نخستین 200 خط.
ভাবানুবাদে - মারিব সিরাজ
২ মাস আগে হাইস্কুলে না গেলে হয়তো এসব কিছু কখনই জানা হতো না...
কারো ছাতা থেকে পড়া পানিতে আমার ইউনিফর্ম ভিজে যাওয়া...
পিঠে লেপ্টে থাকা কোনো উষ্ণ শরীরের চাপ...
মুখে এসে লাগা এসির ঠান্ডা বাতাসের ঝাপ্টা...
শিনজুকু... শিনজুকু স্টেশন...
আমাদের সাথে ভ্রমনের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
যখন ছোট ছিলাম, আকাশটাকে তখন অনেক কাছে মনে হতো... অনেকটা বেশিই কাছে।
তাই বৃষ্টি আমার এতটা পছন্দ, কারণ এর সাথে মিশে থাকে আকাশের ঘ্রাণ।
আর প্রায়ই, বৃষ্টিস্নাত সকালে, সাবওয়েতে যাওয়ার বদলে, আমি স্টেশন থেকে বেরিয়ে যাই।
জুন
চকোলেট আর... বিয়ার?
কিন্তু আমার মনে হচ্ছে কোথাও যেন তাকে দেখেছিলাম...
এই নাও।
ধন্যবাদ।
আচ্ছা... আমাদের কি আগে কখনও দেখা হয়েছিল?
না তো।
দুঃখিত, আমার হয়তো ভুল হয়েছে।
সমস্যা নেই।
কি সুন্দর মেলবন্ধন...
বজ্রপাতের ক্ষীণ শব্দ
মেঘাচ্ছন্ন আকাশ
যেন বৃষ্টির আগমনী বার্তা
এই মিলন মেলায়, তুমি কি আমার সঙ্গী হবে?
The Garden Of Words কথার কানন
আজ সকালে, জাপান আবহাওয়া অধিদপ্তর অন্যান্য সময়ের চেয়ে ৫ দিন পূর্বেই কিয়ুসুতে বর্ষাকাল ঘোষণা করেছে।
নাগাসাকি, সাগা, কুমামোতো এবং কাগোশিমা প্রদেশের বিশাল এলাকা জুড়ে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আমি এসে গেছি।
বাড়িতে স্বাগতম।
আমি আলুর চপ কিনে এনেছি।
ধন্যবাদ, ডিনার তৈরি হতে বেশি সময় লাগবে না।
থ্যাংক ইউ।
মা কোথায়?
চলে গেছে।
বাহ, তাহলে তাকে আর আলুর চপের ভাগ দিতে হচ্ছে না।
সে একটা চিঠিতে লিখে গেছে তাকে যেন খোঁজা না হয়।
সম্ভবত...
বাদ দে।
আমি নিশ্চিত, বয়ফ্রেন্ডের সাথে ঝগড়ার পর সে আবার বাড়ি ফিরে আসবে।
আমি একটা জায়গা পেয়েছি। আগামী মাসে সেখানেই উঠছি।
একাই থাকবে?
গার্লফ্রেন্ডের সাথে উঠবো।
তোমার কি মনে হয় না মা এজন্যই চলে গেছে?
তুমি গতকাল তাকে এটা বলেছিলে, তাই না?
ভেবেছিলাম এবার হয়তো মেনে নেবে, বুঝিসই তো?
সে তো নিজেই যুবক ছেলেদের সাথে ডেট করে বেড়ায়।
ওহ, তাই? আচ্ছা তাহলে আমি আমার বয়ফ্রেন্ডের ওখানেই চলে যাচ্ছি!
অবশ্য তার মধ্যে এখনও যৌবনের ছাপ বিদ্যমান।
কারণ সে কখনই কোনো পরিশ্রম করেনি।
তুইও তো বছরের পর বছর গাধার মত খেঁটে গেছিস।
খাওয়া শেষ।
আজ তুমি থালা ধুয়ে রাখো। আমি তো সবসময়ই ধুই।
বাড়তি জায়গা পেয়ে তোর খুশি লাগছে না?
হয়তো লাগছে।
গোছাতে সাহায্য করবে, 'কেই?
অবশ্যই।
আচ্ছা, এটার ব্যাপারে কিছু জানো?
কী এটা, হাইকু কবিতা?
না, এটা একটা তানকা।
বুঝতে পেরেছি।
মা ফিরে ফিরে এলে তাকে জিজ্ঞেস করো।
রোদেলা সকালে, আমি সাবওয়ে হয়ে বরাবরের মতই এখানে চলে আসি।
যদিও আমি মনে মনে ভাবি "আমার এখন এটা করা ঠিক হচ্ছে না।"
বৃষ্টি...
হাই।
হ্যালো।
আচ্ছা...
আজ স্কুল নেই?
আর আপনার অফিস... আজকে কি বন্ধ?
আমি আজকেও অফিস কামাই করেছি।
আর এই সকালে পার্কে এসে বিয়ার খাচ্ছেন।
শুধু বিয়ার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না।
এটার সাথে অন্য কিছু খাওয়া উচিত।
একজন স্কুল পড়ুয়া ছাত্র হিসেবে তুমি অনেক কিছুই জানো দেখছি।
তেমন কিছু না, আমার মা ড্রিংক করেন তাই।
আমার কাছে কিছু শুকনো খাবার আছে।
খাবে?
তুমি হয়তো মনে মনে ভাবছো, "এই মহিলাটা আজব ধরনের," তাই না?
না তো।
আরে, ব্যাপার না। যেহেতু আমরা মানুষ, সেহেতু আমাদের সবারই কিছু না কিছু মুদ্রাদোষ আছে।
হয়তো...
নিঃসন্দেহে।
আচ্ছা, এখন আমি উঠি।
এখন কি স্কুলে যাচ্ছো?
আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এমন বৃষ্টির সকালেই কেবল স্কুল কামাই দেবো।
বাহ, তাহলে হয়তো আমাদের আবারও দেখা হচ্ছে।
হয়তো এমন কোনো বৃষ্টির দিনে।
এটা ছিল কান্তোয় বর্ষাকালের প্রথম দিন।
তুমি জুতা বানাও?
দেখে হয়তো আনাড়ি হাতের কাজ মনে হতে পারে,
তবে আমি নিজের হাতে নকশা করে জুতা বানানোটা উপভোগ করি।
যদিও আমি এখনও অতটা দক্ষ নই।
তবুও আমি এটাকেই আমার ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চাই... যদি সম্ভব হয়।
আমি এর আগে কাউকে কখনও এ ব্যাপারে বলিনি।
কতটা দেরী করেছিস সে ব্যাপারে কোনো ধারণা আছে?
তোমাকে কেন এখানে ডেকেছি বুঝতে পারছো তো?
এই, ভাইয়া...
সন্ধ্যায়, ঘুমোতে যাওয়ার আগে...
সকালে, যখন ঘুম ভাঙ্গে...
আমি শুধু বৃষ্টির প্রার্থনাই করছিলাম।
এটা বুঝতে পারি রোদ ঝলমলে দিনে, স্কুলের মতো কোনো বিরক্তিকর স্থানে,
ক্রমেই যেন অধৈর্য হয়ে উঠছিলাম।
তার বিচরণ সাবালকদের এক কর্মব্যস্ত দুনিয়ায়, যা আমার নাগালের একদম বাইরে।
সে যেন আমার কাছে অতি গোপনে লালন করা এক সত্ত্বা।
সত্যি বলতে, দুটো জিনিস আমি হলফ করে বলতে পারি।
সে নিশ্চয়ই আমাকে ১৫ বছরের এক বাচ্চা ছেলে ছাড়া আর কিছুই ভাবে না।
আর এই জুতো বানানোর স্পৃহাই আমাকে এখান থেকে সরে যেতে তাড়িত করবে।
আপনার নিরাপত্তার স্বার্থে, দয়া করে হলুদ রেখার পিছনে অবস্থান করুন।
দয়া করে বন্ধ হতে থাকা দরজার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
শুভ সকাল।
আমি ভেবেছিলাম আপনি হয়তো আজকে আসবেন না।
আশ্চর্যকর ব্যাপার হচ্ছে আপনাকে এখনও চাকরি থেকে ছাটাই করেনি।
বাহ! জুতোর ডিজাইন বুঝি?
আরে!
আমাকে দেখাবে না?
এটা দেখানোর মতো তেমন কিছু না।
তাই?
হ্যাঁ, তাই।
ওখানে গিয়ে বসুন তো।
আমি সকালের নাস্তা করবো। আমার সাথে আপনিও আসুন?
ধন্যবাদ, কিন্তু আমি আমারটা এনেছি।
আপনি এটা নিজে বানিয়েছেন?
কী? আমি মাঝে মধ্যেই রান্না করি, বুঝলে?
তাহলে তো চেখে দেখতে হয়।
দাঁড়াও, আমি তেমন...
ভালো রাঁধুনি নই, বুঝতেই পারছ।
আমি কিন্তু তোমাকে সাধিনি।
আপনার এই দিকটা কখনো আশা করিনি।
কী?
দুঃখিত। তবে এটা অন্যরকমভাবে সুস্বাদু হয়েছে।
আরেকটু খেতে হয় যে।
আর বাড়িয়ে বলতে হবে না।
আরেকটু পেতে পারি?
তারাতাড়ি কর!
থামো, ভাইয়া!
তাকায়ো, সাবধানে।
শুভ জন্মদিন, মা!
ধন্যবাদ।
তোমরা তিনজন আবার আমার জন্য কী আনলে?
এই... আমি হয়তো অনেক দেরী করে ফেলেছি, তাই না?
আর তুমি কি জানো? আমি খাবারের স্বাদ বুঝতে পারি।
তাহলে তোমার অরুচিভাব কেটে গেছে?
আমি সেটা বলবো না।
তবে কিছুদিন আগ-অবধি, আমি শুধু মদ আর চকোলেটের স্বাদই বুঝতাম।
আমি মনে করি তোমার চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটা ভালোই ছিল।
হয়তো তাই।
তুমি আমার সাথে খুব নম্রতার সাথে কথা বলো,
যেন তুমি ভঙ্গুর কিছু ধরে আছো।
কিন্তু সেই সময়, যখন আমার শ্বাস নিতে পর্যন্ত কষ্ট হচ্ছিল,
তুমি লোকের কথায় কান দিয়েছো,
কিন্তু আমাকে বিশ্বাস করোনি।
তাহলে ছুটির পরেই তোমার কাগজপত্র আমরা তৈরি করে রাখব।
আমি উচ্চপদস্থদের জানাব।
আচ্ছা। আমাদের বিচ্ছেদের পরও তোমাকে এসব ঝামেলায় ফেলার জন্য আমি দুঃখিত।
আমি খুশি হয়েছি, সত্যিই...
ওই বৃদ্ধার ব্যাপারটা, যার সাথে তোমার দেখা হতো।
বুঝতেই পারছ, যেই বৃদ্ধার কথা তুমি বারবার বলতে। যে পার্কে লাঞ্চ বক্স নিয়ে আসতো।
মনে হতো তার সাথেই তোমার আত্মার বন্ধন।
আচ্ছা, বিশ্রাম নাও।
মি. ইতোউ
তারপর থেকে আমি...
শুধু মিথ্যাকে আশ্রয় করে চলেছি।
বৃষ্টি...
কান্তোতে আজ আবারও বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
সিনজুকু স্টেশনের দক্ষিণ বহির্গমনের দিকে, সব যাত্রীর হাতে ছাতা দেখা যাচ্ছে।
জুলাই
এই নাও, এটা তোমার জন্যে।
আমার জন্য?
আমি তো সবসময় তোমার সব খাবার খেয়ে ফেলি, তাই...
আর এটাই তো তুমি কিনতে চাইতে, তাই না?
এই বইটা যথেষ্ট দামী।
অসংখ্য ধন্যবাদ... আপনাকে।
এটা দিতে পেরে আমি খুশি।
উম...
আমি আসলে এখন এক জোড়া জুতা বানাচ্ছি।
বাহ... তোমার জন্য বুঝি?
কাকে দেবো এখনো ঠিক করিনি...
সেগুলো মহিলাদের জুতা।
তবে কাজটা এখনো ঠিকভাবে করে উঠতে পারিনি, আর...
জানো তো...
এসব বুঝতে পারার আগে, আমি পদে পদে হোঁচট খেতাম।
আপনার চাকুরির ব্যাপারে বলছেন?
হ্যাঁ... অবশ্য আরো অনেক কিছুর ব্যাপারেই।
আমি তার ব্যাপারে কিছুই জানি না।
তার চাকুরি, তার বয়স... তার চিন্তা কিংবা দুশ্চিন্তা...
এমনকি তার নামটাও না।
আর আমি তার প্রতি মুগ্ধ না হয়ে পারিনি।
কান্তো এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে দশ দিন আগেই বর্ষাকাল শেষ হয়েছে।
শহরের বর্তমান তাপমাত্রা এখন ২৬ ডিগ্রি।
যেন কেউ একটা সুইচ টিপে দিল, আর রৌদ্রোজ্জ্বল দিনগুলি একের পর এক আসতে লাগল।
তবে এই ভেবে আমি খুশি যে, "সে আর ক্লাস ফাঁকি দিচ্ছে না।"
কিন্তু বাস্তবে...
আমি প্রার্থনা করি
বর্ষাকাল যেন কখনও শেষ না হয়।
এই পার্কটা আসলেই অনেক বড়।
আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না, আমরা শিনজুকুতে আছি।
ওহ, আমাদের মাফ করবেন।
সমস্যা নেই।
এটা জাপানি বাগান, তাই না?
এরপর কোথায় যাওয়া যায়?
No comments yet. Be the first to leave one.