Pierwsze 200 wierszy.
অনুবাদ আয়োজন অনুবাদকদের আড্ডা
অনুবাদ সম্পাদনা ফরহাদ হোসেন মাসুম
অনুবাদ দল অনীক আন্দালিব ফরহাদ হোসেন মাসুম
আমার বাবা কৃষক ছিলেন।
তখন সবাই কৃষিকাজই করতো।
অবশ্য প্রথম পেশা সেটা ছিলো না।
কম্পিউটার বলছে, যাওয়া কঠিন।
- না, পারা যাবে। - নালীটা পার হচ্ছি।
- কুপার, এটা বন্ধ করে দিতে হবে। - না!
- সব বন্ধ করে দিচ্ছি... - না, আমি বলছি পাওয়ার বাড়াও!
বাবা?
কিছু না, মার্ফ। ঘুমাতে যাও।
- ভেবেছি, তুমি ওই ভূতটা। - না।
ভূত বলে কিছু নেই, মা।
নানাজান বলেছে, আছে।
কারণ, নানা নিজেই কদিন পর ভূত হয়ে যাবে। যাও, শুয়ে পড়ো।
ওই দুর্ঘটনার দুঃস্বপ্ন দেখছিলে?
এখনই শুতে যাও, মার্ফ!
সব গম নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো।
পাতাপচা রোগ হয়েছিলো, সব পুড়িয়ে ফেলতে হয়েছে।
তখন শুধু ভুট্টা ফলতো। একরের পর একর ভুট্টা।
আসলে, চারিদিকে ছিলো শুধু ধুলা।
মনে হয়, ঠিক বোঝাতে পারছি না। সারাক্ষণ শুধু ধুলা উড়তো, বাতাসের সাথে।
আমরা ছোটো কাপড় দিয়ে নাক আর মুখ ঢাকতাম, যাতে বেশি ধুলা না ঢোকে।
আমরা সবসময়ই প্লেটগুলো উল্টো করে রাখতাম।
গ্লাস, কাপ, যাই হোক, উল্টো করে রাখতাম।
তাড়াতাড়ি করো, মার্ফ। চলো!
টম, ৪টায় গুদামঘরে পড়তে বসবো। "আগাছা প্রতিরোধ ব্যবস্থা ১০১"
- ঠিক আছে? - জ্বি, বাবা।
এসব টেবিলে রেখো না, মার্ফ।
বাবা, এটা ঠিক করতে পারবে?
কী করেছো আমার ল্যান্ডার নিয়ে?
আমি করিনি।
তো কে করেছে? তোমার সেই ভূত?
ফেলে দিয়েছে শেলফ থেকে। বইপত্রও ফেলে দেয়।
ভূত বলে কিছু নেই, বেকুব।
- অ্যাই। - আমি পড়েছি, এটাকে পোল্টারগেইস্ট বলে।
বাবা, ওকে বোঝাও।
মার্ফ, জিনিসটা বিজ্ঞানভিত্তিক না।
তুমিই তো বলেছিলে, অজানাকে মেনে নেয়াই বিজ্ঞান।
- এখন দাও দেখি এর জবাব। - শোনো।
তোমার জিনিসপত্র সামলে রাখো।
কুপ।
বেশ তাহলে, বিজ্ঞান নিয়ে কথা বলতে চাও?
বোলো না যে, ভূতকে ভয় পাচ্ছো। আরো গবেষণা করো।
ঘটনাগুলো রেকর্ড করো। বিশ্লেষণ করো - কেন, কীভাবে...
...এরপর সিদ্ধান্ত নাও। ঠিক আছে?
- ঠিক আছে। - বেশ!
- সাবধানে থেকো স্কুলে। - দাঁড়াও।
অভিভাবক-শিক্ষক সভা ডেকেছে, মানে বাবা-মা। নানা নয়।
আস্তে, আমার গতিদানব!
- ধুলাঝড় মনে হচ্ছে না। - নেলসন সব ফসল পুড়িয়ে ফেলছে।
পাতাপচা রোগ?
এবারই নাকি ঢেঁড়শের শেষ ফলন।
আর হবে না।
অন্যদের মতো ভুট্টা চাষ করলেই পারতো।
শোনো, মিস হ্যানলির সাথে মিষ্টি করে কথা বোলো। সে অবিবাহিত।
মানে কী?
পৃথিবীর মানুষ বাড়াও। এটাও তো তোমার দায়িত্ব।
নিজের চরকায় তেল দেন, বুড়োমশাই।
আচ্ছা, মার্ফ, সেকেন্ড গিয়ার দাও।
হুম...বেশ।
থার্ড।
- গিয়ারটা ধরবি তো, বেকুব। - চাপ দাও!
টম, একদম চুপ!
- কী করলি, মার্ফ? - আহ, ও কিছু করেনি।
- টায়ারটা ফেটেছে, এই যা। - মার্ফির সূত্র।
চুপ করো!
- অতিরিক্ত চাকাটা নিয়ে এসো, টম। - এটাই অতিরিক্তটা।
ঠিক করার যন্ত্রগুলো বের করো।
- ঠিক করবো কীভাবে? - উপায় বের করো দেখি।
আমি তো সারাজীবন থাকবো না।
কী হয়েছে, মার্ফ?
তুমি আর আম্মু, একটা বাজে জিনিসের নামে আমার নাম রেখেছো কেন?
কই, না তো!
মার্ফির সূত্র?
মার্ফির সূত্র এটা বলে না যে সবসময় খারাপ ঘটনাই ঘটবে।
বলে যে, যা ঘটতে পারে, তা একসময় ঘটবেই।
আর সেটা তো, খারাপ কিছু না।
ওরে!
গাড়িতে ওঠো।
গাড়িতে ওঠো, চলো।
ফাটা চাকার কী হবে?
দারুণ!
এটা ভারতীয় এয়ারফোর্সের ড্রোন। এটার সৌরকোষ দিয়ে পুরো খামার চালানো যাবে।
গাড়ি চালাও, টম।
চলো, চলো, চলো!
সোজা ড্রোনটার দিকে ধরে থাকো।
জোরে চালাও, টম। দূরে চলে যাচ্ছে।
একদম ঐ দিকে...
ধরে থাকো।
হয়ে গেছে প্রায়...
ভাল চালাচ্ছো, টম।
বাবা?
প্রায় ধরে ফেলেছি। থেমো না, থেমো না!
বাবা!
টম!
তুমিই না চালাতে বললে!!
খাদ থেকে লাফ দিতে বললে কী করতে, বোঝা গেলো।
- হারিয়ে ফেলেছি। - না, হারাইনি।
এক পাক চালাবে নাকি?
এই যে, এভাবে।
চালাও।
এখন আস্তে করে ওই চৌবাচ্চাটার কাছে নামিয়ে আনো।
সেরকম!
এটা কতদিন ধরে উড়ছিলো?
দিল্লী মিশন কন্ট্রোলও আমাদের মতোই...
...দশ বছর আগে বন্ধ হয়ে গেছে। - বলো কী!
মানে দশ বছর ধরে উড়েছে?
- এত নিচে নেমে এলো কেন? - কে জানে!
হয়তো তাপে মাথা গরম হয়ে গেছে, নয়তো খুঁজছে কিছু একটা।
- কী খুঁজছে? - একটা বড়ো ফ্ল্যাটব্লেড দাও।
হয়তো কোনো সংকেত পেয়েছে! কে জানে!
কী করবে এটা নিয়ে?
সবার কাজে লাগবে, এমন কিছু। এই ধরো, কম্বাইন চালানোর কাজে।
এটাকে ছেড়ে দিলে হয় না?
কারো কোনো ক্ষতি তো করছিলো না।
জিনিসটাকে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে হবে, মার্ফ...
... আমাদের মতই।
তো, ক্যামনে কী? তোমরাও থাকবে?
আমার ক্লাস আছে।
এই বান্দাকে, বসে থাকতে হবে।
- কী করেছো তুমি? - বলবে তোমাকে, ভেতরে গেলেই।
- শুনে রেগে যাবো না তো? - আমার ওপরে না।
- প্লিজ, রেগে যেও না। - আরে, ব্যাপার না।
আমি সামলাচ্ছি।
দেরি করলে, কুপ।
হ্যাঁ, চাকা পাংচার হয়ে গিয়েছিলো।
তারপর এশিয়ান ফাইটার প্লেনের দোকানে গিয়েছিলে মনে হয়।
না, আসলে স্যার, ওটা নজরদারি ড্রোন।
ফাটাফাটি সৌর কোষ আছে ভেতরে। ভারতীয়!
বসো...
তা ঘটনা হলো...
... আমরা টমের ফলাফল পেয়েছি।
ও খুব ভালো কৃষক হতে পারবে।
হ্যাঁ, ওরও সেদিকেই আগ্রহ। কলেজে পড়তে পারবে তো?
বিশ্ববিদ্যালয় খুব অল্প ছাত্র নেয়। এতজনকে পড়ানোর সামর্থ্য নেই ওদের।
আমি তো নিয়মিত ট্যাক্স দিচ্ছি।
টাকা যায় কোথায়? আর্মিও তো নেই এখন!
বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় না অন্তত!
দ্যাখো, কুপ, বাস্তবতা বোঝো!
এখনই ওকে ভার্সিটি থেকে বাদ দিয়ে দিচ্ছেন?
- ওর বয়স মাত্র ১৫। - টমের স্কোর যথেষ্ট না।
আপনার কোমরের মাপ কতো? ৩২ এর মতো, না?
- ভেতরের মাপ ৩৩? - কী বলতে চাচ্ছো, বুঝতে পারছি না।
আপনার পাছা মাপতে দুইটা নম্বর লাগে, আর আমার ছেলের ভবিষ্যৎ মাপছেন একটা দিয়ে?
বুঝতে চেষ্টা করো, কুপ। তুমি তো শিক্ষিত মানুষ।
- প্রশিক্ষিত পাইলট তুমি। - এবং ইঞ্জিনিয়ার।
বেশ, এখন আমাদের কোনো ইঞ্জিনিয়ারের দরকার নেই।
টেলিভিশন বা প্লেনের নয়, ঘাটতি হচ্ছে খাদ্যের।
আমাদের কৃষক দরকার। তোমার মত ভাল কৃষক।
- এবং টমের মতো। - অশিক্ষিত চাষা বলেন।
আমরা এক তত্ত্বাবধায়ক প্রজন্ম, কুপ। অবস্থা ধীরে ধীরে ভাল হচ্ছে।
- হয়তো তোমার নাতিরা ইঞ্জিনিয়ার হতে-- - কথা শেষ, স্যার?
না।
মিস হ্যানলি মার্ফের ব্যাপারে কিছু বলবেন।
মার্ফ খুবই ভাল মেয়ে। আর খুব বুদ্ধিমানও।
কিন্তু ইদানীং একটু ঝামেলা করছে।
সে এটা এনেছিলো বন্ধুদেরকে দেখাতে। চাঁদে অবতরণের অধ্যায়টা।
হ্যাঁ, এটা তো আমার স্কুলের পুরনো বইটা।
ও এই বইয়ের ছবিগুলো খুব পছন্দ করে।
এটা পুরনো সরকারি বই। আমরা নতুন শুদ্ধ সংস্করণ পড়াই!
শুদ্ধ?
এটা বলে যে, অ্যাপোলো মিশনগুলো ভুয়া ছিলো, সোভিয়েত রাশিয়াকে দেউলিয়া করার জন্য।
আপনি মানেন না যে, আমরা চাঁদে গেছি?
ওটা আসলে কৌশলী প্রোপাগান্ডা ছিলো।
সোভিয়েতরা দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিলো, রকেট আর ফালতু যন্ত্র তৈরি করতে করতে।
"ফালতু যন্ত্র।"
বিশ শতাব্দীর ভুলগুলো আর অপচয়গুলো না করতে চাইলে...
...বাচ্চাদেরকে এই গ্রহের গল্প বলতে হবে, গ্রহ ছাড়ার গল্প নয়।
আগে একটা ফালতু যন্ত্র ছিলো, নাম MRI...
ওটা থাকলে ডাক্তাররা আমার স্ত্রীর মগজের সিস্ট-টা আগেই ধরতে পারতো, মরার পরে না।
তাহলে সে এখানে বসে শুনতো এসব, আমি না!
সেটাই ভাল হতো, কারণ, ওর মেজাজ আমার চেয়ে কম চড়া!
আপনার স্ত্রীর কথা জেনে খারাপ লাগলো, মিঃ কুপার।
কিন্তু মার্ফ মারামারিও করেছে কয়েকজনের সাথে, এই অ্যাপোলোর ভাঁওতাবাজি নিয়ে।
তাই আমরা ভাবলাম, আপনাকে বিষয়টা জানানো দরকার।
যাতে বাসাতেও কিছু ব্যবস্থা নেন।
হুম, কাল সন্ধ্যায় খেলা, জানেন তো?
ইদানিং সে বেসবল নিয়ে মেতে আছে।
কালকে তার প্রিয় দলের খেলা। ওখানে ক্যান্ডি থাকবে, কোক থাকবে।
ভাবছি, খেলা দেখাতে নিয়ে যাবো।
কী বললো?
আমার জন্য তোমাকে সাসপেন্ড করে দিলো।
- মানে? - কুপার।
কুপার বলছি, বলুন!
কুপ, যে কম্বাইনগুলো ঠিক করেছিলে, ওদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।
কনট্রোলারটা রিসেট করে দেন।
করেছি...... তুমি এসে একটু দেখো তাড়াতাড়ি।
মাঠ ন্যাড়া করে, সবগুলো এদিকে চলে আসছে।
কিছু একটা ঝামেলা করছে ওদের কম্পাসে।
চৌম্বকত্ব বা ঐরকম কিছু।
কোন বই পড়ছে, সেটা বিষয় না।
বলেছিলে, পরীক্ষা করতে। সেটাই করছি।
- ফাঁকা জায়গাগুলো নোট করছি। - কেন?
হয়তো ভূতটা কিছু বলার চেষ্টা করছে।
মোর্স কোড দিয়ে চেষ্টা করছি।
মোর্স?
হুম।
- ডট আর ড্যাশ দিয়ে-- - মার্ফ, আমি মোর্স কোড জানি।
No comments yet. Be the first to leave one.