처음 200줄입니다.
অনুবাদ ও সম্পাদনাঃ শাহরিন হাসান
"বিশিষ্ট আইনজীবী ক্রিস্টোফার চ্যাম্বারসকে রেস্তোরাঁয় ছুরিকাঘাত"
বয়স ১২ কি ১৩ যখন প্রথম একটা মানুষের লাশ দেখি
সময়টা ছিল ১৯৫৯ এর গ্রীষ্ম
অনেক আগের কথা
যদি বছরের দিক দিয়ে হিসেব করা হয়
আমি থাকতাম অরেগন প্রদেশের ক্যাসেল রক নামক ছোট্ট একটা শহরে
সেখানকার লোকসংখ্যা ছিল মাত্র ১,২৮১ জন কিন্তু সে জায়গাটাই ছিল আমার একমাত্র পৃথিবী
আপনাদের সাথে আছি আমি বসম্যান বব কর্নিয়ার পোর্টল্যান্ডে আজ শুক্রবারের সকালটা খুব সুন্দর
তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট হলেও গরম আরও বাড়বে
"ববি ডে" তে আজ আপনাদের শোনাব রকিং রবিনের গান
বসের সাথেই থাকুন
বলতো, কিভাবে বুঝবি তোর বাড়ির পিছে বাস করা লোকটা একজন ফরাসি ?
আমিও ফরাসি, ঠিক আছে !
তোর ময়লার ঝুড়ি থাকবে খালি আর তোর কুত্তা থাকবে পোয়াতি
বললাম না আমিও একজন ফরাসি ?
-আমি থামলাম -খাইছে
২৯
২২
ঘোড়ার ডিম
গোর্ডি হারছে, সে টেবিল চাপড়ে খেলা থেকে বাদ হয়ে গেল
আয় আবার শুরু করি
টেডি ডুসাম্প ছিল আমাদের মধ্যে সবচেয়ে পাগলাটে
তার জীবন খুব একটা আনন্দময় ছিল না
তার বাবার মেজাজ আচমকাই বিগড়ে যেত
একবার তিনি টেডির কান টেনে তা চুলার আগুনে প্রায় পুড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন
থামলাম
চার চোখা বদমাশ
এই বদমাশের ১০০০ টা চোখ আছে
কি ?
হাসার কি আছে ? আমার কাছে ৩০ আছে, তোর কি আছে ?
১৬
হ্যা, যতক্ষণ খুশি হাসো
তোর হাতে কিছুই নাই, বুঝলি
ক্রিস চ্যাম্বারস ছিল আমাদের দলের নেতা এবং আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু
সে একটা খারাপ পরিবার থেকে এসেছিল এবং সবাই ধারনা করতো সেও খারাপ হয়ে যাবে
ক্রিসও তাই ভাবতো
এটা গোপন টোকা না
আমার গোপন টোকা মনে নাই, ঢুকতে দে
ভার্ণ
কিরে ভাই, খোল না !
তোরা বিশ্বাস করবি না, জটিল একটা খবর
কান খাড়া করে শোন
একদমই বিশ্বাস হবে না তোদের, অবিশ্বাস্য ঘটনা
দমটা নিতে দে বাসা থেকে সারাটা রাস্তা দৌড়ে এসেছি
"সারা রাস্তা দৌড়েছি"
আরে ধুর, আমার কথা শোন জটিল একটা খবর
"শুধু দু:খের কথা বলতে"
ঠিক আছে, বাদ দে তোদেরকে আমি কিছুই বলব না
আচ্ছা থাম তো কি হয়েছে বল
আচ্ছা, জোস তোরা কেউ বিশ্বাস করবি না, সত্যি বলছি
"সারা রাস্তা দৌড়েছি"
মর তোরা, বাদ দে
কি হয়েছে ?
তোরা আজ রাতে বাইরে ক্যাম্পিঙে যেতে পারবি ?
মানে, যদি বাসায় বলিস আজ রাতে সবাই আমার বাড়ির পিছের উঠোনে তাঁবু খাটিয়ে থাকবো ?
হ্যা, তাই তো মনে হয়
যদি না আমার বাবার মেজাজ খারাপ থাকে আরকি তিনি ইদানিং প্রচুর মদ গিলছেন
তোদের পারতেই হবে, আসলেই তোরা বিশ্বাস করবি না, তুই পারবি গোর্ডি ?
হ্যা, সম্ভবত
তুই কিসের জন্য এতো ঘ্যান ঘ্যান করছিস, ভার্ণ ?
-আমি থামলাম -কিহ ?
শালা মিথ্যুক ! তোর হাতে কিছুই নাই
কিছু না থাকলে তুই ডিল করতে পারবি না
তোর কার্ড দেখা, গর্দভ
তোরা কি একটা লাশ দেখতে যেতে চাস ?
আমি তো আমার বারান্দার নিচে খুঁড়াখুঁড়ি করছিলাম, জানিস তো
আমরা সবাই জানতাম ভার্ণ কি করছিল সেখানে
স্কুলের প্রথম বছরের দিকে সে একটা পয়সা ভর্তি বয়াম পুঁতে রেখেছিল
তার বাড়ির নিচে
সে একটা গুপ্তধনের মানচিত্র এঁকেছিলো যাতে সে আবার তা খুঁজে পায়
এক সপ্তাহ পর, ঘর পরিষ্কার করার সময় তার মা মানচিত্রটি বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দেন
এরপর নয় মাস ধরে ভার্ণ সেই পয়সা গুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিল
নয়টা মাস !!!!
সে হাসবে নাকি কাঁদবে বুঝতে পারছিল না
ঈশ্বরের দিব্যি, বিলি, আমাদের কিছু করা উচিত
কেন ? কে জানবে ?
- আমরা তাকে দেখেছি -তো ?
এখানে আমাদের কিছু করার নেই, বাচ্চাটা এখন মৃত সুতরাং তারও করার কিছু নেই
যদি কেও তাকে খুজেও পায়, কি হবে ? আমার মাথা ব্যাথা নেই
কিন্তু ঐ বাচ্চাটাকে নিয়ে রেডিওতে অনেক আলোচনা হচ্ছে
ব্রোকার নাকি ব্রাওয়ার নাকি ফ্লাওয়ার যাই তার নাম হোক
ট্রেনই তাকে ধাক্কা দিয়ে থাকবে
তো আমার কি
রে ব্রাওয়ারের ঘটনাটা আমাদের সবার নজরে এসেছিল
কারন সে আমাদের বয়সী ছিল
তিন দিন আগে, সে ব্লুবেরি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল এবং তখন থেকে কেও তাকে দেখেনি
আমার মনে হয় আমাদের পুলিশকে জানানো উচিত
কেউ গাড়ি চুরি করার পর পুলিশের কাছে গিয়ে বকবক করেনা, বুঝলি হাঁদারাম
তারা জানতে চাইবে আমরা কি কারনে ব্ল্যাক হারলো রাস্তায় গিয়েছিলাম
যখন তারা জানে যে আমাদের কাছে কোন গাড়ি নেই
আপাতত আমাদের মুখ বন্ধ রাখাটাই উত্তম হবে এবং তারা আমাদের টিকি টাও ছুঁতে পারবেনা
শোন, আমরা পরিচয় গোপন করে ফোন করতে পারি
তারা এসব কলের খোঁজ বের করতে পারে, বলদ ! আমি এটা ড্রেগনেটের হাইওয়ে অভিযানে দেখেছি
হুম, ঠিক
ইশ, আমরা যদি "ডজ" গাড়িটা চুরি না করতাম
যদি এইস আমাদের সাথে থাকত আমরা পুলিশকে বলতে পারতাম যে আমরা তার গাড়িতে ছিলাম
আচ্ছা, সে তো ছিল না !
-আমরা কি তাকে জানাব ? -আমরা কাউকে জানাব না
কাউকেই না, বুঝছিস কি বলছি ?
আমি ব্ল্যাক হারলো রাস্তাটা চিনি
সেটা রয়্যাল নদীতে গিয়ে শেষ হয়েছে ঐখানেই রেল লাইনটা আছে
আমি আর আমার বাবা সেখানেই কোজিদের জন্য মাছ ধরতাম
হায় ঈশ্বর, যদি তারা জানতো যে......
......তুই সেখানে ছিলি, ওরা তোকে মেরেই ফেলত
সে কি আসলেই চ্যাম্বারলিন থেকে হারলো পর্যন্ত এতদূর গিয়েছিল ? অনেকটা পথ কিন্তু
হতেই পারে, সে হয়তো রেল লাইন ধরে হাঁটা শুরু করেছিল
এবং সেটা অনুসরন করেই এতো দূর গিয়েছে
হ্যা, ঠিক বলেছিস
আর যখন অন্ধকার নেমে এলো, সম্ভবত একটা ট্রেন তার পেছনে এসেই...... ধাম !!!!!
ঠিক
যদি আমরা তাকে খুঁজে পাই বাজি ধরে বলতে পারি যে পত্রিকায় আমাদের ছবি ছাপা হবে
-ঠিক, আমাদের টি ভি তেও দেখাতে পারে -অবশ্যই
-আমরা নায়ক হয়ে যাব -ঠিক
কি জানি, বিলি হয়তো আমায় ধরে ফেলবে
সে কিছুই করবেনা কারন আমরাই কেবল খুঁজতে যাচ্ছি
গাড়ি চোর বিলি আর চার্লি হোগান নয়
তারা তোকে মেডেলও দিতে পারে, ভার্ণ
হুম, তোর তাই মনে হয় ?
অবশ্যই
আমরা বাসায় কি বলব ?
যা তুই মাত্র বললি
আমরা বাসায় বলবো যে তোদের বাড়ির পেছনের উঠোনে আমরা তাঁবু খাটিয়ে পিকনিক করব
তুই তোর বাসায় বলবি যে রাতে টেডির বাসায় ঘুমাবি
আরও বলবো পরের দিন আমরা গাড়ির রেস দেখতে যাব
আমরা পরের দিনের রাতের খাবারের আগ পর্যন্ত সময় পাব
দোস্ত, জব্বর একটা বুদ্ধি এঁটেছিস
কিন্তু আসলেই যদি আমরা ছেলেটার মৃত দেহ হারলোর দক্ষিণে পাই
তাহলে সবাই জেনে যাবে আমরা গাড়ির রেস দেখতে যাইনি আমাদের বন্দী করে রাখবে
কেউ কিছু বলবে না
কারন সবাই তখন আমাদের আবিষ্কার নিয়ে মাতামাতি করবে
-তখন আর কোন সমস্যা থাকবে না -ঠিক
আমার বাবা তাও হয়তো আমাকে বন্দী করে রাখবে কিন্তু তাতেও আমি রাজি আছি
-একদম ঠিক -চল যাই, কি বলিস তোরা ?
-আমি রাজি -গোর্ডি ?
ঠিক আছে
ভার্ণ ?
আমি জানি না
ভার্ণ
রাজি হয়ে যা, ভার্ণ
ভার্ণ
-রাজি হয়ে যা, ভার্ণ -রাজি হয়ে যা, ভার্ণ
-ঠিক আছে - ঠিক আছে
জোস,জোস ! সেই হবে !! সেই !!!!!
আমি আমার বন্ধুদের আনন্দে যোগ দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমি পারিনি
সেই গ্রীষ্মে, আমি নিজের বাসায় অদৃশ্য ছিলাম
মা, আমার ক্যান্টিন টা কোথায় জানো ?
মা ?
ওটা ডেনির ঘরে
এপ্রিলে আমার বড় ভাই ডেনিস গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়
চার মাস কেটে গেলেও,
তখনো আমার বাবা-মা সেই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি
গোর্ডি, তোর জন্য একটা জিনিস এনেছি
এটা তোর জন্য
-কিন্তু, ডেনি, এটা তোর ইয়াঙ্কি ক্যাপ -না, এটা এখন তোর ইয়াঙ্কি ক্যাপ
এই ক্যাপ সৌভাগ্যের প্রতীক, এই ক্যাপটা পরলে কত মাছ ধরা যায় জানিস ?
-কত ? -হাজার
হাজারটা মাছ, আর এটায় তোকে ভালো মানিয়েছে ঠিক এমন
আরে আমি তো অন্ধ হয়ে গেলাম
আবার শুরু করিস না কানা বাবা বুকে আয় শুধু
পেয়েছ তাহলে
তুমি খুঁজে পেয়েছ
হ্যা
তুমি ডেনিসের বন্ধুদের মতো কাউকে খুঁজে পাও না কেন ?
বাবা, তারা ঠিকই আছে
অবশ্যই, একজন চোর আর দুইজন গাধা
ক্রিস চোর না
সে স্কুলের দুধ বিক্রির টাকা চুরি করেছে
আমার দৃষ্টিতে সে চোর
রে ব্রাওয়ার নামক ছেলেটির মৃত দেহ খোঁজার অভিযানে বের হতে আমাদের দুপুর গড়িয়ে গেল
এখানেই থামান
হাই, ক্রিস
-ধন্যবাদ -তেমন কিছু না
-গোর্ডো -কি অবস্থা
-একটা জিনিস দেখবি ? -কি দেখাবি ?
-তুই ঠিক আছিস তো ? -হ্যা, আমি ঠিক আছি
-আয় আমার সাথে -কি দেখাবি ?
-দোস্ত, এটা তোকে দেখতেই হবে -আরে বল না, কি দেখাবি ?
বল, কি দেখাবি ?
তুই "সিসকো কিড" এর মতো বন্দুকবাজ হতে চাস ?
ঈশ্বরের দিব্যি !
-এটা কোথায় পেলি ? -বাবার আলমারি থেকে মেরে দিয়েছি
এটা কোল্ট.৪৫
আমি জানি
-তোর কাছে গুলি আছে এটার ? -হ্যা
বাক্সের থেকে সবগুলো নিয়ে এসেছি
বাবা মনে করবেন হয়তো মাতাল থাকা অবস্থায় বিয়ার ক্যানে সই করার সময় এটা হারিয়েছেন
-এটায় গুলি ভরা ? -মাথা খারাপ! আমাকে কি ভাবিস ?
-ঈশ্বর! -ঈশ্বর!
চল পালাই! তাড়াতাড়ি আয়!
গোর্ডি পেরেছে ! গোর্ডি ল্যাচান্স ক্যাসেল রকে গোলাগুলি করেছে !
চুপ থাক !
এই, কে শব্দ করল ? কে এখানে পটকা ফুটিয়েছে ?
আরে ভাই, তুই যদি নিজের মুখটা দেখতি একবার সত্যি অনেক মজা হয়েছে
-আসলেই ব্যাপারটা জোস ছিল -তুই জানতি এটায় গুলি ভরা, শালা মিথ্যুক!
আমি বিপদে পড়তে পারি এখন ঐ মহিলা আমাকে দেখেছে
জী না, গোর্ডি সে এটাকে পটকার আওয়াজ ভেবেছে
আমি পরোয়া করিনা সেটা, খুব বাজে একটা ধোঁকা ছিল এটা, ক্রিস
এই, গোর্ডি...
আমি জানতাম না এটায় গুলি ভরা ছিল
No comments yet. Be the first to leave one.