200 ensimmäistä riviä.
অনেক দীর্ঘ গল্প, কফি?
« »
« ৬ঃ৩০ »
অনুবাদ ও সম্পাদনায়: ⌛ জয়ানন্দ ঘোষ ⏳
এটা আবারও ঠিক করতে হবে?
না আমার পিয়ানো কাজ করছে, না আমি পিয়ানোতে সুর তুলতে পারছি!
অরুণ ভাই...অরুণ ভাই!
মনে হয় কেউ গাছের সাথে দড়ি বেঁধে রেখেছে।
আশা করি ব্যাথা পাওনি।
টিঙ্কু, তুই এখানে কী করছিস?
তুমি যেহেতু চোখে দেখতে পাও না, তাই অটো পর্যন্ত পৌঁছে দিতে এসেছি।
আমি মাত্রই এসেছি।
তাই না-কি?
যা, অটো নিয়ে আয়।
আচ্ছা, আমি যদি অটো নিয়ে আসি...
আমাকে দশ রুপি দিতে হবে।
মাত্র দশ রুপি? এইযে নে, ধর!
আমি জানি তুই-ই দড়ি বেঁধেছিস।
যদি আবার কখনো এমন করিস,
তাহলে তোকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখবো।
যা, ভাগ!
দুঃখিত, স্যার! দুঃখিত!
দুঃখিত, স্যার!
কিছু মনে করবেন না, স্যার... আমি অন্ধ!
সমস্যা নেই!
আমাকে অটোস্ট্যান্ডে পৌঁছে দিতে পারবেন?
অবশ্যই!
- স্যার! স্যার! - কী ব্যাপার?
এখানে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে।
কাজ শেষ হতো দু'সপ্তাহ লাগবে, অনুগ্রহ করে অন্য রাস্তা দিয়ে যান।
আচ্ছা, সমস্যা নেই।
আমরা অটোস্ট্যান্ডে এসে পড়েছি।
অনেক ধন্যবাদ ভাই! আপনি একজন অন্ধকে সাহায্য করেছেন।
আপনার মঙ্গলের জন্য ইশ্বরের কাছে প্রার্থনা করবো।
আমিও একজন অন্ধ, ভাই!
কী? কী বলছেন আপনি?
তাহলে আমাকে এখানে নিয়ে এলেন কীভাবে?
আসলে, আমি প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি।
তাই, কোন রাস্তা দিয়ে যেতে হবে বা হবে না...
সে-সম্পর্কে ভালো ধারণা আছে।
হয়তো প্রথমবারের মতো এমন চমকপ্রদ ঘটনা ঘটলো..
এক অন্ধ আরেক অন্ধকে রাস্তা দেখিয়ে দিলো!
পুনরায় এমনটা করতে যাবেন না, স্যার।
আমাদের মতো অন্ধদের জন্য দিন-রাত সমান!
আমাদের দুনিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এই দুনিয়ায়, প্রতিটা শব্দে আমি সঙ্গীত খুঁজে বেড়াই।
অন্ধ হওয়া কতো কষ্টের সবাই তা জানে।
কিন্তু সুবিধাও আছে।
আর সেটা হলো মনোযোগ!
যদিও এমনকি আমরা চারদেয়ালের ভেতরে কাজ করি,
আমরা সমুদ্রের কলধ্বনি শুনতে পাবো..
বাতাসের স্নিগ্ধতা অনুভব করতে পারবো,
সেই সাথে সঙ্গীতের দুনিয়ায় আত্মাকে বিলিয়ে দিতে পারবো।
এটা ২০...২৫...৩০!
আচ্ছা, দারুণ!
মাস্টার, আসো..
হাই, স্যার!
দীর্ঘদিন পর তোমায় দেখলাম।
কিছুক্ষণ আগে, দু'জন লোক...
ভালো পিয়ানোবাদকের খোঁজে দোকানে এসেছিলো।
তাদেরকে তোমার সম্পর্কে বলেছি।
কবে থেকে ক্লাস শুরু করতে পারবে? তাদেরকে কী উত্তর দিবো?
নতুন কোনো ক্লাস নিতে চাই না, স্যার।
এমনকি আমি ছাড়ার ধান্ধায় আছি!
কেন? কী ব্যাপার?
- এমজি রোডের মন্টির কথা মনে আছে? - হ্যাঁ!
সে আমাকে জ্বালিয়ে মারছে।
আমাকে তার বাসায়ও যেতে হয়!
মি.সুকন্যা পিয়ানো শিখতে আগ্রহী। তাকে কেন শিখাচ্ছো না?
হ্যাঁ, উনি পিয়ানো শিখা অপেক্ষা আমার উরু আর গালে হাত বুলাতে পছন্দ করেন!
নিকৃষ্টতর! আমার তো মনে হয় না উনি এমন মহিলা!
চোখে দেখতে পাওয়া লোকদের এটাই বিরাট সমস্যা।
চোখ থাকতেও কখনো অন্যের চরিত্র সম্পর্কে জানতে পারবেন না!
সবকিছু শুধু অন্ধবিশ্বাস করতে হবে।
আপনাদের পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব!
দু’মাস পর প্রতিযোগিতা শুরু, আমি এখন সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে চাই।
যতই চেষ্টা করি না কেন, আমি সুর শেষ করতে পারি না।
তাছাড়া পিয়ানো আবার নষ্ট হয়ে গেছে, সেটাও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেরামত করা দরকার।
কম দামে পিয়ানো বিক্রি করে এমন দোকানের নাম বললে কিনতে পারতাম।
ব্যবহৃত হলেও সমস্যা নেই।
আচ্ছা!
- হাই, স্যার! - হাই!
আসার জন্য ধন্যবাদ!
অনেক অনেক ধন্যবাদ!
- আপনার স্ত্রী আসেনি? - হ্যাঁ, এসেছে তো!
সিমরান?
সিমরান?
হেই!
হ্যালো, নমস্কার!
শুভসন্ধ্যা সবাইকে!
এনজিও সংস্থা ‘Give Life’ এর অঙ্গদান প্রচারণা শুরু করার আগে,
আমরা চাই একসময়ের সেরা অভিনেতা...
‘চিত্রম ভালারে ভিচিত্রম’ খ্যাত...
একসময়ের অভিনেতা মানে?
- ‘নালুগু স্তামবালাতা’ খ্যাত... - বসে পড়ো, সিমরান!
তুমি কেন বিরক্ত হচ্ছো?
সে ভুল কী বলেছে?
অনেকগুলো মুভিতে তিনি দারুণ অভিনয় করেছেন।
তোমার কি মনে হয় না ভুল বলেছে?
অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ... সবসময়ের জন্যই তুমি একজন অভিনেতা!
সবাই তার জন্য করতালি দেই!
স্যার, প্লিজ!
সবাইকে শুভেচ্ছা!
যখন ‘Give Life’ সংস্থা অঙ্গদান প্রচারণার জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানায়,
তাদের আমন্ত্রণ অগ্রাহ্য করতে পারিনি।
কারণটা হলো আমার মেয়ে, পবিত্র।
তার মতে, সিনেমায় যারা অভিনয় করে তারা কখনোই সত্যিকারের বীর নয়।
যারা অন্যকে সাহায্য করে তারাই প্রকৃত বীর!
আমার মেয়ের কাছে আমি বীর হতে চাই.. সেজন্যই আজ সবকিছু ফেলে এখানে এসেছি।
আজকের এই শুভদিনে,
আমি আর আমার স্ত্রী সিমরান অঙ্গদান করছি।
“ ২০২১ সালে কে এই গান শুনছে? ”
“ দুর্দান্ত অভিনয়! ”
“ এখনো আমরা তোমায় ভালোবাসি, মোহন! ”
“ এখনো এতো তরুণ! ”
হাই, রাজকন্যা! কেমন আছো?
ভালো আছি, বাবা।
দুঃখিত বাবা, শেষমুহুর্তে কলেজে পরীক্ষা নেওয়ায় আসতে পারিনি।
কিন্তু অঙ্গদান করায় তোমাকে অনেক ধন্যবাদ!
তোমার জন্য যেকোনো কিছু করতে পারি, মা... তোমাকে অনেক ভালোবাসি!
জানু, পবিত্র ফোন করেছে।
ওহ, হাই পবিত্র!
- কেমন আছো? - হাই!
তোমার সবগুলো পরীক্ষা শেষ হয়েছে?
এখনো তিনটা বাকি আছে, সোমবার নাগাদ শেষ হয়ে যাবে।
বাবা এখন প্রতিদিন জগিংয়ে যায়?
জগিং?
জগিং বাদ দিয়ে, সে সারাদিন তার অভিনীত পুরাতন সিনেমার গান শোনে।
কোনো চিন্তা করো না। আমি তাকে সামলাবো, ঠিক আছে?
আচ্ছা, বাই!
- বাই, বাবা! - বাই!
পবিত্র আমার সাথে আগন্তুকের মতো আচরণ কেন করে?
সে আমাকে সিমরান ডাকতে পারে না?
সে এখনো বাচ্চা, মানিয়ে নিতে সময় লাগবে।
বিয়ের প্রায় দু'বছর হয়ে গেছে, মোহন!
আর কতো সময় লাগবে?
এখন, চলো কাঁকড়ার তরকারি রান্না শিখি..
কোনো কাঁকড়াকে যদি গরম পানিতে ছাড়ি, তাহলে সেটা নিশ্চিত মারা যাবে।
কিন্তু আমি হঠাৎ অভিঘাত দিতে চাই না।
তাই আমি তাকে দু'ঘন্টা ফ্রিজে রেখেছিলাম।
এখন...
এখন যেহেতু এটা ঘুমিয়ে আছে,
গরম পানিতে ছেড়ে বাকি কাজ সম্পন্ন করবো।
তুমি জানো...
কাঁকড়ার মাংস খুবই কামোদ্দীপক বস্তু!
আবার বলো না কামোদ্দীপনা বুঝো না...
তুমি চাইলে, রাতে অর্থ বুঝাবো!
দুর্দান্ত! অসাধারণ অভিনয়!
টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করা উচিত তোমার!
আমি কয়েকজন প্রযোজককে চিনি।
তাদের সাথে তোমার পরিচয় করিয়ে দিবো?
অনুষ্ঠানের নামও ভেবে ফেলেছি!
“ সিমরানের দুর্দান্ত খাবার রেসিপি ”
তোমার কী মনে হয়?
তুমি মিথ্যা বলছো!
গত চারবছর যাবৎ একই কথা বলছো...
প্রতিবারই বলো কারো না কারো সাথে পরিচয় করাবে...
আমি জানি তুমি কিছুই করবে না.. তুমি শুধু আমার দেহ ব্যবহার করছো!
সিমরান, তুমি ঠিক আছো?
- জল...জল? - হেই! একদম কাছে আসবে না!
তোমার গোপন কথা জানি বলে, বিষ খাইয়ে মারার চেষ্টা করছো, তাই-না?
- না, একদমই না! - তুমি এতোটা অপরাধপ্রবণ হয়ে গেলে কবে থেকে?
কী ব্যাপার? রেকর্ড করোনি?
মোহন?
তোমার কি মনে হয় এসব সত্যি?
আমি তো অভিনয় করছিলাম!
হায় ইশ্বর!
‘নার্স রাধা’ ওয়েব সিরিজের জন্য অভিনয় করছিলাম।
গল্প কিছুটা এমন হবে...
রাধা একটা হাসপাতালের নার্স, যে কি-না ভিন্ন উপায়ে রোগী খুন করে!
ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তোমার অনেক বন্ধু আছে, তাই-না?
আমার তারিফ করবে না?
হ্যাঁ, দারুণ অভিনয় করেছো!
ধন্যবাদ!
- তোমাকে ভালোবাসি, সিমরান... - তোমাকেও অনেক ভালোবাসি!
হ্যালো? কে বলছেন?
হ্যালো, মাস্টার! আমি সুব্রামানিয়াম বলছি।
তুমি বলেছিলে পিয়ানো লাগবে, আমি তোমাকে সোফির নম্বর দিচ্ছি।
তার সাথে কথা বলে দেখো।
সে নিশ্চয় ফোন করেছিলো.. আমি কথা বলে আপনাকে জানাচ্ছি।
- আচ্ছা। - বাই!
- হ্যালো? - হ্যালো, অরুণ কথা বলছেন?
হ্যাঁ, সোফি?
হ্যালো?
আপনার কথামতো ঠিক জায়গায় এসেছি।
আমিও এসেছি।
আমি সাদা রঙের পোশাক পড়েছি, গোলাপী রঙের বাইকের পাশে দাঁড়িয়ে আছি।
দুর্দান্ত কম্বিনেশন, সোফি!
কিন্তু এমুহূর্তে আমি কালো ব্যাতীত অন্য কোনো রঙে দেখতে পাই না।
কী বলতে চাচ্ছেন?
পরে বলছি, আমার হাতে এখন লাঠি আছে...
ওহ, আপনাকে দেখেছি!
- দুঃখিত! - সমস্যা নেই, আসুন।
দুঃখিত, অত্যন্ত দুঃখিত! আমি আসলে জানতাম না...
সমস্যা নেই! কোনো অন্ধের সাথে প্রথমবার দেখা করছো?
হ্যাঁ!
বুঝতে পেরেছি, আমরা যেতে পারি?
তোমাকে কেউ সাহায্য করতে আসবে?
মানে..পিয়ানো চেক করতে আরকি!
পিয়ানো চেক করার জন্য হাতের আঙ্গুল যথেষ্ট নয় কি?
No comments yet. Be the first to leave one.