De eerste 200 regels.
অ নু বা দ ক : মে হে রা ব হো সে ন
"উনারা সব জায়গায় আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিলেন,
কারণ জনগণের সম্পদ লুট করা আর বিভিন্ন রাজ্য দখল করা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল।"
"এডউইন আর মর্কার ছিলেন মার্শিয়া আর নর্থামব্রিয়ার রাজা, তাঁরা উনাদের কাছে আবদারও করেছিলেন,
আর এমনকি স্টাইগ্যান্ডও..."
- অ্যালিস। - হমম?
হ্যাঁ হ্যাঁ শুনছি, বলতে থাকো।
"আর এমনকি স্টাইগ্যান্ডও, যিনি ছিলেন ক্যান্টারবুরির প্রধান যাজক/পাদ্রী,
তিনিও উইলিয়ামের সাথে দেখা করতে এবং তাকে মুকুট উপহার দেবার জন্য রাজি হয়েছিলেন।"
"উইলিয়াম প্রথম প্রথমে কিছু..."
অ্যালিস।
তুমি কি দয়া করে তোমার ইতিহাসের পাঠের দিকে একটু মনোযোগ দিতে পারবে না?
দুঃখিত, কিন্তু কেউ কীভাবে এতে মনোযোগ দেবে, এটা কি আদৌ সম্ভব?
যে বইয়ে কোনো ছবিই নেই সেটাতে মনোযোগ দেয়া যায়?
আমার প্রিয় বোন, এই দুনিয়ায় এমন অনেক ভালো বই আছে যেগুলোতে কোনো ছবি নেই।
হ্যাঁ, হয়তো এই দুনিয়ায়।
কিন্তু আমার দুনিয়াতে এমন কোনো বই থাকবে না যেটাতে কোনো ছবিই নেই।
তোমার দুনিয়াতে? কী অদ্ভুত আবোলতাবোল বকছো?
- অদ্ভুত? - আচ্ছা, আরেকবার প্রথম থেকে শুরু করা যাক।
হ্যাঁ, তা ঠিক ডাইনাহ।
যদি আমার নিজের একটা দুনিয়া থাকতো, তাহলে সেখানকার সবকিছুই অদ্ভুত হতো।
ওখানে এমন কিছুই থাকবে না যেটা আছে কারণ সেখানে এমন কিছু থাকবে যেটা নেই।
আর ঠিক সেভাবেই, যেটা আছে, সেটা থাকবে না।
আর যেটা নেই, সেটাই থাকবে, কিছু বুঝলে?
"মিয়াও"
আমার দুনিয়াতে, তুমি "মিয়াও" বলতে না।
তুমি বলতে, "জি, মিস অ্যালিস"।
হ্যাঁ তুমি বলতে। তুমি সেখানে একেবারে মানুষের মতো থাকতে, ডাইনাহ।
আর বাকিসব পশুপাখিও মানুষের মতোই থাকতো।
আমার দুনিয়াতে...
ছোট্ট সৌখিন বাড়িতে থাকতো বিড়াল আর খরগোশেরা,
আর গায়ে থাকতো ঝলমলে পোশাক পরতো জুতা, টুপি, ট্রাউজার তারা।
আমার নিজের দুনিয়ায়
সব ফুলের থাকতো বিশেষ বিশেষ ক্ষমতা খুব ভালো হতো ওদের মনটা,
ওদের কাছে বসতাম আর কথা বলতাম ঘন্টার পর ঘন্টা।
যখন আমার নিজের দুনিয়াতে একাকী বোধ করতাম
তখন আমাকে সঙ্গ দিতো নতুন নতুন পাখি,
অনেকগুলো অমায়িক আর বন্ধুত্বপূর্ণ কিচিরমিচির করা পাখি।
সবার কাছেই থাকতো এক ডজন নীল পাখি।
আমার নিজের সেই দুনিয়ায়।
শুনতাম কোনো নদীর কলকল ধ্বনি।
আর শুনতাম এমন একটা গান যার মর্ম উপলব্ধি করতে পারতাম।
এরকম দুনিয়া যাতে হয় সেটাই আমার প্রার্থনা।
কারণ আমার দুনিয়াটা হতো একটা ওয়ান্ডারল্যান্ড (আজব দুনিয়া)।
ওহ, ডাইনাহ। ওটা শুধু একটা কোট পরা খরগোশ... আর হাতে একটা ঘড়ি।
ও মোর খোদা! আমি দেরি করে ফেলেছি, দেরি করে ফেলেছি, দেরি করে ফেলেছি!
অদ্ভুত তো, একটা খরগোশ আবার কীসের জন্য দেরি করে?
প্লিজ স্যার।
আমি দেরি করে ফেলেছি, দেরি করে ফেলেছি, একটা জরুরি কাজ ছিল, এবার ফেঁসে গিয়েছি।
হ্যালো, বিদায় বলার সময় আমার হাতে নেই। আমি দেরি করে ফেলেছি, দেরি করে ফেলেছি।
মনে হয় তার কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে, যেমন ধরো কোনো পার্টি বা অন্যকিছু।
মি. র্যাবিট। দাঁড়ান!
না, না, না, আমি দেরি করে ফেলেছি। জরুরি কাজ ছিল, ভুলে গিয়ে ফেঁসে গিয়েছি।
হ্যালো, বিদায় বলার সময় আমার হাতে নেই। আমি দেরি করে ফেলেছি, দেরি করে ফেলেছি।
পার্টি করার জন্য কীরকম অদ্ভুত একটা জায়গা এটা।
দেখো, ডাইনাহ, আমাদের এটা করা উচিত হবে না।
কারণ, আমাদেরকে তো পার্টিতে দাওয়াত দেওয়া হয়নি...
আর কৌতূহল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিপদ ডেকে আনে।
বিদায়, ডাইনাহ, বিদায়!
ওহ...
বেশ, এই ঘটনার পরে সিড়ি থেকে পড়ে যাওয়ার সময় আমি... আমি আর ভয় পাবো না।
ওহ!
বেঁচে গিয়েছি। কী হতো যদি আমি পড়তে পড়তে পৃথিবীর একেবারে কেন্দ্রে পৌঁছে যেতাম...
আর এমন একটা জায়গা দিয়ে বের হতাম যেখানে মানুষ উল্টো হয়ে হাঁটাহাঁটি করে?
কিন্তু এরকম কখনো হয় নাকি? কেউই...
ওহ!
মি. র্যাবিট। দাঁড়ান। প্লিজ।
যতই এগোচ্ছি ততোই কৌতূহল বাড়ছে।
আউ।
আমাকে ক্ষমা করে দিন।
ঠিক আছে, কিন্তু তুমি তো আমার নাকটাকে লেবুর মতো চিপে দিয়েছো।
- আমি একটা... - একটা কথা জানো? আমাকে চিপলে কিন্তু রস বের হবে না।
- প্লিজ স্যার। - কারো নাক টিপে দেওয়া কিন্তু ভালো না।
-তো বলো, আমি তোমার জন্য কী করতে পারি? - আমি একটা সাদা খরগোশকে খুঁজছি।
- তো, তুমি যদি কিছু মনে না করো... - হাহ?
ওহ।
ঐতো সে ওখানে। আমাকে এখনই ওর পেছনে যেতে হবে।
দুঃখিত। তুমি অনেক বড়। এখানে দিয়ে যাওয়া তোমার পক্ষে ইম্পাসেবল (অনতিক্রম্য) ।
- মানে ইম্পসিবল (অসম্ভব) । - না, ইম্পাসেবল। ইম্পসিবল বলে কোনো কিছুই নেই।
- টেবিলের বোতলটাকে একবার চেখে দেখো। - টেবিল?
ওটার নির্দেশনা পড়ো। কারণ ওটাই তোমার এই দেশে সঠিক পথ খুঁজে পাওয়ার নির্দেশনা।
"আমাকে পান করো" হমম।
আগে ভালো করে দেখে নিই, কারণ যদি কেউ ভুল করে "বিষ" নামক বোতল থেকে একটু বেশিই পান করে ফেলে।
এটা তো নিশ্চিত যে এটার কার্যকারিতা এক না এক সময়ে শেষ হবেই।
- কী বললে তুমি? - কিছু না। নিজেই নিজেকে ভালো উপদেশ দিচ্ছি।
কিন্তু...
স্বাদ অনেকটা চেরির ক্রিমের মতো।
কাস্টার্ডের মতো, আনারসের মতো, টার্কির রোস্টের মতো।
হায় রে!
এ আমি কী করলাম?
তুমি তো একেবারে মোমবাতির মতো ছোট্ট হয়ে গেলে।
কিন্তু দেখো। এখন তো আমি ভেতরে যেতে পারি।
লাভ নেই। আমি একটা কথা বলতে তো ভুলেই গিয়েছিলাম। আমাকে খুলতে একটা চাবি লাগবে।
আরে, ধ্যাত।
- কিন্তু, তোমার কাছে তো চাবিটা আছেই। - কই চাবি?
এটা বোলো না যে তুমি ওটা টেবিলের উপরেই রেখে এসেছ।
ওহ, খোদা।
- এখন আমি কি করবো? - ঐ বক্সটাকে খুলে দেখো।
ওহ!
"আমাকে খাও" আচ্ছা।
কিন্তু খোদাই জানে এটা খাওয়ার পরে আমার কী অবস্থা হবে।
ওরে! ওরে! ওরে!
কী বলছো তুমি?
আমি বললাম তুমি তো মোমবাতি থেকে টিউবলাইট হয়ে গেলে।
আমি বুঝতে পারছি না এতে মজার কী আছে।
এখন তো আমি কখনোই এখান থেকে বের হতে পারবো না।
দেখ, দেখো, এখন কান্না করে তো কোনো লাভ হবে না।
জানি, কিন্তু আমার... আমার কান্না তো থামছেই না।
হেই। এতে কাজ হবে না।
ওহ, ওহ, ওহ...
এতে কিন্তু কোনো কাজ হবে না।
এই যে, লম্বু, থামাও!
আমার কথা শোনো। ঐ বোত...
ঐ বোতল। ঐ বোত...
ওহ, খোদা। এত বেশি কান্না না করলেই তো হতো।
একজন নাবিকের জীবনই আমার জন্য উপযুক্ত,
কারণ আমার প্রিয় কাজ জাহাজে ভ্রমণ, অপার সমুদ্রে ঘুরে বেড়াই আর খুঁজি দামি দামি মুক্তো।
আবহাওয়া যতোই হোক না কেন খারাপ আমি করি না তাকে পরোয়া,
কারণ আবহাওয়ারও আমার প্রতি একই মনোভাব সে-ও আমার প্রতি বেপরোয়া।
ওহ, একজন নাবিকের জীবনই আমার জন্য উপযুক্ত,
আবহাওয়া যতোই...
একজন নাবিক যেটা প্রায়ই বলে থাকে, ওহে শোন।
ঐ দেখো, আমি ভূমি দেখতে পাচ্ছি।
- কোথায়, ডোডো? - ডোডো? (ডোডো হলো মরিশাস দ্বীপবাসী এক ধরনের বড় পাখি, এরা বর্তমানে বিলুপ্ত।)
জাহাজের সামনের দিক থেকে তিন মাইল আগে। শোনো, শোনো সবাই।
আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা সেখানে নোঙ্গর করতে যাচ্ছি।
মি. ডোডো। প্লিজ। প্লিজ আমাকে সাহায্য করুন।
মাফ করবেন, কিন্তু আপনারা আমাকে সাহায্য করবেন? প্লিজ?
ইউ-হুউউ! ইউ-হুউউ!
আমাকে সাহায্য করুন। প্লিজ।
সাহায্য করুন।
সামনে, পেছনে, ভেতরে, বাইরে যারা আছো জলদি এসে পড়ো,
পানিতে ভেজার পর শুকোতে চাইলে এই দলগত রেসে অংশগ্রহণ করো।
পেছনে, সামনে, বাইরে, ভেতরে নিচে থেকে উপরে,
কেউ কোনো কাজ যদি শুরুই না করে তাহলে সে কীভাবে শেষ করে?
খেলছি, লাফাচ্ছি, ঘুরছি, হাসছি আমাকে আটকানোর মতো আছে কে?
গতকালই তো শুরু করলাম কিন্তু খতম করবো কালকে।
গোলগোল করে শুধু ঘুরেই চলেছি ঘুরবো সারাটা জীবনভর,
ভ্রমণের নেশা চেপে ধরেছে আমায় নতুনকে জানতে আর সইছে না তর।
সামনে, পেছনে, ভেতরে, বাইরে যারা আছো জলদি এসে পড়ো।
পানিতে ভেজার পর শুকোতে চাইলে এই দলগত রেসে অংশগ্রহণ করো।
- শোনো, ওটা করলে তুমি ভিজে যাবে না। - ভিজে যাবো না?
অন্যদের সাথে তোমাকেও দৌড়াতে হবে। এটাই আমাদের রেসের প্রথম নিয়ম।
কিন্তু আমি কীভাবে...?
এবার ঠিক আছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তুমি শুকিয়ে যাবে।
এভাবে তো কেউ কখনো শুকোতে পারবে না।
বাজে কথা। আমি তো শুঁটকির চেয়ে বেশি শুকিয়ে গেছি।
- হ্যাঁ, কিন্তু... - ঠিক আছে, আবার শুরু করা যাক।
প্রাণবন্ত হয়ে ওঠো।
ঐতো সেই সাদা খরগোশ, মি. র্যাবিট।
- খাইছে রে। আমি লেট। - চলে যাবেন না। আমি এখনই আসছি।
- আমি দেরি করে ফেলেছি। - মাছের ওপর পাড়া দিয়ো না।
সাবধানে। ঐ ম্যাকারেল মাছটাকে লাথি মেরো না। শাবাশ। খুব সুন্দরভাবে করেছ।
মি. র্যাবিট। ওহ, মি. র্যাবিট।
ওহ, খোদা। আমি নিশ্চিত উনি এদিক দিয়েই এসেছেন।
কে জানে কোথায় উনি লুকিয়ে আছেন?
হমম। এখানে নেই।
মনে হয়...
না। মনে হচ্ছে উনি হয়তো...
বাপরে। কিরকম অদ্ভুত ছোট্ট প্রাণী এরা।
টুইডল ডি আর টুইডল ডাম।
যদি তুমি মনে করো যে আমরা দুজন মোমের মূর্তি, তাহলে আমাদেরকে দেখার জন্য তোমাকে টাকা দিতে হবে।
আর যদি তুমি মনে করো যে আমরা দুজন জীবন্ত, তাহলে তোমাকে আমাদের সাথে কথা বলতে হবে।
- যৌক্তিক কথা। - বেশ...
তোমাদের সাথে দেখা হয়ে ভালো লাগলো। বিদায়।
- তুমি তো উল্টোদিক থেকে শুরু করলে। - কারো সাথে দেখা করার পর প্রথমে যা বলতে হয় তা হলো...
আপনি কেমন আছেন? চলুন হাত মেলাই, হাত মেলান, হাত মেলান।
আপনি কেমন আছেন? চলুন হাত মেলাই, হাত মেলান, হাত মেলান।
- এটা হলো আদবকায়দা। - সত্যিই?
বেশ আমার নাম হলো অ্যালিস আর আমি একটা সাদা খরগোশকে পিছু করছি, তাই...
- তুমি এখনই যেতে পারো না। - না, মাত্রই তো তুমি এখানে এলে।
- আমি খুবই দুঃখিত। - আমাদের সাথে লুকোচুরি খেলবে?
- নাকি কানামাছি ভোঁ ভোঁ? চোর কে হবে? - না, ধন্যবাদ।
যদি এখানে আরো কিছুক্ষণ থাকো, তাহলে আমাদের লড়াই দেখতে পারবে।
খুবই ভালো, কিন্তু আমার একটু তাড়া আছে।
- কেন? - কারণ আমি একটা সাদা খরগোশকে পিছু করছি।
- কেন? - সে কোথায় যাচ্ছে তা জানার জন্য বড্ড কৌতূহল হচ্ছে।
ওহ, তাহলে সে কৌতূহলী।
ঐ ঝিনুকগুলোও তো কৌতূহলী ছিল, তাই না?
হ্যাঁ, আর তোমার তো মনে আছেই শেষ পর্যন্ত তাদের কী করুণ পরিণতি ঘটেছিল।
বেচারা।
কেন? ঝিনুকগুলোর কী হয়েছিল?
- ওহ, তুমি শুনে খুব একটা মজা পাবে না। - কিন্তু আমি শুনতে চাই।
ওহ, না। তোমার তো একটু তাড়া আছে।
বেশ, হয়তো আমি কিছুক্ষণের জন্য থামতে পারি।
থামতে পারবে? বেশ...
"ওয়ালরাস আর সেই ছুতারমিস্ত্রির গল্প।" (ওয়ালরাস মানে সিন্ধুঘোটক। এরা এক ধরনের সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, এদের দুটি বিশাল নিম্নমুখী দাঁত রয়েছে, দলবদ্ধ হয়ে বাস করে। আটলান্টিক মহাসাগরের বাসিন্দা)
অথবা "সেই কৌতূহলী ঝিনুকদের গল্প।"
সাগরের ওপর জ্বলজ্বল করছিল সূর্য জ্বলজ্বল করছিল তার সর্বশক্তি দিয়ে,
সে তার চেষ্টার কোনো ত্রুটিই করেনি নিচের দুনিয়াকে আলোকিত করতে গিয়ে।
কিন্তু এটা ছিল অস্বাভাবিক কারণ
তখন ছিল মাঝরাত, যখন কারো হয়না বিয়ে।
সিন্ধুঘোটক এবং সেই ছুতারমিস্ত্রি হাঁটছিলো একে অপরের কাছ ঘেঁষে,
সৈকতটা ছিল বিশাল চওড়া কিন্তু বালুতে ভরা ছিল শুরু থেকে শেষে।
ছুতারমিস্ত্রী বললো, মি. ওয়ালরাস,
আমার মাথায় এসেছে বুদ্ধি একটা,
এই জায়গাকে করবো ছয় মাসের মধ্যে পরিষ্কার যদি তুমিও আমাকে করো সহযোগিতা।
কাজ?
-সময় এসেছে এসব বাদ দিয়ে - ওয়ালরাস বললো,
অন্য কিছু নিয়ে কথা বলার
No comments yet. Be the first to leave one.