لومړۍ 158 کرښې.
পৃথিবীর সবচাইতে নির্জন অঞ্চল, খোলা সাগর।
যা আমাদের গ্রহের অর্ধেকের বেশি পরিমাণ জায়গা দখল করে আছে।
এখানে খাদ্যে পরিণত হওয়া থেকে লুকিয়ে বাঁচার কোন উপায় নেই।
এ সমুদ্র অঞ্চলকে মরুঅঞ্চলের সাথে তুলনা করা যায়।
আর এই এলাকা দাপিয়ে বেড়ায় স্পিনার ডলফিনরা।
তারা দলবদ্ধ ভাবে থাকে...
যা প্রায় ৫ হাজারের একটা শক্তিশালী ঝাঁক।
এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা খাদ্য খোঁজার সম্ভবনাকেও বহুগুনে বাড়িয়ে তোলে।
তাদের মত যারা এখানকার বাসিন্দা, টিকে থাকার জন্য
এই নীলাচলে তাদের দলটাকেও বিশাল আকারে গড়তে হয়।
এই নির্জন সাগর প্রাণে উচ্ছাসিত হবার মুহূর্তগুলো খুব দুর্লভ।
কোস্টারিকার প্রশান্ত এলাকার কিছু দূরের, ল্যান্টারন ফিস
আকারে নিশ্চিতভাবেই খুব একটা বড় নয়,
কিন্তু আকারের ঘাটতি তারা পুষিয়ে দেয় তাদের সংখ্যায়।
পৃথিবীর যে কোন স্থানের অন্যতম সংখ্যাগরিষ্ঠ মাছ এরা।
সাধারণত রাতের বেলা তারা উপরিতলে আসে,
তাও প্লাঙ্কটন খাবার জন্য,
কিন্তু এই বিশাল ঝাঁকটা দিনের বেলাতেই ভেসে উঠছে,
খুব সম্ভবত ডিম ছাড়ার জন্য।
ডলফিনদের জন্য এটা দারুন সৌভাগ্যের ব্যাপার।
তারা প্রতিধ্বনি প্রক্ষেপনের মাধ্যমে ঝাঁকটার অবস্থান সনাক্ত করে ফেলেছে।
কিন্তু ঝাঁকটা পেতে, তাদের খুব দ্রুত আসতে হবে।
অবশ্য এখানে শিকারী বলতে তারা একা না।
হলুদ ডানার টুনাও ঝাঁকটার খবর পেয়ে গেছে।
আর তাদের পিছনেই আছে মবুলা রে, দুই মিটারের বিস্তৃত ডানার প্রাণী।
এখন সাগরের অন্যতম দ্রুতগামী সেইলফিসও
অংশ নিয়েছে এই প্রতিযোগিতায়।
ল্যান্টারন মাছের যে কোন সময় সাগরের গভীরে তলিয়ে যেতে পারে।
কিন্তু ডলফিনরা এখন, এখানে এসে গিয়েছে।
ঝাঁকটিকে উপরে রাখতে, আর অধিকসংখ্যাক মাছকে এক জায়গায় কোণঠাসা করে রাখতে,
তারা ঝাঁকের নিচ দিয়ে সাঁতরে আসে।
এখন সাগর ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে।
এই ঝাঁকেই, ঘন্টায় ৪০মাইল বেগে টুনা মাছগুলো আক্রমন করে।
ধীরগতি সম্পন্ন রে গুলো আসে সবার শেষে।
তারা প্রকান্ড মুখ গহ্বরের মাধ্যমে,
শ'য়ের উপরে ল্যান্টারন গ্রাস করে নেয়।
ঝাঁকটি এখন বিস্তৃত ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে,
আর বেঁচে যাওয়া মাছগুলোকে শিকার করে নেয় সেইলফিস।
মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে,
কিছু রূপালী উচ্ছিষ্ট টুকরো ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না।
কিন্তু এখানে এইরকম বিশাল ভোজ উৎসব, আসলেই অনেকটা বিরল ঘটনা।
ডলফিনরা যতক্ষন বিশাল ভোজে বিভোর
অন্যরা তখন আরো কঠিন পর্যায়ে ছুটে চলেছে
খাদ্যের আশাতে এই নির্জন সাগরে।
ঘুমন্ত একটা দৈত্যই বলা চলে...
একটা স্পার্ম হোয়েল।
পরিবারটি খাবার উপলক্ষে জিরিয়ে নিচ্ছে।
কে জানে, বিশ্বের সবচাইতে বিশাল মস্তিষ্কের অধিকারী এই প্রাণী
কী স্বপ্ন বুনছে এখন!
এদের একটার একটা ছানাও আছে।
তার বয়স সবে দুই সপ্তাহ, কিন্তু এখনো সে মায়ের দুধের উপর নির্ভরশীল।
বাচ্চাটা ক্ষুধার্ত।
সে তার মায়ের সাথে একধরনের শব্দ উৎপন্ন করে যোগাযোগ করে।
কিন্তু মা এখন তন্দ্রাচ্ছন্ন।
বাচ্চটা এখনো মায়ের দুধের উপর নির্ভরশীল, এ অভ্যাস সে ছাড়তে পারেনি,
কিছুটা ধৈর্য্য ধরতে হবে।
ঘুম শেষে চাঙ্গা হয়ে এবার সামনে এগুবার পালা।
স্পার্ম তিমিরা শিকার উপরে ভেসে উঠার অপেক্ষায় থাকে না।
তারা শিকারের খোঁজে জলের গভীরে ডুব দেয়।
এরা টানা লম্বা লম্বা শ্বাস নেয়...
রক্তে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন প্রবাহের জন্য।
তারপর গভীর জলে ডুব দেয়।
স্কুইড এর খোঁজে এই পুরো পরিবার গভীর জলে নামে।
মা তার শেষ সহ্যসীমা পর্যন্ত নীচে নামতে থাকবে,
কিন্তু শাবকের জন্য এখুনি তা রীতিমত দূরহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সে যতটা পারছে তার মায়ের কাছাকাছি থেকে...
ক্রমাগত মায়ের গা ঘেষে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করছে।
কিন্তু ৩০০ মিটার নিচে,
শাবকটি মনে হচ্ছে আর শ্বাস ধরে রাখতে পারছে না।
জন্মের প্রথম বছরে শাবকদের একরকম জোর করেই শিকার করতে বাধ্য করা হয়।
বয়স্করা তাদের ডুব জারি রাখে।
মা তিমিটা এখন ভিন্নভাবে
আরো ঘনঘন আর উচ্চস্বরে শব্দ উৎপন্ন করছে।
সে এখন এক ঝাঁক স্কুইড শিকারের জন্য সোনার ব্যবহার করছে।
৮০০ মিটার গভীরে এই শব্দ আরো জোরদার হলো।
তারপর একরাশ নীরবতা।
সে তার কাজ হাসিল করে নিয়েছে।
উপরিতলে একটি শাবককে অনেকক্ষন অপেক্ষার প্রহর গুনতে হতে পারে।
প্রায় ঘন্টাখানেক পরে মা গভীর জল থেকে ফিরে আসে।
তার উদর এখন স্কুইডে পরিপূর্ণ।
অবশেষে, এই ক্ষুধার্ত শাবকের ভাগ্যে হয়তো দুধ জুটবে।
যে কোন স্তন্যপায়ীদের মধ্যে এরাই সবচেয়ে বেশি দুধ উৎপন্ন করে,
তাই শাবকটিরও দুধের কোন অভাব পরে না।
গভীর জলে ডুব দেয়া শিখতে একটা শাবকের প্রায় ছয় বছর লেগে যায়
আর সে তখন নিজেই নিজের খাবার খুঁজে নিতে পারে।
বিশাল নীল অঞ্চলের শূন্যতা শিকারীদের জীবনকে আরো কঠিন করে তোলে।
কিন্তু যারা শিকার হয়, এই একই শূন্যতা তুলনামূলক ভাবে তাদের জীবনকে নিরাপত্তা দান করে।
অল্প কদিনের ভিতর জন্ম নেয়া একটা শিশু কচ্ছপ, জনাকীর্ণ এলাকাটা ত্যাগ করেছে সে,
এই বিপদজনক উপকূল ছেড়ে সে খোলা সমুদ্রের পথে যাত্রা করছে।
অতি সম্প্রতি আমরা সেই রহস্য উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি
যে, শিশু কচ্ছপরা জন্মের প্ৰথম বছরটা কোথায় গায়েব হয়ে যায়।
এজন্য তারা প্লাঙ্কটনে তাদের ছোট উদরখানা পূর্ন করে নেয়।
কিন্তু শীঘ্রই তাদের আরো উপযোগী কিছুর দরকার হবে।
প্রত্যেক সাগরেই, উপকূলের কিছুদূরে, মাইলের পর মাইল...
সেখানেই নবীণ পরিত্যাক্তদের এক আলাদা সমাজ।
যা 'ই ভেসে আসুক না কেন, সবই তাদের আকৃষ্ট করে।
একটা গাছের গুঁড়ি।
সম্ভবত বেশ ক বছর ধরেই এটা সাগরে ভাসছে,
আর ইতিমধ্যে এটি একটা সম্প্রদায়ের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নবীণ পটকা মাছেরা একই কারণে এখানে জড়ো হয়েছে।
এই ভাসমান গুড়িটা একরকম আশ্রয়স্থল
যেটার খোঁজে ছিল এই কচ্ছপটি।
এখানে খাবার জন্য শুধু সামুদ্রিক শৈবালই নয়, সাথে অনেক অনুচরও আছে।
কিন্তু নিজেকে আড়াল করে রাখাটাও গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে একটা নবীণ সিল্কি হাঙ্গরও রয়েছে।
সে সবে শিখছে, কিসের স্বাদ বেশি,
আর কিসের স্বাদ নেই।
আমরা এখন জানি, অনেক নবীণ কচ্ছপরা প্রাপ্তবয়স্ক হবার আগে বেশ ক বছর
এরকম জায়গাতেই আশ্রয় নেয়।
এমনকি তার জন্য বড় সাগরগুলোর প্রবল স্রোতের মুখে পড়তে হলেও।
সূর্য্য এই গভীর নীল অঞ্চলে প্রবল উত্তাপ ছড়ায়
যাতে উপরিতলের জল বাষ্পীভূত হতে পারে।
বাষ্প বাড়তে বাড়তে তা মেঘে ঘনীভূত হয়।
খুব দ্রুত এরা বিশালাকায় দৈত্যাকার রূপ নেয়।
যা প্রায়ই ১০০০ মাইল জুড়ে প্রবল ঝড়ের সূত্রপাত করে।
খোলা সমুদ্রের উপর দিয়ে বয়ে চলা হারিকেন এর প্রচন্ড শক্তিশালী বাতাস,
এমন সব ঢেউ উৎপন্ন করে যার একেকটা ৩০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়।
Out here, ships have been known to sink without trace.
প্রতি বছর ১৩০ মিলিয়ন কন্টেইনারবাহী জাহাজ সমুদ্র দিয়ে আসা যাওয়া করে।
আর গড়ে তার মধ্যে চারটা জাহাজ প্রতিদিন সমুদ্রে সলিল সমাধি লাভ করে।
১৯৯২ সালে এমনি কিছু জাহাজ ডুবে গিয়েছিল
যেগুলো গোসলের খেলনাতে বোঝাই ছিল...
তাদের মধ্যে ছিল, ঠিক এরকম ৭০০০টি প্লাস্টিক হাঁসের পুতুল।
আলাস্কার ১০০০ মাইল দূর থেকে তাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল।
এদের কিছু প্রশান্ত মহাসাগর পর হয়ে পৌঁছে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াতে।
অন্যগুলো বয়ে গিয়েছিল উত্তরে
আর ঠাঁই নিয়েছিল, রাশিয়া আর আলাস্কার মধ্যবর্তী উপকূলে।
এমনকি উত্তর মেরুতেও এদের খোঁজ পাওয়া গেছে।
একটা পুতুল ১৫ বছর ধরে সমুদ্র ভ্রমন করে
তিনটি মহাসাগর অতিক্রম করে,
অবশেষে স্কটল্যান্ডের পশ্চিম তীরে এসে থেমেছিল।
তাদের এই ভ্রমনপথ স্পষ্ট ভাবেই চিত্রায়ন করে সমুদ্র স্রোতের নিবিড় বিন্যাস...
কিভাবে সকল সাগরগুলোকে একটা বিশাল সঁচরণশীল সিস্টেমে যুক্ত করে।
এই বিশাল নীল অঞ্চলের অনেক প্রাণীই এই সকল স্রোতের উপর নির্ভরশীল
যা তাদেরকে খাদ্যাঞ্চলের দিকে বাহিত করে।
ব্লু শার্ক।
সে তার ডানার আকারের পাখনা দিয়ে,
স্রোতের মাধ্যমেই বছরে ৫০০০ মাইলের উপরে পরিভ্রমন করে।
এটি সম্ভবত দুই মাস ধরে কিছুই খায়নি।
তবে এই স্রোত অনেক দূর থেকে ভেসে আসা চর্বির আশাপ্রদ খবর নিয়ে আসতে পারে,
আর তাকে নিয়ে যেতে পারে তার পরবর্তী খাবারের কাছে।
একদিনের যাত্রা শেষে, খবরের গন্ধ আরো তীব্রতর হলো।
জাহাজের ধাক্কায় মরে যাওয়া এক তিমি।
এটা দারুন এক ভোজ আয়োজন হতে পারে,
কিন্তু ব্লু শার্ক'কে খানিকটা সতর্কও হতে হবে।
বিশালাকায় হোয়াইট শার্ক...
একটা ব্লু শার্ক থেকে ১০ গুন বড়...
তিমির মৃতদেহে যারা সর্বোচ্চ অধিকার খাটায়।
হোয়াইট শার্ক'রা তিমির চর্বি যুক্ত মাংসের জন্য পাগল,
যা তাদের আহারের মুখ্য একটা অংশ।
যখন বিশাল হোয়াইট শার্ক এর পেট ভরে যায়,
ব্লু শার্ক এর মত ছোটখাট শার্কগুলো মৃতদেহে তাদের অন্বেষণ চালায়।
মৃতদেহ থেকে যত বিস্তীর্ণ ভাবে তৈল ছড়িয়ে পড়ে,
তত বেশি ব্লু শার্ক আসতে থাকে।
কয়েকদিনের মধ্যেই এই দেহে মাংসের কোন অস্তিত্ব থাকবে না।
তৈলের শুন্যতার কারনে যখন আর এটি ভেসে থাকতে পারবেনা,
জলের গভীরে তা তলিয়ে যাবে।
ব্লু শার্কটি তার সদ্য পূর্ন সংরক্ষিত চর্বির মাধ্যমে
No comments yet. Be the first to leave one.