最初の200行です。
অনুবাদ অংশগ্রহণেঃ ♦️ মাহফুজ আহমেদ তুহিন ♦️ মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ♦️ রোমান তালুকদার ♦️ অমিতাভ বর্মন ♦️ ইসমাইল হোসেন ♦️
অনুবাদ অংশগ্রহণেঃ ♦️ জয়ানন্দ ঘোষ ♦️জিতু বিশ্বাস ♦️ অলোক বিশ্বাস ♦️ প্রান্ত ঘোষ ♦️ শিহাব সানজার♦️
সম্পাদনায়: ⌛ জয়ানন্দ ঘোষ ⏳ ⏳ ইমরুল হাসান নাসিম ⏳
আয়…
আরে আয়!
সাবধানে পা ফেল, নাহয় পাথরে আঘাত পাবি!
আমার পিছনে পিছনে আয়।
বাবা!
বাবা!
আমি আর পানিতে হাঁটতে পারব না।
বোমা গুলো ভিজে যাবে!
বোমা কেন এনেছিস? তোকে বারণ করেছিলাম।
রেখেই তো এসেছিলাম।
কিন্তু মামার সাথে যখন কথা বলছিলে, মা তখন এগুলো নিয়ে আসতে বললো।
তোর মা!
সম্ভবত সে ভেবেছিল তার মাতাল স্বামী তার সন্তানের খেয়াল রাখতে পারবে না।
তাই সে খাবারের সাথে বস্তা ভরে বোমা পাঠিয়েছে।
তুই জানিস, তোর মা...এটা ধর।
কিন্তু মা কী করেছে?
তুমি সবসময় মা'কে বকো।
বাবা! জায়গাটা প্রচুর কর্দমাক্ত।
আমরা কিনারা দিয়ে হাঁটছি না কেন? তাহলে ভালোমতো হাঁটতে পারতাম।
হ্যা, অবশ্যই ভালো হবে! যারা আমাদের ধাওয়া করছে তাদের জন্য উপকার হবে।
চুপচাপ হাঁটতে থাক।
চুপ!
বাবা! পুলিশ! - থাম, থাম!
ঘুরে দাঁড়া! আমার পিছনে আয়!
চলো,চলো।
এই! গাড়ি থামা।
অই, টর্চ লাইট টা দে তো।
ধরুন, স্যার।
রাতের বেলা জঙ্গলে একা একটা ছাগল কী করছে?
আশেপাশে কেউ আছে নাকি?
গ্রামে হত্যাকান্ড ঘটিয়ে এক রাঘব বোয়ালকে খুন করা হয়েছে।
বাচ্চা থেকে শুরু করে সবাই হাসপাতালে জড়ো হয়েছে।
পথ হারানো মেষশাবক নিয়ে চিন্তা করছেন কেন?
কিন্তু কেউ এটা খুঁজতে আসবে না সে ব্যাপারে নিশ্চিত হবো কীভাবে?
মেষশাবক হারিয়েছে, এটা বুঝতেই তাদের দু'দিন লেগে যাবে!
নিয়ে আয়।
স্যার?
যা, নিয়ে আয়!
ছোট এবং দেখতে স্বাস্থ্যবান। খেতে নিশ্চয় সুস্বাদু হবে,নিয়ে আয়!
ধর, ধর!
দুনিয়ার সকল অপরাধে তাদের হাত আছে!
আবার তারাই নিজেদের আইনের রক্ষাকর্তা দাবি করে!
সকালে তাকে ছেড়ে দিয়ে ভুল করেছি।
যখন সে আমার ছেলেকে মেরেছিল, তখনই যদি তাদের জবাই করতাম তাহলে আজ এইদিন দেখতে হতোনা।
চুপ থাকো!
তোমার এই রাগ আবার বিপদ ডেকে আনতে পারে।
কেমন পুলিশের ট্রেনিং নিয়েছিস রে তুই? ছোট্ট একটা ভেড়াকে ধরতে পারিস না!
তুই নিজেকে অকর্মণ্য প্রমাণ করলি।
ভেড়া ধরার জন্য আমি ট্রেনিং নেইনি, স্যার।
চুপ কর! আমার বউয়ের মতো কথা বলিস না!
গাড়ি চালু কর।
স্যার... মালিক আর বেঁচে নেই...
অন্তত দশজন লোক ছাড়া তিনি বাইরে যেতেন না।
সাথে বন্দুকও রাখতেন।
তোরা থাকতে এমনটা কীভাবে ঘটলো?
আমরা কখনো ভাবিনি এমনটা ঘটবে!
থাম! তোরা তাঁকে বাঁচাতে পারিস নাই। এখন শুধু শুধু অজুহাত খুঁজে কী লাভ?
যখন কারেন্ট চলে যায়..
মালিককে ছুরি মেরে সে চোখের পলকে পালিয়ে যায়।
আমি তখন সেখানেই ছিলাম। চোখের সামনে ঘটেছে, স্যার!
শুনেছি বড় নেকড়ে ছোট নেকড়েকে নিয়ে নাকি জঙ্গলের দিকে গেছে।
তাদেরকে হত্যা করার জন্য তোকে ফোন করেছিলাম।
তুই তাদের মাংস নাকি জীবিত চাস? - অবশ্যই জীবিত চাই!
মালিক!
তাদেরকে ভালোমতো জঙ্গলে খুঁজেন।
আমার ছেলে গাম্পি এখন জঙ্গলে আছে।
কাল সকালের মধ্যে, ছোট নেকড়ে নিশ্চিত তোর সামনে থাকবে।
নমস্কার, স্যার।
অই, চিন্তা করিস না।
তারা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক...
আমি খুঁজে বের করে মামলা দিয়ে ওদেরকে হাজতে ঢুকাবো।
প্রয়োজন নেই,ইন্সপেক্টর।
আমরা মামলা করতে চাইনা।
তোমার বাবার মৃত্যুতে শোকের পরিবর্তে, তাদেরকে হত্যা করার জন্য বেশি রেগে আছো!
তুমি চাও বা না চাও, মামলা আমরা করবোই।
জনসম্মুখে খুনের ঘটনা ঘটেছে।
আপনি এই ব্যাপারে নাক না গলালেই ভালো হবে।
আপনার মতো আমরাও লোকজন ব্যাবহার করে কাজ সারতে পারি।
আমরা বাকিটা সামলে নিবো।
বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আগেই... - মালিক!
অপদার্থ! উনাকে যখন বাঁচানো দরকার ছিলো তখন বাঁচাতে পারলি না আর এখন চিল্লাচ্ছিস?
ওকে মেরে ফেল!
এই! তুই মর শালা!
বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই...
ওই পরিবারের সবাইকে এক এক করে হত্যা করবো।
খুন করে জেলে যেতে চাস?
তুই এতো চিন্তা করছিস কেন?
তুই চুপচাপ থাক, যা করার আমি করছি।
দাপ্তরিকভাবে সামলানো আর ঝামেলা সৃষ্টি করে বদলা নেওয়ার মাঝে তফাত আছে।
আচ্ছা, এখন যান।
ওখানে বস।
মুথান্না!
এই, মুথান্না!
এই, বাসাভায়া? কী হয়েছে?
ব্যাপারটা খুন পর্যন্ত গড়াবে কেউ কখনো ভাবতে পারেনি।
গত দু'বছর যাবত আমাদের পরিবার কত কষ্ট ভোগ করেছে,জানো না মুথান্না?
আমার ছেলে ওর মাথা কেটে এনে দিলে আমি আরো খুশি হতাম।
তা ঠিক আছে! কিন্তু তারা এখন কোথায়?
বাপ ছেলে জঙ্গলের দিকে গেছে, তাই আমরা এখানে এসেছি।
বাড়ি আর খামারের কী হবে? - সবকিছু ফেলে এসেছি।
প্লিজ ভেতরে চলো, কেউ শুনে ফেললে ঝামেলা হবে।
আসো,ভেতরে এসো।
যাও,ভেতরে যাও।
মুথান্না, আমি কিছু গয়না নিয়ে এসেছি।
এগুলো বন্ধক রাখো। দুলাভাই ১১৭ নম্বর সড়কে আসবে দেখা করতে।
তাকে কিছু টাকা ধার দিতে পারবে? - এভাবে কেন বলছো, বাসাভায়া?
আমি কি অপরিচিত কেউ?
তুমি আমার সাথে অপরিচিতের মতো কথা বলছো।
আমি সামলে নিবো।
পানি খাবে? - হুম।
এই নাও, ধরো।
আমি যাচ্ছি তাহলে। - আচ্ছা।
মামা, যেয়ো না প্লিজ। আমাদের সাথেই থাকো।
বুজ্জি, যদি এখন যাই তাহলে তোমার বাবা আর ভাইকে ফিরিয়ে আনতে পারবো।
তারপর সবাই একসাথে বাড়ি যাবো, ঠিক আছে?
মায়ের সাথেই থেকো, মামা তাড়াতাড়ি ফিরে আসবে।
তুমি যাও ভাই, আমি ওকে সামলে নিবো।
ভাই, এই ট্রাক কোথায় যাবে?
আপনি কোথায় যেতে চান?
আমি শহরে যেতে চাই, ভাই।
তিরুপতি? - হুম, ভাই।
আচ্ছা, সামনের সিট খালি আছে। যান, তাড়াতাড়ি গিয়ে বসে পড়ুন।
আচ্ছা, ভাই।
ক্ষুধা লেগেছে? - হ্যা, বাবা।
ধর, তোর মা ভাত রেঁধে দিয়েছে। - আচ্ছা, বাবা।
সেই সকালে, সিনাব্বা আর তার বাবা নারাপ্পা...
তার মা সুন্দরাম্মা এবং মামা বাসাভায়া... সবাই যার যার মতো বিভিন্ন দিকে ছুটছিল।
পান্ডুস্বামীর পরিবারের সদস্যরা সিনাব্বার পরিবারকে মারার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল।
সিনাব্বার পরিবারের সম্মুখীন হওয়া এই সমস্যা নতুন কিছু নয়।
এই সমস্যা সামান্য জমি নিয়ে জমির মালিক এবং জমিদারের মধ্যে নৈমিত্তিক ঘটনা।
কেননা গরিবের কোনো জাতপাত নেই।
আর ধনীর মনুষ্যত্ব বলতে কিছু নেই।
সিনাপ্পা রামসাগরে থাকতো, সিরিপি'র পাশের গ্রামে।
সিরিপি'র পান্ডুস্বামী রামসাগরের জমি প্রথম কব্জা করতে শুরু করে।
ডোরাস্বামী হলো পান্ডুস্বামীর ভাই।
রেঙ্গুনফেরত কিছু লোক যারা বেঙ্গালুরুতে অনেক টাকা কামিয়েছিল তাদের সাথে মিলে...
সে গ্রামে সিমেন্ট কারখানা খোলার পরিকল্পনা করেছিল।
জানি না এই প্রথা কবে থেকে শুরু হয়েছে, কিন্তু প্রতিবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
যখন ধনীদের জমির প্রয়োজন হয়, গরিবের জমির দিকেই তাদের দৃষ্টি যায়।
৬৫০ একর যথেষ্ট নয়?
সেই তিন একর তোর কেন প্রয়োজন?
এত বড় পরিকল্পনার অংশে ছোট্ট জমি ছাড় দিবো কেন?
কারখানার সম্মুখভাগ নির্মাণের জন্য আমাদের সেই তিন একর দরকার।
সেই তিন একর জমিই আমাদের সম্বল। এই জমির জন্যই আমরা সম্মান পাই।
তুই কীভাবে তাদের সেই জমি দিবি?
গ্রামে সিনেমা হল, কয়লা কল,চালের কল এবং কাপড়ের দোকান থাকা স্বত্ত্বেও...
সিমেন্ট কারখানা নির্মাণের জন্য নারাপ্পার সেই তিন একর জমির জন্য তারা উঠেপড়ে লেগেছিল।
নারাপ্পার বড় ছেলে মুনিকান্না এই জমি ছাড়তে নারাজ ছিলো।
এই, মুনিকান্না! কেউ বলেছিলো সে নাকি কখনো বিয়ে করবে না, কিন্তু এখন হেসে হেসে সাইকেল চালাচ্ছে!
বাবা, সে বলেছিলো কখনো বিয়ে করবে না। কখনোই মেয়ে দেখতে যাবে না বলেনি!
শালাবাবু, শুনেছো?
এই, চুপ থাকো তো! অনেক বলেকয়ে ওকে রাজি করিয়েছি।
ওকে এখন রাগালে ও আবার বাড়ি ফিরে যেতে পারে।
ঠিকই বলেছো। দেখো, কত দ্রুত সাইকেল চালাচ্ছে!
সে রেগে গেছে!
মনে হয় সে আমাদের আগেই মেয়ে দেখে বিয়ে পাকা করে ফেলবে।
নারাপ্পার পরিবারে মেয়ে দিয়ে একদম নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন।
যেহেতু আমরা তার সম্পর্কে বেশিকিছু জানি না...
মুনিকান্না কিছুটা বদমেজাজী।
তাকে শান্ত রাখা আপনার মেয়ের দায়িত্ব। আমার কিছু লুকানো উচিত নয়, তাইনা?
ওগো, আজ সবাইকে অনেক সুন্দর লাগছে।
চলো রামা স্টুডিওতে গিয়ে সবাই একসঙ্গে ছবি তুলি।
মুনিকান্নাকে এই পোশাকে অনেক সুন্দর লাগছে।
ছয় বয়সে আমরা ওর শিশুকালের ছবি তোলার পর ছয় মাস ও শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিল।
বিয়ের পর একসঙ্গে তুলো। কী হয়েছে, বাবা?
চাবি আনতে ভুলে গেছিস? - হুম!
যা, গিয়ে নিয়ে আয়। - এই, মুনিকান্না!
আমরাও যুবক বয়সে এমন অনেক চাবি ফেলে আসতাম।
অনেক চাবি এখনো ফেরত পাইনি।
আমার চাবি…
চাবির বাহানায় আমাকে আবার দেখতে এসেছো?
অতিরিক্ত ঘরের কী প্রয়োজন, বাবা?
কিছু টাকা সাশ্রয় হয়েছে। চলো আমরা পাখা কিনি।
তোর জন্মের পর থেকে, তোর বাবা আর মামা উত্তপ্ত গরমেও পাখার কথা ভাবেনি।
কিন্তু এখন ঘরে বউ আসছে বলে তুই পাখা কিনতে চাস?
মা! কে আসবে না আসবে তাতে কী? আমার জন্য, আমার মা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এই, মুনিকান্না, এভাবে বলিস না।
মা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়।
কিন্তু তোর বউ সবকিছু ফেলে তোর কাছে চলে আসছে।
তোর আচরণে বোঝা যাবে, তুই তোর মাকে কতটা শ্রদ্ধা করিস।
এসব ভুলে সেখানে কুঁড়েঘর বানিয়ে...
বউ নিয়ে সুখে-শান্তিতে থাক।
ঠিক আছে?
এসব কেন বলছো, বাবা? চলো সবাই একসঙ্গে থাকি।
না, মা!
নে, আরেকটু খা।
সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, বিয়ে করলেই আমার উপদেশ বুঝতে পারবি।
সুন্দরাম্মা! আমি ক্ষেতে যাচ্ছি?
আচ্ছা।
বুজ্জি, ঘুমোতে যাও।
এই, মুনিকান্না! - কী হয়েছে, বাবা?
কাপড় ধোয়ার সময় তোর মা পকেটে দুটো বিড়ি পেয়েছে।
এমনকি মদও কম ক্ষতিকারক...
যতোটা না বিড়ি ক্ষতিকারক, মুনিকান্না!
এই! কে ওখানে?
এই, মালাপ্পা! তোর বাবা আসেনি?
উনি অসুস্থ, বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছেন।
No comments yet. Be the first to leave one.