De eerste 200 regels.
দেখতে তো আমারই মতো।
অবিকল আপনার মতো।
দীর্ঘদিন যাবত আপনার ভূমিকায় রূপদান করেছি...
... কিন্তু ও হচ্ছে বিস্ময়কর।
কোথায় পেলে ওকে?
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কাষ্ঠে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রায় হয়েই যাচ্ছিল।
তারপর ভাবলাম আপনার কাজে লাগতে পারে।
কী অপরাধ করেছে?
আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছিল। ছিঁচকে চোর।
চোর?
খুব একরোখা। অনেক চেষ্টা করেও মুখ খোলাতে পারিনি।
হয়ত চুরির সাথে খুন খারাপিও করতে পারে।
প্রসিকিউটররা কিছু বলেছে...
... আমার সাথে সাদৃশ্য নিয়ে?
কিছু বলেনি।
শুধু আমিই ব্যাপারটা খেয়াল করেছি।
ওর চুল, পোশাক, কথাবার্তা পুরোপুরি আলাদা।
আপনার সাথে সাদৃশ্যতার কথা বাহিরের কেউ জানে না।
কিন্তু প্রথমে দেখেই আমি চমকে গিয়েছি।
তারপর আপনার মতো করে ওকে পোশাক পরিয়েছি।
এসেছে কোথা থেকে?
দেখতেই তো পাচ্ছেন...
... অবিকল আপনার প্রতিচ্ছায়া।
আমাদের বাবা'র হয়ত অন্য কোথাও ছেলে ছিল।
চিন্তা করবেন না। ও এসেছে উত্তর জাপান থেকে।
আমাদের রক্তের কেউ হবার সম্ভাবনা নেই।
কিন্তু সাদৃশ্য থাকলেও, নবুকাদো...
... ও তো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী।
এই অপরাধী কীভাবে আমার ডাবল হবে?
আমি সামান্য কটা মুদ্রা চুরি করেছি। এক ছিঁচকে চোর।
আপনি তো শত শত হত্যা করেছেন...
... পুরো রাজ্য সর্বস্বান্ত করেছেন।
কে অপরাধী?
আপনি নাকি আমি?
আমার জীবন প্রদীপ নিভেই যাচ্ছিল।
আজই হতে পারত আমার জীবনের শেষ দিন।
কপাল গুণে বেঁচে গেছি। মেরে ফেলুন! হত্যা করুন!
থামো।
তোমার যা ইচ্ছা বলতে পারো।
তুমি না বললেও আমি বলবো।
তোমার মতে আমি অপরাধী, আমি দুর্নীতিবাজ।
আমি আমার বাবাকে নির্বাসিত করেছি, নিজের ছেলেকে হত্যা করেছি।
শাসন ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে আমি যেকোনো কিছু করতে পারি।
সবজায়গায় যুদ্ধ চলছে।
কেউ যদি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে বা আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে...
... হয়ত আমাদের আরও রক্তের বন্যা দেখতে হবে।
আর লাশের সারি আরও দীর্ঘ হবে।
খুব ঠাণ্ডা পড়েছে।
ঠাণ্ডা পড়লে পুরনো ব্যথাটা জেগে ওঠে।
নবুকাদো, ও খুব ক্ষিপ্রতার সাথে কথা বলছে। ওকে কাজে লাগানো যাবে।
ওকে প্রশিক্ষণ দাও।
কাগেমুশা (ছায়া যোদ্ধা)
১৬তম শতাব্দী, পুরো জাপান তখন যুদ্ধ-বিধ্বস্ত।
তিনটি বিদ্রোহী দলের মধ্যে চলছিল রাজধানী কিয়োটো দখলের লড়াই, বিজয়ী দল শাসন করবে পুরো জাপান।
প্রতিদ্বন্দ্বী দল ছিল তিনটি।
শিংগেন, নবুনাগা এবং ইয়াসু।
১৫৭২ সালে শিংগেন কিয়োটোর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
১৫৭৩ সাল।
দুর্গের দিকে জলপ্রণালী কাটা হয়ে গেছে।
শীঘ্রই দুর্গ দখলে আসবে।
আশা করা যায়।
গত ২০ দিন যাবত দুর্গটা ঘিরে রেখেছি।
মনে হয় না এত সহজে আত্মসমর্পণ করবে।
প্রতিরাতে কেউ একজন বাঁশি বাজায়।
নিশ্চয়ই দারুণ সুর তোলে!
আমাদের সৈন্যরা তো রীতিমত মুগ্ধ। শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।
শোনো সবাই!
জলপ্রণালী কাটার খবর আব্বুকে জানাতে হবে।
লর্ড শিংগেন, আপনার পিতা তো এখানেই আছেন।
আমাদের বাহিনী প্রধান ছাড়াও...
শুধু শত্রুরা নয়, আমাদের প্রত্যেকেই বিশ্বাস করেন আমাদের জাহাঁপনা এখানেই আছেন।
উনার কাছে বার্তাবাহক পাঠানো অর্থহীন।
জাহাঁপনা, ইয়ামাগাতা মাসাকাগে এসেছেন।
আসতে দাও।
আমরা একান্তে কথা বলবো।
- জাহাঁপনা। - থামো।
আসাকুরা বার্তা পাঠিয়েছে। সে তার বাহিনী নিয়ে ফিরে যাচ্ছে।
ওর সৈন্যরা ক্লান্ত আর সময়টাও শীতের মধ্যভাগ।
শত্রুপক্ষও পরিশ্রান্ত।
আসাকুরা পিছু হটলে...
নবুকাদো ইয়াসুর সাথে ঐক্য করে আমার পথের কাঁটা হয়ে উঠবে।
আসাকুরার পিছু হঠা আমার বিরুদ্ধে নির্ঘাত ষড়যন্ত্র।
আপনার বয়স কত, জাহাঁপনা?
- যতদূর মনে পড়ে ৫৩ হবে। - কেন?
আপনি এখনও নাদান শিশুর মতো আচরণ করছেন।
মানুষ ঐক্য গড়বে, ঐক্য ভাঙবে...
ডানে যাবে, বাঁয়ে যাবে, স্বার্থের পেছনে দৌড়াবে।
এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু আপনি যদি ভেঙে পড়েন।
মন যদি দুর্বল করেন, তাহলে দেশ শাসনের আশা বাদ দেন।
নিজের রাজ্যে ফিরে গিয়ে কই ভাজতে পারেন।
কাইয়ের পাহাড়ে বাঁদর জড় করেন গিয়া!
যথেষ্ট বলেছেন।
কী মনে করে এলেন?
জলপ্রণালী কাটা হয়ে গেছে।
প্রাসাদ কি ধ্বংস হবে?
সম্ভাবনা কম। শীঘ্রই বৃষ্টি আর তুষার পড়তে শুরু করবে।
তাহলে প্রাসাদ টিকেও যেতে পারে।
ওদের দলপতি খুবই দক্ষ যোদ্ধা।
প্রতিরাতে সৈন্যদের বাঁশি বাজিয়ে শোনায়।
আমিও বাঁশির ব্যাপারটা শুনেছি।
আজ রাতেও কি বাঁশি বাজাবে...
... পানি না ছাড়লে?
বাঁশি শোনার আশা করলে ওদের হারানো যাবে না।
প্রাসাদের পতন হবে না।
বাঁশি শোনার শখ বাদ দিলে প্রাসাদের পতন নিশ্চিত।
ওদের পতন অনিবার্য।
আজরাতে আমি বাঁশির সুর শুনতে চাই।
সব বন্দোবস্ত করো।
কী? শিংগেন মারা গেছে?
গুপ্তচর খবর এনেছে যে, শিংগেন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
গর্দভ! এটা তো গুজব।
সে কি জীবিত নাকি মৃত? বিশ্বাসযোগ্য খবর চাই।
একটা টুল আনো।
দুনিয়ায় একটা জিনিসই আমি ভয় পাই।
সেটা হচ্ছে শিংগেন।
অনেক জ্বালিয়েছে আমাকে।
ওর মৃত্যু হলে...
কিয়োটো দখলের রাস্তা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
ওর মৃত্যুর আসল খবর নিয়ে আসো। বুঝেছ?
ঘোড়া আনো!
কি বললে? লর্ড শিংগেন নিহত?
স্নাইপারের গুলি লেগেছে। মারাত্মকভাবে গুলিবিদ্ধ।
বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে?
যাই হোক, আমাদের তোকুগাওয়া গোত্রের জন্য এটা একটা বিরাট সুযোগ।
চুপ করো। যদিও মিকাতা যুদ্ধে আমাকে পরাজিত করেছে...
তবুও কারো মৃত্যুতে আমি খুশি হতে পারি না। আমি তো কাপুরুষ নই।
প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে সে ছিল অতুলনীয়।
বয়স মাত্র ৫০ পেরিয়েছে।
মৃত্যুর গুজব যদি সত্যি হয়, তাহলে এটা বিরাট ক্ষতি।
জীবনে কত যুদ্ধ জিতলাম। এখন কি না পিছিয়ে যাবো?
অদ্ভুত!
একটা গুজব শুনলাম।
আমাদের জাহাঁপনা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
আরে চোখ খুলে দেখে নাও...
... জাহাঁপনা বেঁচে আছেন।
কিয়োটো দখল করে...
... রাজধানীতে বিজয়ের পতাকা ওড়ানো...
... আমার বহুদিনের লালিত স্বপ্ন।
কিন্তু...
আমি মরে গেলে স্বপ্নটা অধরাই থেকে যাবে।
স্বপ্নটা আপাতত সুপ্ত হয়েই থাক।
মনে রাখবে।
আমার মৃত্যুর সংবাদ কাউকে দেবে না।
অন্তত তিন বছর গোপন রাখবে।
রাজ্যজুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাড়াবে।
কোথাও যাবে না।
আমার আদেশ অমান্য করে যদি আক্রমণ করতে যাও...
আমাদের তাকেদা বংশ নির্বংশ হয়ে যাবে।
সবসময় মনে রাখবে...
... এ আমার আদেশ।
বাবা।
কিন্তু আমি মরবো না।
সেজন্যেই বলেছি "যদি মরি"...
তবুও আশঙ্কার কথা বললাম।
কিন্তু না...
... এত সহজে আমি মরবো না।
প্রাসাদের জানালার ছিদ্র ছিল এমনই।
আর লক্ষ্যবস্তু?
দ্বিতীয় কেল্লার পাথুরে দেয়ালের নিচে।
মনে করেন এভাবে দাঁড়ালাম...
দূরত্ব ছিল ওই ছোট পাইন গাছের সমান।
দিনের বেলায় কি তুমি তাকেদার সৈন্যদের আসন বসাতে দেখেছ?
ওরা সাদা কাগজে মোড়ানো তিনটা বাঁশের খুঁটি গাড়ে।
আমি ভাবলাম উচ্চপদস্থ কেউ হয়ত বাঁশি শুনতে আসবে।
দিনের বেলাতেই আমি বন্দুকের নিশানা ঠিক করে রেখেছিলাম।
কীভাবে করলে দেখাও তো।
জানালার ছিদ্র বরাবর বন্দুকটা এভাবে বসালাম।
নিখুঁত নিশানা করে রাতের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।
গুলি করো।
লক্ষ্যভেদ করে দেখাও।
চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার।
কিছু দেখা যাচ্ছিল না।
বাঁশি বাজানো শুরু হলেই...
এভাবেই ট্রিগার টেনে দিলাম।
তারপর?
গুলি ছোঁড়ার পরপরই...
সৈন্যরা এভাবে ছোটাছুটি শুরু করে।
ওদের থামতে বলো।
মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যায় শিংগেন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
এখনও নয়।
সত্যিই যদি হতো...
... তাকেদার সৈন্যরা আক্রমণ শুরু করে দিত।
অন্ততপক্ষে পাল্টা গুলি করত।
না।
তারা এটা গোপন রাখতে চায়। সেজন্যেই পাল্টা আক্রমণ করেনি।
জয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে তারা পিছু হটেছে।
নিজের রাজ্যে ফিরে গেছে।
অদ্ভুত ব্যাপার। কৌশলও হতে পারে।
আমরা কি সেতা ব্রিজ পার হয়েছি?
কিয়োটো দেখতে পাচ্ছি।
আক্রমণ করো! রাজধানীতে বিজয় নিশান উড়াও!
আমাদের জাহাঁপনা?
উনাকে এখনও দেখতে পাইনি।
অসাধারণ দৃশ্য।
অপরাজেয় তাকেদা বাহিনী।
সবাই সারিবদ্ধ হয়ে চলো!
আমার মনে হয় না আব্বুর মৃত্যু আমরা গোপন রাখতে পারবো।
অনেকেই পালকীতে উনার মৃতদেহ দেখে ফেলেছে।
ওদের আমি সামলাবো, প্রয়োজনে খুন করবো।
No comments yet. Be the first to leave one.