نخستین 197 خط.
২০১০ নাগপুর, মহারাষ্ট্র
চা? স্ন্যাকস?
চা? গরম চা?
চা? চা?
গরম গরম চা?
চা? চা?
চা? চা?
চা লাগবে?
চা খাবেন?
ব্যাগটা আমাকে দাও, আমি এখানে রেখে দিচ্ছি।
ভাইয়া... আমি এখানে বসব।
না, তুই ওখানে গিয়ে বোস।
আমি এখানেই বসব।
এটা আমার সিট, তুই ওখানে গিয়ে বোস।
উম্মা...
এই বাচ্চারা! বিস্কুট খাবি?
বিস্কুট চাই?
দশ টাকা।
আমি এখানেই বসব।
তুই গিয়ে ওখানে বোস।
টিকিট?
টিকিট?
আপনার কাছে আছে তো?
-ওর টিকিট? -ওর বয়স এখনও পাঁচ হয়নি।
দেখে তো পাঁচের বেশিই মনে হচ্ছে।
না, ওর এখনও পাঁচ বছর হয়নি।
না না, নিশ্চিতভাবেই পাঁচের বেশি বয়স।
না, হয়নি।
পাথু...
উম্মা... পাথু!
পাথু... আমাদের মেয়ে কোথায়?
সোনা আমার!
পাথু!
পাথু!
আমার মেয়েকে দেখেছেন?
আমার মেয়েকে দেখেছেন আপনারা?
পাথু?
আমার সোনাটা...
পাথু!
প্রথম পর্ব অজাইব রহমান - শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা
গত সপ্তাহে যে নোটগুলো লিখিয়েছিলাম, সেগুলো আনতে ভুলো না যেন।
-ভুলব না! -আজকেই ওগুলো শেষ করতে হবে।
হ্যাঁ, নিয়ে আসব।
শোনো... পুলিশবাবু উঠে পড়েছেন।
-তাহলে ফোন রাখো। -ঠিক আছে।
কী হয়েছে?
আজ এত নিস্তেজ লাগছে কেন?
আজ থানায় যাবে না?
কী হলো? শরীর খারাপ লাগছে?
রাতে ঠিকমতো ঘুম হয়নি।
দাঁড়াও, বলছি।
পাথুর স্বপ্ন দেখেছিলে, তাই না?
এটা তো নতুন কিছু নয়, অজাইব।
কতদিন হয়ে গেল বলো তো?
ও নিশ্চিত কোথাও সুখে শান্তিতেই আছে।
আমরা এটাই বিশ্বাস করি।
এসব ভেবে সকাল সকাল নিজের মন খারাপ কোরো না।
তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নাও।
আজ প্যারেড আছে না তোমার?
ওহ, ভালো কথা,
আজ কিন্তু আমার ফিরতে দেরি হবে। বইয়ের দোকান থেকে আমায় তুলে নেবে?
ডিউটি শেষ করে এলে চলবে?
আসবে তো, নাকি বরাবরের মতো দাঁড় করিয়ে রাখবে?
এ কেমন কথা?
আমি কি তোমাকে কখনো দাঁড় করিয়ে রেখেছি?
হুমম...
ওটা তো আমার অভ্যাস হয়ে গেছে।
হ্যাঁ, স্যার। আমরা এখানে প্যারেডের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
আপনার শরীর এখন কেমন আছে, স্যার?
তাই নাকি?
তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন, স্যার।
সব খবর সবসময় আপনার কাছেই আগে পাই।
এসএইচও ফোন করেছিলেন।
ডাক্তার ওনাকে এক মাস বিশ্রামে থাকতে বলেছেন।
না, সেটার সম্ভাবনা খুব কম।
ভাগ্য ভালো যে উল্টো দিক থেকে কোনো গাড়ি আসছিল না।
যাই হোক, তালাসেরির এসএইচও এক মাসের জন্য এই থানার দায়িত্বে থাকছেন।
লীলাম্মা, হাত চালাও।
জি, স্যার।
শেষ গাড়িটাও চলে এসেছে!
ঠিক আছে, ছাড়ো।
হেই, তুমি গতকাল যে দর্জির কথা বলছিলে...
ও সত্যি খুব ভালো।
কাল যে ব্লাউজটা বানিয়ে দিয়েছে, একদম নিখুঁত হয়েছে।
বলিনি ও কাজ খুব ভালো করে?
ওহ, তুমি ওর কথাই বলছিলে?
তবে মজুরি কিন্তু একটু বেশিই নেয়।
আমি এখনই আসছি।
না, আমার দেরি হবে না।
অজাইব স্যার এসে গেছেন।
চলুন প্যারেডের জন্য তৈরি হওয়া যাক।
অজাইব, তুমি তো জানোই যে শুক্রবার প্যারেড থাকে।
আমরাই যদি দেরি করি, কনস্টেবলরা আমাদের দেখে কী শিখবে?
-দুঃখিত, স্যার। -টুপি কোথায় তোমার?
-আমি এখনই নিয়ে আসছি। -যাও নিয়ে এসো।
তা, প্যারেডের ব্যাপারে--
স্যার, আমি একটু গিয়ে আসব?
হ্যাঁ। হাসপাতাল ঘুরে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরে এসো।
ঠিক আছে।
প্যারেড।
সাবধান!
অফিসার্স, ফল আউট।
প্যারেড।
বিশ্রাম!
স্যার, ট্রাফিক ডিউটির অফিসারদের কি পাঠিয়ে দেব?
হ্যাঁ, পাঠাব।
ডান দিক থেকে সোজা হও!
ঠিকমতো করো, সুনীল।
পূর্বের মতো।
ডান দিক থেকে সোজা হও!
-ফাতিমা, শফিক। -আমাদের ডাকছে।
ভেতরে এসো।
ডাকেনি তোমাদের?
টেস্টের আগেই তো আসার কথা ছিল?
আহা, তার মানে শেষ হয়ে গেছে?
শেষ হয়ে গেছে। কোথায় ছিলে তুমি?
তুমি বাইকে যেতে পারবে না বলে আমি বাড়ি থেকে গাড়িটা আনতে গিয়েছিলাম।
সত্যি বলছি! সেজন্যই দেরি হলো, লক্ষ্মীটি।
হে ঈশ্বর, এবার যেন রিপোর্ট পজিটিভ আসে!
মলি জয়।
-নাম ডেকেছে, চলো। -ঠিক আছে।
সাধারণত এই চিকিৎসার পর সফলতার হার ৯০ শতাংশ পর্যন্ত থাকে।
কিন্তু...
আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
আপনার টেস্ট রিপোর্ট পজিটিভ আসেনি।
এর বিশেষ কোনো কারণ আছে কি?
বয়স একটা বড় কারণ।
তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে, এরপরও পজিটিভ হতে দেখা যায়।
চিন্তা করবেন না।
আমরা চিকিৎসা চালিয়ে যাব।
আর তিন মাস অপেক্ষা করে দেখি।
ওনার হিমোগ্লোবিনের মাত্রা একটু কম আছে।
আর ভিটামিন ডি-এর অভাবও রয়েছে।
যাই হোক, আমি কিছু ওষুধ লিখে দিচ্ছি।
এগুলো খাবেন।
দেখা যাক কী হয়। পরের চেক-আপের সময় আবার দেখা হবে।
-ঠিক আছে, ডাক্তারবাবু। -আচ্ছা, তাহলে আসি।
লন্ড্রি থেকে জামাকাপড়গুলো তুলে এনেছ?
ধুর, ওটার কথা একদম ভুলেই গেছিলাম!
তুমি সবসময় সবকিছু ভুলে যাও!
খিমচে দিচ্ছ কেন! লাগছে তো!
আমাদের ওগুলো আনতে হবে না?
যাওয়ার পথে তুলে নেব 'খন।
ওরে বাবা...
ছোটখাটো বিষয় নিয়ে যে কীভাবে আমাকে জ্বালিয়ে মারে!
স্যার...
আমাদের দুটি সন্তান, স্যার।
একটি ছেলে আর একটি মেয়ে।
আমাদের মেয়ে ভোপালে থাকে।
ওর জামাইয়ের সাথে।
গত বেশ কয়েক মাস ধরে,
আমাদের ছেলে আমাদের বাড়িটা বিক্রি করার জন্য চাপ দিচ্ছে।
আর গতকাল এই বিষয়টি নিয়েই,
ও ওনাকে শেষমেশ মারধর পর্যন্ত করেছে, স্যার।
স্যার, ওই বাড়িটা বিক্রি করে দিলে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব?
দয়া করে ওকে ডেকে একটু বুঝিয়ে বলুন না, স্যার।
চিন্তা করবেন না।
আমরা একটা ব্যবস্থা করছি।
মধু স্যার...
মধু স্যার...
আমার নাম মধু।
হ্যাঁ...
আচ্ছা শোনো, হিন্দিতে 'পরে ফোন করব' কীভাবে বলে?
-কে জানে! -তুমিও জানো না?
মে... থোড়া টাইম কে বাদ... কল করুঙ্গা।
কী সব...
মেরা...
পুলিশ স্টেশন... বাহার হ্যায়...
মধু স্যার।
-ফোনটা দিন তো। -দুঃখিত, স্যার।
ওদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ নিয়ে নাও।
আমি বিষয়টায় দেখছি।
-আমার সাথে আসুন। -হ্যালো।
আমি এসআই বলছি। বলুন।
মনোজ, ওদের লিখিত অভিযোগটা নিয়ে নাও, কেমন?
নম্বরটা টুকে রাখো।
বেল্লুরু?
পোড়া লাশ...
পুরুষ নিখোঁজ।
কেস নম্বরটা বলুন।
ঠিক আছে।
৮৩/২৩।
বয়স?
ধর্মদম?
ঠিক আছে। কোনো খবর পেলে আমরা আপনার সাথে যোগাযোগ করব।
ঠিক আছে।
-মধু স্যার... -জি, স্যার।
এখন তো মালয়ালির চেয়ে ভিনরাজ্যের মানুষই বেশি হয়ে গেছে।
এখন একটু হিন্দি না শিখলে কিন্তু বিপদে পড়বে।
রঞ্জিত...
-ওই কেসটার খুঁটিনাটি একটু দেখে নাও। -ঠিক আছে, স্যার।
-স্যার। -গাড়ি বের করো।
জি স্যার।
-স্যার, আপনার কি লেখা হয়ে গেছে? -হ্যাঁ, স্যার।
তাহলে দয়া করে ওদের একটু ওই গাড়িতে তুলে দিন।
ওরা আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দেবে, কেমন?
ঠিক আছে।
No comments yet. Be the first to leave one.