نخستین 200 خط.
ব
বঙ্গা
বঙ্গানু
বঙ্গানুবা
বঙ্গানুবাদে
বঙ্গানুবাদে -
বঙ্গানুবাদে - মা
বঙ্গানুবাদে - মারি
বঙ্গানুবাদে - মারিব
বঙ্গানুবাদে - মারিব সি
বঙ্গানুবাদে - মারিব সিরা
বঙ্গানুবাদে - মারিব সিরাজ
SOLDIER BOY (2019) বালক সেনা
উৎসর্গ করা হয়েছে মহান স্বাদেশিক যুদ্ধের সর্বকনিষ্ঠ নায়ক সের্গেই আলেশকভ (জন্ম ১৯৩৬) এর প্রতি।
অনুবাদ ও সম্পাদনা মারিব সিরাজ
Buy Me a Coffee ☕ Bkash/ Nagad/ Rocket 01793170546
মা!
মা।
এই! পিটার!
- মাছদের ভয় দেখিও না। - দেখ, আমি কোথায় উঠেছি।
আরে, নিশ্চয়ই ভয় পাচ্ছো!
মোটেও ভয় পাচ্ছি না।
সেরেজা, পিটার, লুকাও!
না, ভয় লাগছে না তো।
হুররে! আমি মেরেছি!
তুই একটু দাঁড়া।
লাগাতে পারলাম না। এবার ওদের মজা দেখাবো।
হুররে! আমি মেরেছি! সবাই আমার সাথে থাকো!
মা, তুমি কোথায়?
মা!
মা!
তুমি কোথায়?
মা...
সেরেজা...
মা...
মা!
মা!
তুমি বেঁচে আছো,
- ঈশ্বরকে ধন্যবাদ তুমি বেঁচে আছো! - মা এখানে নেই।
আর পিটারও নেই। ওরা...
...জঙ্গলে খাবার নিয়ে যাচ্ছিল, কার কাছে যাচ্ছিল তুমি তো জানোই।
হ্যাঁ, আমি জানি। কিন্তু ওরা আর কখনো ফিরে আসবে না।
আমাদের বাসায় চলো, ঠিক আছে?
- না আমি যাবো না। - চুপ, চুপ...
মা আমাকে ভরসা করে বাসায় রেখে গেছে।
আমি মুরগিগুলোকে খাওয়াবো আর মা ও পিটারের জন্য অপেক্ষা করবো।
ছোট্ট খোকা, ওরা আর ফিরবে না। ওদের মেরে ফেলেছে।
তুমি তার ছেলে জানতে পারলে, ওরা তোমাকেও মেরে ফেলবে।
আর সেই সাথে বিপ্লবীদেরও। আমাদের বাসায় চলো, ঠিক আছে?
ভয় পেও না।
আমি ওদের বলবো তুমি আমার ছেলে।
তুমি আমার ছেলে, বুঝতে পেরেছো?
- না, না... - ভয় পেও না।
- মা... - চুপ, চুপ...
নিশ্চয়ই এখানে আছে।
ঈশ্বর, অনেক দেরী হয়ে গেছে। এদিকে এসো।
জীবন বাঁচাতে চাইলে দৌড়াও! যাও!
হে ঈশ্বর...
মা...
মা!
মা!
মা...
মা!
মা...
আমি কোথায়? আমার মা কোথায়?
মা, আমি হারিয়ে গেছি।
মা...
মা...
কে তুমি?
কাছে আসবে না। আমার কাছে রাইফেল আছে।
আমি ভয় পাই না, দেখলে? নড়বে না।
আমি মোটেও ভয় পাই না।
আমি তোমাকে ভয় পাই না।
কী খুঁজছো, কাঁটাওয়ালা প্রাণী?
যাও, আমাদের লোকদের সতর্ক কর...
তুমি দ্রুত যেতে পারবে, জানোই তো।
- এই বার্তাটা পাঠাও। - জি, মেজর।
এখানে একটু দেখুন, সের্গেভিচ।
যদি স্কাউটরা নিশ্চিত করে ২৫নং সেক্টরে জার্মানরা আছে,
তাহলে জায়গাটা দখলে রাখা কঠিন হবে।
আমাদের আর্টিলারি বাহিনীকে সরিয়ে নিতে হবে।
কমান্ডার, রিপোর্ট করার অনুমতি পেতে পারি?
২৫নং সেক্টরের কী অবস্থা?
আমরা এখনও এতদূর পৌঁছাইনি।
আমরা... সত্যি বলতে...
- ...বনে। - এসব কথা বাদ দাও।
আমি তোমাকে ছুটি কাটাতে পাঠাইনি।
তুমি কি আমার আদেশ ভুলে গেছ? ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি হতে চাও?
আমার ভুল হয়েছে, কমান্ডার।
রেজো, এদিকে এসো।
ওকে ধরো। সাবধানে।
যুদ্ধ হলো পুরুষের কাজ।
কিন্তু এখানে শিশুরা কেন?
মানুষ কীভাবে শিশুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে?
তোমার কোনো ভয় নেই, খোকা। এখানে সবাই তোমার বন্ধু।
তার মানে সজারুটা তোমাদের আমার খবর দিয়েছে?
অবশ্যই, সেই সজারুটাই জানিয়েছে।
- তোমার নাম কী? - সেরেজা।
আচ্ছা। তোমার নামের শেষের অংশ মনে আছে?
আমরা শিশকিন।
আমি নিকোলাই সের্গেভিচ কুজনেটসভ।
- তুমি কি কমান্ডার? - হ্যাঁ, ঠিক ধরেছো।
তোমার মা কোথায়? তোমার বাবা?
আনিসা আন্টি
আমাকে বলেছিল...
-...আমার মা। - এসো এসো।
সেরেজা তুমি কাঁদছ কেন?
তুমি ছেলে মানুষ, আর ছেলেরা কখনো কাঁদে না।
এখানে কেউ কাঁদে না, রেজোও নয়, আন্দ্রেইও নয়।
আমি একটু আসছি... আমার সাথে চলো।
কমান্ডার, কথা রটে গেছে যে
স্কাউটরা জঙ্গলে একটা বাচ্চা ছেলেকে খুঁজে পেয়েছে।
আমি তোমার জন্য মাংস এনেছি।
আর সাথে অল্প লার্ড।
না, না।
ও স্যুপ দিয়ে খাওয়া শুরু করুক।
ভো বিফিন্দেন, নাকি বিফন্দন?
- ভো বিফন্দন - বিফিন্দেন।
- বিফিন্দেন? - হ্যাঁ।
সেলাই করা বন্ধ করুন তো, জ্যাকব মইসিভিচ।
যদি এর কারণে যুদ্ধের সময় শব্দ হয়? তুমি এমন পোশাকে যুদ্ধ করতে পারবে না।
সকল জার্মানদের সামনে ব্যাপারটা আমার জন্য অপমানজনক হবে।
ওরা বলবে: "জ্যাকব মইসিভিচ এত বাজে কাজ কীভাবে করলো?"
আপনার কি ধারণা জার্মানরাও আপনাকে চেনে?
যুবক, সবাই আমাকে চেনে।
যুদ্ধের আগে সারাদেশে আমার খদ্দের ছিল।
রেজো, তোমার পরিবারকে আমাদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাবে।
আর তোমার বোনকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাবে।
মিটেনের জন্য, আর ওটাকে যেন কী বলে...
- সেই সুস্বাদু খাবারটা। - চুর্চেল্লা।
- হ্যাঁ। - ঠিক আছে, আমি জানিয়ে দেবো।
আর তার বয়স কত? সে কি বিবাহিতা?
না, এখনও বিয়ে হয়নি।
সে আমার খালাতো বোন এবং সে ৭৪ বছরেও বিয়ে করেনি।
তুমি দেখা করতে গেলে সে অবশ্যই খুশি হবে।
আমাদের এলাকার বাতাস খুবই বিশুদ্ধ
সে আরও ৩০ বছর বাঁচবে আর ওকে এক জোড়া বাচ্চাও দিতে পারবে।
আর সে তোমাকে অনেক কিছু রেঁধে খাওয়াবে।
সাতসিভি খাওয়াবে, চাহবিলি খাওয়াবে। তুমি কি কখনো চাহবিলি খেয়ে দেখেছো?
ওহ, খাবারের আলাপ রাখো তো।
যেহেতু তোমার বোন খুব সুন্দর রান্না করে
আমি তাকে আমার পাত্রী হিসেবে বেছে নেবো।
নিজেরা আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলুন, কে তাকে প্রস্তাব দেবেন।
আমি সবসময় যুদ্ধের আগে চিঠি লিখি।
এই মুহূর্তে আমি ওদের বলে দিচ্ছি
আমাদের ছেলেটার জন্য বাচ্চাদের জামাকাপড় পাঠাতে।
- এটা আবার কী? - জার্মানদের ভয় দেখানোর জন্য।
তাহলে ঠিক আছে।
ফায়ার!
- আহ! - আস্তে, আস্তে।
আমাকে বাজিয়ে শোনাও।
ইশ, প্রায় হয়ে গেছে। আরেকটু।
দেখলে? কেমন ফুল এঁকে দিলাম।
না, আমি ফুল পছন্দ করি না।
তুমি বরং একটা ট্যাংক এঁকে দাও।
ঠিক আছে, আমি তোমার জন্য তাহলে ট্যাংকই এঁকে দেবো।
পিস্তল এঁকে দেবো, রাইফেলও এঁকে দেবো, সাথে কামানও - তোমার যেটা ইচ্ছা।
তুমি এত অস্ত্রের ব্যাপারে কীভাবে জানো?
আমি তুলা শহরের মেয়ে, বন্দুকবাজদের শহর।
সেখানকার সবাই অস্ত্র সম্পর্কে সবকিছু জানে।
কাটিয়া, আমাকে যারা খুঁজে এনেছে ওরা কারা?
তাকে এখানে নিয়ে আসুন।
তারা সাধারণ কেউ নয়,
তারা স্কাউট।
এখানকার সবাই কি স্কাউট?
না, এখানে স্যাপার, গানার এবং স্নাইপারও আছে।
- এবং বাবুর্চি পেট্রোভিচও আছে। - আমি তাকে দেখেছি।
- সে একদম মোটকু। - তা তো হতেই হবে।
বাবুর্চির কাজই তো মোটা হওয়া।
আর হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা সেই কমান্ডার কি...
- এখন যুদ্ধ করছে? - কুজনেটসভ? হ্যাঁ।
চিন্তা করো না।
সে ওদের সবাইকে মজা দেখাবে।
- কী? - আমি তৃষ্ণার্ত।
আমি বাজি ধরে বলতে পারি জার্মানরা তাকে ভয় পায়।
শুধু যে জার্মানরাই তাকে ভয় পায় তা নয়।
আর সে কি কাউকে ভয় পায় না?
তুমি ঠিক ধরেছো। তার বীরত্বের জন্য
তাকে পদক আর একটা পিস্তল দেওয়া হয়েছে।
পদক আর পিস্তল।
- কাটিয়া, আরো আহত ব্যক্তি এসেছে। - আসছি।
বাবু, আমাকে এখনই যেতে হবে।
আর তুমি চোখ বন্ধ কর,
ভালো করে বন্ধ করো আর ঘুমিয়ে পড়ো।
আমি ফিরে আসলে অবশ্যই তোমাকে ট্যাংক এঁকে দেবো।
- আসছি। - মাথায় আঘাত পেয়েছে।
- অপারেশন রুমে এসো। - জি, স্যার।
আসলে, ছাগলের দুধ...
- আপেল খাবি? - এটা আপেল খায় না।
আরে!
- স্যালুট, কমান্ডার। - স্যালুট।
পুষ্টিবর্ধক রসদ বটে!
এটা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল।
একা একা ঘুরছিল। তাই এখানে নিয়ে এলাম।
যদিও, প্রথমে আনতে চাইনি।
এটা তাহলে ছাগী। ভয় পেয়েছে নাকি, হ্যাঁ?
নে, খেয়ে নে।
এখন থেকে তুই হলি আমাদের সহযোদ্ধা ছাগল।
বড় হয়ে আমিও কমান্ডার হবো।
ওরা আমাকে অনেক কষ্টকর ইনজেকশন দিয়েছে।
No comments yet. Be the first to leave one.