لومړۍ 194 کرښې.
অনুবাদ ও সম্পাদনায় ❝ শান্ত কুমার দাস ❞
মাফ করবেন। আপনার পরিচয়পত্র এবং আমন্ত্রনপত্র দেখতে পারি?
মি. হ্যামিলটন।
ভেতরে যান।
ইডেন কলেজের সমাবেশ।
একটি ঐতিহ্যবাহী ইভেন্ট যা প্রতি অর্ধ-মেয়াদে ইম্পেরিয়াল স্কলার এবং তাদের পিতামাতার সম্মানে অনুষ্ঠিত হয়,
সেইসাথে রাজনীতি, ব্যবসা, গবেষণা, প্রকৌশল, শিল্প ও খেলাধুলার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সহ কয়েকজন প্রাক্তন ছাত্রের সম্মানে।
লাইনআপ বরবরই চমৎকার ছিলো।
এবারের নিরাপত্তা তো আরো কড়া।
শত হোক, সব গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আসবে।
এখানে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষেবা থাকার বিষয়টাও কাঁটা দিচ্ছে গায়ে।
এখানের নিরাপত্তার মাত্রা শীর্ষ মিটিংগুলোর মতো।
আমি এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু এটা তো যা আশা করেছিলাম তার থেকেও বেশি।
অনুপ্রবেশ করা কঠিন হবে।
সবচেয়ে সহজ হতো কোনো ইম্পেরিয়াল স্কলারের চোখ এড়িয়ে যাওয়া...
কিন্তু যদি এত সহজ হতো এটা,
তাহলে অপারেশন স্ট্রিক্সের প্রয়োজনই ছিলো না।
অতীতে প্রত্যেক ওয়েস্টার্ন এজেন্টরা
অনুপ্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আমরা এভাবে ব্যর্থ হতে পারি না যাতে তারা আরো সতর্ক হয়ে যায়।
এই ইভেন্টের ভেন্যু হলো টাওয়ার অব উইজডোম।
এতে সামনের ফটকের পাশাপাশি কয়েকটা ফিক্সড জানালাও আছে।
টাওয়ারের ছাদে বাগান আছে,
কিন্তু উপর থেকে অনুপ্রবেশ করলে সবার নজরে পড়বে।
বেসমেন্ট থেকেও কোনো অনুকূল পথ নেই।
একমাত্র ফটকে, তারা আইডি এবং বডি চেক করে,
তারা সবচেয়ে উন্নতমানের ডিটেক্টর ব্যবহার করে।
ছদ্মবেশে ভেতরে যাওয়া কিংবা কারো ব্যাগে শ্রবনযন্ত্র আটকে দেয়া কঠিন হবে।
আশেপাশের ভবন লম্বা না,
তাই লিপস্-রিডিং ও করা অসম্ভব।
কয়েকদিন ভবনে লুকিয়ে থাকলে কেমন হয়...
না, এটা বেশি ঝুঁকিপুর্ণ।
তাহলে ভেন্যুতে অনুপ্রবেশ করার কোনো উপায় নেই?
না, কিছুটা বলপ্রয়োগ করলে, একবার অনুপ্রবেশ করাটা কঠিন...
কঠিন হতো না। যেমন,
যদি আমাদের ডেসমন্ডকে মারতে হতো,
এটা সম্ভব ছিলো তখন।
কিন্তু অপারেশন স্ট্রিক্সের উদ্দেশ্য হলো ডেসমন্ডের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখা।
ওর সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করে তথ্য বের করা।
এসব শর্ত পুরণ হওয়ার পরেও,
যদি অন্য কারো ছদ্মবেশে তার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করি...
হ্যালো।
কিন্তু আমি তো গতবার আসিনি...
বিখ্যাত লোকেদের সহজে চেনা যায়,
এবং সাথে যদি বাচ্চা থাকে, সেটা আরো জটিল করে বিষয়গুলোকে।
তুমি আজ অদ্ভুত আচরন করছো, বাবা।
আর যদি আমি স্কুলের কর্মচারী কিংবা ওয়েটারের ছদ্মবেশ নিই,
ওর সাথে কথা বলতেও পারবো না।
এমন কিছু করতে পারবো না যাতে ওর সন্দেহ জাগে।
ডেসমন্ড খুব সতর্ক, হতে পারে সে আর জনসম্মুখেই আসবে না।
সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো লয়েড ফোর্জার হিসেবে তার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলা।
এখন শুধু পরবর্তী সময়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারি।
টাওয়ারের বাইরে তার সাক্ষাৎ লাভ করাটা কঠিন ,
কিন্তু কোনো সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না।
আজকের মতো ক্লাস শেষ।
আজ সন্ধ্যায় সমাবেশ আছে, তাই স্কুল বন্ধ থাকবে।
যারা যারা থাকবে না তারা চলে যাও।
সমাবেশ...ভাবছি ব্যাপারটা কী।
লোকে বলে এখানে নাকি বিশেষ ব্যক্তিরা থাকে।
শুনেছি নভোচারী ইয়াচায়াকা বক্তব্য দেবেন।
অভিনেত্রী এমি ও দিবেন।
কী? তাই?
হেই, তোমার বাবাও থাকবে সেখানে, দামিয়ান?
তোমার বড় ভাই ও তো একজন ইম্পেরিয়াল স্কলার।
আজ অর্ধদিবস ছুটি দেয়াতে মজা হচ্ছে।
হেই, শুনছো?
আমি দামিয়ান ডেসমন্ড বলছি, সেসিল হল থেকে।
দেমিস্ট্রিয়াস ডেসমন্ডের সাথে কথা বলিয়ে দিবেন?
কী?
হেই, দাদা।
কী চাস?
স্যরি, কালকের....সমাবেশে তুমি আসছো তো, তাই না?
হ্যাঁ।
বাবার সাথে দেখা হলে, তাকে একটা কথা বলতে হবে তোমায়।
অল্প সময়ের জন্য হলেও সমাবেশের পরে তার সাথে দেখা করতে চাই।
তাকে বলতে পারবে আমি তার জন্য ২য় লাইব্রেরীর চত্বরে অপেক্ষা করবো?
বলবো, কিন্তু বেশি আশা করিস না।
সে ব্যস্ত মানুষ।
হ্যাঁ...
এটুকুই বলার ছিলো?
হ্যাঁ।
ঠিক আছে, রাখি।
হেই, তোমার বাবার সাথে দেখা করাও।
আজকে বাবা আমাকে নিতে আসবে। তখন আমরা দুজনেই তার সাথে দেখা করতে পারবো, কেমন?
কী? না। হেই দামিয়ান, আমাকেও দেখা করাও।
চুপ করো।
দামিয়ান!
আজ কি দ্বিতীয় পুত্র বসের সাথে দেখা করার প্ল্যানিং করছে?
হেই, আজ আবার শপিংয়ে যাবে?
আনিয়ার ফ্যাশন প্ল্যান ব্যর্থ হয়েছে।
যার মানে...
আমার বাবার সাথে দেখা করলে আপনার লাভ হবে!
আমি দ্বিতীয় পুত্রকে অনুসরণ করে নিজে বসের সাথে যুদ্ধ করবো।
সারা সপ্তাহ ধরে আমার পিছে পরে আছো কেন?!
জ্বালিয়ে মারছো আমাকে! অনুসরণ করবে না!
দামিয়ান, ও হয়তো...
কী?
হয়তো ও তোমার বাবার সাথে দেখা করার জন্য আমাদের পিছু করছে।
হ্যাঁ! অন্যদের মতো!
বোকা মেয়ে!
পিচ্চি পায়ের পিচ্চি মেয়ে!
এটাতো বাজে কথা।
আর আমার কাছে আসবে না!
একটা গরিলামার্কা মেয়ে!
আনিয়া আরো একবার ওকে ঘুষি মারতে চাইছে।
না। তোমাকে বহিষ্কার করা হবে।
যেটা ভেবেছিলাম, এখনো দামিয়ানের সাথে ওর ভাব হয়ে ওঠেনি।
তাহলে প্ল্যান বি সফল হওয়ারও সম্ভাবনা কম।
বাবা?!
না, ও হয়তো ওর সাথে নিজের মতো করে ভাব করে নেয়ার চেষ্টা করছে।
ভালো।
এখনকার মতো, দামিয়ানের পিছু নেয়া উচিত।
দাঁড়াও! আনিয়াও দুষ্ট বসের সাথে যুদ্ধ করবে।
কী? চলো বাড়ি ফিরি।
এখনি মিটিং স্পটে যাচ্ছো?
সেখানে তো সমাবেশের আগে তোমার বাবা যাবে না, তাই না?
বেশিক্ষণ তো লাগবে না।
তো ও ওর বাবার সাথে দেখা করবে। দারুণ!
যেহেতু এসেছিই, চলো ভেন্যুর ওখান থেকে ঘুরে আসি?
বাহ, কত চমৎকার।
ইম্পেরিয়াল স্কলার! আমার ভয় করছে!
ওয়াও, সব বিশেষ ব্যক্তিবর্গের মাঝে তোমার বাবা অন্যতম বিশেষ একজন।
তার ছেলে হওয়ায় তুমিও সেরকম একজন!
দামিয়ান?
আমি বাবার সাথে দেখা করতে যাবো না।
কী? সেটা তো ভালো না!
ঠিক। আমার বাবা সেরা। সে অনেক ব্যস্ত।
আমার সাথে দেখা করে নষ্ট করার মতো সময় তার কাছে নেই।
আমি দাদাকে বলে আসছি।
দেখা করার প্ল্যানটা ক্যান্সেল করতে বলবো।
সেটা হচ্ছে না!
কী সমস্যা তোমার? তুমি এখনো এখানে, বদমাশ?
দ্বিতীয় ছেলে ভয় পেয়েছে। আনিয়া জানে।
মানে কী? ও আমার মনের কথা বুঝতে পারছে?
আনিয়া জানে যে,...
তুমি আমাদের গত ভাষা শিক্ষা পরীক্ষায় শুধু ৫০ পেয়েছো।
তুমি কীভাবে জানলে?!
দাঁড়াও, তার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
আমি পেছন থেকে দেখেছি।
আনিয়া মারাত্মক উত্যক্তকারী হয়ে উঠেছে।
তুমি ভয় পাচ্ছো যে তোমার বাবা তোমার পরীক্ষায় খারাপ করার ব্যাপারটা জেনে যাবে।
আমি ১৭ পেয়েছি, তাই বুঝতে পারি এটা।
আমাকে তোমার মতো ভেবো না!
আনিয়ার একটু ভয় হচ্ছে, কারণ সে জানে না তার বাবা তাকে ভালো বাসে কি বাসে না।
সে সবসময় আমার উপর রাগ করে।
আনিয়া...
কিন্তু আমি তাকে ভরসা করি কারণ তাকে আমি ভালোবাসি।
আর তাই...
যত খারাপ রেজাল্টই হোক না কেন আনিয়া সবসময় সেটা তাকে দেখায়।
কী ব্যাপারে যেন বলছিলাম?
জানি না।
ধুর!
দামিয়ান, কোথায় যাচ্ছো?
ফালতু কথা।
আমি চত্বরে বাবার জন্য অপেক্ষা করবো।
দামিয়ান!
আমার ভয় নেই!
কী হলো বুঝলাম না কিছু, কিন্তু সাবাশ আনিয়া!
তোমার উস্কানিতে আমার উপকার হলো!
তুমিও অপেক্ষা করবে?
কেন?! আমার গাড়ি অপেক্ষা করছে, চলো বাড়ি যাই!
দাঁড়াও...ও কি বিয়ের জন্য ওর বাবা-মার সাথে দেখা করতে চাইছে?
ও সিরিয়াস! নিশ্চয়ই তুমি সিরিয়াস, আনিয়া!
ঠিক আছে, আনিয়া! আমি অপেক্ষা করবো তোমার সাথে।
কী করো সেটা দেখবো!
ভুল ভেবেছিলাম। ও মোটেও সিরিয়াস না।
মার্থা! আনিয়াকে গাড়িতে তোলো।
আমরা বাড়ি ফিরবো।
যেটা তুমি চাও।
আনিয়া বড্ড ছটফটে।
আপনার দিন ভালো কাটুক, প্রফেসর!
হ্যাঁ, গুডবাই।
আর তারপর আনিয়া...
এই রেপ্লিকাটা বানিয়ে দারুণ করেছি।
টুইলাইটের হাতে তৈরি রেপ্লিকা খরচ হয়েছেঃ ১০ ড্যালক
মনে হচ্ছে কোনো সমস্যা ছাড়াই সমাবেশ শেষ হয়েছে।
সিকিউরিটি লেআউট...
জনসমাগম, পরিবর্তন...
সবগুলোই কাজের ছিলো। শুধু রয়ে গেল...
এই তো ডেসমন্ড।
কোথায় যাচ্ছে...
বেশ।
মনে হয় এতক্ষনে সমাবেশ শেষ।
শোনো বাচ্চারা।
তোমরা এখানে কোনো ভেড়ার কি-চেইন দেখেছো?
এটা আমার মেয়ের কাছে খুব মূল্যবান।
কিন্তু মনে হচ্ছে কোথাও হারিয়ে ফেলেছে,
তাই কাঁদতে কাঁদতে আমাকে খুঁজে নিযে যেতে বলেছে।
ওহ, এটা কি? ওখানে নিচে পড়ে ছিলো।
হ্যাঁ, ধন্যবাদ। তুমি বাঁচালে।
ওটা নিশ্চয়ই ওর...
আপনি কি ফোর্জারের বাবা, ওল্ড ম্যান?
ওল্ড ম্যান?
হ্যাঁ, তুমি ওর সহপাঠী?
No comments yet. Be the first to leave one.