Les 200 premières lignes.
অনুবাদকঃ মোঃ রায়হান শেখ (জনি)
এখন, আরও একবার আপনার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দিন।
লক্ষ্য করুন কীভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আপনার...
...নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস চলছে।
আপনার মনে নানান চিন্তা আসতে পারে।
সহজভাবে সেগুলো সরিয়ে দিন।
শান্তভাবে।
কোনো দ্বিধা ছাড়াই।
- হাই। - হাই।
বাপরে, এত দ্রুত বুক হয়ে গেল। আমি ভাবতেই পারিনি যে, আপনি ঠিক এখানেই পার্ক করে রাখবেন।
- হ্যাঁ, মাত্রই একজনকে নামিয়ে দিলাম। - ওহ, তারমানে দিনটা আমার জন্য শুভ।
আমি ওল্ড স্ট্রিটে যাবো... ওহ, বিস্তারিত আপনাকে জানিয়েছি।
তো আপনি ওই জায়গায় চাকরি করেন?
কী?
দুঃখিত, আমি বুঝতে পারিনি।
যেখান থেকে আপনাকে তুললাম সেখানেই চাকরি করেন?
স্মিদেরিনে (Smithereen)? না।
ঘুরতে গেছিলাম।
ইশ, আমি যদি ওখানে চাকরি করতাম।
ওখানে অনেক সুযোগ-সুবিধা আছে, ওদের নিজস্ব স্পা আছে। অসাধারণ জায়গা।
এসব বিলি বাউয়ারের কারিশমা।
সে যাই হোক।
আমার মেয়ের নাম ক্রিস্টিন ছিল।
ক্রিসি।
বিশ বছর বয়সী। ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তো।
ও আত্মহত্যা করেছে, নিজের জীবন নিয়েছে, আপনারা যেটাই বলুন না কেন,
১৮ মাস হয়ে গেছে।
ব্যাপারটা অপ্রত্যাশিত ছিল।
ওর ফ্ল্যাটের একটি মেয়ে আমাকে ফোন দিয়েছিল।
ওরা ওকে বাথরুমে খুঁজে পেয়েছিল।
আমি ওর ওপর প্রচন্ড রেগে আছি!
আমাকে না বলার জন্য ওর ওপর আমি খুব রেগে আছি।
ভেবেছিলাম আমি ওকে জানতাম, আমি...
কিন্তু আমি জানতাম না।
শেষবার যখন কথা বলেছিলাম, তখন ও খুশি ছিল ...
আর আচমকাই, ও পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিলো।
জানি না ও এমনটা কেন করেছে।
আমি নিজেকে হাজার বার প্রশ্ন করেছি।
এমনটা ও কোন ছেলের কারণে করেছে, পড়াশোনার চাপে করেছে, দুনিয়ার প্রতি বিতৃষ্ণা আসাতে করেছে নাকি আমার কারণে করেছে?
এমন কিছু কি আমি করেছিলাম?
সারাক্ষণ আমার মাথার মধ্যে এসব প্রশ্নই ঘুরতে থাকে কিন্তু কোনো উত্তর পাই না, কিছুই পাই না।
ও জবাব দেওয়ার জন্য পৃথিবীতে নেই, তাই...
জানার আকাঙ্ক্ষাটা কখনই....
...ঘুচবে না।
কখনই ঘুচবে না।
কথা বলার সময় খুব নার্ভাস ছিলাম।
প্রথমবার মনের কথা বললাম।
মানে, সবার সামনে। অনেক মানুষ ছিল।
ওহ, তুমি খুব সুন্দরভাবে কথাগুলো বলেছো।
- তাই নাকি? - হ্যাঁ।
প্রথমবার বলে কিছুটা ভয় লাগে, তাই না?
আসলে, সত্যি কথা বলতে, আমি জানি না।
আচ্ছা...
এখানে আসার পর থেকে তোমাকে একবারও কথা বলতে দেখেনি। মানে, কোনো...
মনের কথা বলার সুযোগটা এখনও হয়ে ওঠেনি।
সঠিক মুহুর্তের জন্য অপেক্ষা করছি।
- আচ্ছা, আসি। - আচ্ছা, শোনো, আমার সাথে ড্রিংক করবে?
ওহ, কালকে অনেক কাজ করতে হবে।
কে জানে। আগামীকাল তো বেঁচে না-ও থাকতে পারো।
মজা করলাম।
ওহ, ওহ।
ওহ। আমার এটাই দরকার ছিল।
আচ্ছা। ঠিক আছে।
- তোমাকে অপূর্ণ রাখতে চাই না। - কিছুক্ষণ পরে।
- আমার সাময়িক বিরতি লাগবে। - সহবাস অনেকদিন আগে করেছিলাম।
শেষবারের কথা মনেও করতে পারি না।
- দুঃখিত, কিছু মনে করবে না তো যদি...? - না, না, না।
আমি জানি এই কাজগুলি অসম্মানজনক।
প্রায় চার মাস আগে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে একজন লোকের সাথে ডেটিংয়ে গিয়েছিলাম।
কথা শুরুর মাঝপথে গিয়ে, আমি তাকে ক্রিস্টিনের ব্যাপারে বলি।
সে এমন তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিল।
এটা ওর ছবি।
আহ।
ওর ফ্ল্যাটের মেয়েটি এটা আমার কাছে পাঠিয়েছিল। এটা ওর ঘরে ছিল।
ধ্যাৎ। আচ্ছা, আমি একটু আসছি।
ক্রিস্টিনের পার্সোনা অ্যাকাউন্টে ঢোকার চেষ্টা করছি।
প্রতিদিন লগ-ইন করার চেষ্টা করি। এটা তিনবার পাসওয়ার্ড দেওয়ার সুযোগ দেয়,
তারপরে কয়েক ঘন্টার জন্য লক করে দেয়।
যতবার আমি অনুমান করে পাসওয়ার্ড দিই, ততবার এখানে লিখে রাখি।
এই সপ্তাহে এমন জায়গাগুলির নাম পাসওয়ার্ড হিসেবে দিচ্ছি, যেখানে আমরা বেড়াতে গিয়েছিলাম।
ওর মা আমি। তুমি ভাববে ওরা আমাকে...
আমার নিজের মেয়ের অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড দেবে, কিন্তু, আসলে দেবে না।
এটা নাকি ওদের গোপনীয়তা নীতির বিরুদ্ধে যায়।
নিকটতম আত্মীয় প্রমাণ করে দিলে ওরা ওকে স্মরণ করবে।
সাদা-কালো ছবি দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি করবে,
কিন্তু এতে ইনবক্স মুছে যায়।
আমি শুধু ইনবক্স চাই।
জানি না, হয়তো আত্মহত্যার কোনো কারণ বা উত্তর পাওয়া যাবে।
আমি কী চাই জানি না। ঠিক আছে।
দেখা যাক।
ঠিক আছে।
আচ্ছা, কাল চেষ্টা করবো।
লক্ষ্য করুন কীভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আপনার...
...নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস চলছে।
আপনার মনে নানান চিন্তা আসতে পারে।
সহজভাবে সেগুলো সরিয়ে দিন।
শান্তভাবে। কোনো দ্বিধা ছাড়াই।
আমি এখন রওনা দিচ্ছি।
হ্যাঁ। আচ্ছা।
তিন ঘন্টার মধ্যে আমার প্রথম শ্রেণির সান ফ্রান্সিসকো ফ্লাইটটি নেই,
তাই হাতে সময় আছে।
হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমি এখন গাড়িতে উঠছি।
আচ্ছা। ঠিক আছে, রাখছি।
আহ, আহ, এয়ারপোর্টের কোথায় যাবেন?
তিন নম্বর টার্মিনাল।
- আপনি এই জায়গায় চাকরি করেন? - স্মিদেরিনে? হ্যাঁ।
ন্যাভিগেশন দেখাচ্ছে সামনে একটা দূর্ঘটনা ঘটেছে।
অ্যাপে দেখানো অন্য পথ দিয়ে গেলে আপনার আপত্তি আছে?
আসলে সাধারণ রাস্তার চেয়ে দ্রুত যাওয়া যাবে।
- আহ, ঠিক আছে, যান। - কিছুটা আঁকাবাঁকা পথ হবে...
কিন্তু এই অ্যাপটি জানে কোন পথটা ভালো হবে।
উম-হুম।
আহ...
এটা দিয়ে হাত বেঁধে নে। হাত বাঁধ।
বাঁধ বলছি!
দুই হাতের কব্জি বাঁধ। দুই হাতের কব্জি ফাঁস দিয়ে বাঁধ।
- আহ, কেন... - চুপচাপ করে যা।
- জলদি। শক্ত করে বাঁধ। - বাঁধছি। বাঁধছি।
দাঁত ব্যবহার কর। ওটা দাঁত দিয়ে টান!
- আহ, এসব... - চুপ থাক!
আমার কথামতো কাজ করলে তোর কিছুই হবে না। বুঝছিস?
তোর কিছু হবে না। শুধু আমার কথামতো কাজ করে যা। এখানেই থাক।
ধ্যাত্তেরি...
এসব টাকার জন্য করছো?
জানি আমি স্মিদেরিনে চাকরি করি কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমি ধনী ব্যক্তি!
এসব...
কী করছো, ভাই? আমি তো একজন ইন্টার্ন (শিক্ষানবিশ)।
- কী করছো? - কী বললি তুই?
- কী বললি তুই? - আমি একজন ইন্টার্ন।
দামী স্যুট, লাগেজ, ...স্যুটকেস সহ? এয়ারপোর্টে যাচ্ছিস কেন?
ভেতরে সব পোশাক। ভেনেসার জন্য পোশাক আছে।
- ভেনেসাটা কে? - ভেনেসা ল্যাম্পটন।
তিনি স্মিদেরিনের একজন এক্সিকিউটিভ।
তার স্টাইলিস্ট আমাকে লন্ডন হিথ্রো এয়ারপোর্টে যেতে বলেছিল।
এখানকার একগাদা পোশাক থেকে সে একটা পোশাক বেছে নেবে।
এটাই আমার কাজ। আমি শুধু ইন্টার্ন মাত্র।
তাহলে তুই এমন পোশাক পরেছিস কেন? দামী স্যুট।
- তুই এত দামী স্যুট পরেছিস। - আমি এই সপ্তাহে চাকরিতে ঢুকেছি।
ধ্যাত্তেরি!
ধ্যাত্তেরি! শালা!
ঠিক আছে।
- ধ্যাত্তেরি! - হারামির বাচ্চারা!
সবকটা আধুনিক মাথামোটা কোম্পানি! সব বাচ্চা টাইপের পোলাপাইন রাখে!
শালাদের চেহারা দেখে বোঝার উপায় নাই যে কে কোম্পানির কর্মচারী আর কে মালিক?!
হায় খোদা! ওই বিল্ডিং থেকে বের হয়ে আসা অর্ধেক শুয়োরই...
...পড়াশোনায় গোল্লা মারা শিক্ষার্থীদের মতো পোশাক পরে।
মানে, কি বলবো...?
ধুর শালা! বাচ্চা পোলাপাইন।
পুরো স্মিদেরিন বিল্ডিং...
একপাল বাচ্চা পোলাপাইনে ভরা, যারা সবখানে তাদের আঙ্গুল চালাচ্ছে।
বিপ, বিপ, বিপ, বিপ, বিপ... নেশা উৎপাদন করছে।
তোদের বালের অ্যাপটি সবার ফোনে সেই নেশা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
যেদিকেই তাকাই, দেখি মানুষ এসব ফোনে ডুবে আছে!
একেবারে নেশাখোরদের মতো। ফোনে এভাবে ডুবে থেকে কোটিপতি হয়েছিস?
তুইও এভাবে ফোনে পাগলের মতো ডুবে থাকিস।
ওই বিল্ডিংয়ের বাইরে আসা প্রত্যেকটা ব্যক্তি...
যেন মানুষের মুখ তুলে তাকাবার সময় নেই।
আকাশের রঙ পাল্টে যাবে কিন্তু কোনো হারামখোর একবারের জন্যও খেয়াল করবে না যে রাত হলো নাকি দিন।
তোকে কোথায় থেকে কোথায় এনেছি তা একবারও মুখ তুলে তাকিয়ে দেখিসনি,
কেবল ফোনে চোখ ডুবিয়ে মূর্তির মতো পেছনে বসে ছিলি।
ইন্টার্ন তুই। ইন্টার্নের মতো পোশাক পরিসনি কেন?! যত্তসব!
ঠিক আছে, একে দিয়েই কাজ হয়ে যাবে, কাজ হয়ে যাবে। কাজ হয়ে যাবে।
ধ্যাৎ।
- দাঁড়া! দাঁড়া! - আমাকে মেরো না।
- নয়তো গুলি করে দেবো! - না, না!
নড়বি না।
- নিশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করছি! সরি। - চুপ।
- সরি। আমি আর পালাবো না। - ওঠ, চলো।
- পালাবো না। পালাবো না। - চল। চুপ কর!
- ভেতরে ঢোক। গাড়ির পেছনে ঢোক। - প্লিজ!
- ভেতরে ঢোক। - না, না!
- গাড়ির পেছনে রেখো না... - ঢোক বলছি!
- দেখো, আমি ভেতরে থাকতে পারবো না। - ভেতরে ঢোক, ঢোক।
ভেতরে থাকতে পারবো না। আমার ক্লাস্ট্রোফোবিয়া (আবদ্ধতাভীতি) আছে।
আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। প্লিজ, প্লিজ, প্লিজ!
- ঢোক। - ভেতরে থাকতে পারবো না।
ঢোক। চুপচাপ কথামতো কাজ কর।
- প্লিজ। - চুপচাপ থাকবি।
- বুঝলি? - প্লিজ, প্লিজ, না...
না! আমি ছোট জায়গায় থাকতে পারি না!
প্লিজ! প্লিজ!
- থাকতে পারবো না... - ওহ, ধ্যাত্তেরি।
বাঁচাও! প্লিজ।
- ঠিক আছে। চুপ, চুপ, একেবারে চুপ। - প্লিজ, প্লিজ।
ঠিক আছে, ঠিক আছে।
আমার দিকে তাকা।
তুই যদি এটা পরে নড়াচড়া না করিস, তাহলে পেছনের সীটে বসতে পারিস।
- বুঝেছিস? বুঝেছিস? - না, না, পালাবো না।
- ঠিক আছে। - এটা পরতেই হবে?
হ্যাঁ।
মাথা নিচু করে না থাকলে তোকে মেরে ফেলবো।
জীবন তেজপাতা।
ঠিক আছে। শুয়ে থাক।
আমার অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
চুপ থাক। তাহলেই বেঁচে থাকবি।
আমার অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে, প্লিজ।
- নিচু হয়ে থাক! - প্লিজ, আমার অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
- বমি করে ফেলবো। প্লিজ। - নিচু হয়ে থাক!
এগুলো কী?
ওদের কাছে পনির আর পেঁয়াজ ছিল না।
No comments yet. Be the first to leave one.