈশ্বর! যেরকম টা বলেছিলেন পুলিশ হয়েই ছাড়লেন!
কত সুন্দর রঙ হয়েছে আপনার গায়ের!
-তুমি মুক্ত। -সত্যিই মুক্ত আমি? -হুম
-চলো স্পটের এর ওখানে যাই। -ঠিক আছে!
গাড়িতে বললো সে আমাকে একটা কাজ দিবে আর এখানে এক লাশের কাছে নিয়ে আসলো।
চিনতে পারো ছেলেটি কে?
দাঁড়ান, দেখে জানাচ্ছি!
ওহ সে! কাউন্সিলর রামানাথানের ভাই, ওর নাম আনবু।
-কে করতে পারে এটা? -কে করবে? ধিনাদায়ান এর লোকেরা হতে পারে।
তারা রাজনীতি করে আর পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট এর ব্যবসা করে।
তারা একে অপরের লোকজন কে মেরেই থাকে।
No comments yet. Be the first to leave one.