نخستین 200 خط.
অনুবাদকঃ মোঃ রায়হান শেখ (জনি)
আমি দুঃখিত! আমি দুঃখিত! আমি দুঃখিত!
সব ঠিক আছে। আমি তোমাকে আঘাত করবো না।
তুমি কী চাও?
আমি ভাবলাম তুমি...
কি?
আমি জানি না।
বাঁচাও! বাঁচাও!
বাঁচাও! বাঁচাও!
থামো!
- কী? কী? - ঠিক আছে। এদিকে এসো।
সব ঠিক আছে। শান্ত হও। সবকিছু ঠিক আছে।
ওখানে কী ছিল?
আমাকে ভেবে বের করতে একটু সময় দাও।
- ঐ রুমটাকে ভয় পাচ্ছ কেন? - বললাম না আমাকে একটু সময় দাও।
এর ভেতর কতজন মানুষ আছে?
সবাই শোনো। আমরা এখানকার আশেপাশের রুমগুলোতে যেতে পারব না।
কেন পারব না?
- ওখানে ফাঁদ আছে। - "ফাঁদ" বলতে কী বোঝাতে চাও?
বোকা বানানো ফাঁদ। দেখবার জন্য একটা রুমের ভেতর নেমেছিলাম...
কিন্তু কিছু একটা আমার মাথা প্রায় কেটেই ফেলেছিল।
খোদা। ওহ, খোদা।
তুমি ঠিক আছো? এই যে শুনছো?
ওয়ার্থ!
ভয় পেও না।
মাথায় আঘাত লেগেছে।
আমাকে দেখতে দাও। আমি একজন ডাক্তার। ক্ষতটা তেমন মারাত্মক দেখাচ্ছে না।
আপনি কী করছেন?
এই যে চাচা, আমি কী বললাম আপনি শুনতে পেয়েছেন?
মোশন ডিটেক্টর। দেয়ালের ভেতর বসানো। ধরা মুশকিল।
ওহ খোদা, ওহ খোদা, ওহ খোদা।
একটু দাঁড়ান। সবাই একটু শান্তভাবে দাঁড়াও।
ওরা এখানে আমাদেরকে কীভাবে এনেছে কেউ কি তা মনে করতে পারবে?
পেরোগিস (এক ধরণের পিঠা জাতীয় খাবার)।
আমি রাতের খাবার খাচ্ছিলাম।
পেরোগিস. পনির এবং আলু।
আমি সাউর ক্রিম খেয়ে ফ্রিজের কাছে গেলাম আর তারপর...
তারপর আর মনে নেই।
তুমি? লিভেন?
আমি, আমি শুধু ঘুমিয়ে ছিলাম আর...
তুমি কীভাবে এলে?
আমি শুধু এখানে জেগে উঠলাম।
মানে ওরা মাঝরাতে এসেছিল।
চিলি পাখির মতো। ওরা সবসময় মাঝরাতে আসে।
কে?
একমাত্র সরকারই এই ধরনের বীভৎস জিনিস বানাতে পারে।
এটা সরকারের বানানো নয়।
- তাহলে এটা কার বানানো? - জানি না।
এলিয়েন।
প্লিজ। এই অদ্ভুতুরে গল্প অনেক হয়েছে।
এসব এলিয়েনদের কথাবার্তা বাদ দাও আর আমরা যা জানি তার উপর মনোযোগ দাও।
আমার মা পাগল হয়ে যাবে।
রেনেস?
- আমি এখানে থাকতে পারব না। এসব আমাকে পাগল করে দিবে। - আপনার কী মনে হয়, রেনেস?
এখানে বসে থেকে আমরা সমাধান করতে পারব না।
এর শেষ প্রান্ত না পাওয়া পর্যন্ত আমি সোজা চলতে থাকবো।
ঠিক আছে, আপনার সাথে আমিও একমত।
- আমাদের এখানেই অপেক্ষা করলে ঠিক হবে না? - কীসের জন্য?
কেউ যদি দেখতে আসে।
কেউ আসবে না।
দেখো। এখানে পথ আছে, তো এই পথ দিয়ে বের হওয়া যেতে পারে।
আমরা জুতা ব্যবহার করে ফাঁদ এড়াতে পারি।
তুমি কি রাজি, হলোওয়ে? তোমার কী মনে হয়? বের হবার পথ খুঁজবো?
ঠিক আছে।
তোমার কী মনে হয়?
- এটা এতোটা সহজ হতে পারে না। - এটা সহজ হবে না।
চারপাশ দেখো। ভালো করে দেখলে এর বিশালতা বুঝতে পারবে।
'কারণ মনে হচ্ছে এসব আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
আমি শুধু এই দুঃস্বপ্ন থেকে জেগে উঠতে চাই।
লিভেন। আমরা এখান থেকে বেঁচে বের হতে পারব।
আমাদেরকে শুধু শান্ত থাকতে হবে এবং দলগতভাবে একসাথে কাজ করতে হবে।
বাইরে অনেক লোক আমাদেরকে খুঁজছে হয়তো।
আমি একজন পুলিশ।
ঠিক আছে?
- তুমি পুলিশ? - হ্যাঁ।
আমি তোমাকে এখান থেকে বের করবো। কথা দিলাম।
তোমাকে আমার সঙ্গে শান্তভাবে থাকতে হবে।
ঠিক আছে।
জুতা ফেলুন!
রুমটা নিরাপদ।
শব্দটা কাছাকাছি কোথাও থেকে আসছে।
এটা যান্ত্রিক কিছু হবে। মনে হচ্ছে কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে এটা আসছে।
হয়তো এটা ভেন্টিলেশন (বায়ুচলাচল) সিস্টেম।
- ভেন্টিলেশন সিস্টেম নয়। - কোনো মজা হবে না, আমার খুব রাগ হচ্ছে।
এসব কী?
কোন সিরিয়াল নম্বর?
রুম নম্বর। প্রতিটি রুমেই এগুলো ভিন্ন-ভিন্ন।
ওহ অসাধারণ। এর ভেতরে প্রায় ৫৬৬ মিলিয়ন ৪০০ হাজার রুম আছে।
তাহলে, আমাদের জন্য এটা ভালো হবে না?
খাবার ও পানি ছাড়া আমাদের হাতে প্রায় তিনদিন সময় আছে,
নয়তো আমরা শারীরিকভাবে চলাফেরায় খুব দূর্বল হয়ে পড়বো।
তাহলে, আমাদেরকে খাবার দিতে হবে ওদের, তাই না?
হলোওয়ে।
ওহ, আমাদের মধ্যে তাপ, চাপ, শারীরিক দূর্বলতা, আই.ই., ডিহাইড্রেশন(পানি শূন্যতা)...
মাথাব্যাথা, মাথাঘোরানো, দিকভ্রান্ত হওয়া, ইত্যাদি মানসিক প্রক্রিয়া হওয়া শুরু হবে।
অবশেষে আমাদের শরীরের টিস্যু ভাঙতে শুরু করবে।
এটা চুষতে থাকো।
মুখে লালার প্রবাহ ধরে রাখবে।
- কী হলো? - ভেতরে বাতাস শুষ্ক হয়ে আছে।
ফাঁদ আছে?
আণবিক রাসায়নিক সেন্সর।
জুতাটার কিছু হলো না কেন?
জুতাটা নষ্ট হয়ে গেছে।
সেন্সর চামড়া থেকে নিঃসৃত হাইড্রোজেন সালফাইড সনাক্ত করে।
সেন্সরের বিষয়ে এতকিছু কীভাবে জানেন, রেনজ?
রেন হবে। রেনজ না। এটা ফরাসী উচ্চারণ।
আপনি, আপনি ফরাসী। আমি জিজ্ঞাসা করছি আপনি কীভাবে...
রেন। সেন্সর বিশেষজ্ঞ,
বলতে গেলে অল্প বয়স থেকেই।
বিশ্বাস করতে পারছি না।
- এই লোক রেন। - কী?
ইনি রেন। সেই কয়েদি। যিনি ছয়টি বৃহৎ জেল থেকে পালিয়েছিল।
সাতটা হবে।
তুমি মজা করছ, তাই না?
আপনি আমাদেরকে বের করতে পারবেন।
হয়তো।
একজন জেল পালানো শিল্পী।
হ্যাঁ, আমিই হ্যারি হুডিনি।
তোমাদেরকে এতদূর টেনে আনার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো 'তোমাদের জুতাগুলো আমার প্রয়োজন।
তোমরা যদি চালাক না হও, তবে আমি এভাবে চুটকি মেরে বের হয়ে যাবো।
আর কোনো কথা হবে না।
আর কোনো অনুমান করা যাবে না।
তোমাদের সামনে যেটা নেই, এমন কিছু সম্পর্কে চিন্তাও করবে না।
এটাই আসল চ্যালেঞ্জ।
তোমাদেরকে নিজেদের থেকে নিজেদেরকেই রক্ষা করতে হবে।
ধ্যাত্তেরি।
ওকে বের করে আনো!
ওহ, খোদা!
তো, ওটা ইলেক্ট্রো কেমিক্যাল বা এমন কিছুই ছিল, ঠিক তো? আর ইনি ওটা লক্ষ্য করতে পারেননি।
রেন। ভালো হলো! খুব ভালো হলো!
ঠিক আছে। এই জায়গাটাকে ঠিকভাবে যাচাই করার সময় হয়েছে।
বারবার আমি এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারব না।
কেন ওরা কিছু নির্দোষ মানুষকে এর মধ্যে এনে ফেলবে?
আমরা কীসের শাস্তি পাচ্ছি?
আমি শাস্তি পাওয়ার মত কখনোই এমন কিছু করিনি।
এইসব ব্যাপার ভুলে যাও!
তোমরা এখানে বসে থেকে এই বিদঘুটে দৃশ্য দেখতে পারবে না, তাই বলে চেষ্টাও করবে না।
মাথা ঠান্ডা রাখো। নিজের লক্ষ্য ঠিক রাখো।
শুধু তোমার সামনে কী আছে সে দিকে মনোযোগ দাও।
যেমনটা ও বলেছিল।
আমাদের সাথে আবার শুরু করো। আমাদের সাথে জেল পালানো এক্সপার্ট লোক আর একজন পুলিশ আছে।
এটাও একটা উদ্দেশ্য হবে।
তুমি ডাক্তার, হলোওয়ে। এর জন্য তোমারও কাঁধে দায়িত্ব-কর্তব্য এসে পড়ে, একটা উদ্দেশ্য দেয়, ঠিক না?
না। শুধুমাত্র আমাকেই কেন এর ভেতর আনলো,
আর বাকি ১০ মিলিয়ন ডাক্তারের মধ্যে কারও সাথে এমনটা হলো না কেন?
লিভেন, তুমি কী করো?
কিছুই না। আমি শুধু স্কুলে যাই। বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়ায়।
- আর কী করো? - আর কোনো কিছুই করি না।
আমার বাবা-মা আর এরাই আছে। আমি এদের সাথে থাকি। এর ভেতর আমার বিরক্ত লাগছে।
আমাদের মনে অনেক বড় প্রশ্ন আছে।
ওরা কী চায়?
ওরা কী ভাবছে?
একজন মরে পড়ে আছে, চারজন মরতে বাকি আছে।
তোমার উদ্দেশ্য কী আমাদেরকে বলছ না কেন, ওয়ার্থ?
প্রশ্নটা আমার নিজেকে করতেই অবাক লাগে।
আমি শুধু একজন মানুষ।
আমি একটা অফিস বিল্ডিংয়ে কাজ করি, অফিসের বিল্ডিংয়ের কিছু জিনিসপত্র নিয়ে কাজ করি।
এখানে আসার আগে জীবনে আমি আরাম-আয়েশ করে কাটাচ্ছিলাম না।
জীবনটা শুধু ব্যতিক্রমহীনভাবে কেটে যাচ্ছিলো।
- কথাটাকে আমি মানতে পারছি না। - কারণ ও ঠিক বলেছে।
তোমার উদ্দেশ্য কী, কোয়েন্টিন?
আমার তিনটা বাচ্চা আছে।
আমি এখনও ওদেরকে ভালো করে আদর করেনি।
যে করেই হোক, আমি এখান থেকে বের হবো।
আর এইখান থেকেই আমার মনোবল আসে।
তোমরাও যেখান থেকে খুশি তোমাদের মনোবল খুঁজে বের করো।
ঈশ্বরের দোহাই, ওয়ার্থ। তুমি কীসের জন্য বেঁচে আছো?
তোমার কি স্ত্রী বা গার্লফ্রেন্ড বলতে কেউ নেই?
না। আমার কাছে খুব সুন্দর সুন্দর পর্নোগ্রাফির কালেকশন আছে।
ওহ, ভালো, খুব ভালো।
আমার তো কোনোটাই নেই, কিন্তু আমি হাল ছাড়ছি না! আমি কেবল রেগে আছি।
ওরা আমাদের বাড়িতে এসেছিল!
ওরা আমাদের জামাকাপড় খুলে নিয়েছে। আমার আংটি নিয়েছে, আমার
...ওহ, আমার আমোথিস্ট (নীলকান্তমণি)।
আমি জানতে চাই এর জন্য দায়ী কে।
লিভেন। তোমার চশমা?
তোমার এটা লাগবে না?
চশমাটা শুধুমাত্র পড়ার জন্য লাগে।
আচ্ছা, ওরা আমাদের ঘড়ি-আংটি খুলে নিয়েছে, কিন্তু ওরা তোমার কাছে এই চশমাটা রেখে দিয়েছে কেন?!
যদি কোনো কিছুর উদ্দেশ্যই না থাকে,
তবে ওরা এখানে এটা কেন রাখলো?
লিভেন। তুমি স্কুলে কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করো? গণিত?
এগুলোর মানে কী হতে পারে?
১৪৯.
মৌলিক সংখ্যা। বিশ্বাস করতে পারছি না আমি আগে এটা বুঝতে পারিনি।
কী বুঝতে পারোনি?
মনে হচ্ছে, যদি এই সংখ্যাগুলির মধ্যে কোনো একটা মৌলিক সংখ্যা হয়,
তবে সেই রুমে ফাঁদ নেই।
৬৪৫, ৬৪৫ ...এটা মৌলিক সংখ্যা না।
৩৭২... না।
৬৪৯...
তাহলে, ১১ গুণ ৫৯, এটাও মৌলিক সংখ্যা না।
তাই এই রুমটা নিরাপদ।
দাঁড়াও, দাঁড়াও।
কীভাবে তুমি একটা মৌলিক সংখ্যার ফাঁদের উপর ভিত্তি করে এটা অনুমান করতে পারলে?
আমি অনুমান করেনি। ইনসিনেরেটর (দাহনযন্ত্র) রুমটাতেই ০৮৩ মৌলিক সংখ্যা ছিল।
আণবিক রাসায়নিক রুমে ১৩৭ সংখ্যাটা ছিল। আর এসিড রুমে ১৪৯ সংখ্যাটা ছিল।
এইসব তোমার মাথার ভেতর মনে রেখেছ?
কারণ আমার মনে রাখার দক্ষতা আছে।
লিভেন, তোমার মস্তিষ্ক অসাধারণ।
No comments yet. Be the first to leave one.