نخستین 162 خط.
"কিংডম অফ দি গডস্" বই অবলম্বনে নির্মিত।
অনুবাদেঃ সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
সম্পাদনায়ঃ সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
KINGDOM
এখন কী করব?
যুবরাজকে এখান থেকে সহিসালামতে বের করতে হবে।
তো বলতে চাচ্ছ নিজের প্রাণ বাঁচাতে
সবাইকে বিসর্জন দিব?
আমি পারব না।
যুবরাজ।
মানুষজনকে জানাতে...
কাউকে তো এই প্রাসাদ থেকে বের হতে হবে।
আগুন। ওরা আগুনে ভয় পায়!
তুমি দেখছ, বাবা?
এই সিংহাসন আমি...
কাউকে চুরি করতে দিইনি।
পেছনদিকের বাগানটা এখান থেকে বেশি দূরে নয়।
মূল প্রবেশদ্বার দিয়ে আমরা বের হতে পারব না, কিন্তু ঐদিক দিয়ে পালাতে পারব।
নষ্ট করার মতো হাতে সময় নেই।
চলুন আপনাকে সাথে করে পেছনের বাগানটায় যাই।
পেছনের বাগান...
আর কতগুলো গুলি আছে?
যতগুলো গুলি আছে সব ব্যবহার করলেও ওদের সবকটাকে মারতে পারব না।
ওদের জন্য না।
আমরা নিজেদের টোপ হিসেবে ব্যবহার করলে,
কাজ হতে পারে।
নিচে তাকিও না!
জলদি করতে হবে।
প্রাসাদের সব দরজা বন্ধ।
প্রাসাদের ভেতর...
কী হচ্ছে?
ডংনাই...
আর সাংজু,
দুই জায়গাতেই আমরা মহামারী আটকাতে পারিনি।
এইবারে, আমরা আটকাবো।
যেকোনো মূল্যেই আটকাতে হবে আমাদের।
শুরু করো। আক্রমণ!
সর। সর!
সর। সর, বলছি!
কাছে আসবি না...
বেঁচে গেলাম কীভাবে?
আমরাও তো কামড় খেয়েছিলাম।
আমিও জানি না কী ঘটেছে।
দীর্ঘজীবী হন, যুবরাজ।
দীর্ঘজীবী হন, যুবরাজ।
যুবরাজ, আপনারা সবাই ঠিক আছেন?
প্রাসাদের ভেতর কী হয়েছিল?
দুর্গের রক্ষণাবেক্ষণে থাকা সৈন্যদের...
প্রাসাদে ডেকে পাঠাও।
আমাদের জলদি করতে হবে।
জলাধার থেকে সব লাশ উঠিয়েছ?
জ্বি, জনাব।
সো-বিয়া...
মহামারী প্রাসাদে ছড়িয়েছে?
কারা কারা বেঁচেছে?
যুবরাজের সাথে থেকে যারা লড়াই করেছে তারা বাদে কি সবাই মারা গেছে?
রাণীমা...
আর মন্ত্রীরাও?
হ্যাঁ।
কী খবর পেলে?
রাজকুমারের লাশ কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আমাদের ওকে খুঁজে বের করতে হবে।
খুঁজে বের করতেই হবে, তাতে যেভাবেই হোক।
কাল রাতে অনেক প্রাসাদ রক্ষী পালিয়েছে।
এছাড়াও, অনেক গ্রাম্য হাকিম...
হেওয়ান চো পরিবারকে সমর্থন করে।
যদি রাজকুমার বেঁচে থাকে,
যারা ওর সমর্থন করবে নিশ্চয়ই ভবিষ্যতের কোনো বিদ্রোহের জন্য।
যুবরাজকে বাঁচতে হলে...
নবজাতক রাজকুমারকে মরতে হবে।
"ইয়েওংইয়েওং প্রবেশদ্বার"
এই জায়গা...
প্রাক্তন রাজাদের প্রতিকৃতি রাখা হতো...
যাদের রক্ত আমার শরীরে বইছে।
এখানে, তাদের প্রতিৃকৃতিগুলো...
সিংহাসনে সেইভাবে রাখা হয়, বেঁচে থাকতে তারা যেভাবে এর উপর থাকতেন।
আর আমরাও তাদের সম্মানে এখানে পৈতৃক অনুষ্ঠান...
পালন করতাম।
এখানে দুইটা ঘর তাদের মালিকদের জন্য অপেক্ষা করছিল।
একটা আমার বাবার জন্য,
আর শেষটা...
আমার জন্য।
তাই এবার,
ওখান থেকে বেরিয়ে আসো।
বাচ্চাটা দেখাও আমায়।
আমি বাচ্চাটা দেখাতে বলেছি।
ওকে জানোয়ার কামড় দিয়েছে?
কামড় খেয়েছে ঠিকই, কিন্তু এই বাচ্চা জানোয়ার না।
আমার বিশ্বাস করুন।
এই বাচ্চা মহামারীতে আক্রান্ত হয়নি।
ওকে মারবেন না।
যুবরাজ, আমি নিশ্চিত আপনিও চান বাচ্চাটা বেঁচে থাকুক।
আপনি আমাকে বলেছিলেন...
বাচ্চাটার রক্ষা করতে।
মহারাণীর প্রাসাদে যাও...
গিয়ে বাচ্চাটার উপর নজর রাখো।
নবজাতক রাজকুমার, যুবরাজ?
আপনাকে আমার কিছু বলার আছে যুবরাজ।
কথাটা রাণীমা আর ওনার নবজাতক সন্তানের ব্যাপারে।
বাচ্চাটা...
মু-ইয়ংয়ের...
আমি জানি সত্যিটা।
তাই...
আমি চাই তুমি বাচ্চাটার রক্ষা করো।
যুবরাজ আপনিই বলেছিলেন কেউ যেন আঘাত না পায়।
তাই দয়া করে বাচ্চাটাকে মারবেন না।
এই মহামারীর সমাপ্তি ঘটবে।
যখন শীত বদলে বসন্তে রূপ নিবে,
তখন এই দুঃস্বপ্নও...
শেষ হবে।
না।
যতদিন এই বাচ্চা বেঁচে থাকবে,
বিপর্যয়ের সমাপ্তি ঘটবে না।
"হংছি প্রবেশদ্বার"
"সাংজু দুর্গ"
"তিন মাস পর"
"জংম্যো মন্দির, ৭ বছর পর"
শুরু করো!
মহারাজ।
ফেরার সময় হয়েছে।
শুনেছি মহারাজ ইতিহাস লেখকদের থেকে
গত সাত বছরের নথি দেখতে চেয়েছেন।
কিন্তু আপনি কি জানতেন না...
ঐতিহাসিক নথিগুলো কারো কাছেই প্রকাশ করা যাবে না,
এমনকি রাজাদের কাছেও?
কেউ বলে না আমাকে কী হয়েছিল।
সাত বছর আগে, আমার বাবা-মা, পাশাপাশি আমার একমাত্র ভাইও,
মহামারীতে মারা গেছিল।
মহামারীতে তাদের পরিচারিকারাও মারা গেছিল।
কিন্তু না তুমি না মামা...
কেউই আমাকে এসবের ব্যাপারে কিছু বলছে না,
তো কাকে জিজ্ঞেস করব?
শীঘ্রই রাজকীয় বক্তৃতা শুরু হবে, মহারাজ।
যা কিছু শুনবেন বা দেখবেন সেসব এই দেশকে সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করবে।
মহারাজ, যত বেশি শিখবেন, তত ভালো করে
রাজ দরবারের আর জেসনের লোকজনের খেয়াল রাখতে পারবেন।
মহারাজের সাথে যাও।
মনে হচ্ছে রাজামশাইয়ের দিনকে দিন বাবা-মায়ের কথা আরও বেশি মনে পড়ছে।
মহারাজের বাবা-মা...
কীভাবে মারা গেছিল উনি যদি জানতে পারেন
তবে বিশাল একটা ধাক্কা খাবেন।
আমাদের নিশ্চিত করতে হবে মহারাজ যেন এ ব্যাপারে জানতে না পারেন।
"হায়াং"
এই, দাঁড়াও!
ইয়ং-সিন? তুমিই, তাই না?
অনেকদিন পর দেখা,
প্রভু।
আরে স্বাভাবিকভাবে কথা বলো।
বন্ধুর মতো করে।
বেশি মদ খাওয়া ঠিক না।
এমনিতেই অনেকখানি খেয়ে ফেলেছেন।
তুমি এসেছ বলেই...
এত গিলছি।
স্বাভাবিকভাবে কথা বলবে কি?
আচ্ছা, বলব।
আমি উপপ্রধানমন্ত্রী।
দেখো! এই আহাম্মক উপপ্রধানমন্ত্রীর সাথে কীভাবে বলছে!
আর কী হবে...
যদি কেউ এসে দেখে উচ্চ পদস্থ একজন কর্মকর্তা
তাদের খাবার দাবার খেয়ে সব শেষ করছে?
ঠিক বলেছ।
নিজেও জানি না কীভাবে এত উঁচু পর্যায়ে আসলাম।
No comments yet. Be the first to leave one.