200 baris pertama.
সাবটাইটেল অনুবাদক মাসুম হোসেন কামরুল হাসান শিমুল
সম্পাদনা কামরুল হাসান শিমুল
এতগুলো টানেল সৈন্যরা কীভাবে খুঁড়ল?
এদিকে নজর দাও।
কিছু একটা পেয়েছি!
কী ওটা?
হানাকো...
মাটি খুঁড়তেই থাকি।
সারাদিন ধরে খুঁড়ি।
এই পরিখাতেই আমরা লড়াই করবো...
এখানেই মারা যাবো।
হানাকো...
নিজের কবরই খুঁড়ছি না তো?
আজ আমার জন্য অপেক্ষমাণ সৈন্যদের কাছে যাচ্ছি।
সর্বদা আমি দেশের সেবায় নিয়োজিত এবং জীবন দিতে প্রস্তুত থাকবো।
বাড়িতে নিশ্চয়ই সব ব্যবস্থা করে এসেছি...
কিন্তু আসার আগে রান্নাঘরে যেতে পারিনি বলে খারাপ লাগছে।
খুব ইচ্ছে করছিল...
কিন্তু কোনো উপায় ছিল না...
তাই খুবই খারাপ লাগছে।
তাই যথাসম্ভব তারোকে বলবে যত্ন নিতে।
দ্বীপের মায়রে বাপ! অ্যামেরিকানরা দখল করে নেবে।
একটা ঘাসও জন্মায় না।
দুর্গন্ধ, অতিরিক্ত গরম, ভয়ানক কীটপতঙ্গ, পানযোগ্য পানি পর্যন্ত নেই।
এই দ্বীপটা পবিত্র জাপানেরই একটা অংশ।
এই দ্বীপে পবিত্র বলে কিছু নেই।
সাইগো।
দ্বীপটা অ্যামেরিকানদের কাছে ছেড়ে দিলেই বাঁচতাম...
বাড়ি ফিরে যেতাম।
সাইগো!
কী বললে তুমি?
বলেছি, অ্যামেরিকানদের পরাজিত করে আমরা বাড়ি ফিরবো।
ও কি তা-ই বলেছে?
ইয়েস, স্যার।
আমি কুরিবায়াশি।
স্বাগতম জেনারেল, আমি অ্যাডমিরাল ওসুগি।
এখানে কতক্ষণ যাবত অপেক্ষা করছেন?
তিনঘণ্টা যাবত, স্যার।
দুঃখিত।
আমার আসার খবর প্রচার হোক সেটা তারা চায় না...
অ্যাডমিরাল ইয়ামামোতোর ঘটনার পর থেকেই।
বুঝেছি স্যার।
উনি আমার সহকারি লেফটেন্যান্ট ফুজিতা।
ব্যাপার কী অ্যাডমিরাল? আপনাকে স্বাভাবিক লাগছে না।
তেমন কিছু না, স্যার। সুপেয় পানির বড়ই অভাব।
চিন্তার বিষয়।
আপনার কোয়ার্টার এই পথে।
অ্যাডমিরাল, প্রথমে দ্বীপটি আমি ঘুরে দেখতে চাই।
একটা গাড়ি নিয়ে আসবো?
না, হেঁটেই চলুন।
হাঁটাহাঁটি স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো।
যা আপনার জন্য বেশিই দরকার, মি. ওসুগি।
তো, এটাই সেই সুরিবাচি।
বিশ্বাসঘাতক...
রাজাকার!
হেই, থামো!
দাঁড়াও!
কী করছো এসব?
এই সৈন্যরা...
দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক আলাপ করছিল, স্যার।
আচ্ছা।
ক্যাপ্টেন, তোমার কাছে কি অতিরিক্ত সৈন্য রয়েছে যে...
এই দুজনকে কমিশনের বাহিরে রাখতে পারো?
না, স্যার।
তাহলে মারধোর বন্ধ করো।
তারচেয়ে বরং রেশন বন্ধ করে দাও।
অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেন মগজ খাটায়, শরীরের শক্তি নয়।
কী করছো তোমরা?
এগুলো?
গর্ত খুঁড়ছি।
এখানে খুঁড়ে কী হবে?
অ্যামেরিকানরা দ্বীপটা দখল করতে চায়...
... ওদের থামানোর জন্যেই খুঁড়ছি।
কিন্তু জেনারেল...
ক্যাপ্টেন...
এসব সৈন্যদের বিশ্রাম দাও।
দেখে মনে হচ্ছে মঙ্গলগ্রহ থেকে টুপ করে পড়েছে।
থামো!
খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করো!
ভালোই হলো।
ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করছিল।
জেনারেল কুরিবায়াশিকে ধন্যবাদ।
দয়ালু কম্যান্ডার।
মদের চেয়ে ভালো!
শুনেছি তিনি অ্যামেরিকায় থাকতেন।
হয়ত সেজন্যেই গর্ত খুঁড়তে দেননি।
হতে পারে অ্যামেরিকানদের পছন্দ করেন।
আরে না, গর্দভ। অ্যামেরিকানদের সম্পর্কে তিনি অভিজ্ঞ।
ওদের কীভাবে হারাতে হবে তিনি জানেন।
২০৪তম ব্যাচের একজনের কাছে শুনেছি...
আরেকজন কম্যান্ডার দ্বীপে নেতৃত্ব দিত...
কিন্তু মন থেকে করত না।
তাই প্রধানমন্ত্রী তোজো কুরিবায়াশিকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
নোজাকি, তুমি তো অনেককিছু শুনেছ...
তাই তো তোমার কানভর্তি ময়লা!
যাইহোক, ২০৪তম ব্যাচের কেউই বিশ্বাসযোগ্য না।
ওরা নেভির সদস্য।
জেনারেল কুরিবায়াশি নিশ্চয়ই দক্ষ হবেন।
দেখছো না...
বালিতে অযথা গর্ত খুঁড়তে হচ্ছে না?
অসহ্য গরম পড়ছে।
দ্বীপটা ভাবনার চেয়েও বড়, ঘুরতে ঘুরতে ভীষণ ক্লান্ত।
ইতো, ডিউটি রিপোর্ট দাও।
ঠিক সময়েই এলেন।
বিমান বাহিনীর কয়টা প্লেন আছে আমাদের?
৪১টি জেকেস আর ১৩টি বোমারু বিমান, স্যার।
এই কয়টা?
সাইপান দ্বীপ বাঁচাতে গিয়ে ৬৬টি বিমান ভূপাতিত হয়েছে।
সমন্বিত রণতরীর ওপরই আমাদের নির্ভর করতে হবে এখন।
এটাই আপাতত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা?
হ্যাঁ।
সেনাবাহিনীর কী হবে? ওরা কোথায় নামবে?
সেটা ভেবে দেখিনি।
তারা কর্নেল আধাচির অধীনে রয়েছে।
আর্মির সাথে কি তোমার পরিকল্পনা নিয়ে আলাপ করেছো?
নৌবাহিনীর আইনানুসারে, শত্রুপক্ষের আক্রমণ ছাড়া সম্ভব নয়...
যুদ্ধ তো চলছেই! সেটা তো বুঝতে পারো, নাকি?
এতে কাজ হবে না।
সৈকতের দিকেই সব মনোযোগ দিয়ে বসে আছো।
গোলাবারুদ উঁচু জায়গাগুলোতে স্থাপন করো...
আমরা তো কেবলই সৈকতে নিয়ে গেলাম...
বেশ, আবার ফেরত নিয়ে আসো।
আর্মির সাথে আলোচনা করে কাজে নেমে পড়ো।
সুরিবাচির দুর্গ-নির্মাণে আগে হাত দেবে।
আমি আরেকটু হেঁটে আসি।
বাহিরে ঘুটঘুটে অন্ধকার, স্যার।
অদ্ভুত লোক।
আর্মি কম্যান্ডাররা এমনই হয়, স্যার।
আবারও চিঠি?
জাহাজ ছাড়া চিঠি যায় না, জানো না?
আমার অনেকগুলো পরিবার আছে।
তাহলে সব চিঠি বউয়ের ঠিকানায় পাঠাও কেন?
চুপ!
দাঁড়াও, একটা উপকার করি। নইলে চিঠি কোনোদিনই পৌঁছবে না।
আরে, কী করছেন?
এখানে আসার আগে টকিয়োতে আমি সেন্সরবোর্ডে কাজ করতাম।
তারমানে পদাবনতি হয়েছে।
প্রিয় হানাকো: আমরা সৈন্যরা সারাদিন পরিখা খনন করি।
না, না, এই চিঠি জীবনেও যাবে না।
চিঠি ফেরত দাও!
তোমার উপকারের জন্য আমাকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিৎ, সাইগো।
পরেরজন!
সাবাস!
তুমি অন্ধ নাকি?
লক্ষ্যবস্তু দেখো না?
আমার পিচ্ছি মেয়েও তো ভালো গুলি করতে পারে।
আবার মারো!
মার্কামারা গর্দভ! নিজেকে আবার ইম্পেরিয়াল সৈন্য দাবি করো?
আজ পুরো সৈন্যদলের জুতা পরিষ্কার করবি তুই।
পেছনে যাও!
জুতার চেয়েও অস্ত্র পরিষ্কার করতে শেখাটা জরুরী।
ট্যাংকগুলো এখানে কেন?
ওগুলো অকেজো, স্যার। ভাঙরি হিসেবে পড়ে আছে।
- কতদিন যাবত? - মাসখানেক হবে, স্যার।
তারো, অ্যামেরিকায় গাড়িঘোড়ায় ভরপুর।
রাস্তা পারাপারের সময় সতর্ক থাকতে হয়...
ডানে-বাঁয়ে শুধু গাড়ি আর গাড়ি।
তারো, তুমি কি তোমার মায়ের কথা শোনো?
ভীষণ মিস করছি তোমাকে।
বেসামরিক লোকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নাও।
ইয়েস, স্যার।
হানাকো...
আমরা একজন সেলেব্রিটি পেয়েছি।
বারন নিশি, ঘোড়দৌড়ে অলিম্পিক স্বর্ণ বিজয়ী।
তিনি ২৬তম ট্যাংক রেজিমেন্টে নেতৃত্ব দিতে...
... সোজা টকিয়ো থেকে এসেছেন।
নিশি খুবই হ্যান্ডসাম, আর ভীষণ মেয়ে পটানোর ক্ষমতা রয়েছে।
কিন্তু এই দ্বীপে একটাও মেয়েমানুষ নেই।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিশি! একদম ঘোড়া নিয়ে হাজির!
চিচি জিমা থেকে এনেছি।
আমি ঘোড়সত্তয়ার সৈনিক, জানেনই তো।
অবশ্যই জানি।
আপনার অধীনে কাজ করতে আমি মুখিয়ে আছি।
ঘোড়ার ভাষা যে বুঝতে পারে তাঁকে আমিও বুঝি।
যুদ্ধক্ষেত্রে আমরা যখন ঘোড়া দৌড়াতাম...
সেসব দিন এখন স্বর্ণালি অতীত...
এসব লক্করঝক্কর যন্ত্রপাতি ছিল না।
আরেকটা ঘোড়া নিয়ে আসি...
তাহলে একসাথে ঘোড়দৌড় দেওয়া যাবে।
এখন আর আগের মতো পারি না।
আচ্ছা, তোমার সেই অলিম্পিক জেতা ঘোড়াটা কোথায়?
ঘোড়াটার নাম ছিল 'ইউরেনাস'।
হ্যাঁ, ঘোড়াটার পাছাটা চরম ছিল।
ইতালি থেকে কিনেছিলাম।
ওকে বিক্রি করে ওরাও হাঁপ ছেড়ে বাঁচল।
ওটা ছিল বন্য ঘোড়া।
কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারত না, তখন আমি বললাম...
এমন তেজি ঘোড়া...
... আমার খুবই পছন্দ।
ডিনারে চলে এসো, একসাথে পান করা যাবে।
সেই ব্যবস্থা করেই আসবো।
জনি ওয়াকার কোথায় পেলে?
কয়েক প্যাগ মেরেও দিয়েছি।
মাফ করবে, তেমন আয়োজন করতে পারিনি।
এখানে খেতে পেয়েছি এটাই তো শুকরিয়া।
খালি প্লেটে কী আছে?
রাঁধুনিকে বলেছি আমাদের অফিসার সবাই...
আমাদের সমান খাবার ও রেশন পাবে।
দুঃখিত, দৈনিক তিনটা পদ পরিবেশনের নিয়ম আছে।
যদিও চাইলে তিনটার বেশি পদও পরিবেশন করা যায়।
No comments yet. Be the first to leave one.