نخستین 200 خط.
অনুবাদ- কুদরতে জাহান
ঈশ্বরের হাতের কাজ এমনই যে, উনি নিজের হাতে যাকে বাঁকা করে সৃষ্টি করেছেন, তাকে সোজা করার সাধ্য নেই কারো।
আমার মনে হয়, প্রকৃতির কিছু কাজে বাগড়া দেয়া উচিত। প্রকৃতিরও তাই ইচ্ছা বলে মনে হয় আমার।
বাংলায় সাবটাইটেলটি ভালো লাগলে গুড রেটিং দিতে ভুলবেন না।
গ্যাটাকায় স্বাগতম।
আপনারা আপনাদের ওয়ার্কস্টেশনটা অনেক পরিষ্কার করে রাখেন।
- একেবারে স্বর্গীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে ব্যাপারটা। -স্বর্গীয় ...
তোমার ফ্লাইটপ্ল্যান দেখলাম। এতগুলো কিস্ট্রোকের মধ্যে একটা ভুলও নেই।
ব্যাপারটা অসাধারণ। আমাদেরকে টাইটানে নিয়ে যাবার জন্য তোমার চেয়ে যোগ্য আর কেউ নেই।
কমিটি কি মিশনের অনুমতি দিয়েছে? দেরি হচ্ছে শুনলাম।
কারো কথায় কান দেবার প্রয়োজন নেই। এক সপ্তাহের মধ্যে রওনা দেবে তুমি।
একটা সাবস্ট্যান্স টেস্ট দিতে হবে তোমাকে।
সাবস্ট্যান্স টেস্ট দিতে চাইলে টেস্টিং সেন্টারে রিপোর্ট করুন।
জেরোম কখনো লজ্জা করে না। বলামাত্রই ইউরিন দেয়।
- দারুণ এক যন্ত্র, বলেছি একথা? - যতবার এসেছি, ততবারই বলেছ।
চাকরিতে থাকাকালীন অনেককেই থমকে যেতে দেখেছি। তোমারটা একটু অন্যরকম।
আমার মা-বাবা কেন আমার জন্য এরকম একটা অর্ডার দেয়নি, কে জানে?
- আচ্ছা, তোমাকে কখনো আমার ছেলের কথা বলেছি? - না।
মনে করিয়ে দিও, বলব কোনো এক সময়ে।
তো, মহাকাশে যাচ্ছ তাহলে আর মাত্র এক সপ্তাহ।
প্লিজ বলো যে তুমি একটু হলেও উত্তেজিত এ ব্যাপারে।
সপ্তাহ শেষে বলব।
অভিনন্দন জেরোম।
ধন্যবাদ।
একদিনে কতগুলো মহাকাশযান ওড়ে? এক ডজন?
- এর বেশিও হয় অনেক সময়। - একমাত্র তুমিই সবগুলো যানকে উড়তে দেখেছ।
তোমার আগ্রহ নেই, এরকম ভান করতে চাইলে উপরে তাকিও না।
বিশেষত্বহীন একটা ঘটনা।
জেরোম মোরো, ফার্স্ট ক্লাস নেভিগেটর
শনিগ্রহের ১৪ নম্বর চাঁদ টাইটানের উদ্দেশ্যে এক বছরের মিশনে যাত্রা করতে যাচ্ছে।
এই মহাসম্মানজনক অ্যাসাইনমেন্টটি জন্মসূত্রেই জেরোমের প্রাপ্য।
সে সবধরনের গুণাবলীর অধিকারী। তার জেনেটিক কোশেন্টের তুলনা হয় না।
জেরোম মোরোর এই সাফল্য আসলে অবাক করার মতো কোনো ঘটনা না।
অবাক করার মতো ঘটনা হলো, আমি আসলে জেরোম মোরো না।
ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরায় নয়, আমার জন্ম হয়েছিল রিভিয়েরাতে।
রিভিয়েরার ডেট্রয়েট ভ্যারাইটিতে।
সবাই বলত, প্রেমের ঔরসজাত সন্তানের সুখী হবার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশি।
এখন আর কেউ একথা বলে না।
মা কী মনে করে তার জেনেসিস্টের চাইতে ঈশ্বরের ওপর আস্থা বেশি রেখেছিলেন, তা কিছুতেই মাথায় আসে না আমার।
হাত আর পায়ের দশটা করে আঙুল থাকাই যথেষ্ট ছিল তখন....এখন আর তেমনটা নেই।
জন্ম হবার এক সেকেন্ডের মধ্যেই আমার মৃত্যু এবং মৃত্যুর কারণ জানা হয়ে গিয়েছিল
স্নায়বিক রোগ হবার সম্ভাবনা, ৬০ শতাংশ ডিপ্রেশন হবার সম্ভাবনা, ৪২ শতাংশ
অ্যাটেনশন ডেফিসিট ডিজঅর্ডারের সম্ভাবনা ৮৯ শতাংশ হৃদরোগ হবার ...
... সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ। অকালেই মৃত্যুঝুঁকি।
- সম্ভাব্য আয়ু: ৩০.২ বছর। - ৩০ বছর?
- সার্টিফিকেটে কী নাম লিখব? - অ্যান্টন। - না, ভিনসেন্ট অ্যান্টন।
এ নামটাই ভালো হবে।
ও কিছু একটা করে দেখাবে, জানি আমি। তুমি অবশ্যই কিছু একটা করে দেখাবে।
একদম ছোটবেলা থেকেই নিজেকে সার্বক্ষণিক অসুস্থ হিসেবে মনে করতে থাকলাম আমি, অন্য সবার মতো।
যতবার হাঁটু ছিলেছে, কিংবা ঠাণ্ডা লেগেছে, ততবার তা আমার জন্য মৃত্যুঝুঁকি হিসেবে গণ্য হয়েছে।
দুঃখিত, ইনসুরেন্সের টাকায় ওর চিকিৎসার খরচ পোষাবে না - কিন্তু আমাকে বলা হয়েছিল.... ... কিছু করতে পারলে সত্যিই খুশি হতাম।
আর দশজন মা-বাবার মতোই তারা তাদের পরবর্তী সন্তানটিকে -
- প্রাকৃতিক উপায়ে জন্ম দিতে চাইলেন, তখন এটাই প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে বিবেচিত হত।
ম্যারি, আপনার গর্ভ থেকে সংগ্রহ করা ডিম্বাণু, -
অ্যান্টনিওর শুক্রাণুর সাথে নিষিক্ত করা হয়েছে।
স্ক্রিনিং এর পরে দু'টি সুস্থ ছেলেশিশু আর দু'টি খুবই সুস্থ মেয়েশিশুকে পেয়েছি।
স্বাভাবিকভাবেই তাদের কোনো গুরুতর বংশগত অসুখের ঝুঁকি নেই।
যোগ্য ক্যান্ডিডেটকে বেছে নেয়া বাকি শুধু। আপনারা কী চান? ছেলে নাকি মেয়ে?
আমরা চাই ভিনসেন্টের একটা ভাই হোক, ও খেলার সঙ্গী পাবে। - অবশ্যই, হ্যালো ভিনসেণ্ট।
আপনারা জলপাইরঙা চোখ, কালো চুল আর...ফর্সা ত্বক চেয়েছিলেন।
আমি এই কন্ডিশনগুলো হবার সম্ভাবনা সমূলে উৎপাটন করেছি:
অকালে টাক পড়া, মায়োপিয়া, অ্যালকোহল কিংবা অন্য কিছুতে আসক্তি, ধ্বংসাত্বক প্রবণতা, মুটিয়ে যাওয়া।
আমরা অসুখ-বিসুখ চাইনি, তা ঠিক আছে...
আমরা আসলে কিছু জিনিস ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেয়া যায় কি না, তা ভাবছিলাম।
আপনাদের সন্তানকে যথাসম্ভব নিখুঁতভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ দিন। মানবদেহে এমনিতেও ত্রুটির অভাব নেই।
ওর বোঝা আর বাড়ানোর দরকার নেই, আর এসবের কারণে ও আপনাদের থেকে পালটে যাবে না।
বরং আপনাদের একটা নিখুঁত ভার্সন হিসেবে বেড়ে উঠবে।
আপনারা প্রাকৃতিকভাবে ১০০০ বার সন্তান ধারণ করেও এমন ফলাফল পাবেন না।
এভাবেই অ্যান্টনের জন্ম হলো। আমার বাবার যোগ্য সন্তান।
- আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত, খোকা। - কত বড় হয়েছে ও, দেখেছ!
যখন আমরা ব্লাড ব্রাদার খেলতাম, -
- তখন আমার রক্ত যে অ্যান্টনের থেকে একেবারেই ভিন্ন, বুঝতাম সেটা।
জীবনে কিছু করতে হলে এক ফোঁটার চেয়েও বেশি কিছুর দরকার ছিল আমার।
আমরা 'চিকেন' খেলতাম। যখন মা-বাবা দেখত না, -
- তখন আমরা পাল্লা দিয়ে সাঁতার কাটতাম, দেখতাম কে আগে ফিরে আসতে বাধ্য হয়।
ভীতুর ডিম, আয়!
প্রতিবারেই অবধারিতভাবে হারতাম আমি।
অ্যান্টন সাঁতারু হিসেবে অনেক শক্তিশালী আমার চেয়ে, ওর হারার কোনো কারণই নেই।
৩০ কোটি, ৩৫ কোটি, ৪০ কোটি।
অন্য গ্রহের প্রতি আকর্ষণ থাকার কারণেই হোক কিংবা এ গ্রহকে অপছন্দ করার কারণেই হোক
আমি মহাকাশে যাবার স্বপ্ন দেখতাম স্মৃতি হবার পর থেকেই।
৭৫ কোটি, ৮০ কোটি, ৮৫ কোটি।
কতজন নভোচারী আছে ওখানে? চাইলে আমিও ওদের একজন হতে পারব, নিশ্চিত।
খেও না, ওটা প্লুটো।
আমার লক্ষ্য খুব একটা বদলায়নি। মা-বাবার দুশ্চিন্তার সীমা নেই এ নিয়ে।
ভিনসেন্ট...
বাস্তব অবস্থা ভেবে দ্যাখ, তোর হার্টের যে অবস্থা ...
- আমার হার্ট তো সুস্থও হতে পারে। - ১/১০০ ভাগ সম্ভাবনা।
- সেই চান্সটা নেব আমি। - ওরা নেবে না।
তোকে একটা জিনিস বুঝতে হবে।
স্পেসশিপের ভেতরে তোকে ঠিকই ঢুকতে দেবে ওরা, ওটার পরিষ্কারকর্মী হিসেবে।
ও ঠিকই বলেছিল। আমি আমার রেজিউমে মিথ্যা বলেছি। কিন্তু আমার আসল রেজিউমে ছড়িয়ে আছে আমার কোষে।
দারুণ প্রোফাইলওয়ালা হাজারটা প্রার্থীকে বাদ দিয়ে -
আমার প্রশিক্ষণের পেছনে কেন টাকা নষ্ট করবে ওরা?
চাকরিক্ষেত্রে 'জেনোয়িজম' নামের এই বৈষম্যটা করা অবৈধ।
কিন্তু কেউই এই আইনটাকে গুরুত্ব সহকারে দেখে না।
কেউ যদি নিজের পরিচয় নাও বলে, তবু তারা দরজার হাতল, হ্যান্ডশেক কিংবা -
অ্যাপ্লিকিশন ফর্মে লেগে থাকা থুতু থেকে ডিএনএ স্যাম্পল নিয়ে যাবে।
একটা বৈধ ড্রাগ টেস্ট হয়তো-
কোনো কোম্পানিতে কারো ভবিষ্যত দেখার একটা অবৈধ সুযোগ করে দেবে।
তুই এ ব্যাপারে নিশ্চিত? হারবি যে, তা তো জানিসই।
খোলা সাগরে আমরা একসাথে শেষবারের মতো সাঁতার কেটেছিলাম ঐদিন।
যতগুলো স্ট্রোক দিয়ে আগাচ্ছি, ততগুলো স্ট্রোক দিয়েই ফিরতে হবে, জানতাম আমরা।
কিন্তু এবারে সবকিছু যেন অন্যভাবে ঘটতে লাগলো। যতবার অ্যান্টন ফেরার জন্য ঘুরতে যাচ্ছিলো,-
ততোবারই সে পাশে আমাকে দেখছিল।
অবশেষে অসম্ভব ঘটনাটাই ঘটলো।
ভিনসেন্ট!
জীবনে অন্তত এই একবার, অ্যান্টন নিজেকে যতোটা ভাবত, ততোটা শক্তিশালী ছিল না।
আর আমিও অতোটা দুর্বল ছিলাম না। ঐ ঘটনাটা অনেক কিছু সম্ভব করতে সাহায্য করেছিল।
আমার পরিস্থিতিতে থাকা অন্য মানুষদের মতো আমি যেখানে সম্ভব কাজ জুটিয়ে নিতে শুরু করলাম।
শহরের অর্ধেক টয়লেটই মনে হয় পরিষ্কার করে ফেলেছি আমি।
সমাজের নিচু স্তর এখন আর গায়ের রঙ কিংবা সামাজিক স্ট্যাটাস দিয়ে নির্ধারিত হয় না।
- গ্যাটাকায় স্বাগতম আপনাদের। - আজকের দিনের এই বৈষম্য হলো বিজ্ঞানসম্মত।
এই হলো তোমাদের ক্লিনিং এর জিনিস, এখান থেকে শুরু করে পেছনে চলে যাও।
এমনভাবে ঝকঝকে করবে, যাতে মেঝেতে আমার হাসিমুখ দেখা যায়।
মহাশুন্যে যাবার স্বপ্ন দেখছেন, মহারাজ?
এদিকে এসো।
এই জায়গাটা মোছা শুরু করো তাহলে।
আমার লক্ষ্য থেকে আমি আসলে কতখানি দূরে, সেটা টের পেলাম সেখানে গিয়ে।
- কাঁচটা এত ঝকঝকে করে মুছো না। - মানে?
তাহলে হয়তো মাথায় উদ্ভট বুদ্ধি গজাবে।
কাঁচটা পরিষ্কার থাকলে ওপাশে থাকা আমাকে সহজে দেখতে পাবে তুমি।
জানতাম একথাগুলো বলা বৃথা। যত পড়াশোনাই করি না কেন, কিছুই হবে না, -
পৃথিবীর সেরা রেজাল্ট করেও ব্লাড টেস্ট ছাড়া পাশ করতে পারব না।
চরম পর্যায়ের অবৈধ কিছু করার জন্য প্রস্তুত হলাম তাই।
যে মানুষটা আমার কাছে এলো, তাকে সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনের পাতায় পাওয়া যাবে না।
সোজা হয়ে দাঁড়াও।
- আমার নাম জানলে কীভাবে? - মানুষের মুখে।
বিশেষ কোনো চিহ্ন আছে? ট্যাটু, ক্ষতচিহ্ন, জন্মদাগ?
মনে হয় না।
তুমি এ ব্যাপারে সিরিয়াস তো? আশা করি, তোমার পেছনে অযথা সময় নষ্ট করছি না।
- আমি শতভাগ চেষ্টা করব। - তাতে অর্ধেক কাজ হবে।
ওটা পুরোনো এডিশন, তবে পুরোটা মুখস্থ পারি আমি।
- চুক্তি থেকে পেছানো যাবে না, জানো নিশ্চয়ই। - আপনি কি কারো কথা ভাবছেন?
জেনেটিক এলিটদের জন্য সাফল্য অর্জন সহজ, কিন্তু গ্যারান্টি দিয়ে বলা যাবে না।
ভাগ্য নির্ধারণের জন্য কোনো জিন আবিষ্কৃত হয়নি এখনো
যখন কোনো এলিটের জীবনে দুর্ভাগ্য নেমে আসে -
- তখন তাদের জেনেটিক পরিচয় আমার মতো দুর্ভাগাদের জন্য একটা মূল্যবান সম্পদ হয়ে দাঁড়ায়।
একজনের ক্ষতি মানেই আরেকজনের লাভ
ওর সার্টিফিকেট একেবারে নিখুঁত। আয়ু দেখলে চোখ ছানাবড়া হয়ে যাবে।
প্রায় অমরই বলা যায় ওকে। আইকিউ আকাশছোঁয়া।
20/20 ভিশন আছে ওর, হার্ট হলো ষাঁড়ের মতো সবল, দেয়াল ভেঙে দৌড়ানোর সামর্থ্য রাখে।
যদি দৌড়াতে পারে আর কি।
ও দারুণ সফল একজন সাঁতারু ছিল।
এই লোকের ডিএনএ হেলিক্স দিয়ে তুমি যেখানে খুশি সেখানে যেতে পারবে।
- কী বলেছিলাম? দারুণ মিলেছে না? আমার ফি ডাবল করে দাও। - আমাদের চেহারায় কোনোই মিল নেই।
ভালোই মিলেছে, আজকাল কেউই ছবির দিকে তাকায় না। চাইলে আমার চেহারা দিয়েও পার পাবে তুমি।
- দুর্ঘটনার ব্যাপারে কী বলব? - ভাগ্য ভালো, ওটা দেশের বাইরে ঘটেছিল।
ওর মেরুদণ্ড ভাঙার কোনো রেকর্ড নেই, সবার কাছে ও এখনো একজন সুস্থ-সবল কর্মক্ষম নাগরিক।
- গতবছর যা যা ঘটেছে, সব জেনে নেবে। - তুমি বিদেশী।
তোমার কোথায় জন্ম, তাতে কারো কিছু যায় আসে না। রক্তের কোনো জাতীয়তা নেই।
ওরা যা চায়, তার সবকিছু যদি থাকে, তাহলে এই পাসপোর্টেই চলবে তোমার।
- ওখানে কে থাকে? - আমি অন্তত থাকি না।
আমি জেরোম হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া শুরু করলাম
সুবিধাবঞ্চিত জন্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মায়োপিয়া।
- আর কোনো উপায় নেই? - সার্জারি করলে ক্ষত থেকে যাবে।
কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করতে হবে, নইলে অন্ধদের ছড়িই ভরসা।
- তাছাড়া তোমাদের চোখের রঙও এক না। - ও ঠিকই বলেছে।
আমার চোখ বেশি সুন্দর।
তুমি যা আয় করবে, তার ২৫ শতাংশ নেব আমি।
যদি এই টেস্ট ব্যর্থ হয়, তাহলে সাতদিনের মধ্যে সব যন্ত্রপাতি ফেরত দিতে হবে।
এতদিন যা খরচ করেছ, তা কিন্তু ফেরত পাবে না,
দাঁড়ান! আপনি না বলেছিলেন ২০ শতাংশ?
-২০ শতাংশের কথা ছিল। -২০ শতাংশ।
এতে কাজ হবে না।
-হয়েছে মনে হয়। -নাহ, উচ্চতা একটু কম আছে।
-তুমি কত লম্বা ? -চার ফুট ছয়।
দুর্ঘটনার আগে কতটুকু লম্বা ছিলে?
- দুর্ভাগ্যবশত প্রোফাইল অনুযায়ী ওর উচ্চতা ৬ ফুট ১ ইঞ্চি। - আমি হিল পরলেই হয়।
হিল দিয়েও তুমি অত লম্বা হতে পারবে না।
তো কী?
না, না।
-এরকম তো কথা ছিল না। -ভেবেছিলাম তুমি সিরিয়াস।
সিরিয়াস হয়েই বলছি, আমি একাজ করব না।
আমি একাজ করব না।
জেরোম আর কোনোদিন আমার নিষ্ঠার ব্যাপারে প্রশ্ন তোলেনি।
ব্যথা থেকে নিজের মনোযোগ সরাচ্ছিলাম এই বলে যে,
অপারেশন শেষে যখন উঠে দাঁড়াবো...
...তখন আমি নক্ষত্রগুলোর আরো দুই ইঞ্চি কাছে পৌঁছাতে পারব।
-তুমি ঠিক আছ? -হ্যাঁ।
তুমি কি নাচতে চাও?
তোমাকে ডান হাতি হতে হবে।
মনে হয় এখন আর কেউ বাঁহাতিদেরকে অর্ডার করে না।
"জেরোম মোরো" নামটা সুন্দর।
-এটা আমার নাম। -এটা ছাড়া আমি তোমার মতো হতে পারব না।
তুমি আমার মতো হবে, এটা ভাবো কী করে?
এটা দেখো।
-দেখো তাকিয়ে। -সুন্দর।
মুগ্ধ হলাম, এটা কি আসল?
ভিনসেন্ট, তুমি কি কালার ব্লাইন্ডও নাকি?
-এটা সোনা না, রূপা। -তো?
জেরোম মোরোর তো পডিয়ামের একধাপ নিচে দাঁড়ানর কথা ছিল না।
এত সুযোগ সুবিধা পেয়েও আমি ছিলাম দ্বিতীয় সেরা।
আমি। তাহলে তুমি কীভাবে সফল হবার চিন্তা করো?
জানি না আসলে।
সিগনেচারটা আরো প্র্যাকটিস করতে হবে।
খুব দ্রুতই আমাদের সব প্রস্তুতি সফল হয়েছে কি না, তার পরীক্ষার সময় হয়ে গেল।
গ্যাটাকায় ঢোকার জন্য যা যা দরকার, তার সবকিছু দিয়েই তৈরি করা হয়েছিল জেরোমকে...
...শুধু ইচ্ছাটুকু ছাড়া।
তুমি কি সত্যিই ওখানে ঢুকতে চাও?
No comments yet. Be the first to leave one.