لومړۍ 200 کرښې.
দুনিয়ায় কোনো বিচার নেই, না রে?
জানিস, আমি না... আমি কখনও রাজা হতে পারবো না
আর তুই কখনও আরেকটা দিনের আলো দেখতে পাবি না
শুভ বিদায়
তোমার মা কি তোমাকে কখনও বলেনি খাবার নিয়ে না খেলতে?
কী চাই?
আমি তোমাকে জানাতে এসেছি
মহারাজ মুফাসা এখানেই আসছেন,
তাই আশা করি আজকের অনুষ্ঠানে না থাকার পেছনে
তুমি ভালো কোনো অজুহাত দেখাবে
আহ-হা, দেখো তো, জাজু । তোমার জন্য আমার খাবারটাই পড়ে গেলো
রাজা আসলে দেখবে নে আরও কত কি হারাও
উনি জলহস্তির মত খেপে আছেন
ভয়ে মরে গেলাম গো!
দেখো স্কার, আমার দিকে এভাবে তাকিও না
বাঁচাও!
- স্কার? - হুঁ?
ওকে ফেলো মুখ থেকে
একেবারে ঠিক সময়ে এসেছেন, মহারাজ
কী সৌভাগ্য আমার! মহামান্য বড় ভাইজানের
পদধূলি পড়লো দেখি আমার এই গরিবখানায়
সারাবি আর আমি তোমাকে আজকে সিমবার অনুষ্ঠানে দেখলাম না যে?
আজকে ছিলো নাকি ওটা?
ইশ! দেখো দেখি কাণ্ড!
মনেই ছিলো না
হ্যাঁ । কিন্তু তোমার মনে আর কিছু থাকুক আর না-ই থাকুক,
রাজার ভাই হিসেবে তোমারই সবার প্রথমে থাকার কথা ছিলো!
সিংহাসনের প্রথমে তো আমিই ছিলাম,
ওই লোমের ডিব্বাটা হওয়ার আগে
ওই লোমের ডিব্বাটা হচ্ছে আমার ছেলে
এবং তোমার ভবিষ্যৎ রাজা
সেলাম জানানোর প্র্যাকটিস শুরু করে দিতে হবে আমার!
আমার থেকে মুখ ফেরাবে না, স্কার
না, মুফাসা
তোমারই বরং উচিত আমার থেকে মুখ না ফেরানো
তুমি কি আমাকে চ্যালেঞ্জ করছো?
ঠাণ্ডা হও গো । এত রাগ দেখানো ভালো না
তোমাকে চ্যালেঞ্জ করার কথা আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারি না
দুঃখ । কেন পারো না?
কারণ, বুদ্ধির দিকটা দেখলে সিংহভাগ আমিই পেয়েছি
কিন্তু যখন শুধু গায়ের শক্তির প্রসঙ্গ আসে,
সেই সৌভাগ্য আমার কপালে জোটেনি
প্রত্যেক পরিবারেই এমন একটা থাকে, আলাম্পনা
আমারটাতে তো আছে দুইটা,
আর তারা সব বিশেষ উপলক্ষ পণ্ড করতে ওস্তাদ
ওকে নিয়ে আমি কী করি বলো তো?
কার্পেট হিসেবে ও দারুণ মানাবে
জাজু!
আর ভেবে দেখুন, ময়লা হয়ে গেলে
আপনি দুই ঘা লাগিয়েও দিতে পারবেন
হুম
সিমবা
বাবা! বাবা!
বাবা, চলো যাই! ওঠো!
- উহ! - দুঃখিত
বাবা! বাবা!
তোমার ছেলে উঠে পড়েছে
সূর্য ওঠার আগে ও হচ্ছে তোমার ছেলে
বাবা! ওঠো না, বাবা
তুমি কথা দিয়েছিলে
আচ্ছা বাবা, আচ্ছা । আমি উঠেছি
দেখো, সিমবা
যতদূর আলো যায়, ততদূর হচ্ছে আমাদের রাজ্য
বাহ!
শাসক হিসেবে একজন রাজার সময়কাল
সূর্য ওঠা আর অস্ত যাওয়ার মত
একদিন সিমবা,
আমার শাসনকালের সূর্য অস্ত যাবে
আর নতুন রাজা, তোমার সাথে সেটা আবার উঠবে
- আর এই সবকিছু আমার হবে? - সব
যা কিছুতে এই আলো পৌঁছায়
আর ওই অন্ধকার জায়গাটা?
ওটা আমাদের সীমানার বাইরে
ওখানে তুমি কখনও যেও না, সিমবা
কিন্তু রাজা না যা ইচ্ছা করতে পারে?
সবসময় যা খুশি তা করাই...
রাজার বৈশিষ্ট্য না
- আরও কিছু করতে হয়? - সিমবা...
তুমি যা কিছু দেখো,
সবকিছু একসাথে আছে ভারসাম্য রেখে
রাজা হিসেবে তোমার সেই ভারসাম্য বুঝতে হবে
আর সম্মান করতে হবে সকল সৃষ্টিকে,
হামাগুড়ি দিয়ে চলা পিঁপড়া থেকে
এক লাফে পাহাড় ডিঙানো অ্যান্টিলোপ পর্যন্ত
কিন্তু বাবা, আমরা না অ্যান্টিলোপদের খাই?
হ্যাঁ, সিমবা, কিন্তু আমাকে বলতে দাও
আমরা মারা গেলে আমাদের শরীর ঘাসে মিশে যায়,
আর অ্যান্টিলোপেরা সেই ঘাস খায়
এভাবেই আমরা সবাই এক হয়ে আছি
জীবনের এই মহাচক্রে
- সুপ্রভাত, জাঁহাপনা! - সুপ্রভাত, জাজু
সকালের খবর নিয়ে আমি এসেছি আপনার সামনে
বলে যাও
মৌমাছির গুঞ্জনে শোনা গেছে
চিতাবাঘেরা নাকি একটু বিপদে পড়েছে
তাই নাকি?
তুমি কী করছো, বাবা?
হঠাৎ আক্রমণ করছি
একজন পেশাদার লোক বরং তোমাকে শেখাই
আমি হাতিদের বললাম বাদ দিতে, কিন্তু তারা...
- জাজু, একটু উল্টো ঘুরবে? - জ্বী, জাঁহাপনা
- চিতারা বেশ ঝামেলায় আছে, কিন্তু... - নিচু হয়ে থাকবে
- এইজন্যই চিতাদের উন্নতি... - আচ্ছা
নিচু হয়ে থাকবো, তাই তো? আচ্ছা
- কী হচ্ছে? - আক্রমণের ক্লাস
খুব ভালো । আক্রমণ
আক্রমণ? না, জাঁহাপনা, আপনি কি সত্যি সত্যিই...
লোকে দেখলে কী বলবে!
চেষ্টা করবে কোনো শব্দ না করার
ওকে আপনি কী বলছেন, মুফাসা?
মুফাসা? সিমবা?
খুব ভালো
- জাজু! - জ্বী!
স্যার! পাতাল থেকে খবর এনেছি
ঠিক আছে, এখন তুমি...
আলাম্পনা! প্রাইড ল্যান্ডসে (রাজ্য) হায়েনা এসেছে!
জাজু, সিমবাকে বাড়ি নিয়ে যাও
বাবা, আমি আসি?
না, বাবা
ধুত! আমাকে কোত্থাও নিয়ে যায় না
ছোট সাহেব,
একদিন তো তুমিই রাজা হবে
তখন নে তুমি
এই নোংরা, ঘিনঘিনে, ছোটলোক শিকারিগুলোর পেছনে
সারাদিন ধরে দৌড়িও
এই, স্কার চাচা! কী হয়েছে জানো?
জানাজানির খেলা না খেললেই না?
আমিই হবো প্রাইড রকের রাজা
আমার তো নাচতে ইচ্ছা করছে আনন্দে!
বাবা আমাকে এইমাত্র পুরো রাজ্যটা দেখিয়েছে,
আর আমি এই সবকিছু শাসন করবো!
হ্যাঁ । সত্যি সত্যি আনন্দে না নাচার জন্য আমাকে ক্ষমা করে দিও
বাতের ব্যথাটা একটু বেশি উঠেছে কিনা
স্কার চাচা
আমি যদি রাজা হই, তাহলে তুমি কী হবে?
বান্দরের চাচা
তুমি কী যে বলো না!
আসল কথা তো কিছুই বলিনি
তো, বাপজান তোমাকে পুরো রাজ্য দেখিয়েছে, না?
স-ব
উত্তর সীমান্তের ওপারে কী আছে সেসব দেখায়নি?
না । বাবা বলেছে ওখানে কখনও না যেতে
একদম ঠিক কথা বলেছে
ওটা খুবই বিপজ্জনক
সবচেয়ে সাহসী সিংহরাই শুধু যায় ওখানে
আমার অনেক সাহস । ওখানে কী আছে?
দুঃখিত, সিমবা, আমি তোমাকে বলতে পারবো না
কেন?
সিমবা রে,
আমি তো শুধু আমার পেয়ারের ভাতিজার ভালোটাই চাই
তা তো চাইবেই! আমি তো তোমার একমাত্র ভাতিজা
সেজন্যই তো আরও বেশি করে চাই তুমি নিরাপদে থাকো
হাতির গোরস্তান
কোনো রাজকুমারের যাওয়ার জায়গা না । ইশ রে!
হাতির কী? বাহ!
আমি অনেক বেশি বলে ফেলেছি
অবশ্য একদিন না একদিন তো তুমি নিজেই বের করে ফেলতে
তোমার যা বুদ্ধি!
শুধু আমার একটা কথা রাখো
কথা দাও জঘন্য জায়গাটায় তুমি কখনও যাবে না
ঠিক আছে
এই তো লক্ষ্মী ছেলে
এখন যাও, খেলা করো গে
আর মনে রেখো,
কাউকে যেন বোলো না আবার
- হেই, নালা - হাই, সিমবা
আসো । আমি ফাটাফাটি একটা জায়গার কথা শুনেছি
সিমবা! আমি তো এখন গোসল করছি
এখন তোমার গোসলেরও সময় হয়েছে
মা!
মা, তুমি আমার কেশর নষ্ট করে দিচ্ছ!
আচ্ছা, আচ্ছা, এখন আমি পরিষ্কার হয়েছি । যাই এখন?
তো, আমরা যাচ্ছি কোথায়?
আলতু-ফালতু জায়গা যেন না হয়
না, জায়গাটা অসাধারণ
তা এই অসাধারণ জায়গাটা কী?
- এই তো, পুকুরের কাছেই - পুকুর?
পুকুরের মধ্যে এমন ফাটাফাটি কী দেখলে?
ওখানে গেলেই দেখবে
আচ্ছা...
মা, আমি যাই সিমবার সাথে?
হুম, কী বলো, সারাবি?
দেখি...
- প্লিজ? - প্লিজ?
আমার কোনো আপত্তি নেই
শুধু জাজুকে নিয়ে যেতে হবে
না, জাজু না
কদম চালাও
পুকুরে যত তাড়াতাড়ি যেতে পারবো,
তত তাড়াতাড়ি আমরা চলে আসতে পারবো
আমরা আসলে কোথায় যাচ্ছি?
একটা হাতির কবরস্থানে
বাহ!
চুপ! জাজু শুনবে
ঠিক আছে । তাহলে পাখি বাবাজিকে আমরা খসাবো কীভাবে?
আহা, তোমাদের দুজনকে দেখলে বুকটা ভরে যায়
তৃণভূমিতে উঁকি দিচ্ছে সোনালি প্রেমের ফুল
তোমাদের বাবা-মা দারুণ খুশি হবেন,
বিশেষ করে তোমাদের যখন কথা পাকা হয়ে আছে
কথা কী হয়ে আছে?
No comments yet. Be the first to leave one.