نخستین 200 خط.
• • • অনুবাদ ও সম্পাদনায় • • • সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
কিছু করো! ধুর বাল!
সবাই শক্ত করে ধরে থাকো আর আমার কথা শুনো!
যখন আমি ইশারা করব, সবাই তিন ধাপ আগে যাবে!
আগে যাবো? পাগল নাকি?
ওদের ফেলা লাগবে!
এটা পাগলামি!
একবার ট্রাই করে দেখা যাক!
না, আমি পারব না!
না পারলে, মরবে!
তিন বলার সঙ্গে সঙ্গে! এক!
দুই!
তিন!
টানো!
টানো…
টানো!
না!
না!
A FAIR WORLD
এই।
এখন কার কাছে প্রার্থনা করছ?
ঈশ্বরের কাছে?
কী বাল হয় তুমি ঈশ্বরের জন্য বেঁচে আছ?
তুমি এখন নিঃশ্বাস নিচ্ছ আর জিভ নড়াচ্ছ
ঐ বয়স্ক লোক এবং
সেই লোকের বদৌলতে যে শেষ মূহুর্তে বুদ্ধিটা খাটিয়েছে।
যদি ধন্যবাদ দিতেই হয়,
তবে ওদের দাও।
হাইরে পথহারা প্রাণী!
ঐ লোকগুলোর কান্না শুনতে পাওনি যারা আজ মারা গেছে?
তাদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আরেকটা দিন বাঁচার সুযোগ পেয়েছি।
আমাদের সব পাপীর পক্ষ থেকে,
আমি ঈশ্বরের শুকরিয়া আদায় করেছি
এবং প্রার্থনা করেছি।
ফালতু কথা।
তুমি নিজেই ওদের মেরেছ।
প্রার্থনা করলেই কি সবাই চ্যালচ্যালাইয়া বেহেস্তে যাবো?
তাহলে আমিও প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর,
আমরা আজ টিম আকারে কাজ করেছি আর আপনার কাছে অনেকগুলো লোক পাঠিয়েছি।
প্লিজ আপনার কাছে আরও লোক পাঠাতে আমাদের সাহায্য করুন...
চুপ থাক।
আমি?
নাকি ঐ লোক?
দুজনেই।
তোর নাম কী?
আমার নাম জেনে কী করবি?
যাতে নাম ধরে ডাকতে পারি।
তাহলে ডাকিস না।
তুই অনেক চাপা।
একটা উপকার কর।
আমাকে আমার হালে ছেড়ে দে।
কথা তো আগে তুই-ই এসে বলেছিলি।
ঐ টাকলাকে দেখেছিলি প্যান্টে মুতে দিয়েছিল?
তারপর, ওর পিছনের সব পোলাপান…
ও নিঃশ্বাস নিচ্ছে না।
ডাক্তারকে ডেকে আনো।
আমিই তো ভেবেই নিয়েছিলাম আজ সবাই মারা পড়ব।
কিন্তু যখন পিছনে ঝুকলাম, তখন নিজেকে অনেক শক্তিশালী মনে হলো।
বললাম, "এসব কী? এভাবে কাজ হয়?"
চাচা, এই বুদ্ধি কোত্থেকে পেলে?
যুবক বয়সে আমি অনেক...
সিনেমা থেকে কপি করেছ, তাই না? কী যেন ছিল সিনেমাটা?
আরে একজন ওরকম করে।
দ্য ম্যাট্রিক্স।
এই, কোরিয়াতে কি শুধু মুভি দেখতে এসেছ?
আর তুমি, জান।
"সবাই তিন ধাপ আগে যাবে!"
মানে, সেটা অস্থির ছিল।
সেই পরিস্থিতিতে এমন বুদ্ধি মাথায় আসলো কী করে?
তুমি তো বলেছিলে এটা পাগলামি।
তাই?
কী যা-তা বকছ?
তুমি কাঁদতে কাঁদতে বলছিলে,
"আগে যাবো? পাগল নাকি?"
এটাই বলেছিলে তুমি।
এই! কোন দেশ থেকে এসেছ?
তোমার কাছে ভিসা আছে? তুমি অবৈধভাবে থাকছ, তাই না?
ইস। দেখো, পোলাপান।
আমাদের টিমে কি একজন অচেনা বিদেশিকে
রাখা উচিত? বলো?
আমি এই টিমকে একদম বদলে ফেলব।
এখানে লিডার কে?
এই হ্যান্ডসাম, তুমি লিডার?
আমাদের কোনো লিডার নেই। এখানে সবাই সমান।
তাহলে তো আরও ভালো।
একটা সমমাত্রিক সোসাইটি!
তোমরা ঐ গুন্ডার থেকে অনেক ভালো
যে সব মনমর্জি মতো চালায় যেন সে কোনো রাজা।
কিন্তু, ওরা তোমাকে বের করে দিলো কেন, আপু?
আপু?
আমাকে আপু বলে ডাকবে না।
আমার নাম হান মি-ন্যেও।
আমাকে মি-ন্যেও বলে ডাকতে পারো।
আর আমাকে বের করেনি।
আমিই বের হয়ে গেছি।
ঐ গুন্ডাগুলো আর আমার লেভেল একদম আলাদা।
ওরাই তোমাকে বের করে দিয়েছে,
আর শক্তিশালীদের দলে নিয়েছে।
একদম গেম শুরুর আগ মূহুর্তে।
যেন ওরা জানতো এরপর আমরা কোন গেম খেলব।
৩০ মিনিটের মধ্যে লাইট বন্ধ হবে।
সবাই ঘুমানোর জন্য প্রস্তুত হন।
আজ রাতে আরেকটা ক্যাচাল লাগতে পারে।
আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
কীভাবে?
আমাদের কাছে এতগুলো মেয়ে আর একটা বয়স্ক লোক আছে।
আমরা এখানে সবচেয়ে দুর্বল টিম।
চলো আগেই দুর্বল দল খুঁজে আক্রমণ করে ফেলি।
ঈশ্বরের সেবক তো দেখি আমাদের চেয়েও নির্দয়।
আমরা এখন সবাই পাপী।
আমাদের হাত রক্তে ভেজা।
আক্রমণই প্রতিরক্ষার সবচেয়ে ভালো পন্থা। আগে আক্রমণ করা যাক।
জানো কাল রাতের মারামারিতে,
আমার আগের লোকটা কীভাবে মরেছে?
যাকে ওর পক্ষের লোক ভেবেছিল সেই ওর ঘাড় ভেঙে দিয়েছে।
তোমরা আমাকে বিশ্বাস করো?
আমি কিন্তু কাউকেই বিশ্বাস করি না।
ঠিক আছে।
আমাদের প্রথমে নিজেদের রক্ষা করতে হবে।
লাইট বন্ধ হবার আগেই একটা ব্যারিকেড তৈরি করা যাক।
এটা আমাদের একটু হলেও সুরক্ষা দিবে।
এই, সাংমুন-ডংয়ের মাল।
বেঁচে থাকতে দেখি অনেক মেহনত করছিস।
কিন্তু
তোর মনে হয় এসবে কাজ হবে?
এটা দেখে খুব নড়বড়ে মনে হচ্ছে।
তোর কী অবস্থা?
তোর ওই নামে মাত্র টিম বানচোতে ভরা।
ওদের সত্যিই বিশ্বাস করিস?
মার।
মার, শালা।
মার। মেরে দেখা।
আমি ওদের একজন হলে,
রাতে মারামারি শুরু হলে,
আগে তোকে মারার চেষ্টা করতাম।
কারণ তুই সবার চেয়ে শক্তিশালী।
কেমন ছিল?
বস।
আগে কোন টিমের খেল খতম করব?
আজ রাতে মারামারি করব না।
কেন?
কয়েকজন কমিয়ে ফেলি চলেন...
ব্যস আরাম কর।
ঠিক আছে।
এই।
সবাই ওগুলো রেখে, একটু আরাম করে নে।
ডাক্তার কোথায়?
একটু আগেই বাথরুমে গেছে।
লাইট জলদিই বন্ধ হবে।
ওরা এত সহজে আক্রমণ করবে না,
কিন্তু তারপরও আমাদের ভাগাভাগি করে পাহারা দিতে হবে।
কাজটা জোড়ায় করা যাক।
একজন হলে সে ঘুমিয়ে পড়তে পাড়ে
বা আমাদের ধোকা দিয়ে অন্য দলে চলে যেতে পারে।
আমি প্রথমে...
পাহারা দিব।
বয়স হলে বেশি ঘুম হয় না।
স্যার,
আপনার মতো বুড়ো মানুষের উপর ভরসা করে আমরা কীভাবে শান্তিতে ঘুমাতে পারি?
আমি প্রথমে পাহারা দিব।
আমিও দিব।
আমার এখন ঘুমও আসছে না।
তাহলে আমি তার পরে দিব।
ক্লান্ত হয়ে পড়লে আমাকে জাগিয়ে তুলবে।
তাহলে আমি তোমার সঙ্গ দিব,
যদি তোমার আপত্তি না থাকে।
সেটাই ঠিক হবে।
আজকের কর্মসূচী সম্পন্ন হয়েছে।
কর্মীরা, নিজ নিজ ঘরে ফিরে যান।
কর্মীরা, নিজ নিজ ঘরে ফিরে যান এক্ষুনি।
নিন, খান।
রাতের খাবারে এটা বাঁচিয়ে রেখেছিলাম।
আপনাকে দেওয়ার জন্য, স্যার।
এটা কেন করতে গেলে?
আজ আপনি আমার প্রাণ বাঁচিয়েছেন, স্যার।
আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাচ্ছিলাম।
ধন্যবাদ জানানোর কোনো দরকার নেই।
নিজেকে বাঁচানোর জন্য এটা করেছি।
আপনি আমাকে বাসের ভাড়াও দিয়েছিলেন।
তার বদলে আমার কিছু করা উচিত ছিল।
খুশি?
তোমার নাম আলী, তাই না?
তোমার বয়স কত?
৩৩ বছর।
আমাকে সাং-উ বলে ডাকো।
নাম ধরে ডাকবো,
সাং-উ?
এখানে এলে কীভাবে?
আমি কোরিয়ায় টাকা কামাতে এসেছিলাম,
সাং-উ।
না, কোরিয়ার কথা বলিনি। এখানের কথা বলছি।
এই গেমের কথা।
এখানে এসেছি
কারণ টাকা নেই।
পরিবার আছে?
মা, বাবা, ছোট ভাই-বোন পাকিস্তানে আছে।
আর বউ-বাচ্চা এখানে আমার সাথে কোরিয়ায় থাকে।
তোমার বাচ্চা আছে?
কত বছরের?
No comments yet. Be the first to leave one.