200 baris pertama.
সাবটাইটেল অনুবাদক কামরুল হাসান শিমুল
সাবটাইটেল অনুবাদক কামরুল হাসান শিমুল</font
আপনার স্বীকারোক্তির পরে,
আপনার চারপাশের লোকজনের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
সবাই আমাকে বাহবা দিচ্ছিল।
যদিও সবাই মন থেকে দিচ্ছিল না।
আমি খুব লজ্জাবোধ করছিলাম, কিন্তু কিছু তো করার ছিল না।
কোনো কিছু ভাবারই উপায় ছিল না।
আপনি কি এখনও বিব্রত বোধ করেন?
না, একদমই বিব্রত হই না।
আচ্ছা, কতদিন যাবত জাপানি মিলিটারির বর্বরতা সহ্য করেছেন?
সতেরো বছর বয়সে আমাকে ধরে নিয়ে যায়,
সবকিছু তো বিস্তারিত বলা যায় না...
... ওই সময়ে যা কিছু ঘটেছে।
ধরে নিয়ে যাওয়া আর সৈন্যদের নিষ্ঠুরতা...
সবকিছু কি পুঙ্খানুপুঙ্খ বলা সম্ভব?
ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।
মেয়েদের মাসিক অবস্থায়ও যৌন নির্যাতন করত।
সৈন্যরা এসবের ধার ধারত না।
আমাদেরকে একদলা মাংসপিণ্ডের মতো মনে করত।
খুব বেশি অসুস্থ হলে হয় আগুনে পুড়ত না হয় গুলি করত।
এমনই দূরাবস্থা ছিল যে, সবকিছু বলা সম্ভব না।
নিয়মিত খাবার দিতো?
বেরিয়ে এসো, বেরিয়ে এসো, যেখানেই থাকো না কেন...
তোমরা কি রেডি?
জিয়ংসাংনামদো প্রদেশ, জিয়োশ্যাং, ১৯৪৩
এখনও না।
বেরিয়ে এসো, বেরিয়ে এসো, যেখানেই থাকো না কেন...
তোমরা এতদূর পালিয়েছ কেন?
কতকরে বলেছি কাছাকাছি কোথাও পালাতে।
শুনেছ?
শহর থেকে আংকেল ডুসিককে জাপানি পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছে।
সত্যি?
আব্বু বলেছে উনাকে সৈনিক বানানোর জন্য নিয়ে গিয়েছে...
সৈনিক হলেই কি সবাই জাপানি হয়ে যাবে?
ধুর বোকা।
সৈনিক হলে কোরিয়ান সৈনিক হবে।
জাপানি সৈনিক হতে হবে না।
কী সব আবোল-তাবোল বকছো? স্কুলের স্যার কী বলেছে মনে নেই?
তিনি বলেছেন, "আমরা সবাই জাপানি" বলেনি?
এভাবে খেলে মজা নেই। চলো বাজি ধরে খেলি?
বাজিতে কী ধরবে?
তোমরা জিতে গেলে...
এগুলো দেবো।
ওয়াও! দারুণ তো!
তোমরা কী দেবে?
তোমরা কবচটা দিয়ে দেবে।
এটা দেওয়া যাবে না।
হ্যাঁ, মা বলেছে, এটা কখনো হাতছাড়া না করতে।
তাহলে...
এই ক্যান্ডিগুলো কতো মজার জানো?
এমন দশটা কবচ দিয়েও...
... এমন একটা ক্যান্ডি পাওয়া যায় না।
আচ্ছা, দয়া করে একটা দান করে দিলাম।
আমারটা? আমারটাও দিয়ে দাও।
মা বলেছে এগুলো কাউকে না দিতে।
কেন?
এগুলো আমাদের জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
হাতছাড়া করলে বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে।
এমন ডাহা মিথ্যা কে বলেছে?
মা বারবার করে বারণ করেছে!
ধুর, এসব বাজে কথা। গেলাম আমি!
- বোন রে! - জুংমিন!
আরি-আরি-রাং, সুরি-সুরি-রাং, আ-রা-রি-গা-নাত-নে...
আব্বু!
আব্বু!
- আরে, এ যে আমার মামণি রে! - আব্বু! আব্বু!
ক্যারিয়ারে গুঁতো লাগলে মাথা ফুলে যাবে।
জুংমিন, তুমি তো বড় হয়ে গিয়েছ।
তাকিয়ে দেখো, তাকিয়ে দেখো, দেখো তাকিয়ে আমার দিকে...
এ যেন শীতের গোলাপ ফুটছে, দেখো তাকিয়ে!
আরি-আরিরাং! সুরি-সুরিরাং আরিরাং-সুরিরাং!
সোনাপাখি! আমার জন্যেই অপেক্ষা করছিলে?
জুংমিন, এদিকে আসো তো।
কী হয়েছে?
তুমি চুপ থাকো।
মিসুনের থেকে কী নিয়েছ?
কই, কিছু তো নিইনি।
আমি তো বাজি ধরে জিতেছি।
এদিকে দাও।
দাও বলছি!
ওটা মিসুনকে দিয়ে আসো।
হা করে কী দেখছো?
ভেতরে আসো।
অন্যের জিনিস চুরি করতে বারণ করেছি না?
চুরির কলঙ্ক একবার ছড়িয়ে পড়লে বিয়েই তো হবে না!
দিয়ে এসেছি।
আব্বু!
এই বয়সে একটু-আধটু এমন করেই। এভাবে না মারলেও পারতে।
তোমার আস্কারা পেয়েই মেয়েটা লাফাঙ্গা হয়ে যাচ্ছে।
কী যে বলো।
দেখছো না পৃথিবীর অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে?
মিলিটারি এসে লোকজনকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।
একবার যাকে নিয়ে যায় আর কখনো ফেরত আসে না।
একদম গুম করে ফেলে।
মেয়েটা না হয় কমবয়সী বলে বেঁচে যাবে...
কিন্তু তোমাকে নিয়ে বড্ড ভয় হয়।
তোমাকে নিয়ে গেলে আমাদের কী হবে?
কলিকাল শুরু হয়ে গেছে।
ঠিক, ঠিকই বলেছ।
জুংমিন।
তোমার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং সুপাত্রে বিয়ের জন্যেই তোমাকে শাসন করেছি।
বুঝেছ?
দয়া করুন, এতটা নিষ্ঠুর হবেন না!
কী বলছে লোকটা?
কোনো কারণ ছাড়াই এভাবে একটা মেয়েকে কীভাবে নিয়ে যাবেন?
একটু দয়া করুন।
ছেড়ে দিন।
তোমার নাম জুংমিন?
হ্যাঁ।
- উঠিয়ে নাও! - কী!
একটু দয়া করুন! কিছু না বলেই নিতে পারেন না!
- আব্বু! আব্বু! - ওগো ওঠো!
আমাদের ছেড়ে দিন। একটু দয়া করুন।
দয়া-দাক্ষিণ্যের সময় নেই।
কথা শোনো।
এই যে কাপড়গুলো দেখছো...
শোনো, শোনো, কান্না থামাও।
কাপড়ের ভেতরে টাকা লুকোনো আছে।
স্কুলে তো জাপানি ভাষা শিখেছ, তাই না?
টাকাগুলো কাউকে দিয়ে বলবে তোমাকে জিওচ্যাং পৌঁছে দিতে, বুঝেছ?
বলো তো টাকা কী জন্যে দিয়েছি?
জিওচ্যাং পৌঁছে দিতে কাউকে দেওয়ার জন্যে।
এই তো, এই তো বুঝেছ।
আমার মেয়েটার কপালে বুঝি এই দুর্গতি ছিল...
এই গ্রামের বাহিরেও কোনোদিন যায়নি...
তোমাকে ছাড়া আমি কী নিয়ে বাঁচবো!
মনোযোগ দিয়ে শোনো।
একটি পুরনো প্রবাদ আছে...
"মাথা ঠাণ্ডা রেখে কৌশল খাটালে যেকোনো পরিস্থিতিতে টিকে থাকা সম্ভব।"
বুঝেছ?
এই নাও, নিখুঁত করে বানাতে পারিনি।
তবুও এটা সাথে রাখলে তুমি নিরাপদে থাকবে।
সকল প্রকার বালা-মুসিবত থেকে রক্ষা করবে।
সবসময় সাথে রাখবে।
হাতে সময় নেই, জলদি করো।
আমার নাম, তোমার বাবার নাম আর বাড়ির ঠিকানা কখনো ভুলবে না।
মনে থাকবে?
জুংমিন!
জুংমিন!
জুংমিন!
জুংমিন!
জুংমিন!
জুংমিন!
জুংমিন!
জিয়ংগিডো ইয়াংপিয়ং দুমুলমিওরি, ১৯৯১
বয়স তো খুবই কম।
পাশেরজন কি তোমার মেয়ে?
হ্যাঁ।
তোমাদেরকে এখানে কে এনেছে?
আমার স্বামী একবার এসেছিল এখানে...
তারপর কী হয়েছে তোমার স্বামীর?
সে আর বেঁচে নেই।
এক দাগী আসামী জামিন পেয়ে আমাদের বাড়িতে ঢুকে পড়ে।
তারপর থেকেই তোমার মেয়ে কথাবলা বন্ধ করে দেয়?
আমার স্বামী...
ও মরেই তো আমাদের দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে গেল।
আর তুমি?
তোমাকে তো ধৈর্যধারণ করতে হবে।
তোমার মেয়েকে আমি রেখে দিচ্ছি।
কিন্তু...
ওকে আমি মন্দিরের সেবিকা হিসেবেই রেখে দেবো।
মন্দিরের বাহিরে গেলে ওকে নিয়ে সবাই হাসাহাসি করবে।
হ্যালো।
আমার নাম এরি।
তোমার নাম কী?
মা।
- এরি। - কী?
ইউঙ্কইয়ুং স্বাভাবিক আচরণ করতে তো?
ইউঙ্কইয়ুং?
জ্বি, করছে।
অস্বাভাবিক কিছু দেখেছ?
প্রায়ই মধ্যরাতে ওঠে কাঁদে, এছাড়া সবকিছু ঠিকঠাক।
- ওহ, আর মাঝেমধ্যে... - কী?
মাঝেমধ্যে একা একাই বকবক করে, মনে হয় কারো সাথে কথা বলছে।
উন্মাদের মতো?
হ্যাঁ! পাগলের মতো!
হেই!
ওই!
সবগুলো পরিষ্কার করতে হবে।
ঝকঝকে পরিষ্কার!
এই যে শুনুন...
আমাকে বলছো?
কাউকে খুঁজছেন?
কই, না তো।
ওকে দেখা শেষ, তাই চলে যাচ্ছি।
চেনেন উনাকে?
নিজের চেয়েও বেশি।
তুমি কে, মা?
এই যে, আপু।
একটা বয়স্ক লোক তোমাকে একটা খবর দিতে বললো।
আমাকে বলছো?
হ্যাঁ, সাদা শার্ট আর ধূসর রঙের প্যান্ট পড়া এক ভদ্রলোক বললো।
সাদা শার্ট?
লোকটা তোমাকে বলতে বলেই চলে গেল।
কে?!
পুরনো ওয়ার্ডরোবে তোমার জন্যে একটা মেসেজ রেখে গিয়েছেন।
হারিয়ে যাওয়ার আগেই পড়ে নিতে বললেন।
কে?
কে বলেছে তোমাকে?
No comments yet. Be the first to leave one.