200 baris pertama.
মায়ামি ফ্লোরিডা। বিকেল ৩টা বেজে ২০ মিনিট, ২৪শে এপ্রিল, ঊনিশশো চৌত্রিশ (১৯৩৪) সাল।
মামলার রায় আসতে চলেছে।
মামলার রায় ঘোষিত না হওয়ার কোন আইনগত কারণ আছে কি?
- না, ধর্মাবতার। - হ্যাঁ। আমার কিছু বলার আছে।
আপনি আমাকে থামিয়ে দিতে পারেন, কিন্তু এরপর আপনার ও সারা দেশের সঙ্গে
যা ঘটতে চলেছে সেটা আপনি থামাতে পারবেন না।
- পরের বার আমরা — - আমি আর কিছু বলব না।
বাকিটা আপিলের জন্য রেখে দেবো।
এই আদালতের রায় হচ্ছে বিবাদী, জন হুবারম্যান,
মায়ামির দক্ষিণ স্থিত ডিসট্রিক্ট ফ্লোরিডার এই আদালতের জুরিগণ কর্তৃক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে,
ও তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেলের হেফাজতে
একটি সংশোধনাগারে ২০ বছর জন্য সশ্রম কারাবাসের
নির্দেশ দেওয়া হল।
বিবাদীকে অবিলম্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মার্শালের হেফাজতে হাজতে পাঠানো হোক।
- আদালত এখন মুলতবি হল। - ওই যে উনি আসছেন।
- এক মিনিট, মিস হুবারম্যান। - একটু থামুন, মিস হুবারম্যান।
একটু এদিকে তাকাবেন, প্লিজ?
আপনার বাবার বিষয়ে আপনার কাছ থেকে একটা বিবৃতি চাই, মিস হুবারম্যান।
যেমন ধরুন, আপনি কি মনে করেন যে আপনার বাবা যা প্রাপ্য তাই পেয়েছেন?
বলা যায় কি যে আপনার বাবা জার্মান কর্মচারী হওয়ার দণ্ড পেতে চলেছেন বলে আপনি খুশী?
ও শহর ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমাদের জানাবেন।
আপনি কি নাস্তার জন্য একটু বিরতি দিতে চান, মিঃ হপ... কিন্স?
অ্যালিসিয়া, তোমাকে সত্যিই পুলিশ অনুসরণ করছিল? দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ তো!
- কালই ওদের সঙ্গে এটা নিয়ে আলোচনা করব। - না, যা হয়েছে যথেষ্ট হয়েছে। তোমার জন্যও।
ছেলেমানুষি করবেন না। আসল মদ্যপান তো এখনও শুরুই হয়নি।
এখানে উপস্থিত সকলের দেয়ালে একটা করে স্টাফ করা মাছ ঝুলছে।
তারা এটা কোথায় পায়? মাছ তো কখনো দেখিনি।
এই যে হ্যান্ডসাম, তুমি নেবে নাকি?
তোমাকে আগে কোথায় যেন দেখেছি?
আরে কোন ব্যাপার না। নিমন্ত্রণ ছাড়াই যারা পার্টিতে আসে তাদের আমি পছন্দ করি।
ও সেরকম নয়। আমি ওকে নিয়ে এসেছি।
- মিস্টার হপকিন্স, একটু থামবেন? - পুলিশ অনুসরণ করলে আমি মাইন্ড করব না।
পুলিশের মত নিকৃষ্ট অসৎ কাজে লিপ্ত লোকেদের আমার পিছনে লাগাকে আমি ঘেন্না করি।
অবশ্যই, আমি একজন চিহ্নিত মহিলা, বুঝলে তো।
আমার যেকোনো মুহূর্তে পানামা খাল উড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা আছে।
- একটু বরফ লাগবে? - না, ধন্যবাদ।
তোমার মতো সুন্দরী একজন মেয়ের পুলিশকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া ঠিক মানায় না।
- কাল থেকে আর তা হবে না। - সত্যি?
- কাল ১০ টায় জাহাজ ছাড়ছে। - সত্যি? জাহাজে চেপে দূরে চলে যাবো?
আমাকে একটা মাছ দেখাও, আর আমি তোমাকে একজন মিথ্যাবাদী দেখাব।
- এই পার্টিতে এবার গ্ল্যান্ডের চিকিৎসা দরকার। - কোন মাছ নেই।
অ্যালিসিয়া, এবার বন্ধ করা দরকার। আমাকে সকাল ন'টায় জাহাজে উঠতে হবে।
হাভানায় এক সপ্তাহ, আর তার মধ্যেই তোমার বাবা'র সম্পর্কে এই পুরো জিনিসটা মিটে যাবে।
- আপনি কি আমাকে ভালোবাসেন, কমোডর? - তুমি একজন খুব সুন্দরী মহিলা।
কথাটা উপলব্ধি করতে আমি আর একটা ড্রিঙ্ক নেব।
- আপনি কোথায় চললেন? - মাছ ধরতে।
- এই রাতে? আপনি একটা পাগল। - তুমি কী করবে? আরো ড্রিঙ্ক করবে?
পার্থক্যটা কি? দিন বা রাত কখনই মাছ নেই।
জানো কি? তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে।
ঠিক আছে, অ্যালিসিয়া, তোমার সঙ্গে ৯টায় জাহাজে দেখা হচ্ছে।
আমি-আমাকে এটা নিয়ে ভাবতে হবে।
আরে, তোমাকে প্যাক করতে হবে না। আমরা হাভানায় কিছু জিনিস কিনে নেব।
মনে হয় ওনাকে নেশা কমাতে আমাকে এখানেই ছেড়ে যেতে হবে।
আমি খুবই দুঃখিত সবাইকে যেতে হবে। পার্টিটা পুরোপুরি জঘন্য হয়েছে।
- শুভ রাত্রি। - শুভ রাত্রি।
- শুভ রাত্রি, ডিয়ার। - শুভ রাত্রি।
দুজনের জন্য আরও একটা করে ড্রিঙ্ক বাকি আছে।
- বরফ না থাকায় লজ্জিত। - কি হয়েছে?
- খতম। - কে খতম?
বরফ।
ওই গানটা কেন পছন্দ করেন?
কারণ এটা প্রচণ্ড অর্থহীন।
আনন্দিত হতে একটা প্রেমের গানের মত আর কিছু হয় না।
সেটা ঠিক।
ভিতরটা খুব গুমোট, তাই না?
হতে পারে।
কেমন হয়...
যদি আমরা একটা পিকনিক করি?
বাইরে?
পিকনিকের জন্য এখানটা খুবই গুমোট।
- ওটা শেষ করতে চাও? - ছেড়ে দেওয়াটা লজ্জার।
তুমি দারুণ একজন মানুষ।
- আমার গাড়িটা বাইরে রয়েছে। - সেটাই স্বাভাবিক।
- বেড়াতে যেতে চাও? - খুব।
আপনার অতিথিদের কি হবে?
ওরা সময়মত নিজে নিজেই চলে যাবে।
আমি-আমি ড্রাইভ করব।
সেটা-সেটা তো জানাই কথা।
আপনার কোট লাগবে না?
তার ব্যবস্থা তুমি করবে।
এক মিনিট অপেক্ষা করুন। আপনাকে এটা পরিয়ে দিই। ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে।
অনুবাদ ও সম্পাদনা শান্তনু মুখার্জী
- কেমন চালাচ্ছি? - মন্দ না।
- ভয় পাচ্ছ? - না।
তুমি কোন কিছুতেই ভয় পাও না, পাও কি?
খুব বেশি নয়।
এই কুয়াশাটা বিরক্তিকর।
চোখের সামনে ওটা আপনার চুল।
স্পিডোমিটার কি বলে?
পঁয়ষট্টি।
এটাকে আশিতে তুলে তোমার মুখের ওই মুচকি হাসিটা মুছে দিতে চাই।
যারা আমাকে দেখে হাসে সেরকম ভদ্রলোকদের আমি পছন্দ করি না।
- একজন পুলিশ। - কি?
একজন পুলিশ আমাদের তাড়া করছে। দেখুন।
ওদের আমার অসহ্য লাগে।
উনি আপনার সঙ্গে কথা বলতে চান।
মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো।
আমার দ্বিতীয় অপরাধ। এবার আমি জেলে যাব।
পুরো পরিবার জেলে। কার বয়ে যাচ্ছে?
বেশ মজার সময় কাটাচ্ছেন, তাই না?
আপনার মত মানুষের বিছানায় থাকা উচিত।
- নেশাগ্রস্ত? - এক মিনিট, অফিসার।
কোন তর্ক নয়, মশাই। আপনার কাছে কোন অজুহাত নেই।
দুঃখিত, কিন্তু আপনি তো কিছু বলেননি।
- না ঠিক আছে। - নিশ্চিত যে এটা সামলাতে পারবেন?
- কোন সমস্যা নেই। - আচ্ছা, আপনি নিশ্চয় জানেন।
টিকিটটা কোথায়?
উনি আমাকে কোন টিকিট দেননি।
কি... তোমার নামটা কি?
ডেভলিন।
আচ্ছা, তুমি ওই পুলিশকে কিছু দেখালে, আর ও তোমাকে স্যালুট করলো।
- তাই কি? - আমি ওকে দেখেছি।
কেন, ব্যাটা দু মুখো সাপ! তুমি একটা পুলিশ!
- ঠিক আছে, পরে তর্ক করা যাবে। - তুমি...
- আমার গাড়ি থেকে নেমে যাও! বের হও! - আমি আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দেবো।
তুমি আমাকে মোটেও বাড়ি নিয়ে যাচ্ছ না!
- ওহ, আমি — - এদিকে চলে আসুন।
কথা শুনুন।
আমার গাড়ি থেকে বেরিয়ে যাও, ফেডারেল পুলিশ, আমার পার্টিতে বিনা নিমন্ত্রণে এসেছ,
ঠিক চশমা পরা ওই লোকটার মত!
আমাকে একা থাকতে দাও! আমাকে অনুসরণ করছ নিশ্চয় ঘাড়ে কোন দোষ চাপাতে।
নেমে... যাও!
একটু শান্ত হবেন?
বেশ। এবার, এদিকে চলে আসুন।
থামো- আমি তোমাকে...
তুমি বরং ওটা খেয়ে নাও।
ঠিক আছে।
নাও, ওটা খেয়ে নাও।
শেষ করে ফেলো।
আগের থেকে ভাল?
কেমন আছি তাতে তোমার কী?
তুমি...
পুলিশ একটা।
এই সব কেন?
- তোমার মতলবটা কি? - মতলব?
- গত রাতের ব্যাপারে। - শুধু বন্ধু হতে চেয়েছিলাম।
বন্ধুত্ব, হ্যাঁ। যাতে আমাকে ফাঁসাতে পারো?
- না, তোমার জন্য একটা কাজ আছে। - তাই? বাজে কথা বোলো না।
শুধু একটাই...
শুধু একটাই কাজ আছে যার জন্য তোমরা পুলিশেরা আমাকে চাইবে।
আচ্ছা, সেসব ভুলে যেতে পারো, মিঃ
- ডেভলিন। - কি?
ডেভলিন।
আমি পুলিশের গুপ্তচর নই, মিঃ ডেভলিন।
আমার বিভাগ আমাকে একটা কাজে তোমাকে নিযুক্ত করার অনুমতি দিয়েছে। কাজটা ব্রাজিলে।
চলে যাও। পুরো ব্যাপারটায় আমার বিরক্ত লাগছে।
কিছু জার্মান ভদ্রলোক যারা তোমার বাবাকে বেতন দিত তারা রিওতে কাজ করছে।
কখনও আইজি ফারবেন ইন্ডাস্ট্রিজের কথা শুনেছ?
বলছি তো, আমি আগ্রহী নই।
ফারবেন কোম্পানি দক্ষিণ আমেরিকায় যুদ্ধের আগে থেকেই নিজেদের লোক নিয়োগ করেছে।
তাদের খুঁজে বের করতে আমরা ব্রাজিল সরকারের সাথে সহযোগিতা করছি।
- আমার চিফ মনে করেন যে একজন- - দেশদ্রোহীর মেয়ে?
উনি মনে করেন যে এই কাজে তুমি মূল্যবান হতে পারো। তারা তোমাকে বিশ্বাস করতে পারে।
আর তুমি নিজের বাবার দোষের কিছুটা খণ্ডন করতে পারবে।
- কেন করতে যাবো? - দেশপ্রেম।
ওই শব্দটা আমাকে কষ্ট দেয়।
না, ধন্যবাদ। আমি দেশপ্রেম দেখাতে বা — বা দেশপ্রেমিক হতে চাই না।
তোমার সাথে এই নিয়ে বিতর্ক করতে চাই।
এক হাতে পতাকা নাড়া আর অন্য হাতে পকেট মারা।
এটাই তোমার দেশপ্রেম। খুব ভালো, সেটা নিয়েই থাকো।
আমরা তোমার বাংলোতে তিন মাস ধরে আড়ি পেতেছি।
"জন হুবারম্যান এবং কন্যা অ্যালিসিয়ার মধ্যে,
মায়ামি বিচ ফ্লোরিডায় ৯ই জানুয়ারী, ১৯৪৬, সন্ধ্যা সাড়ে ছটার কথোপকথন।"
কিছু প্রমাণ যা বিচারে ব্যবহার করা হয়নি।
- আমি ওটা শুনতে চাই না। - শান্ত হও, ভাবলেশহীন মহিলা, আর শোনো।
আমাদের জন্য, আমাদের উভয়ের জন্য, এতে প্রচুর টাকাপয়সা রয়েছে, অ্যালিসিয়া।
আমি তোমাকে বড়দিনের আগেই বলেছিলাম যে আমি এটা করব না।
নিজেই ফয়সালা নিও না। যা চাও সবকিছু পেতে পারবে।
- কাজটা বেশ সহজ। - আমি শুনব না, বাবা।
এটা তোমার দেশ নয়, তাই না?
আমার মায়ের জন্ম এখানেই। আমাদের আমেরিকার নাগরিকত্ব আছে।
তোমার বিচারবুদ্ধি কোথায় গেল? তোমার অনুভূতিতে, তুমি জার্মান।
তোমাকে আমার কথা শুনতে হবে। তোমার জানা নেই আমরা কোন ধারনায় বিশ্বাসী।
আমি জানি তুমি কিসে বিশ্বাসী! তুমি আর তোমার খুনির দল।
যখন থেকে জানতে পেরেছি তখন থেকেই তোমাকে ঘৃণা করি।
আমার মেয়ে হয়ে, আমার সঙ্গে এভাবে কথা বোলো না।
- নিজের মতামত নিয়ে থাকো! - অ্যালিসিয়া, গলা নামিয়ে কথা বল।
আমি তোমাদের সবাইকে ঘৃণা করি। আর আমি এই দেশটাকে ভালোবাসি।
বুঝতে পারলে সেটা?
আমি দেশটাকে ভালোবাসি।
এর বিরুদ্ধে কিছু করার আগে তোমাদের সবার ফাঁসির ব্যবস্থা করব।
এবার এখান থেকে চলে যাও,
অথবা আমাকে তোমায় ধরিয়ে দিতে সাহায্য করো।
আর কখনও আমার কাছে আসবে না বা আমাকে নিজের অসৎ পরিকল্পনার কথা বলবে না।
আসলে, এটা বিশেষ কিছু প্রমাণ করে না।
আমি বাবাকে ধরিয়ে দিইনি।
আমরা সেটা আশাও করিনি।
বেশ, তাহলে তুমি কি বলছ?
চলে যাও আর আমাকে একা থাকতে দাও।
আমার নিজের জীবন আছে।
ভাল সময়। এটাই আমি চাই। আর আমার পছন্দের লোকদের সাথে আনন্দ করতে।
কোন এমন অসৎ পুলিশ নয় যারা আমাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে চায়।
আমার নিজের মত মানুষ...
যারা আমার সাথে সঠিক আচরণ করবে আমাকে পছন্দ করবে আর আমাকে বুঝবে।
গুড মর্নিং, অ্যালিসিয়া।
- হ্যালো। - ভাবলাম সকালে তোমার সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে।
আমরা জোয়ার এলেই রওয়ানা হব, বুঝলে। তুমি কী তৈরী?
হ্যাঁ।
- বোলো না যে তুমি ভুলে গেছ, সোনা। - প্রায় তাই।
No comments yet. Be the first to leave one.