نخستین 200 خط.
উগ্রাম।
❤️ভাবানুবাদ ও সম্পাদনায়ঃ এফ আর সজীব❤️
[নিজের মতো করে ভাবানুবাদ করেছি তাই ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন]
লাকি! লাকি মা!
অপর্ণা! এই অপর্ণা!
আমার কিছু হয়নি।
লাকি! মা লাকি!
অপর্ণা।
লাকি, সাবধানে।
হার্টের রোগ ভালো করার জন্যে অনেক গবেষণার পর,
জেট্রো বায়োটিক কোম্পানি অপারেশন করার পরিবর্তে সমাধান হিসেবে শুধুমাত্র একটি পিল আবিষ্কার করেছে।
বাজারে পিলটি শীঘ্রই আসছে বলে জেট্রো কোম্পানি জানিয়েছেন।
স্যার স্যার! কত তলায় যাবেন?
-২ তলায়। -এটেনডেন্ট পাস?
পাস?
ভুলে মনে হয় উপরে রুমেই রেখে এসেছি।
-রুম নম্বর কত, স্যার? -২০২।
-রোগীর নাম, স্যার? -অপর্ণা আর লাকি।
হ্যালো?
রুম নম্বর ২০২ তে অপর্ণা আর লাকি রোগীর এটেনডেন্ট...
উনি বলছেন যে, রুমের মধ্যে ভুলে রেখে এসেছেন। উনাকে কি যেতে দেবো?
এক মিনিট।
২০২ তে তো রমেশ নামের রোগী আছে।
এই নামে ওই রুমে কেউ নেই, স্যার।
কী বলতে চাচ্ছেন? কেন থাকবে না?
রাত্রীবেলা ইমারজেন্সিতে প্রাথমিক চিকিৎসা করে,
২০২ তে শিফট করা হয়েছে। কেন থাকবে না ওখানে?
রুমে ঘুম আসছিল না বলে লবিতে এসে বসেছিলাম।
আমি বললাম তো, স্যার।
অন্য ব্লকে হতে পারে। একবার রিশিপশনে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন।
যান, স্যার।
আমাদের ছেলে পাঁচ বছর ধরে আইসিইউতে ভর্তি।
একবারের জন্যেও আমাদেরকে দেখতে দিচ্ছেন না।
কিন্তু বারবার বিল পরিশোধ করতে বলছেন।
আসলে সে ঠিক আছে নাকি কিছু করেছেন?
কী ঘটছে এই হাসপাতালে?
আপনার ছেলে ঠিক আছে, মা। আইসিইউতে নিরাপদে আছে।
তাহলে দেখা করতে দিচ্ছেন না কেন?
-সমস্যা কী? -উত্তেজিত হবেন না, ম্যাম।
একবার দেখতে সমস্যা কী?
এসব কী? চিকিৎসার জন্যে হাসপাতালে আসলাম আর দুদিনের ট্রিটমেন্টের বিল ধরিয়ে দিলেন ২৫০০০?
সকল পরীক্ষা, চেক আপ, সীট ভাড়া সব মিলিয়ে হয়েছে, স্যার।
প্রাইভেট ক্লিনিক হলেও সর্বোচ্চ বিল আসতো ২০০০।
গোয়া মারি এই হাসপাতালের!
চলো।
বলুন স্যার।
গতকাল রাতে ১০.৩০ টায়, আমি আমার স্ত্রী আর মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি।
ট্রিটমেন্ট এর পর ওদেরকে এই ব্লকের ২০২ নং রুমে স্থানান্তর করেছে।
এখন বলছে ওরা ওখানে নেই।
-রোগীর নাম বলুন, স্যার। -অপর্ণা, লাকি।
এই নামে গতকাল রাতে কাউকে এখানে ভর্তি করা হয়নি, স্যার।
লাকি সোনা, তর কিচ্ছু হবে না তুই ঠিক হয়ে যাবি।
অপর্ণা, চিন্তা করো না। হাসপাতালে চলে এসেছি। লাকি, তুই ঠিক হয়ে যাবি, মা।
স্যার, একটু দাঁড়ান। ইমারজেন্সি রুমে নিয়ে বাবুকে প্রাথমিক চিকিৎসা করাতে হবে।
ততক্ষণে আপনি এসে ফর্ম পূরণ করে যান।
রাত্রীবেলা ইমারজেন্সি রুমে যাওয়ার ফর্ম পূরণ আর স্বাক্ষর আপনিই নিয়েছিলেন।
স্যার, রাত্রীবেলা আমি ডিউটিতে ছিলাম না।
সকাল ছয়টা থেকে আমার ডিউটি শুরু হয়েছে।
কী বলছেন আপনি? রাত্রীবেলা আপনিই ছিলেন!
ফর্ম পূরণ করে আপনার হাতেই দিয়েছিলাম।
এক মিনিট। যদি ভর্তিই করে থাকেন তাহলে পূরণ করা ফর্মটা এখানেই থাকার কথা।
এখানে নেই, স্যার। দেখুন আপনি।
কেন থাকবে না এখানে? কেন থাকবে না?
কিছু একটা চলছে।
ইমারজেন্সি রুমে নেয়ার পর আমাদের ডাক্তার আসবেন দেখতে।
ডাক্তার।
বলুন।
ডাক্তার, রাতে আপনিই ছিলেন না? আমার স্ত্রী আর মেয়ের ট্রিটমেন্ট করেছেন।
এখন উনি বলছে ওরা এখানে নেই।
আমি ট্রিটমেন্ট করেছি মানে? কখন?
কাল রাতে, স্যার।
কেবলই মুম্বাই থেকে আসলাম আমি। কী হয়েছে? সমস্যা কী?
সমস্যা কী?
সমস্যা তো আপনারাই সৃষ্টি করছেন, আমি না।
গতকাল রাতে আমি আমার স্ত্রী আর মেয়েকে ভর্তি করালাম, এখন ওরা নেই বলছেন।
আমার স্ত্রী আর মেয়ে কোথায়? কোথায় ওরা? বলুন।
-সিকিউরিটি! -স্যার!
হেল্প!
আমার স্ত্রী আর মেয়ের সাথে কী করেছিস, বল। কোথায় ওরা?
সিকিউরিটি!
বল!
এই! কাছে আসবি না। পিছু হঠ!
উনাকে ছেড়ে দিন, স্যার।
-আমার কাছে আসবি না কেউ। -উনাকে ছেড়ে দিন।
এই! এই! উনার রক্ত বেয়ে পড়ছে আর আপনারা তাকিয়ে দেখছেন!
স্ট্রেচার আনুন। জলদি নিয়ে আসুন।
ম্যাডান, দাঁড়ান একটু। উনাকে আমরা চিনি না।
কিছুক্ষণ ধরে উনি এখানে ঝামেলা পাকাচ্ছে।
আগে পুলিশকে খবর দিন।
মানুষ মারা যাচ্ছে আর তুমি নিয়মকানুন শোনাচ্ছো?
কার সাথে কথা বলতে হবে আমি বলব। এর জবাবদিহিতা আমার।
জলদি করো! তাড়াতাড়ি!
সিটি স্ক্যানের রুমে নিয়ে যাও।
দ্রুত!
চলো।
ভাই, একদম একের মারিজুয়ানা,
দামও অনেক বেশি হওয়া উচিত, ভাই।
এই! আর কতক্ষণ! গাড়ি এসে অপেক্ষা করছে।
ভাই, ঘন্টাখানেকের মধ্যে হয়ে যাবে। চিন্তা করো না।
বলদটা কোথায়?
খাবার আনতে গিয়ে উধাও হয়ে গেলো!
-কল কর। -ঠিক আছে, ভাই।
-এই! -ভাই!
কল করতে বললাম আর কোথায় যাচ্ছিস তুই?
এখানে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না, ভাই।
নেটওয়ার্ক শুধুমাত্র ওখানে গাছের নিচে পাওয়া যায়, জানো না?
বালের জীবন!
ভাই!
বলদটারে কে যেন মেরে দিয়েছে।
এই!
খুনী এই জংগলে খুন হওয়ার জন্যেই এসেছে।
লাইট অফ কর!
কাটারি বের কর।
নতুন কেউ থাকলে, ঘাড় আলাদা করে দিবি।
কেউ লাইট অন অফ করে আমাদেরকে মারছে।
আমাদের লাইট অন করে মার ওকে।
পুলিশ মারছে!
এই! পুলিশটাকে মেরে জংগলে পুতে দে।
মাথা ঠিক ছিল না বলে মেরে ফেলার কথা বলছি।
এরজন্যে আমাদেরকে মেরে ফেলবেন?
গ্রেপ্তার করে নিন আমাদের।
-তর নাম কী? -নাগেন্দ্র, স্যার।
-বাপের নাম? -সুব্বায়া, স্যার।
-বয়স? -৩৫, স্যার।
-তর নাম কী? -বীক্ষপতি, স্যার
-বাবার নাম? -লিংগায়া, স্যার।
-তর নাম কী? -মূর্তি, স্যার।
-কী? -মূর্তি, স্যার!
দেখ, পাটিল স্যার এসেছেন।
নরসিমহারেড্ডি পাটিল, স্যার।
অনেক জমিজমার মালিক।
তাতে কী হয়েছে? বলে দাও কাল যেন থানায় দেখা করে।
এরা আমারই লোক। বাঁচার জন্যে টাকা পয়সার দরকার আছে।
এজন্যে ওরা বনের জিনিসপত্র বিক্রি করছে।
অন্ধকার জগতের ব্যবসা।
অন্ধকারেই ছেড়ে দিন।
না হলে আপনার জীবনটাকেই অন্ধকারে পরিণত করে দেবো।
অন্ধকারে তোকে মারলাম, অন্ধকারেই ভুলে যা।
আর একটা মিনিটও তুই এখানে থাকলে,
কাপড় খুলে অর্ধনগ্ন করে বসিয়ে রাখব এখানে।
আইনের পোশাক পড়ে আছিস বলে এটা করতে পারলি।
আজকের দিনটা তোর।
আমারও দিন আসবে। সেদিন তোকে দেখাবো আমি কে!
দিনটা আমার না হলেও আমি এভাবেই থাকতাম।
বুঝতে পেরেছিস?
চল।
আচ্ছা, যাই এবার আমি।
এই, দেরি করিস না তোরা।
কী হয়েছে? পিছু নিচ্ছেন?
টাংকি মারার চেষ্টা করছেন?
আবার পিছু নিলে, থানায় অভিযোগ করব।
আইনের পোশাক পড়ার পর করতে পারো।
-আপনি পুলিশ? -এসপির ট্রেনিং এ আছি।
ওহ! পুলিশে ট্রেনিং করছেন?
তাহলে প্রশিক্ষণ না করে এখানে কী করছেন আপনি?(মার্চ-হাঁটা)
আপনার সাথে সারাজীবন প্রশিক্ষণ নিতে চাই।(হাঁটতে)
-থাকবেন সাথে? -মৃত্যুর আগ পর্যন্ত থাকব।
উত্তর না দিয়ে চলে যাচ্ছো কেন?
এই, জানু! তোমাকে বলছি।
পুলিশ জনাব! বুঝেননি আপনি?
মানে?
আমিও আপনার সাথে থাকব, পুলিশ।
নিজের শহরে এসে বাড়ি না গিয়ে চোরের মতো তোমার সাথে ঘুড়ে বেড়াচ্ছি,
এই কথা যদি বাসায় জানতে পারে,
তাহলে সোজা বিয়ে করিয়ে দেবে।
আমাদেরকে? তাহলে তো ভালোই হবে।
কী ভালো হবে? এরপর থেকে আমি আর ওরাংগগে আসব না।
প্রতি সপ্তাহে তোমাকেই হায়দ্রাবাদে আসতে হবে আমার সাথে দেখা করতে।
-ঠিক আছে? -আচ্ছা। তোমার কথা মানে আদেশ।
-এটা পাঠিয়ে দাও। -ঠিক আছে, স্যার।
-হ্যালো? -আমি কোথায় আছি বলো তো?
এই! ওরাংগল এসেছিলে?
আমি জানতাম তুমি আসবে।
আমি তোমার জন্যে আসিনি, পুলিশ সোনা। পারাকাল যাচ্ছি।
পারাকাল?
হুম।
কাজিনের শাড়ি পড়ার পার্টিতে যাচ্ছি।
আসার সময় দেখা করবে?
অবশ্যই, অবশ্যই।
আচ্ছা, আচ্ছা। আমি গাড়িতে। পরে কল দিচ্ছি।
ওকে? পুলিশ, বায়।
হেই! আনভিতা!
কী আন্টি?
শাড়ি পড়ার অনুষ্ঠান এত জাঁকজমক কেন?
সাধারণ কোনো ব্যাপার না তাই না!
ওর শাড়ি পড়ার অনুষ্ঠান না এটা।
এটা তোমার বিয়ের অনুষ্ঠান, সোনা।
আমার বিয়ের অনুষ্ঠান?
হ্যাঁ, মা। তোর বিয়ে। কাল সন্ধ্যায়।
এসব কী, বাবা? বলোনি কখনো।
তুই কি আমাকে বলে সবকিছু করতেছিস?
আমার পড়াশোনা?
তোকে বলেছি হায়দ্রাবাদ এ পড়াশোনা করতে,
কিন্তু তুই এখানে ওরাংগলে বুলেট বাইকের পিছনে বসে ভালোই পড়াশোনা করছিস।
বিয়ে হওয়ার পর আমেরিকা চলে যাবি।
ওখানে গিয়ে জামাইয়ের সাথে গাড়িতে বসে পড়াশোনা করবি।
বাবা! আমি আর শিভা একে অপরকে ৩ বছর ধরে ভালোবাসি।
ভালোই তো বেসেছিস। এবার ভুলে যা।
ওই পুলিশ তোর জন্যে ঠিক না, মা।
শরীরে উর্দি পড়ে প্রভাবশালী লোকদের সাথে পাংগা নিলে,
No comments yet. Be the first to leave one.