Pierwsze 200 wierszy.
• • • অনুবাদ ও সম্পাদনায় • • • সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
এই নৌকা এখানে কী করছে?
মতিগতি খুব একটা ভালো ঠেকছে না।
ও মা'গো!
রুয়া! রুয়া!
ধ্যাৎ!
শোন,
আমি গিয়ে ফিরিঙ্গি ডাক্তারকে ডেকে আনছি।
তোরা দুজন এখানেই থাক।
জলদি করো!
কী করছ, সোনা?
আমার নতুন বইটা পড়ছিলাম, প্রায় শেষ।
মজার অনেক?
তোমার ওষুধ খাওয়ার সময় হয়েছে।
সাবাশ।
চলো তোমার ব্যাগ গোছাতে সাহায্য করি।
আমরা ফাদার অগাস্টাইনের সাথে দেখা করতে যাব।
- ঠিক আছে। - ঠিক আছে?
কী হলো, বাবা?
কিছু না। পুতুলটা অনেক মিষ্টি।
সাও….
বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করো।
ঘুরাঘুরি করবে না।
ওষুধ নেওয়ার পরও…
ওর অবস্থা আগের মতোই আছে।
কিন্তু ব্যাপার হচ্ছে…
এখন সেটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।
ওর মাথা আলাদা হবার আগেই
নিজেকে স্বাভাবিক রূপে ফিরিয়ে আনে…
আপনি নিশ্চিত ও কখনো ওষুধ বাদ দেয়নি?
একবারের জন্যেও না, ফাদার।
আর আপনার বুক কি এখনো ব্যথা করে?
না। সাওয়ের জন্ম হবার পর থেকে করে না।
সাও আপনার ও দারিনের
ভালোবাসা থেকে জন্ম নিয়েছে।
অতীতকে আপনি বদলাতে পারবেন না।
এখন ওর অবস্থা কীভাবে বদলানো যায় সেটা ভাবুন।
সাওয়ের লালা এখনো রোগটা ছড়াতে পারে।
কেউ সংক্রমিত হতে পারে।
যে ওষুধ আমরা ভেষজ গাছপালা থেকে তৈরি করেছিলাম
সেটা ওকে সারিয়ে তুলতে এখন যথেষ্ট না।
এর মানে…
তাতে আরও একটা উপাদান যোগ করতে হবে।
এতে যেন কাজ হয়।
কী পড়ছ?
পুরুষ জোনাকি মহিলা জোনাকির আকর্ষণ কাড়তে একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্নে
তার আলো জ্বালায়।
মহিলা জোনাকি আকর্ষণ বোধ করলে,
একই প্যাটার্নে তার আলো জ্বালিয়ে সাড়া দেয়।
তারপর দুজনে একে অপরের দিকে উড়ে এসে মিলন ঘটায়।
মহিলা জোনাকি ডিম পাড়ার পর মারা যায়।
তারা প্রেমে না পড়লে,
দু'জনের কাউকেই মরতে হতো না, তাই না?
সাও!
সাও!
তুমি এখানে আছ?
ওখানে আর কিছুক্ষণ লুকিয়ে থাকলে পা অসাড় হয়ে যেত।
কিন্তু… তোমার লুকানো লাগবে কেন?
আমাকে এখন যেতে হবে।
হাই, জোনাকি সাহেব।
আমার নাম ক্লাউড।
কী? ক্লাও?
ক্লাউড।
ক্লাও?
ইংরেজিতে ক্লাউডের মানে আকাশে ভেসে চলা সাদা জিনিস।
কিন্তু তুমি চাইলে ক্লাও বলে ডাকতে পারো।
সবাই তাই ডাকে।
ক্লাউড…
অদ্ভুত নাম।
যাইহোক, আমার নাম সাও।
তুমি ওটা কী বাজাচ্ছ?
এটা?
মাউথ অর্গান।
কীভাবে বাজায় জানি না।
কিন্তু এর আওয়াজ খুব সুন্দর।
আঁকা বাদে আর কী পারো?
তোমার কোনো বন্ধু নেই?
আমরা বন্ধু হতে পারি।
দুজন একসাথে খেলব।
যা যা দরকার সব নিয়েছ?
কিছু কাগজপত্র বাদ আছে, ওগুলো নিলেই শেষ।
ভাষাটা রপ্ত করতে একটু সময় লাগবে।
কিন্তু তুমি পারবে।
মন দিয়ে পড়াশোনা কোরো,
ফিরে এসে আমার কাজে সাহায্য করবে।
ক্লাউডকে বলেছ?
এত গরমের মধ্যে ফুল হাতা শার্ট পড়েছ কেন?
সূর্যের তাপে আমার চামড়া পুড়ে যায়।
হয়ে গেছে।
এত সময় নিয়ে আঁকলে, কিন্তু দেখতে মোটেও আমার মতো হয়নি।
মুকটা বাঁকা হয়েছে আর চোখগুলোও ট্যারা হয়েছে।
ধর, ধর, ঐযে!
যা ভাগ, শ্বেতি! নাহলে আবার পিটিয়ে সোজা করে দিব।
ওকে মেরেছ কেন?
শোন,
ও একটা পশু।
আর আমরা মানুষ।
আমরা যা খুশি ওর সাথে করতে পারি।
আমার হাতে দে।
দিবে না, ক্লাও।
আচ্ছা, ওরও খেলার শখ জেগেছে!
এটা ছেলেদের খেলা।
যা ভাগ, বেটি!
এই, ওকে ছেড়ে দাও।
বেশ। ব্যাটারে পিটিয়ে তক্তা করা যাক।
ধর ওকে।
পালা, ভূত!
সাও!
সাও!
সাও!
সাও!
তোমার পাল্টা জবাব দেওয়া উচিত ছিল।
এত দুর্বল হলে চলবে না।
আমি সারাজীবন তোমার খেয়াল রাখতে পারব না।
তুমি জলদিই চলে যাচ্ছ?
হ্যাঁ, যাচ্ছি।
আমি চলে গেলে তোমার চোটে মলম কে লাগাবে?
অতও লাগেনি।
আরো একটা।
ওর ডানা ভেঙে গেছে, উড়তে পারবে না।
মরে গেলে, গীর্জার পিছনে পুঁতে দিও।
কী করছ?
ক্লাও।
ক্লাও।
কী করলে তুমি?
জানি না।
ব্যস চাচ্ছিলাম ও ঠিক হয়ে যাক…
কী করছ?
আবার করো ওটা।
এই ব্যাপারে আর কে জানে?
ফাদার?
না, উনি জানেন না।
এমনটা আর করবে না।
কাউকে বলবেও না। বোঝা গেছে?
ফাদার অগাস্টাইন নতুন ওষুধ দিয়েছে।
খেয়ে ফেলো, সোনা।
এর দরকার নেই।
ওটা আর বের হবে না।
কী?
কী বললে?
কিছু না।
তোমার জন্য।
আর এটা তোমার জন্য।
না, তুমি রাখো।
এটা আমার তরফ থেকে উপহার।
বাজিয়ে দেখো না।
অনেক কঠিন।
বাবা যেন না দেখে আবার।
কেন?
জানি না…
হয়তো ভয় পায় আমার রোগটা অন্য কাউকে লেগে যাবে বলে।
যে রোগের কারণে…
সেদিন ওরকম হয়ে গেছিলে?
আমাকে ভয় করে না তোমার?
না।
করে না।
আমার ভেতর কিছু একটা আছে।
কীভাবে করলে?
ব্যাপারটা অদ্ভুত।
জানি না।
কিন্তু হ্যাঁ, ব্যাপারটা অদ্ভুত।
তো এটা বাজায় কীভাবে?
ওতে ফুঁ দাও।
আমরা বন্ধু কারণ আমরা ভিন্ন।
আসি, ফাদার।
বেশ। ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুক।
সাও।
তুমি অনেক ভাগ্যবান।
যেখানে খুশি যেতে পারো।
সাও।
সাও।
বিড়ালটা আবার এখানে।
ও আসে যায়।
ওকে তো আমি রাখছি না।
তুমি জানো
কেন ওকে রাখতে পারবে না।
বলেছি তো,
এটা আর বের হবে না।
তার মানে এই না তুমি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছ।
তাহলে কি…
আমাকে বাকিটা জীবন এভাবেই কাটাতে হবে?
এখানে যখন প্রথম এসেছিলাম,
আমি থাই ভাষা জানতাম না।
সবার থেকে দেখতে একদম আলাদা ছিলাম।
বাইরে বের হলেই, মানুষজন আমার দিকে তাকিয়ে থাকত।
নিজেকে অদ্ভুত মনে হতো।
সবাই আলাদাভাবে জন্মায়।
আর আলাদা হওয়ায় দোষের কিছু নেই।
ধন্যবাদ, বাবা।
ওষুধ খাচ্ছ না তুমি?
ব্যাগ গোছাও।
ফাদার অগাস্টাইনের কাছে যেতে হবে আমাদের।
নং ফুনে ক্রাসু দেখতে পাবার গুজব ছড়িয়েছে।
এক নাড়িভুঁড়ি খেকো ভূত।
এক পিশাচিনী যার শুধু মাথা ও নাড়িভুঁড়ি আছে,
রাতে শিকার করে,
চলার সময় আলোর ঝলকানি দেয়।
বাচ্চাদের রূপকথার গল্প।
যেন তারা ভয়ে রাতে বাইরে না যায়।
ব্যস।
No comments yet. Be the first to leave one.