لومړۍ 200 کرښې.
১৯৭৭ সাল বেইজিং, চীন
কারা আপনারা?
আমরা যাত্রাপালার শিল্পী।
ওহ, প্রথমে চিনতে পারিনি !
আমি আপনাদের দুজনেরই অনেক বড় ভক্ত।
তাই নাকি? ধন্যবাদ।
আপনাদের একসাথে অভিনয় করে বিশ বছরের বেশি সময় পার হয়েছে, তাই না?
- একুশ বছর। - বাইশ বছর।
হ্যাঁ, বাইশ বছর।
এবং আমাদের শেষ দেখা হয়েছিল দশ বছর আগে।
এগারো।
হ্যাঁ, এগারো বছর।
এর পেছনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির হাত আছে।
হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন।
পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে অস্বাভাবিক।
তাতো বটেই।
কোনো সমস্যা নেই এখন আর।
এখানে একটু অপেক্ষা করুন। আমি বাতি জ্বালিয়ে দিচ্ছি।
আপনাকে বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত।
ফেয়ারওয়েল, মাই কনকুবাইন
বেইজিং, ১৯২৪ সাল
ইয়াহং, তুমি এখানে?
তোমাকে খুব মিস করেছি গো।
বেশ্যা !
ভদ্রমহোদয় ও ভদ্রমহোদয়াগণ, অনুষ্ঠান উপভোগ করুন !
লাইজি আবারো ভাগার চেষ্টা করছে। বদমাশ ! দেখি তুই কতদূর যেতে পারিস !
জলদি ওকে ধরো !
দুঃখিত। ভদ্রমহোদয়গণ, একটু ধৈর্য ধরুন।
অসভ্য ! কোন সাহসে এখানে আসো তোমরা?
আমার নাম শুধুশুধু শিতু রাখা হয়নি,
আমার কাজেও তার প্রতিফলন ঘটিয়ে চমকে দিবো সবাইকে।
চেঁচামেচি করছিস কেন? এ তো কেবল শুরু !
যাত্রাপালার শিল্পীদের নামে কলংক তুই।
ঠিকমত বানরের অভিনয়ও করতে পারিস নাই।
ভেবেছিলি মাথায় ইট ভেঙ্গেছিস বলে পার পেয়ে পাবি?
কোনো কাজের না তুই।
আর কখনও যদি ভেগেছিস !
ছুরিতে ধার দেয়া শুরু করো।
এই অতিরিক্ত আঙ্গুল থাকলে, তোমার বাচ্চা অভিনয় করতে পারবে না।
তার চেহারা-ছবি ভালো, তারপরও সে পারবে না।
তাকে আমি বড় করতে পারি, কিন্তু পতিতালয়ে তা করাটা আমার জন্য মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।
আপনি যদি তাকে নেন,
তাহলে তার সাথে যা খুশি তা করতে পারবেন।
আমাদের এভাবে ফিরিয়ে দিয়েন না।
বোকার মত কথা বোলো না। পতিতারা এবং অভিনেতারা...
...উভয়ই সমাজে সমানভাবে ঘৃণিত। যাও তো এখান থেকে।
মা, আমার হাত জমে যাচ্ছে। বরফের মত লাগছে।
মা !
যা এখান থেকে, বেশ্যার পোলা !
এই পোলার জন্ম বেশ্যার ঘরে হইছে ! ওরে মাটিতে ফেলাও !
- মাটিতে ফেলাও ওরে ! - বেশ্যার পোলা !
ঠাণ্ডা পড়েছে।
তোরা কি ওকে জ্বালাতন করছিস?
এখানে আসো। আমার সাথে ঘুমাও।
তোমার তেজ আছে বটে।
লাইজি, যা, পুঁচকেটার সাথে গিয়ে ঘুমা।
ধরো !
বাইরে কিন্তু খুব ঠাণ্ডা...
আমার ধোনের গোঁড়ার পেশাব জমে গিয়েছিল। একটু হলেই আমি ডিগবাজি খেয়ে ফেলতাম।
তোরা মানুষের বাচ্চা হয়ে থাকলে, নিজেদের যাত্রাপালায় বিলিয়ে দে।
জন্তু-জানোয়াররা যাত্রাপালার ধার ধারে না। যাত্রাপালায় যোগ না দিলে,
তোরা মানুষের কাতারে পড়বি না।
যেখানেই যাত্রাপালা থাকবে, সেখানেই আমরা শিল্পীরা হাজির থাকবো।
চ্যাঁচ্যানি বন্ধ কর !
পিঠ সোজা কর !
নিজেকে যদি বাকিদের চেয়ে সেরা ভাবিস, তাহলে শিখতে অনেক কাঠখড় পুড়াতে হবে।
এ তো কেবল শুরু।
চিন্তা কোরো না, দুজি।
অর্ধেকের মত প্রায় হয়ে গেছে।
শিতু,
- তুই কি কাউকে সাহায্য করছিস? - মাটিতে কী ছিল আমি খেয়াল করিনি।
মিথ্যা ! আমার তরবারিটা নিয়ে আসো।
জলদি !
ওঠ বলছি !
কিছু বলার নেই তোর?
আছে। নিজেদের মধ্যে দল গঠন নিষিদ্ধ এবং এর জন্য শাস্তি প্রাপ্য।
কোনোকিছু ভয় পাই না আমি !
বর্তমানের মত জনপ্রিয়তা যাত্রাপালা এর সূচনালগ্নের পর থেকে কখনোই পায়নি।
তোদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিৎ এর অংশ হতে পেরে !
আমরা কৃতজ্ঞ !
আমরা স্বর্গের জন্য মরি, কোনো যুদ্ধ-টুদ্ধের কারণে না।
শরীর গরম রাখতে অনেকক্ষণ ধরে কুংফু প্র্যাকটিস করছি।
বাইরে ঠাণ্ডা, জম্মের ঠাণ্ডা।
কিন্তু এসব ঠাণ্ডা-ফান্ডা আমার সয়ে গেছে। আমার কাছ থেকে সরো।
শক্তি এত বেশি আমার, পারি শত পর্বত উপড়ে ফেলতে
আমার সাহসের সুনাম রয়েছে সর্বত্র
- বড় সংকটে পড়েছি আমি - শক্তি এত বেশি আমার,...
আমার সাহসের সুনাম রয়েছে সর্বত্র
দুর্দশায় কাটছে আমার দিনগুলো
এগুলো আমাদের নিয়ম। আমরা সেগুলো নিষ্ঠার সাথে শিখবো।
প্রাচীনকাল থেকে, মানুষ দক্ষতার প্রয়োজন অনুভব করে এসেছে।
দক্ষতা অর্জনে নিজেকে বিলিয়ে দিলে অবশ্যই এর প্রতিদান পাবে।
নিজেকে চ্যালেঞ্জের মুখে ছুঁড়ে দিলে তবেই একদিন সুখ্যাতি অর্জন করতে পারবে।
প্র্যাকটিস শুরু কর !
আবৃত্তি করে শোনা।
আমি চাই স্বর্গীয় প্রাসাদের পানে আর বাহিনী নিয়ে এগোই যুদ্ধের ময়দানে
- গাফিলতি হবে না... গাফিলতি হবে না... - কীসে গাফিলতি হবে না?
গাফিলতি হবে না বিশ্বস্ততা ও ভক্তি প্রদর্শনে
শক্তি এত বেশি আমার, পারি শত পর্বত উপড়ে ফেলতে
দুর্দশায় কাটছে আমার দিনগুলো
এমনকি আমার ঘোড়াও চাইছে না ভেগে গিয়ে নিজেকে বাঁচাতে ;
এছাড়া আমার যে প্রিয়তম রক্ষিতা, তাকে নিয়েও আমি পড়েছি বিপাকে
চমৎকার, একটা শব্দও এদিক-ওদিক হয়নি।
হাত দে তোর।
এতে করে শব্দগুলো তোর মাথায় আরও ভালোভাবে গেঁথে যাবে।
বয়স যখন ষোল, আমি তখন এক সন্ন্যাসী আর আমার চুলগুলো একদম ছোট ছোট
বলতে থাক।
আমি জন্মগতভাবে একজন ছেলে
তুই জন্মগতভাবে একজন মেয়ে !
তোকে আমি শায়েস্তা করবো, লাইজি !
এখনও ভুল করে যাচ্ছিস তুই?
ঠিক করে বলতে পারিস না কেন?
আমাকে মেরেন না ! আর ভুল হবে না !
তোর পালা।
আমি... আমি জন্মগতভাবে...
বলে ফেল !
আমি জন্মগতভাবে একজন ছেলে...
সন্ন্যাসী কি ছেলে নাকি মেয়ে?
ছেলে।
তুই চরিত্রের মধ্যে ঢুকে গেছিস একদম। ছেলে-মেয়ের পার্থক্যটাও ধরতে পারছিস না।
আমি জন্মগতভাবে একজন ছেলে।
মাস্টারের শেখানো কোনোকিছুই মনে নেই তোর !
আরেকবার ভুল করলে, মেরে মেরে তোর গুষ্ঠি উদ্ধার করে দিবো।
একই ভুল যেন আবারো না হয় !
এটা তোকে মাথায় রাখতেই হবে।
কাল আমি বাই চান্স মরে গেলে,
আমার বালিশে তলায় রাখা কপারের কয়েন তিনটা তোমার কাছে রেখে দিও।
সামলে !
হাতে যেন পানি না লাগে !
দুজি, কয়েকদিনের মধ্যে, তুমি যাত্রাদলের সদস্য হয়ে যাবা।
খালি নিজেকে মেয়ে মনে কোরো, আর গানের কথাগুলো ঠোঁটস্থ রেখো।
- লাইজি, কখনও মটরের পিঠা খাইছিস? - মটরের পিঠা আবার মাইনসে খায়?
- বাজরার পিঠা খাইছিস? - বাজরার পিঠা?
ঐসব আলতুফালতু জিনিস আমি খাই না।
তাহলে কী খেতে ভালো লাগে তোর?
চিনি-মাখা বৈঁচির চাইতে মজার জিনিস আর নাই।
যদি কখনও সেইরকম সফল হই, তাহলে আমি প্রতিদিন চিনি-মাখা বৈঁচি দিয়ে ডিনার করবো।
আমাদের দিকে এভাবে তাকাইস না। আমরা তো আর বৈঁচি না।
লাইজি, তোর মুখ দিয়ে তো লালা ঝরছে !
- লাইজি, কী করছিস তুই? - বাইরে ইয়া বড় বড় সব ঘুড়ি !
পিছে যা ! পিছে যা !
দুজি।
চল ভাগি !
ফিরে আয় !
দুজি !
আমার বালিশের নিচে রাখা টাকার কথা ভুলে যেও না।
নিকম্মা কোথাকার। দূর হ আমার সামনে থেকে !
এটা কোথা থেকে পেলি?
শিতুর কথা ভুলে যা। তোর টাকা এবার আমি খরচ করবো।
একটা কাঠিতে দশটা করে বৈঁচি। তোকেও ভাগ দিবো।
- এমন করছিস কেন? - আমার ভীষণ প্রস্রাব লেগেছে।
রাস্তার মাঝখানে ছেলেগুলো কী করে !
অপেরা শুরু হবে ! এইদিক দিয়ে চল।
মহাশয়, আমরা আপনারই অপেক্ষায় ছিলাম !
আপনি যদি একটা হাঁচিও দেন, আমরা সেক্ষেত্রে সোনার রুমাল নিয়ে আসবো।
যেই ভিড়, তাতে কেউ পায়ের নিচে পড়ে না মরলেই অবাক হবো !
আমি কিছুক্ষণ তোর কাঁধের ওপর বসি।
চু'র রাজা !
নামকরা শিল্পী হতে গেলে কী কী করা লাগে?
কত মার সহ্য করা লাগে?
আমার কপালে কবে এমন খ্যাতি জুটবে?
তুই তো আমাকে পুরা ভিজায়ে দিচ্ছিস ! পাগল নাকি?
আমি জানতাম তুই ফেরত যাবি। শিতুরে ছাড়া তুই থাকতে পারিস না।
আমাদের এবার তরবারির ডোজ দেয়া হবে। কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি না।
আমার কাছে এখন সেটা চুলকানি খাওয়ার মতই মনে হয়।
চিনি-মাখা বৈঁচি তো খেতে পারছি।
সেটাই বা কম কী !
বদমাশের দল, শেষমেশ তাহলে ফিরে এসেছিস।
এটাই আমার পাওনা !
- হ্যাঁ ! এটাই আমার পাওনা ! - হ্যাঁ ! এটাই আমার পাওনা !
কোন আক্কেলে তুই যেতে দিলি ওদের?
মর বদমাশের দল !
ক্লাস ফাঁকি এবং পালানোর জন্য শাস্তি পেতেই হবে !
মাস্টার, আর কখনও এমন করবো না।
দয়া করে আমায় যেতে দিন !
তোরা ওদের ভেগে যেতে দিলি? আবালচোতের দল !
কত বড় সাহস !
- ধর ওকে ! - মাস্টার, আর কখনও এমন করবো না।
জিন্দেগীতে এমন সাহস করবো না, মাস্টার।
মাস্টার, সব দোষ আমার।
ওর বদলে আমাকে মারেন !
তুই কি ভেবেছিলি তুই ছাড়া পেয়ে যাবি?
আজ তোকে মেরেই ফেলবো !
দুজি, চুপ থেকো না ! কিছু তো বলো !
মিনতি করো যেন না মারে !
কথা বলো ! মিনতি করো যেন না মারে !
যাত্রাদলে যেবে না তোদের !
আপনি দুজিকে মেরে ফেলছেন !
আমি এটা হতে দিবো না !
মাস্টার ! লাইজি, সে...
এই অপেরার কাহিনী চু এবং হান রাজবংশের রাজাদের মধ্যকার যুদ্ধকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে।
চু'র রাজা কী ধরনের মানুষ ছিলেন?
এক অতুলনীয় এবং অপরাজেয় বীরনায়কঃ
এক অকুতোভয় এবং সুদক্ষ জেনারেল, যিনি অজস্র আর্মিকে পরাজিত করতে পারতেন।
কিন্তু ভাগ্য তার সহায় ছিল না।
গেক্সিয়া'র যুদ্ধে হ্যান'র রাজা তাকে সুকৌশলে পরাস্ত করে।
তারা লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেয়ার সময়,
হ্যান'র সৈন্যবাহিনী বিজয়গান গাওয়া শুরু করে তাদের যুদ্ধকৌশলে অগাধ বিশ্বাস থাকার কারণে ;
হ্যান পক্ষ চু'র দেশ দখল করে নিলে চু'র আর্মিদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
এমনকি চু'র রাজা কান্না শুরু করেন।
No comments yet. Be the first to leave one.