Les 200 premières lignes.
পুলিশ স্টেশন
আপনার লোকদের কি বলেছেন যে কাজটাতে সময় লাগবে?
এখনও জানাইনি।
ওখানে গিয়ে ফোনে জানিয়ে দিয়েন।
কারণ সন্ধ্যাও লেগে যেতে পারে ;
কী হয় কিছু বলা যাচ্ছে না।
- এমন ঘটনা প্রথম ঘটল। - কী হয়েছে?
শুনলাম এক লোক নাকি
নিজেকে মোহসেন মাখমাল্বাফ বলে পরিচয় দিচ্ছে।
মাখমাল্বাফকে চিনেন?
- ব্যবসায়ী কোনো? - একদমই না।
- বামে যাবো? - জি।
ব্যবসায়ী না। বিশিষ্ট পরিচালক উনি।
- চিনেন না উনাকে? - না।
উনার নতুন সিনেমার নাম 'দ্য সাইক্লিস্ট'।
সিনেমা দেখার অত টাইম নেই। কাজ করেই কুল পাই না !
সমস্যাটা হচ্ছে, উনি অত পরিচিত মুখ না।
এই সুযোগে লোকটা এক পরিবারের কাছে বলেছে যে সে-ই মাখমাল্বাফ।
লোকটার ভাবসাব ভালো ঠেকছে না।
লোকটা সেই পরিবারের কয়েকজনকে দিয়ে অভিনয় করাতে চেয়েছে...
আর বলেছে তাদের বাসাটা নাকি শুটিংয়ের জন্য পারফেক্ট,
তাই তার নতুন ফিল্ম নাকি সেখানেই শুট করবে।
কিন্তু লোকটার উদ্দেশ্য কারো কাছেই এখনও পরিষ্কার না।
বিষয়টা অনেক জটিল।
আমার পরবর্তী কলামের জন্য এমন ভিন্নধর্মী টপিকই খুঁজছিলাম।
তাকে গ্রেফতার করা হবে।
- আপনি কি সাংবাদিক? - জি, সোরুশ ম্যাগাজিনের।
আমি ভাবলাম পুলিশ নাকি আবার।
হাসালেন।
কেসটার কথা শুনে মনে হলো,
এমন বিরল ঘটনা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া দরকার।
আগে দেখি, ঘটনাটা কতদূর গড়ায়।
এমন ঘটনা সচরাচর চোখে পড়ে না।
সারা ক্যারিয়ারে দুই কি তিনবার এমন কেসের দেখা মেলে।
সাড়া ফেলে দিবে মনে হচ্ছে।
ভাইরাল হয়ে যাবে, ম্যাগাজিনের সেল বাড়িয়ে দেবে।
ওরিয়ানা টাইপ কেস বললে ভুল হবে না।
- ওরিয়ানা ফালাচির নাম শুনেছেন? - না।
- শোনেননি? - না।
পিটার বোগদানোভিচ? জন এডিসন? সেরাদের কাতারে প্রথমে এরা।
আমার গাড়িতে তো কখনও চড়েনি উনারা।
হাসালেন।
ইনারা বিখ্যাত সব সাংবাদিক।
তাদের কাজ বিশ্বব্যাপী সুনাম কুড়িয়েছে।
বিশেষ করে ফালাচি। সবসময় ভাইরাল টপিকের খোঁজ থাকে তার।
যত বিরল কেস রয়েছে, সব যেন তার ঝুলিতেই পড়ে।
একারণেই তার বিশ্বব্যাপী সুনাম।
আর এই কেসটাও তার সেই বিরল কেসের মতই।
আগে বোঝার চেষ্টা করবো, লোকটার কোনো মতলব আছে কিনা,
পরিবারটাকে সে লুটতে যাচ্ছে কিনা।
সেরকম কিছু হলে তাকে গ্রেফতার করা উচিৎ।
একারণেই ঘটনার শেষ পর্যন্ত আপনাকে আমার দরকার।
- আমি থাকবো। - শিওর?
আপনার লোকদের খবর দিয়ে দিন,
যাতে কোনো সমস্যা হলে, আমরা একসাথে সামাল দিতে পারি।
সমস্যা নেই। আমি ফুল-টাইম ড্রাইভার নই।
আমি একজন রিটায়ার্ড মিলিটারি পাইলট।
আকাশ ছেঁড়ে এখন পাতালের কাজে যোগ দিয়েছি আমি।
এই নিয়েও দারুণ একটা কলাম ছাপানো যায়ঃ
''আকাশপ্রেমীরা পাতালে, পাতালপ্রেমীরা আকাশে।''
হাসালেন।
- বামে যাবো? - জি।
- লাভিজান যাবো? - হ্যাঁ, এরপর হোসেইনাবাদ এভিনিউ-তে।
লাভিজান এরিয়াটা ভালো। অনেকদিন পর আসছি এখানে।
শেষ এসেছিলাম বিপ্লবের সময়, যেবার এখানে
মিলিশিয়া বাহিনী হানা দিয়েছিল।
সৈন্যরা গুলি চালিয়েছিল সেবার।
- সেই ঘটনার পর আমি প্রথম এলাম। - ডানে যাবো?
জাভানশির এভিনিউটা খোঁজা লাগবে।
যেতে থাকুন। কারো কাছ থেকে ঠিকানাটা শুনতে হবে।
একটু থামান। এই ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করি।
বাবা, একটু এখানে আসো তো।
জাভানশির এভিনিউটা কোথায়? জানো না?
- জানে না। চালাতে থাকুন। - মুরব্বী কাউকে জিজ্ঞেস করুন।
এই লোকটাকে জিজ্ঞেস করে দেখি।
এইযে চাচা, একটু শুনুন। গোলজার রোড কোথায়?
- সেটা তো জানি না। - আচ্ছা, ধন্যবাদ।
- দেশি টার্কি নেবেন? - না।
আমরা একটু ব্যস্ত আছি।
এই ঘটনার খোঁজ পেলেন কীভাবে?
আমার এক বন্ধু ফোন করে বলেছিল যে
এক বাড়িতে নাকি উদ্ভট সব কাণ্ডকারখানা হচ্ছে।
শুনে আমার আগ্রহ জাগে। এই জায়গায় এমন ঘটনা বিরল।
ম্যাম, গোলজার রোড কোথায়?
সোজা যেয়ে বামে মার্কেটের দিক যাবেন।
সোজা যেয়ে বামে?
অনেক ধন্যবাদ। যেতে থাকুন।
ভাগ্য এই প্রথম এবং শেষবারের মত -
আমার দরজায় কড়া নেড়েছে।
বোঝাতে পারবো না, এই ঘটনার ওপর কলাম ছাপানো নিয়ে
আমি কতটা উদগ্রীব হয়ে আছি।
সাড়া ফেলে দেবে এই জিনিস।
টিভি, পত্রপত্রিকা সবখানে...
এই জিনিস নিয়ে আলোচনা হবে।
দেখা যাক।
গোলজার রোড হয়ে ফার্স্ট এভিনিউ।
ফার্স্ট এভিনিউ। এইতো।
এইদিকে।
এইটাই নাকি? হ্যাঁ, এটাই ফার্স্ট এভিনিউ।
এখানে?
এখানে তো একটা কাকপক্ষীও নেই।
কী আজিব, ক্যারিয়ারের সেরা কেসটা
এমন মরা জায়গায় এসেই পাওয়া লাগল।
ভাগ্যটাই খারাপ।
১২... ১৪... ১৬... এইতো।
কি আজিব জায়গা ! একটা কাকপক্ষীও নেই এখানে।
- আমি এখুনি আসছি। - আচ্ছা।
- জি। - মিঃ ফারাজমান্দ বলছি।
বেরোনোর দরকার নেই। লোকটা আপনাদের দেখে ফেলতে পারে।
আমি না বলা পর্যন্ত এখানেই থাকুন।
শুনুন, বাদীকে উনার অভিযোগপত্র আর আইডি নিয়ে বেরোতে বলুন।
- অভিযোগপত্র আর আইডি? - জি, ধন্যবাদ।
পুলিশদের না নিজেদের পার্সোনাল গাড়ি থাকে?
হ্যাঁ, তা থাকে।
বেচারা সাংবাদিকের আজ অনেক টাকা খসবে মনে হচ্ছে।
- সিগারেট? - না, ধন্যবাদ।
- আপনার দেশের বাড়ি কোথায়? - ইস্ফাহান।
অথচ আপনার পোস্টিং এখানে?
আমার দেশের বাড়ি কিন্তু তেহরান আর আমার পোস্টিং ছিল ইস্ফাহানে,
মানে আপনার উল্টোটা।
- সবই ভাগ্যের খেল। - ইস্ফাহান জায়গাটা ভালো।
- আপনার দেশের বাড়িও কি ইস্ফাহান? - না। বোরুজার্দ।
বোরুজার্দ? ইন্টারেস্টিং।
আমার দেশের বাড়ি আসলে Naeem-এর নিকটবর্তী এক গ্রামে।
- মানে Yazd-এর কাছাকাছি? - জি। আমার গ্রামের বাড়ি জান্দাগ-এ।
- এখানের মেয়াদ শেষ হত কত সময় বাকি? - আমার এক বছর হলো এখানে।
তাহলে আর কত সময় বাকি?
দুই বছর, যেহেতু এখনও অবিবাহিত।
বিয়ে হলে সেক্ষেত্রে ১৮ মাস।
কয়েক সপ্তাহ'র মধ্যে আমার নতুন পোস্টিং হবে।
- কোথায়? - কুর্দিস্তান-এ
- Baneh-এর কাছে? - জি।
যখন কাজের চাপ কমবে, তখন বাড়ি গিয়ে বিয়ে করে নিয়েন।
ইনশা আল্লাহ্। আল্লাহ্ যদি বাঁচায় রাখেন।
- আপনি কি বিবাহিত? - জি।
- সন্তানাদি আছে? - এক ছেলে।
অনেক বড় হোক।
- মিঃ আবোলফজল আহানখাহ্? - জি।
- লোকটার কাছে বন্দুক-টন্দুক আছে নাকি? - মনে হয় না।
দাঁড়ান। আমার ব্রিফকেসটা আনতে ভুলে গেছি।
এইযে জনাব, যদি সত্যি কথা বলেন,
তাহলে একটা ব্যবস্থা করতে পারি আমি।
যা-ই বলি, আমাকে আপনারা একজন চোর
ও প্রতারক হিসেবেই দেখবেন।
টেপ রেকর্ডার কোথায়?
বাসায় কেউ নেই।
আমার একটা রেকর্ডার লাগবে। সেটা ছাড়া কোনো কাজ হবে না।
পুলিশ স্টেশনে দেখা হবে।
- ভাড়া দিবেন না? - কত হলো?
৩৫০ টোমান।
মিঃ আহানখাহ্, একটু ধার দিন তো।
কিছু মনে করবেন না।
এইযে। স্টেশনে দেখা হবে।
একটা টেপ রেকর্ডার যোগাড় করতে হবে।
উনাদের তো আমরা চিনিও না।
- জি? - দুঃখিত, ভুলে চাপ পড়েছে।
উনারা বাসায় নেই।
জি?
এক্সকিউজ মি। আমার নাম ফারাজমান্দ।
আমি একজন সাংবাদিক ও আপনাদের প্রতিবেশী মিঃ আহানখাহ্'র বন্ধু।
আমার একটা টেপ রেকর্ডার দরকার।
আমাদের কাছে কোনো রেকর্ডার নেই।
আচ্ছা, ধন্যবাদ।
জি?
আমার নাম ফারাজমান্দ ; পেশায় সাংবাদিক।
আমি আপনাদের প্রতিবেশী মিঃ আহানখাহ্'র বন্ধু।
আমার একটা টেপ রেকর্ডার দরকার।
আমার কাছে তো নেই।
- নেই? - না।
আমার নাম ফারাজমান্দ ; পেশায় সাংবাদিক।
- মিঃ ফারাজমান্দ ! - জি?
রেকর্ডার পেয়েছেন?
আজ বিকালেই ফেরত দিয়ে দিবো।
ক্লোজ-আপ
সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
ডকুফিল্মটিতে কোনো কাল্পনিক চরিত্র নেই। প্রকৃত ঘটনায় সাথে জড়িত ব্যক্তিরাই ছবিটিতে অভিনয় করেছেন।
পরিচালকঃ আব্বাস কিয়ারোস্তামি
গ্রেফতার হলো ভুয়া মাখমাল্বাফ
- আচ্ছা, এখানকার ইন-চার্জ অফিসার কে? - ক্যাপ্টেন বাশারী।
- উনার সাথে কথা বলা যাবে? - আমি ডেকে দিচ্ছি।
ক্যাপ্টেন, এক লোক দেখা করতে এসেছে।
আসসালামু আলাইকুম, ক্যাপ্টেন।
সোরুশ ম্যাগাজিনে পড়লাম যে আপনার লোকেরা নাকি
হোসেইন নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে -
জি। হোসেইন সাবজিয়ান-কে গ্রেফতার করেছিলাম আমরা।
আর্টিকেলটা আমাদের এখানেই আছে। দেখবেন?
বারাতি, ম্যাগাজিনটা নিয়ে আসো তো।
আসলে আর্টিকেলটা আমার পড়া আছে।
আপনারা আমাকে ঘটনাটার আরেকটু ডিটেইলস দিলে ভালো হত।
আমার পুরোপুরি মনে নেই। কয়েক সপ্তাহ আগের ঘটনা।
আসলে আমরা এত ব্যস্ত যে সবকিছু মাথায় থাকে না।
যেই বাড়িতে ঘটনাটা ঘটেছিল,
সেটার ঠিকানা দিতে পারবেন আমাকে?
রেকর্ড চেক করতে হবে। বারাতি, ফাইলটা নিয়ে আসো তো।
দুই সপ্তাহ আগের ঘটনা না? তাহলে এতদিন পর পাবলিশ হলো কেন?
এক সপ্তাহ পরই পাবলিশ হয়েছিল।
- লোকটা তো এখানেই আটক ছিল, ঠিক না? - জি, কয়েকদিন।
কী ধরনের মানুষ সে?
কথাবার্তা শুনে বেশ ধার্মিক মনে হচ্ছিল।
গ্রেফতারের সময় তুমি ছিলে না?
No comments yet. Be the first to leave one.