Les 200 premières lignes.
বাংলা সাবটাইটেল নির্মাতা সিজান_সৈকত
হাই সুব্বু!
- হাই! - গতকাল হাটতে আসো নাই যে?
গতকাল আমার নাতনী স্কুল বাস মিস করে,
তাই তাকে নিয়ে স্কুলে যেতে হয়েছিলো।
ট্রাফিকের যা অবস্থা! তাতে স্কুলে থেকে বিজায়ওয়াদা যাওয়া সহজ।
তাহলে তাকে বিজয়ওয়াদার কোন স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেই পারো।
ভর্তি করানো সহজ কাজ না।
বৌমা আবার সাথে করে লাঞ্চ বক্স নিয়ে যেতে বললো।
তুমি অনেক ভাগ্যবান, তোমার এসব ঝামেলা নেই।
আসলে কিছু ঝামেলা আবার মধুর হয়।
র্যাম্বো!
হেই থাম!
এটা চিল্লাচ্ছে কেন?
একারনেই আনতে চাই না।
ওর জন্য ভাল একটা সঙ্গী খুজছো না কেন?
পোষা প্রানী থাকার মানে, তার অন্যান্য প্রয়োজনও দেখা উচিত!
এখন বাড়াবাড়ি করছে!
- হেই র্যাম্বো! - র্যাম্বো!
র্যাম্বো, থাম!
ব্রেকিং নিউজ।
হায়দ্রাবাদে ১৫ বছর বয়সী স্কুল ছাত্রী, সংযুক্তা খুন হয়েছে...
খুনের পরে তাকে পলিথিনে পেঁচিয়ে...
দুর্গাম চেরুভুর নিকট পুরনো পাইপের ভেতরে ফেলা হয়।
পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য লাশ নিয়ে গেছে, এবং খুনের তদন্ত শুরু করেছে।
কিন্তু হত্যার কারন এখনো উদঘাটন হয় নাই,
সকালে যারা এই এলাকায় হাটতে আসেন,
তাদের একটা কুকুর লাশটা খুজে পায়।
রাক্ষস!
কাট! ওকে, আবার শুরু করো!
ক্লোজ শট নিতে হবে, আর ছুড়ির সাথে রক্ত থাকতে হবে।
অরুন, প্রযোজক বাতিল করে দিবে। কারন রক্তের সিন সেন্সর বোর্ড আটকে দেয়।
আহ!
এলার্মটা কানের কাছে রাখো কেন? এখনি বন্ধ করো।
- বন্ধ করতে পারি না! - এহ?
১৫ বছরের এক কিশোরীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
আমি অরুন।
এখানে দুনিয়ায় ঘটে যাওয়া ১০০ টা সাইকোপ্যাথ খুনের আর্টিকেল আছে।
আমার স্বপ্ন সিনেমার স্ক্রিনে লেখা থাকবে 'A Film by Arun'
এগুলো আমার হোম ওয়ার্ক ও রিসার্চের পেপার।
হেই অরুন...
আমাদের রাহুকালার আগেই অফিসে থাকতে হবে।
জলদি আয়!
অরুন, প্রযোজক গণনার কি অবস্থা?
চাচা, অনেক আগেই গননা করা বাদ দিয়েছি!
শুভ কামনা রইলো।
চাচা, দেখা হবে।
ওপেনিং শট...
ক্যামেরার টপ এঙ্গেলে দেখা যাবে, একটা মেয়ে তাড়াহুড়ো করে রাস্তা পাড় হচ্ছে...
এবং দুইটা লোক তাকে তাড়া করছে।
তোমরা গল্প কিছুটা থ্রিলার টাইপের, কিন্তু...
শুরু দিকটা অনেক বেখাপ্পা, যাতে বাস্তবতা কম।
গল্পটা ভাল ছিল, কিন্তু ঘরোয়া দর্শকেরা এটা খাবে না।
আমার ধারনা ক্লাইম্যাক্সের যায়গায় ঝাকানাকা একটা আইটেম সং হলে ভাল হবে।
গল্পটা বিক্রি করবে? তাহলে ভেবে দেখতে পারি।
সিনেমা বানাতে অনেক পরিশ্রম করছিস।
কিন্তু প্রযোজকরা চলতি হাওয়ায়, তোর পরিশ্রমের মূল্য দিচ্ছে না।
আমি নিশ্চিত এমন হবে না, বন্ধু।
হাওয়া বদলাবে।
অলরেডি দুইটা সিনেমার কাজ চলছে, এগুলো শেষ হলে ভেবে দেখবো।
কোন শর্ট ফিল্ম বানিয়েছো?
যখন পেটে ভাত জোটাতে পারি না, তখন শর্ট ফিল্ম বানাবো কিভাবে?
গত ৭৫ বছর যাবত এভাবে সিনেমা বানানো হয়?
যে ব্যক্তি আমার ৮ বছরের পরিশ্রম বুঝতে পারছে না।
সে ৮ মিনিটের একটা শর্ট ফিল্ম দেখে কিভাবে বুঝবে?
এক বছর হয়ে গেলো, তোর বাবা গত হয়েছেন।
তিনি আমাদের জন্য সম্পদ রেখে না গেলেও,
ডিপার্টমেন্টে তার প্রচুর সম্মান আছে।
যেকারনে তার সাব ইন্সপেক্টর পোস্টে, তুই অনায়াসে যোগদান করতে পারবি।
তুই রাজী থাকলে, তোর দুলাভাই এই ব্যাপারে কথা বলবে।
অরুন, তুই শুধু এসআই পরীক্ষাটা দে। বাকিটা আমি করবো।
- অরুন! - হাহ?
শট রেডি!
হেই, অরুন।
অরুন, এই মাসের ভাড়ার কি অবস্থা?
লাশের চরিত্রে অভিনয় করবে না?
হাহ? শুভ কামনা রইলো!
আমরা সিনেমাটা জবরদস্ত করে বানাবো।
- গল্পটা আমার পছন্দ হয়েছে। - ধন্যবাদ ম্যাডাম!
আগামীকাল অগ্রিম টাকা নিয়েন।
- কি হয়েছে? - প্রযোজক রাজী হয়েছেন!
- সিনেমাটা শুরু হবে! - ওয়াও! অভিনন্দন অরুন!
অবশেষে তোর স্বপ্ন পুরন হলো!
রোল, ক্যামেরা!
অ্যাকশন!
গতকাল আমাদের রাশিফল চেক করেছি,
মনেহচ্ছে আমাদের যুগলবন্দী সফল হবে না।
প্লীজ বোঝার চেষ্টা করো, আমি দুঃখিত।
চিন্তা করিস না, ভাই।
তুই চেষ্টা করে যা। প্রয়োজন হলে আমি চাকরি খুজে নিব।
মা!
তোর বয়স ২২ বছর হয়ে গেছে। লোকজনের প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত।
তোকে শেষ বারের মতো জিজ্ঞেস করছি।
তুই চাকরিটা করবি নাকি না?
স্যার, লাশের শটটা আলাদা এঙ্গেল থেকে নিবো।
আর পাশ দিয়ে একটা কালো গাড়ী যাবে।
প্রযোজক সাহেব আজকে আসতে বলেছিলেন।
তাকে বলুন অরুন এসেছে?
স্যার এখানে নেই। তিনি শ্যুটিংয়ের কাজে মুম্বাই গেছেন।
আর ছয় মাস পরে ফিরবেন।
মা, দুলাভাইয়ের সাথে দেখা করব।
তোর বাবার সম্মানেই চাকরিটা পেয়ে যাবি।
তোর ধারনা নেই, এসআই চাকরির জন্য কিরকম প্রতিযোগিতা এবং রাজনীতি চলে।
তোকে বিশ্বাস করে, আবেদন করবো?
কি ব্যাপার অরুন? পরিচালনা বাদ দিয়ে অভিনয় শুরু করেছো?
এটা বাস্তব অভিনয়!
তাহলে পরিচালনার কি হবে?
আশাকরি ভাগ্য সহায় হবে!
তাহলে আমার লাশের চরিত্রের কি হবে?
আমরা শীঘ্রই পরিকল্পনা করবো।
তারপরে লাশ হতে পারবো!
শুভ কামনা!
হেই অরুন।
মাথা থেকে সিনেমার ভুত ঝেড়ে, কাজে মনোযোগ দে।
বড় অফিসাররা যেভাবে বলবে সেভাবেই করবি।
এখানে সবাই এটাই করে।
- বুঝতে পারছো? - ইয়াহ, ওকে।
- শুভ সকাল, স্যার। - শুভ সকাল।
বস, আমার বাইরে কাজ আছে।
ফেরার পরে, তোর কাজ নিয়ে আলাপ করবো।
বিশ্বনাথ! দুইটা চায়ের কথা বলো!
ওকে স্যার।
স্যার, আমি কিছুই জানি না! আমি চুরিটা করি নাই।
আমি চুরি করি নাই!
স্যার, না!
বল আমায়।
- আমি চুরি করি নাই। - সত্য বল!
- আমি কিছুই জানি না! - মুখ খোল!
সত্য কথা বল!
হেই, এদিকে আসো।
তুমি নতুন জয়েন করেছ?
সত্য না বলা পর্যন্ত, পিটাতে থাকো।
স্যার, আমি আজকেই জয়েন করছি।
তো?
কোন নিয়মে লেখা আছে, প্রথম দিনে পিটানো যাবে না?
যা বলছি তাই করো।
স্যার... প্লীজ না...
পুলিশের মতো পেটাতে বলায়, এদিক ওদিক দেখছিলে কেন?
এভাবে পিটাবে...এভাবে...
না স্যার, প্লীজ।
অরুন তোর কাণ্ডজ্ঞান নাই?
তোকে আসামী নিয়ে কোর্টে যেতে বলেছিলাম।
আর তুই তাকে এখানে রেখে, প্রযোজকের সাথে চিত্রনাট্য নিয়ে আলাপ করছিস।
যদি সে পালিয়ে যেতো?
না স্যার, আমি পালিয়ে যেতাম না।
এসআই স্যারের গল্পটা সেইরাম!
- তোকে তো... - স্যার।
এটাই শেষবার।
আবার এমন হলে...
না।
পাপ্পি! আসো... আসো!
তোমাকে কতবার বলেছি, একা বাইরে বের হবে না!
তোমাকে শাস্তি দিতে হবে, দুষ্টু কোথাকার...
দেখো, মুখে ধুলো লেগেছে।
ওহ, না!
কতবার এই মেয়েকে বলবো?
চারদিকের পরিস্থিতি নিয়ে ভয়ে আছি।
আজকে একবার ফিরুক, তার বাবার কাছে নালিশ করছি।
কি অমৃথা? আমার কথার কোন দাম নাই?
আগামীকাল সাড়ে ৫ টার মধ্যে না আসলে আমি আর বরদাশত করবো না।
অমৃথা!
আপনাদের কোন প্রতিবেশী উপস্থিত ছিল না?
অন্তত কোন আত্মীয়?
কোন আত্মীয় নেই?
- কাকা... - শুভ সকাল, অরুন।
কি ব্যাপার?
হত্যা মামলা, অরুন।
কি হয়েছে?
আমার মেয়ে পরীক্ষার জন্য পড়ছিলো,
তখন সে মাতাল হয়ে তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।
তাকে থামাতে অনেক চেষ্টা করি, কিন্তু পারি নাই।
তাই বাধ্য হয়ে নিজের মেয়েকে বাঁচাতে...
তাকে খুন করি, স্যার।
আপনার স্বামী কোথায়?
এটা সে ছিল, তাকেই খুন করেছি, স্যার।
আজকে কি পরীক্ষা ছিল?
গনিত।
- কাকা, এফআইআর করা হয়েছে? - করেছি।
এদের ছেড়ে দাও।
অরুন!
দুলাভাইয়ের সাথে কথা বলে, অনুমতি নিয়ে নিবো নে।
মেয়েটাকে নিয়ে পরীক্ষার হলে যাও।
বোন...
পরীক্ষায় অংশগ্রহন করো,
আর পেছনের কথা ভুলে যাও।
- আমার মেয়ে নিখোঁজ, স্যার। - কখন থেকে?
৫ টা থেকে সাড়ে ৫ টার দিকে।
- ৫ টা নাকি সাড়ে ৫ টা? - তাদের মেয়ে নিখোঁজ।
তারা আইজি স্যারের আত্মীয়। আইজি স্যার নিজে ফোন করেছিলেন।
আমাদের বিশেষভাবে ব্যাপারটা দেখতে হবে।
আর ইনি কাস্টমসে চাকরি করেন।
দ্রুত তদন্ত শুরু করো।
স্কুলের আশেপাশের সিসি ক্যামেরা চেক করো।
এছাড়া তাদের বাড়ির পাশের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করো।
- ইয়েস, স্যার। - এছাড়াও...
মেয়েটা যখন নিখোঁজ হয়...
তার কুকুরের গলায়, একটা গিফট বক্স পাওয়া যায়।
তারা বাবা-মা এটা দেখে আরও মূষরে যায়।
গিফট বক্সে এটা ছিল।
তোকে কে অনুমতি দিয়েছিলো, ঐ মহিলাকে খুনের মামলা থেকে রেহাই দিতে?
No comments yet. Be the first to leave one.