200 ensimmäistä riviä.
অনুবাদ ও সম্পাদনায়ঃ সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
"২০৯২ সালে, জঙ্গল বিলীন হয় আর মরুভূমি হয় প্রশস্ত।"
"সূর্যের ম্লান হাওয়া এবং অ্যাসিডিক মাটির কারণে গাছপালা বিলুপ্ত হয়ে পড়ে।"
"অসুস্থ পৃথিবী ছেড়ে,"
"ইউটিএস কর্পোরেশন মানবজাতির জন্য তৈরি করে এক নতুন বাসা।"
"কিন্তু বাছাইকৃত কিছু লোকই সেখানে আহরণ করতে পারবে।"
"স্যরি, কিন্তু এবারে আমার হাতের অবস্থা একটু খারাপ।"
এটা আসল চাল। এর নিশ্চয়ই কোনো মূল্য আছে। ট্রাই করে দেখতে...
ধ্যাত! ফালতুমার্কা জিনিস!
ট্রান্সলেটর আবারও ঠিকমতো কাজ করছে না।
যখনই এখানে আসো তোমার টাকার অভাব থাকে।
আহ, থামো, ভাইলোগ। আচ্ছা, আচ্ছা। একটা সেকেন্ড…
ব্যস এক নজর দেখতে চাই। এই তো। এটা সত্যিই কি এত কঠিন?
- আরে! তোমাদের তো সবসময়ই দিই… - দেখার কিছু নেই!
এটা সে হলে, তোমাকে অ্যালার্ট করা হতো!
জানবে কী করে, হুহ? ছাড়ো! এই, এই! এইবারের মতো আমাকে ভেতরে যেতে দাও!
যথেষ্ট হয়েছে।
ওকে আসতে দাও।
কিন্তু এটুকুতে আমার মন ভরবে না। তোমার ম্যাগনেটিক বুটগুলো দারুণ।
গতকালই খুঁজে পেয়েছি। জানো তো, এগুলো আমি নিজে ঠিক করেছি?
আমার শিপে শুধু আমারই জুতা ছিল না...
খুলো ওগুলো।
স্পেস শাটল ক্র্যাশ। পাঁচদিন আগে কুবুচি মরুভূমিতে ঘটেছিল।
লাশ একটা পোড়া স্পেস ক্যাপসুলের ভেতর ছিল।
বর্ণনার সাথে সব মিলে।
মেয়ে, বয়স সাত বছর।
কিন্তু…
তোমাকে বলেছিলাম এটা সে নয়।
ওকে এখানে পৃথিবীতে খুঁজে পাবে না।
মনে হয় সে ইতোমধ্যে ভেসে অনেক দূরে চলে গেছে।
ট্রানজিট করার জন্য টাকা আছে তোমার কাছে, ত্যে-হো?
বেচারা।
আশা লুপ্ত হয়েছিল।
পৃথিবী তবুও নিঃশ্বাস নিচ্ছিল, কিন্তু লাইফ সাপোর্টের সাহায্যে।
পৃথিবী আর বাসযোগ্য না হওয়ায়, যাবার মাত্র একটাই জায়গা ছিল তা হলো উপরে।
লেডিস এন্ড জেন্টেলম্যান,
আমরা এইমাত্র ইউটিএস-শাসিত ইন্টারপ্ল্যানেটারি স্পেসে প্রবেশ করেছি।
অরবিটে স্বাগত।
"ইউটিএস রেসিডেন্সিয়াল ডিস্ট্রিক্ট"
পৃথিবী একসময় জীবনের প্রতীক ছিল।
স্পেস, মৃত্যু।
এখন, প্রযুক্তির বদৌলতে,
আমরা আকাশের উপর কোনো নদীতেও মাছ ধরতে পারি।
বাচ্চারা আবারও সুবিশাল সবুজ মাঠে প্রজাপতিদের পিছু নিতে পারবে।
এ তো কেবল শুরুয়াত ইউটিএস এর জন্য।
আপনারা সবাই এই গলা চিনেন।
এবার লোকটার সামনা-সামনি দর্শন পাবেন।
ডাক্তার, ফিজিসিস্ট, এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার, হিস্টোরিয়ান।
উনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনবান
পাশাপাশি সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ, যার বয়স ১৫২ বছর।
লেডিস এন্ড জেন্টেলম্যান, আপনাদের পরিচয় করাতে চলেছি ইউটিএসের প্রতিষ্ঠাতা,
আমাদের স্বর্গীয় প্রাসাদের স্রষ্টা, মানবজাতির ত্রাণকর্তা,
জেমস সালেভান সাহেবের সাথে।
সালেভান… সালেভান সাহেব।
পৃথিবী থেকে রিপোর্টাররা এসেছেন।
আহ।
হাই।
এটা জেনেটিক্যালি মডিফাইড "শেফলেরা অরবোরিকলা"।
আনমডিফাইড প্রজাতির চেয়ে আট গুণ বেশি অক্সিজেন উৎপন্ন করে।
এটা প্রাকৃতিক সারে ভালোই প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।
বৃদ্ধির হার চমৎকার।
মঙ্গল গ্রহের জমিন থেকে এই মাটি এসেছে।
বিশ্বাস হয়?
স্বাগত।
মজা করছিলাম। প্লিজ, আসুন।
যেমনটা আমরা সবাই জানি,
ইউটিএস-এ, আমরা জীবন বৃক্ষ, সুপার প্ল্যান্ট ব্যবহার করে
সতর্কতার সাথে মঙ্গলগ্রহকে জীবনের জন্য উপযোগী করে তুলছি।
এখন, তিনদিনের মধ্যে…
…যখন মঙ্গল গ্রহ অরবিটের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করবে,
আমরা তখন নতুন মার্স কলোনির গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের ঘোষণা দিব।
এটা?
এটা নোংরা নয়।
মানুষরা হচ্ছে নোংরা।
প্রকৃতির বিরুদ্ধে তাদের অপরাধ হচ্ছে নোংরা।
কিন্তু আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি, এর কোনোটাই আমাদের নতুন স্বর্গোদ্যানে হবে না।
আরও কিছু আছে যা আপনার নতুন স্বর্গোদ্যানে থাকবে না।
মানব জনসংখ্যার ৯৫ শতাংশ।
তারা এখনও পৃথিবীতে বাস করছে, যা এখন নরকে পরিণত হয়েছে।
পিছনে ফেলে আসা লোকগুলোর কী হবে?
বা পৃথিবী থেকে আসা স্পেস শ্রমিকদের?
একটা মানবিক সংকট যা আমাদের চোখের সামনে ঘটছে।
আজকের প্রেস কনফারেন্সের উদ্দেশ্য হচ্ছে...
না, না, উনি… উনি ঠিক বলেছেন।
এটা প্রকৃতপক্ষে একটা সংকট, কোম্পানি হিসেবে, আমরা এর সমাধান খুঁজে বের করব।
স্পেস আবর্জনায় ভর্তি।
মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যাটেলাইট, পরিত্যক্ত স্পেস যানবাহন,
এবং স্পেস নির্মাণ উপকরণের অবশিষ্টাংশের সাথে
সংঘর্ষ করে কোটি কোটি ধাতব টুকরো সৃষ্টি করেছে
যা বিপজ্জনক অবস্থায় স্পেসে ভাসছে।
কোনো গতিশীল বুলেটের চেয়েও দশ গুণ দ্রুত উড়ে...
কর্মীরা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে স্পেসের ধ্বংসাবশেষের ধাওয়া করছে...
যাতে ব্যস তাদের পরের বেলার খাবারটা জোগাড় করতে পারে।
দেখুন।
আমিই প্রথম স্বীকার করব যে আমাদের স্বর্গোদ্যান পারফেক্ট নয়। এখনও অবধি।
কিন্তু আমি খুশি মনে এই ব্যাপারে আপনার সাথে গভীরভাবে আলোচনা করব।
"সোলার ব্যাটারি পরিবর্তন করার জায়গা"
স্পেসের ধ্বংসাবশেষ, ১.৭ টন। এইমাত্র একটা স্যাটেলাইটের সাথে ধাক্কা খেয়েছে।
খুব সম্ভবত লাগরেনজিয়ান পয়েন্ট থেকে এসেছে।
গতি আছে ৭ কি.মি. প্রতি সেকেন্ড, এখনও স্লো।
জেলিফিশ থেকে সাবধান।
ইউটিএস প্রোপার্টির কোনো ক্ষতি হলে কপালে কিছুই জুটবে না আমাদের।
এটা ডিস্ট্রিক্ট ডি ৭৯.৩৪৮ থেকে ৩০ এ যাচ্ছে।
যে স্যাটেলাইটটা বাগিয়েছ, সে দূরে থাকো।
এর জন্য তোমাকে দিতে হবে কমপক্ষে ৮০০ ডলার।
ধীরে। আরামসে।
ওরা এখানে নেই। তাই না?
- কে? - কী মনে হয় কে?
শুনেছি গতকাল পৃথিবীতে গেছে।
ওরা এত জলদি ফিরবে না।
- বাল! - আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না!
বলেছিলে ওরা এখানে থাকবে না!
"ভিক্টোরি"
চল ফুট আমার রাস্তা থেকে, আনাড়ির দল।
আমাদের শিকার দখলে নেওয়া যাক।
গতি বাড়াও।
ভিক্টোরি। আপার ডেক গ্র্যাভিটি লেভেল ০.৮ জি'স।
ম্যাগনেটিক কমপেনসেশন ১.২ জি'স।
আহ, সর সামনে থেকে। আমি দেখাচ্ছি কীভাবে করতে হয়।
- মনোযোগ ধরে রাখো! - ওদের থামাও!
ওরা এটা অন্যদিক থেকে টানছে!
ধরো ওদের!
ধরো ওটা!
শালা ভিক্টোরি চুতমারানির দল!
ঐ খানকির পোলাদের ভোগে পাঠাবো!
- বানচোত! - ওদের মেরে ফেলো!
ইস, মুখের ভাষা কত খারাপ!
কল্পনাও করা যায় না। এত গালাগালির কি দরকার আছে?
এই, পার্ক। ওরা আমাদের কাছে আসছে।
বটের কথা শুনলে তো? গতি বাড়াও, পার্ক।
আমি ওদের কাউকে এখানে নিচে এসে কাজটা করতে দেখতে চাইব।
খেল খতম করার সময় হয়েছে, ভাইলোগ।
ওরা পালাচ্ছে! গতি বাড়াও!
ভালো হবে আমার মটকা গরম হবার আগেই থেমে যাও।
ব্যস ধরো ওদের!
সত্যিই সব নিয়ে যাবে?
দূর হও, জাং! এখানে আমরা প্রথম এসেছি!
ভাগাভাগি করা যায় না?
অন্য শিপগুলোর কথা একটু চিন্তা করো!
মারা খাও!
আমাকে এমন কারো সাথে গুলিয়ে ফেলছিস যে এসবের তোয়াক্কা করে।
সামনে সোলার প্যানেল।
রাস্তা বদলান। রাস্তা বদলান।
ভাইলোগ, আমরা কি এটা পার করতে পারব?
- ধরতে পারলে তোদের খবর আছে! - এর জন্য তোরা নরকে যাবি!
পরেরবার তোদের রেহাই নেই!
তোমার মধ্যে কোনো নৈতিকতা নেই, ত্যে-হো!
তাহলে বলো তোমাদের সাথে কীভাবে যায়।
নৈতিকতা শেখাতে এসেছে, হুহ?
আহ, তোমরা ভালো করছ। এত পরিশ্রম, ভাভাগো!
ব্যস কিছু পয়সা কামানোর জন্য, তাই তো?
তোকে মেরে ফেলব।
খানকির পোলা!
এই। কী… কী এটা?
ইউটিএস ডিস্ট্রিক্ট ৩ এর নিকটে এগোচ্ছি।
- কী করছ? - আমরা ধাক্কা খেতে চলেছি!
- শিপ ঘুরাও! - ওহ, ধুর, ধুর! থামো!
ওরা যদি আমাদের ইউটিএস এর ভেতর ধরে ফেলত, তবে খবর ছিল!
- দেখে! - সাবধানে!
- বেশ, এন্টেনা গেল ভোগে। - কি এক যন্ত্রণা!
"ফ্যাক্টরি: ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট স্যাটেলাইট"
ভিক্টোরি। দেখা যাক। হুম।
২১০ কিলোগ্রাম টাইটেনিয়াম।
৪৮০ কিলো রিইনফোর্সড কার্বন-কার্বন।
অ্যালুমিনিয়াম হানিকম্ব, ১৭। অন্যান্য ম্যাটেরিয়াল, ৩৯।
সব মিলিয়ে ৫৮৪ ডলার।
- আর গাড়িটা? - গ্যারেজে জায়গা নেই।
যাইহোক, এটা যদি এখান থেকে পৃথিবীতে নিয়ে যেতে চাও,
তাহলে রিঅ্যাসেম্বলির জন্য তোমাকে বাড়তি ৭০ হাজার দিতে হবে।
যদি দিতে না চাও, তবে নিজে বসে বসে এটা জোড়া লাগাও।
ওহ।
দেখতে পাচ্ছি তুমি জেলির একটা এন্টেনা ভেঙেছ।
তার জন্য তোমাকে ১৩০০ ডলার দিতে হবে।
আমরা এই টাকা থেকে বাদছাদ দিয়ে বাকিটা তোমার অ্যাকাউন্ট থেকে সংগ্রহ করতে পারি।
এগুলো তোমার ট্যাক্স। পরিশোধ কোরো।
তাহলে টাকা দেখালে কেন?
টাকা দিবেই না যখন, দেখালে কেন? শয়তান কোথাকার!
দাও আমাকে! টাকাগুলো দাও!
এই। এগুলো কোম্পানির টাকা।
তোমার এক চোখ খোলা রেখে ঘুমালেই ভালো হবে। আমি দেখা করতে আসতে পারি।
- কিছু এসেছে? - ব্যস একটা।
থান্ডারবোল্টে ১২ কেজির বরফজমা খাসির মাংস।
রেফ্রিজারেটর স্পেসশিপে দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তিন বছর হলো ওর খোঁজ করছ।
করবেটা কী?
কী করব? টাকা কামাবো।
টাকা কামানোর জন্য আমি যেকোনো কিছু করতে পারি।
সত্যি, যেকোনো কিছু।
ওহ, ত্যে-হো, তুমি এখানে! শুনলাম এইমাত্র পৃথিবী থেকে এসেছ, হুহ?
এখনো হাতে কিছু লাগেনি?
পায়ে প্লাস্টিক ব্যাগ পড়েছ কেন, হুহ?
ওহ, ক্যাপ্টেন জাং কেমন আছে? আগের মতোই সুন্দর?
তোমাকে বলতে বলেছিল।
আমাকে? কী বলেছে?
যদি ওর সাথে আবার কথা বলেছ, ও তোমাকে ভোগে পাঠাবে।
- ঠিক আছে। - এটা ভালো। এটা ভালো।
- টিভি দেখা যাক। - ধুলা। আক্রমনাত্মক ভাইরাস।
- পঁচিশ, বায়ান্ন। - গ্যাস মাস্কে…
এদিকে, ইউটিএস কতৃপক্ষ ডরোথির খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে…
- ওকে এত আসল দেখতে। - এটা দেখেছ?
No comments yet. Be the first to leave one.